ইসলামের বুনিয়াদী শিক্ষা-(মাওলানা মওদুদী)


এই বইটি হলো হাকীকত সিরিজের ছয়টি বইয়ের একত্র সমন্বয়। হাকীকত সিরিজের বইগুলি প্রিয়বই.কম এ আগে পোষ্ট করা হয়েছিলো। তবে হাকীকত সিরিজের বই এর প্রকৃত স্বাদ ও এর বিপ্লবী চেতনা পেতে হলে বইগুলি ধারাবাহিকভাবে সিরিয়াল আনুযায়ী পড়া জরুরী। ইসলামের বুনিয়াদী শিক্ষা নামে ছয়টি খন্ডই প্রকাশিত হয়েছে।

মূলত মাওলানা মওদুদীর প্রদত্ত খুতবার লিখিত ভার্সন এই সিরিজের বইগুলি। ইসলামের বুনিয়াদী তথা মৌলিক ভিত্তিমূলক এই ছয়টি বই হলো ক্রমানুসারে, ইমানের হাকীকত, ইসলামের হাকীকত, নামাজ-রোজার হাকীকত, যাকাতের হাকীকত, হজ্জ্বের হাকীকত, জিহাদের হাকীকত।


"নমায, রোযা, হজ্জ ও যাকাত সম্পর্কে ইতিপূর্বে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে ৷ সেই আলোচনা প্রসঙ্গে বার বার আমি বলেছি যে, এসব ইবাদত অন্যান্য ধর্মের ইবাদতের ন্যায় নিছক পূজা, উপাসনা এবং যাত্রার অনুষ্ঠান মাত্র নয়; কাজেই এ কয়টি কাজ করে ক্ষান্ত হলেই আল্লাহ তা'আলা কারো প্রতি খুশি হতে পারেন না ৷ মূলতঃ একটি বিরাট উদ্দেশ্যে

মুসলমানদেরকে প্রস্তুত করার জন্য এবং একটি বিরাট দায়িত্বপূর্ণ কাজে তাদেরকে সুদক্ষ করার উদ্দেশ্যেই এসব ইবাদত মুসলমানদের প্রতি ফরয করা হয়েছে৷ এটা মুসলমানকে কিভাবে সেই বিরাট উদ্দেশ্যর জন্য প্রস্তুত করে এবং এর ভিতর দিয়ে মুসলমান কেমন করে সেই বিরট কাজের ক্ষমতা ও যোগ্যতা লাভ করে, ইতিপূর্বে তা আমি বিস্তারিত রূপে বলেছি ৷ এখন সেই বিরাট উদ্দেশ্যের বিশ্লেষণ এবং তার বিস্তারিত পরিচয় দানের চেষ্টা করবো ৷"


পেজভিউ


ভারত যখন ভাঙলো (নসীম হিজাযী)

 
ইসমাইল হুকার নলটি গোলাম হায়দারের দিকে ফিরিয়ে দিলো । তারপর সেখান থেকে উঠে শ্লথগামী বলদগুলোর পিঠে দু ঘা বসিয়ে দিল এবং আবার আগের জায়গায় এসে বসে পড়লো ।

গোলাম হায়দার হুকায় কয়েকটান দিয়ে বলল, "একটু পরে কেয়ারীটাও একবার দেখে এসো.. 

তুমি কি কোথাও যাচ্ছো ?

আমি একটু মজিদের খবরটা নিয়ে আসি। গতকাল পাটওয়ারীর হাত দিয়ে মাষ্টারজী পয়গাম পাঠিয়েছেন, বিগত দুদিন ধরে সে গরহাজির। আজ আমি তাকে খুব মেরেছি।

ইসমাঈল মুচকি হেসে বললো, মেরে কোন লাভ হবেনা। আমার মনে হয় তার সাথে তুমিও স্কুলে ভর্তি হয়ে যাও । আজ ভাইজান বাড়িতে আসবেন। আমি তাকেও বলবো যদি মজিদকে পড়াতে হয় তাহলে তার দেখাশুনা করার জন্য তার বাপকেও সঙ্গে রাখতে হবে।

গোলাম আযম রচনাবলী

জন্ম আমার ঢকা শহরে হলেও আমার বাল্যকাল গ্রামেই কেটেছে। ১৯২২ সালের ৭ নভেম্বর ঢাকা শহরে লক্ষীবাজার এলাকায় 'মিয়া সাহেবের ময়দান' নামে পরিচিত এক ঐতিহ্যবাহী পীর বাড়িতে আমার জন্ম হয়। এটা আমার নানার বাড়ি। আমি আমার পিতামাতার প্রথম সন্তান। প্রাচীন রীতি অনুযায়ী প্রথম সন্তান মায়ের পিতার বাড়িতে জন্ম নেয়। একারনেই আমার আসল বাড়ি গ্রামে হলেও শহরেই জন্ম হয়। আম্মা প্রতিবছরই এক থেকে দেড়মাস পিতার বাড়িতে বেড়াতে আসতেন। এ সুযোগে বাল্যকালেই গ্রাম ও শহরের সাথে আমার পরিচয় হয়।

ক্লাস সিক্স পর্যন্ত আমার লেখাপড়া গ্রামেই হয়। প্রথম ক্লাস থ্রি পর্যন্ত গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ার পর আরবী শিক্ষার প্রয়োজনে আমাদের গ্রাম থেকে ৫ কিলোমিটার দূর বড়াইল জুনিয়র মাদরাসায় আবার ক্লাস থ্রিতে ভর্তি হই এবং সেখানে ক্লাস সিক্স পর্যন্ত পড়ি। এ সময়টুকুকে আমি বাল্যকাল হিসেবে গন্য করি। এভাবে ১৪ বছর বয়স পর্যন্ত গ্রামের পরিবেশেই বেড়ে উঠি। প্রথম ক' বছরের কথা মনে থাকাত সম্ভব নয়। তবে যখন থেকে আমার স্মৃতিতে বিভিন্ন ঘটনা সঞ্চিত আছে তা থেকে আমি শহর ও গ্রামের পার্থক্যটা তুলে ধরতে পারি। -(গোলাম আজম)

লৌহমানব - নসীম হিজাযী

শীতের জমকালো দীর্ঘ-রাত। কনকনে শীতের প্রাবল্য গোটা প্রকৃতিতে খেলে যাচ্ছে একের পর এক। পথপ্রান্তর ও লোকালয় শূণ্য। হিরাত থেকে নিশাপুরের দিকে যাওয়া গিরিপথগুলোতে মৃত্যুর নিস্তব্ধতা। কোথাও কেউ নেই। সহসাই ভেসে এলো দ্রুতগামী অশ্বখুড়ধ্বনি। সেই ধ্বনিতে পাথুরে ভূমি কেপে উঠলো, খানিকবাদে জনা তিনেক অশ্বারোহীকে ঝড়োবেগে নিশাপুরের দিকে যেতে দেখা যায়...

...এশিয়া মাইনরের ইতিহাস নিয়ে এ কাহিনী! ইতিহাসের ধূষর পাতায় চকচক করা এক উপাখ্যান! নিশাপুরের পার্বত্যাঞ্চল থেকে আড়মোড়া দিয়ে জেগে ওঠা সিংহ শার্দুল - তার নাম সুলতান মুহাম্মাদ ঘুরী!  ভারতবিজেতা , মুক্তিকামী কোটি মানুষের ত্রাণকর্তা মুহাম্মাদ ঘুরী! তরাইনের যুদ্ধে ভারতের ভাগ্যাকাশে সুরাইয়া সেতারা হয়ে উদিত হওয়া লৌহমানব মুহাম্মাদ ঘুরী!...

রাসূলুল্লাহর বিপ্লবী জীবন

পূর্ব-কথা:

বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা:)-এর পবিত্র জীবনচরিত পর্যালোচনা করলে এর দু’টি বৈশিষ্ট্য সবচেয়ে বেশি প্রতিভাত হয়ে উঠে। প্রথমত ,তার জীবনধারার অন্তর্নিহিত বৈপ্লবিক আদর্শ ।
-যার ছোঁয়ায় মানব জাতির সমাজ ও সভ্যতায় এসেছে বৈপ্লবিক রূপান্তর । দ্বিতীয়ত, সে আদর্শের সু্‌ষ্ঠু রূপায়নের জন্যে তার নির্দেশিত বৈপ্লবিক কর্মনীতি - যার সফল অনুস্মৃতির মাধ্যমে একটি অসভ্য ও উচ্ছৃঙ্খল জনগোষ্ঠী পেয়েছিল পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম সভ্যতা ও সংস্কৃতির শিরোপা।

দুঃখের বিষয় যে, আজকের মুসলিম মানস থেকে বিশ্বনবীর পবিত্র জীবনচরিতের এই মৌল বৈশিষ্ট্য দু’টি প্রায় লোপ পেতে বসেছে। আজকের মুসলমানরা বিশ্বনবীর জীবন আদর্শকে দেখছে খণ্ডিত রূপে ,নেহাত একজন সাধারণ ধর্মপ্রচারকের জীবন হিসেবে । এর ফলে তার জীবনচরিতের সমগ্র রূপটি তাদের চোখে ধরা পড়ছে না ; তার জীবন আদর্শের বৈপ্লবিক তাৎপর্য ও তারা উপলব্ধি করতে পারছে না। বস্তুত ,আজকের মুসলিম মানসের এই ব্যর্থতা ও দীনতার ফলেই আমরা বিশ্বনবীর পবিত্র জীবনচরিত থেকে আমাদের সমাজ ও রাষ্ট্রের কোন বৈপ্লবিক রুপান্তর ঘটানোর তাগিদ অনুভব করছি না ।

হেজাযের কাফেলা - নসীম হিজাযী

বসন্ত কাল। যতদূর দৃষ্টি যায় কেবল সবুজের সমারোহ। ডান দিকে দৃষ্টির শেষ সীমানা পর্যন্ত সবুজ ক্ষেত-খামার। বাতাসে নাচছে গমের শীষ। বায়ে ফোরাতের পারে লতাগুল্ম ঘেরা গভীর অরণ্য।

হাসান প্রবেশ করলো এ এলাকায়। অনেক পথ হেঁটে ফসলের ক্ষেত আর বাগান পেরিয়ে গাঁয়ের বস্তি ছাড়িয়ে কেল্লার মত এক বাড়ির কাছে পৌঁছল ও। ডুবে যাচ্ছিলো সূর্য। বাইরের মাঠে খেলা করছিলো বালকেরা। এদিক ওদিক তাকিয়ে ও এগিয়ে গেল ফটকের কাছে। ভেতর থেকে ভেসে এল কুকুরের ঘেউঘেউ। কিছুক্ষণ এক ধরনের অস্থিরতা নিয়ে দাঁড়িয়ে রইলো সে। তারপর দরজায় কড়া নেড়ে ডাকলো:''কেউ আছেন?"

কালো পঁচিশের আগে ও পরে

 জাতীয় জীবনের একটা অতি গুরুত্বপূর্ণ সময় ১৯৭১ সাল। এক রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ের মাধ্যমে পাকিস্তান বিভক্ত হয়ে এ বছর স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের পত্তন হয়। জাতীয় ইতিহাসের অবিস্মরণীয় অধ্যায় এ মহা ঘটনা। এ মহা ঘটনার ইতিহাস আমি এখানে লিখিনি। সে এক বিরাট কাজ। আমি মাত্র দুটো প্রশ্নের উত্তর সন্ধান করতে চেষ্টা করেছি। প্রশ্ন দুটি হলো, কোন পটভূমিতে স্বাধীকার আন্দোলন রক্তক্ষয়ী স্বাধীনতাযুদ্ধে রূপান্তরিত হলো এবং জাতীয় জীবনের সে মহা ঘটনায় কেন জাতি একমত হয়ে এক কাতারে দাঁড়াতে পারেনি।

প্রশ্নদু'টির উত্তর সন্ধান করতে গিয়ে আমি যা লিখেছি, তা বিভিন্ন সংবাদপত্র ও গ্রন্থের বিবরণী এবং অনেক দায়িত্বশীল ব্যক্তির উক্তির সমাহার মাত্র। সেই সময়ের একজন কর্মজীবি সাংবাদিক হিসেবে যা দেখেছি, যা অনুভব করেছি, তাও আমাকে যথেষ্ট সাহায্য করেছে। মানুষ অবশ্যই ক্যামেরা নয়, মানুষ মানুষ ই। ইচ্ছা, আবেগ বিশিষ্ট সত্তা সে।

মাওলানা মওদুদী : একটি দুর্লভ সংগ্রহ ও অভিযোগের জবাব

 
গত শতাব্দীর শুরুর দিকে পৃথিবীর মধ্যভাগে আল্লাহর বান্দা হাসান আল বান্না এবং পূর্বভাগে আল্লাহর আরেক বান্দা মাওলানা মওদুদী ইসলামী আন্দোলনের পূনর্জাগরনের বার্তা নিয়ে আসেন। মিশরকে কেন্দ্র করে ইখওয়ানুল মুসলেমীন এবং উপমহাদেশকে কেন্দ্র করে জামায়াত ইসলামী নামে এই মহান আন্দোলন দুটি পৃথিবীর দিকেদিকে ছড়িয়ে পড়ে। দিশেহারা অন্ধকারাচ্ছন্ন কুসংস্কারাবদ্ধ মানবতাকে ইসলামের সুমহান শক্তিশালী সাংগঠনিক কাঠামোতে আবদ্ধ করে ইসলামী সমাজ বিনির্মানের ঐতিহাসিক আন্দোলন শুরু করেন তারা। দুটো ভিন্নভিন্ন ভূ-রাজনৈতিক পরিবেশে আন্দোলন দুটো বেড়ে উঠতে গিয়ে মুখোমুখি হয় ঠিক রাসুল সা: এর সময়কালীন নানা ধরনের সংঘাত ও বিরোধীতার। এ বিরোধীতার ধরন বিচিত্র, ঠিক যেমনটা আল্লাহর রাসুল সা: মোকাবেলা করে গিয়েছেন, কোন বিরোধীতা সশস্ত্র জালেমের পক্ষ থেকে, কোন বিরোধীতা প্রাচীনপন্থী বাপ-দাদার শেখানো পথে চলতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ধর্মীয় দল উপদলের পক্ষ থেকে। ইসলামকে জীবনমুখী ও বাস্তবে সমাজ রাষ্ট ও আইন কানুনে প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে যে সমস্ত বাধা বিপত্তি , প্রশ্ন ও অপবাদের স্বীকার হয়েছে এ আন্দোলন, তার অনেক জবাব দিয়েছেন মাওলানা মওদূদী নিজেই, কিছু জবাব দিয়েছেন অন্য বিদগ্ধ আলেম ও স্কলারগন। এধরনের একটি সংকলন এখানে আপলোড করা হচ্ছে।






৩০ লাখের তেলেসমাত - জহুরী

আমাদের মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ লোক নিহত হয়েছে আর ২ লাখ নারী সতীত্ব হারিয়েছে - এই সংখ্যাদ্ব্য় বহুল আলোচিত; কিন্তু পরিকল্পিত অনুমানের দুষ্ট মগজ থেকে সৃষ্ট। সত্যকে মিথ্যা দিয়ে ঢেকে ফেলার এই প্রচেষ্টা দুঃখজনক। মুক্তিযুদ্ধের এতবড় গুরুত্বপূর্ণ একটি তথ্যকে সঠিকভাবে জানার ব্যাপারে যে অলসতা, তাকে জাতীয় লজ্জ্বা ছাড়া আর কি বলা যায়! আমি এই বইয়ে ধুম্রজাল থেকে সত্যকে উদ্ধারের আহবান জানিয়েছি এবং ভুলকে ভুল বলে প্রমাণের চেষ্টা করেছি। এ জন্য ৩০ লাখ সংখ্যাকে এক তেলেসমাত বলেছি।

তিতুর লেঠেল -(উপন্যাস)

  বাঁশেরকেল্লার মহানায়ক শহীদ তিতুমীরের সময়কালীন প্রতিরোধ আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত এই উপন্যাসটি। তিতুমীরের কেল্লা ও কেল্লা গড়ার আগে ও পরের পরিস্থিতির গল্পময় বর্ণনা রয়েছে এখানে।

..ভাই-বোনকে ধরে এনেছে যে লোকটি, সে বলল: এই দুই বিচ্ছুকে আমাদের ঘাটির পাশে ঘাপটি মেরে বসে থাকতে দেখেছি।

বুড়ো বললেন : এরা কারা?

লোকটি বলল: নিশ্চয়-ই সাহেবদের চর। আমাদের পেছনে লেলিয়ে দিয়েছে খোঁজ খবর জানার জন্য। নিজেদের মুরোদে কুলোচ্ছে না তো!

বুড়োর ভুরু কুঁচকে গেলো। বললেন : ইংরেজদের ধাড়ি ধাড়ি গোয়েন্দারা আমাদের পেছনে লেলিয়ে দিয়েছে দুই নাবালককে! আমার মনে হয় তুমি ভুল করছ। বুড়ো তাদের লক্ষ করে বললেন: তোমাদের ভয়ের কারন নেই। মুখ দেখেই বুঝতে পারছি তোমাদের খুব ক্ষিদে পেয়েছে।

গৌড় থেকে সোনার গাঁ -(উপন্যাস)

ইখতিয়ারউদ্দিন-মুহাম্মদ-বিন-বখতিয়ার খলজী জানবাজী রেখে বাঙ্গালা মুলুকে মুসলিম রাজ্য প্রতিষ্ঠা করে গেলেন। তাকে সাহায্য করলেন তার নিকটতম তিন-ইয়ার শিরান খলজী, আলী মর্দান ও ইওজ খলজী। তারা লাক্ষ্ণৌ, বিহার ও বরেন্দ্র অঞ্চলকে এই নতুন রাজ্যের অন্তর্ভূক্ত করেন। ইশায়ী ১২০৫ সালে ইখতিয়অরউদ্দিন ইন্তেকাল করলে দিল্লীর সুলতানকে নামমাত্র সদকা দিয়ে তার তিন বন্ধু পরপর ইসায়ী ১২২৭ সাল পর্যন্ত বাঙ্গালা শাসন করে গেলেন। কিন্তু ১২২৭ সালে দিল্লীর সুলতান ইলতুতমিশের পূত্র নাসিরউদ্দিন মাহমুদ সুবিশাল বাহিনী নিয়ে বাঙ্গালার গিয়াসউদ্দিন ইওজ খলজীকে পরাজিত ও হত্যা করে দখল করে নেন এ অঞ্চল। এরপর একটানা আটান্ন বছর দিল্লী থেকে নিযুক্ত পনেরোজন শাসক বাঙ্গালা শাসন করেন। এদের দশজনই ছিলেন মামলুক বা দাস।


খেলাফত ও রাজতন্ত্র

খেলাফত সম্পর্কে খোলাফায়ে রাশেদীন এবং রাসূলুল্লাহ (সা: ) - এর সাহাবীদের সর্বসম্মত মত এই ছিলো যে, খেলাফত একটা নির্বাচনভিত্তিক পদ্ধতি। মুসলমানদের পারস্পরিক পরামর্শ এবং তাদের স্বাধীন মতামত প্রকাশের মাধ্যমেই তা কায়েম করতে হবে। বংশানুক্রমে বা বল প্রয়োগের দ্বারা ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত কর্তৃত্ব ও নেতৃত্ব তাদের মতে খেলাফত নয় বরং তা বাদশাহী - রাজতন্ত্র। খেলাফত এবং রাজতন্ত্রের যে স্পষ্ট ও দ্যর্থহীন ধারণা সাহাবায়ে কেরামগণ পোষণ করতেন, হযরত আবু মূসা আশয়ারী (রা:) তা ব্যক্ত করেন নিম্নোক্ত ভাষায় :

"এমারত (অর্থাৎ খেলাফত) হচ্ছে তাই, যা প্রতিষ্ঠা করতে পরামর্শ নেয়া হয়েছে, আর তরবারীর জোরে যা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তা হচ্ছে বাদশাহী বা রাজতন্ত্র"


টেম্পলেট কাষ্টমাইজেশন - তরঙ্গ ইসলাম | তরঙ্গ ইসলাম