কুরআন অধ্যয়ন সহায়িকা


আমরা যদি এ কুরআনকে কোন পর্বতের উপর অবতীর্ণ করতাম তাহলে তোমরা দেখতে পেতে আল্লাহর ভয়ে পর্বত ধ্বসে পড়তো এবং খন্ড-বিখন্ড ও চূর্ণ-বিচূর্ন হয়ে যেতো। -(সুরা হাশর:২১)
 
কুরআন থেকে শিক্ষালাভ করে হৃদয়কে আলোকিত করা এবং কুরআনের শিক্ষা অনুধাবন ও অনুশীলন করার জন্য একটা অসাধারণ সহজবোধ্য বই। কুরআনের অন্তর্নিহিত সৌন্দর্য খুব সহজে বুঝে নেবার উপকরণ সমৃদ্ধ বইটিতে ৭ টি ভিন্ন অধ্যায় রয়েছে। কুরআন অধ্যয়নের সর্বোৎকৃষ্ঠ পন্থা ও কুরআনের স্বাদ আস্বাদনের কৌশল বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে এতে। মূলত শিক্ষানবীস নতুন পাঠকদের জন্য বইটি সবচেয়ে উপকারী বলে প্রমাণিত হবে। এছাড়া ইসলামী আন্দোলনের কর্মী ও ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠার স্বপ্নদ্রষ্টাদের জন্য কুরআনকে হৃদয়ঙ্গম করতে বইটি আলোকবর্তিকা হিসেবে পথ দেখাবে।

ইসলামী নেতৃত্বের গুণাবলী

প্রারম্ভিক কথা :

আজ গোটা দুনিয়ার অসংখ্যা মানব কাফেলা এ সংকল্পে নিয়ে চলেছে যে, তারা তাদের জীবনের সফরকে ঐ পথেই পরিচালিত করবে, যে পথ প্রদর্শন করে গিয়েছেন মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (স)। তারা তাদের ব্যক্তি ও সমষ্টিগত জীবনকে সেই হিদায়াত অনুযায়ী গড়ে তুলতে চায়, যা রেখে গেছেন রাসূলে খোদা (স)। বিগত কয়েকশ শতাব্দী থেকে মানব কাফেলা এমন এক পথে চলে আসছে যা তাঁর পথ থেকে, ভিন্নতর ও বিপরীতমুখী। তাই বর্তমান দুনিয়ার তাঁর পথে চলাটা চাট্টিখানি কথা নয়। এ পথে রয়েছে অসংখ্য বাঁধা প্রতিবন্ধকতা। সীমাহীন সমস্যা সংকট। অপরদিকে পথিকরাও দুর্বল অক্ষম। আরোহীরা ক্লান্ত রোগাক্রান্ত ও বৃদ্ধ। পথ জগদ্দলয়ময় কিন্তু সান্ত্বনার বিষয় হচ্ছে, তাঁর পদাংকের বদৌলতে এ পথে মরুভূমির পাথরও রেশমী কোমল। এ জন্য হাজারো সমস্যা থাকা সত্ত্বেও সংখ্যা বেড়েই চলেছে কাফেলার। অব্যাহত রয়েছে সফরের গতি। বর্তমান দুনিয়ার এসব কাফেলার নাম ইসলামী আন্দোলন।

যে কাফেলা নিজের ও মানব সমাজের জীবনযাপনের জন্যে বিনির্মাণ করতে চায় একটি রাজপথ, তার কামিয়াবীর জন্যে স্বীয় ঈমান, ইয়াকীন, ইচ্ছা, সংকল্প, আমল, আচরণ এবং চরিত্র ও কুরবানীর সাথে সাথে তার একজন উৎকৃষ্ট সেনাপতিরও প্রয়োজন। যেমনি করে কাফেলার প্রতিটি পদক্ষেপের জন্যে একটি মাত্র পদাংকই অনুসরণযোগ্য এবং তা হচ্ছে রাসূল মুস্তাফার পদাংক। তেমনি, কাফেলার নেতার জন্যেও সেই একই পদাংকের অনুসরণের মধ্যেই রয়েছে কল্যাণ ও কামিয়াবী, যা রেখে গেছেন প্রথম নেতা রাসূলুল্লাহ (স)। সত্য কথা বলতে কি, কাফেলার প্রতিটি সদস্যেই কোনো না কোনো স্থানের নেতা। তাদের প্রত্যেকরেই সেই হেদায়াত ও পথনির্দেশের মুখাপেক্ষী যা রয়েছে নবী মোম্স্তুফা (স)-এর পদাংক।

তাঁর পদাংকগুলোকে স্পষ্ট আলোকিত করার যোগ্যতা তো আর আমার নেই। এ পথে ইলমের চেয়ে তাকওয়া, আমল ও রাসূলকে অনুসরণের পাথেয় অধিক প্রয়োজন। আমি এসব দিক থেকেই দরিদ্র। রাসূলে খোদার (স) সীরাত সম্পর্কে কিছু বলা বা লেখা এমনিতেই সূর্যকে চেরাগ দেখানোর সমতুল্য। এ কোনো চাট্টিখানি সাহসের কথা নয়।

কিন্তু করাচীতে জামিয়াতুল ফালাহর উদ্যেগে আয়োজতি এক অনুষ্ঠানে “নেতা ও শিক্ষক হিসেবে নবী করীম (স)” শিরোনামে তাঁর সীরাত ও আদর্শেও আলোচনা করতে হয়। কিছুদিন পর সেখানকার সে-কথাগুলোই একটা খসড়া পান্ডুলিপি আকারে আমাকে দেওয়া হয়।

বিষয়বস্তুর গুরুত্ব আমার নিকট পরিষ্কার ছিলো। এজন্যে কিছুটা সাহস করে সেই বক্তৃতাকে ভিত্তি করেই এ বইটি তৈরী করি। এখন এই লেখাটি আকারে ও প্রকারে উভয় দিক করেই এ বইটি তৈরী করি। এখন এই লেখাটি আকারে ও প্রকারে উভয় দিক থেকেই আর সেই বক্তৃতার মতো থাকেনি, যা জামিয়াতুল ফালাহর সমাবেশে পেশ করা হয়েছিল। অবশ্য মূল বিষয়বস্তু সেই বক্তৃতা থেকেই নেয়া হয়েছে। আমার ধারণা, এ দ্বারা সম্ভবত ইসলামী আন্দোলনের কাফেলার কোনো প্রয়োজন পূরণ হতে পারে।

এতে কোনো কথাই সম্ভবত নতুন নয়। সীরাতে রাসূলের উপর অনেক কিছুই লেখা হয়েছে। কিন্তু তাঁর জীবন কাহিনী এতোই মিষ্টি মধুর যে, তা যতোই দীর্ঘ হয়, অপূর্ণই থেকে যায়। সত্য কথা হলো, যা কিছু লেখা হওয়া উচিত তার তুলনায় এখনো কিছুই লেখা হয়নি। এ অনুভূতিই আমাকে এ পুস্তিকা প্রণয়নে অনুপ্রাণিত করেছে যে, আমার দ্বারা যদি কেউ সেই ভান্ডারের একটি মুক্তা এবং সেই সূর্যেও একটি রশ্মিও লাভ করতে পারে, তবে সেই সওয়াব থেকে আমি কোন বঞ্চিত হবো? সাথে সাথে আমার এ আস্থা এবং বিশ্বাসও আশ্বারোহীর পায়ের কাটার মতো আমার শরীরে ফুটতে থাকে যে, সর্বপ্রকার শ্রেষ্ঠত্ব এবং সমগ্র দৌলত নিয়ামত কেবল তাঁর আদর্শেও অনুকরণের মধ্যেই লুক্কায়িত রয়েছে।

আমি ভাই সাইয়েদ লুৎফুল্লাহ সাহেব এবং মুসলিম সাজ্জাদের নিকট কৃতজ্ঞ যে, তারা আমাকে বক্তৃতা করার সুযোগ দিয়েছেন এবং খসড়া পান্ডুলিপি তৈরী করে দিয়েছেন। কিন্তু সর্বাধিক কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি আমার জীবন সংগিনী লুমআতুন নূরকে, যার ধৈর্য সহনশীলতা এবং সাহায্য সহযোগিতা ছাড়া কয়েক দিন ধরে সকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত এ কাজে লেগে থাকতে পারতাম না।

আল্লাহ তায়ালার নিকট দোয়া করছি, তিনি যেনো এ ক্ষুদ্র উপহারটুকু কবুল করে নেন এবং সবার আগে আমাকে একথাগুলোর উপর আমল করার তাওফিক দান করেন।

খুররম মুরাদ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন লিঃ বৃটেন







ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের পারস্পরিক সম্পর্ক

ভূমিকা : ইতিহাস পর্যালোচনা করলে একথা দিবালোকের মতো স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, আম্বিয়ায়ে কিরাম সর্বদাই মানব সমাজের পুনর্বিন্যাস করেছেন। তাঁরা মানব জাতিকে এক বুনিয়াদী আদর্শের দিকে আহবান জানিয়েছেন। এবং সে আহবানে যারা সাড়া দিয়েছে, তাদেরকে এক নতুন ঐক্যসূত্রে গেঁথে দিয়েছেন। যে মানব গোষ্ঠী বিভিন্ন দল-গোত্র-খান্দানে দ্বিধাবিভক্ত হয়েছিলো, ছিলো পরস্পরের রক্ত পিপাসু ও ইজ্জতের দুশমন-এ আহবানের ফলে তারা পরস্পর পরস্পরের ভাই এবং একে অপরের ইজ্জতের সংরক বনে গেল। এই ঐক্যের ফলে এক নতুন শক্তির উদ্বোধন হলো এবং এই আহবান দুনিয়ার সব চাইতে গুরুত্বপূর্ণ ইতিহাস সৃষ্টি করলো ও শ্রেষ্ঠতম সংস্কৃতি রূপায়ণের নিয়ামকে পরিণত হলো। এই গূঢ় সত্যের দিকেই আল কুরআন ইংগিত করেছে তার নিজস্ব অনুপম ভঙ্গিতেঃ

واذكروا نعمة الله عليكم اذ كنتم اعداء فالَّف بيت قلوبكم فاصبحتم بنعمته اخوانا وَّ كنتم على شفاء حفرة من النار فانقذكم منها –

“আল্লাহর সেই নিয়ামতের কথা স্মরণ করো, যখন তোমরা ছিলে পরস্পরের ঘোরতর দুশমন, তখন তিনিই তোমাদের হৃদয়কে জুড়ে দিলেন এবং তোমরা তাঁর অনুগ্রহ ও মেহরবানীর ফলে ভাই-ভাই হয়ে গেলে। (নিঃসন্দেহে) তোমরা ছিলে আগুনের গর্তের তীরে দাঁড়িয়ে। অতঃপর তিনি তোমাদেরকে সেখান থেকে নাজাত দিলেন (এবং ধ্বংসের হাত থেকে রা করলেন।)” আলে ইমরানঃ ১০৩

আম্বিয়ায়ে কিরাম মানব জাতিকে আহবান জানিয়েছেন এই বলেঃ
واعتصموا بحبل الله جميعا ولا تفرقوا –

“আল্লাহর রজ্জুকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরো (ঐকবদ্ধ হও) এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না।”

ইসলামের এই একতা শুধু কানুনী বাহ্যিক একতা নয়, বরং এ হচ্ছে হৃদয়ের একত্ব। ইসলাম শুধু কানুনী ঐক্যকে ঐক্য মনে করে না, বরং এই বাহ্যিক ঐক্যের বুনিয়াদকে সে মানুষের হৃদয়ে স্থাপন করতে চায়। এর প্রকৃত উৎস হচ্ছে বিশ্বাস ও মতোবাদের ঐক্য, আশা ও আকাঙ্খার ঐক্য, সংকল্প ও হৃদয়াবেগের ঐক্য। সে বাইরে যেমন সবাইকে এক ঐক্য সূত্রে গেঁথে দেয়, তেমনি ভেতর দিক দিয়েও তাদেরকে এক ‘উখুয়্যাত’ বা ভ্রাতৃত্বের সম্পর্কে জুড়ে দেয়। আর এটাই সত্য যে, এই উভয় লণ যখন পূর্ণভাবে প্রকাশ পায়, প্রকৃত ঐক্য ঠিক তখনই গড়ে ওঠে। কারণ কৃত্রিম ঐক্য কখনো কোন ঐক্য গড়ে তুলতে পারে না। স্বার্থপরতামূলক ঐক্য শুধু বিভেদ ও অনৈক্যের উৎস হয়ে থাকে। আর শুধু আইনগত বন্ধনও কোন যথার্থ মিলন বা বন্ধুত্বের ভিত্তি রচনা করতে পারে না। এ কারণেই ইসলাম একতার ভিত্তিকে ঈমান, ভালোবাসা ও আত্মত্যাগের ওপর স্থাপন করেছে। এই ভিত্তিভূমির ওপর গড়ে ওঠা সম্পর্ক এমনি সুদৃঢ় প্রাচীরে পরিণত হয় যে, তার সাথে সংঘর্ষ লাগিয়ে বড় বড় তুফানও শুধু নিজের মস্তকই চূর্ণ করতে পারে, কিন্তু তার কোন তি সাধন করতে পারে না।

উপরন্তু এই ভিত্তির ওপর যে সমাজ সংস্থা গঠিত হয়, সেখানে বিরোধ ও সংঘর্ষের বদলে সহযোগিতা ও পোষকতার ভাবধারা গড়ে ওঠে। সেখানে একজন অপরজনের সহায়ক, পৃষ্টপোষক ও সাহায্যকারী হয়ে থাকে। সেখানে পড়ন্ত ব্যক্তিকে পড়ে যেতে দেয়া হয় না, বরং তার সাহায্যের জন্যে অসংখ্য হাত প্রসারিত হয়। সেখানে পিছে পড়ে থাকা ব্যক্তিকে ফেলে যাওয়া হয় না, বরং তাকে সর্বতো ভাবে সাহায্য করে সামনে এগিয়ে নেয়া হয়। এ সমাজ ব্যক্তিকে তার সমস্যাদির মুকাবেলা করার যোগ্য কওে তোলে এবং পতনশীল ব্যক্তিকে আঁকড়ে ধরে রাখার কাজ আঞ্জাম দেয়।

ইসলাম যে ভিত্তিগুলোর ওপর তার সামাজিক সম্পর্ক গড়ে তোলে সেগুলোকে খুব ভালোমতো অনুধাবন করা এবং সে ল্য অজনের জন্যে নিজের শক্তি ও সামর্থকে নিয়োজিত করা ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের প্েয অবশ্য কর্তব্য।
আমাদের শ্রদ্ধেয় বন্ধু ও প্রিয় ভাই খুররম জাহ্ মুরাদ ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের এ বুনিয়াদী প্রয়োজনটি পূর্ণ করার জন্যে এই পুস্তকটি রচনা করেছেন। এ দেশের যে ক’জন নগন্য সংখ্যক যুবক পাশ্চাত্য শিা লাভ করা সত্ত্বেও ধর্মীয় জ্ঞান অর্জনে বিশেষ প্রচেষ্টা চালিয়েছেন এবং এ ব্যাপারে যথেষ্ট কৃতিত্ব অর্জন করেছেন, খুররম সাহেব তাঁদের অন্যতম। বস্তুতঃ খুশবু থেকে যদি ফুলের পরিচয় পাওয়া যায় তবে তাঁর এ রচনাটিও তাঁর চিন্তাধারা ও দৃষ্টিভংগী উপলব্ধি করার প্েয সহায়ক হবে। প্রকৃতপক্ষে আলোচ্য বিষয়টির তিনটি দিক রয়েছেঃ

একঃ এক সামাজিক ও সামগ্রিক জীবনধারা গড়ে তোলা এবং একে স্থিতিশীল রাখার জন্যে ইসলাম ব্যক্তি-চরিত্রে কোন্ কোন্ মৌলিক বৈশিষ্ট্যের প্রকাশ দেখতে চায়।

দুইঃ কি কি বস্তু এ ভিত্তিগুলোকে ধ্বংস ও দুর্বল করে দেয়, যাতে করে সেগুলো থেকে বেঁচে থাকা যায়।

তিনঃ কি কি গুণাবলী এ ভিত্তিগুলোকে মজবুত ও উন্নত করে তোলে, যাতে করে সেগুলোকে গ্রহণ করা যেতে পারে।

শ্রদ্ধেয় লেখক অত্যন্ত বিস্তৃতভাবে এ তিনটি প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন। আমি বিশ্বাস করি, ইসলামী আন্দোলনের কর্মীগণ যদি এই জবাবগুলো অভিনিবেশ সহকারে পড়েন এবং এগুলো অবলম্বন করার প্রয়াস পান, তবে নিজেদের সামগ্রিক জীবনকেই তারা ঈমান, ভালোবাসা ও আত্মত্যাগের পুষ্পে- যা জীবনের ফুল-বাগিচাকে কুসুমিত করে তোলে –পুষ্পিত করতে পারবেন।

এ পুস্তিকা থেকে উপকারীতা লাভের ব্যাপারে কর্মীদের আরো একটি বিষয়ের প্রতি ল্য রাখতে হবে। সমস্ত জিনিস মানুষ রাতারাতি অর্জন করতে পারে না। তাই আমাদের কর্তব্য হচ্ছে ঃ চরিত্র গঠনের গোটা পরিকল্পনাটিকে বুঝে নিয়ে এক একটি জিনিসকে মনের মধ্যে খুব ভালো মতো বদ্ধমূল করে নেয়া, তারপর তাকে গ্রহণ ও অনুসরণ করার চেষ্টা করা এবং এভাবে প্রথমটির পর দ্বিতীয়টির পর তৃতীয়টিকে গ্রহণ করা।

হযরত আব্দুল্লাহ বিন উমর (রাঃ) সম্পর্কে বর্ণিত আছে যে, তিনি সাত-আট বছরে সূরায়ে বাক্বারাহ পড়েছিলেন। এ সম্পর্কে তাঁর কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হলে তিনি বলেন যে, ‘আমি একটি জিনিস পড়ি, তাকে গ্রহণ করি এবং তারপর সামনে অগ্রসর হই।’ বস্তুতঃ চরিত্র গঠনের জন্যে এমনি ক্রমিক, ধারাবাহিক ও অবিশ্রান্ত প্রচেষ্টারই প্রয়োজন। নিছক অধ্যায়নই এর জন্যে যথেষ্ট নয়। এ উদ্দেশ্য কেবল ক্রমাগত প্রয়াস-প্রচেষ্টার দ্বারাই হাসিল হতে পারে। এ কথাও খুব ভালোভাবে মনে রাখতে হবে যে, এটা চড়াই-উৎরাই এর পথ। সাহস ও আস্থার সাথে অবিরাম প্রচেষ্টার ভেতরেই এ পথের সাফল্য নিহিত। এ পথে ব্যর্থতা আসবে কিন্তু দৃঢ়ভাবে তার মোকাবেলা করতে হবে। সমস্যা যুদ্ধের আহবান জানাবে, কিন্তু তাকে জয় করতে হবে। সংকট বাঁধার সৃষ্টি করবে, কিন্তু তাকে পরাভূত করতে হবে। এগুলো হচ্ছে এ পথের অনিবার্য পর্যায়। এসব দেখে কি আমরা ভীত কিংবা ল্য পথ থেকে পিছিয়ে যাবো।

-অধ্যাপক খুরশীদ আহমাদ।

প্রেম-প্রীতি ও ভালোবাসা।

শরীয়া'হ - দ্য ওয়ে টু গড (SHARI'AH - THE WAY TO GOD)

There can be little doubt that today, as Islam steadily surges forward, powerful and decisive in directing and shaping the flow of events in the Muslim countries, the world is witnessing a phenomenon of far-reaching importance to its future. In this whole movement of Islamic resurgence, nothing stands out as more symbolic of Muslim aspirations than the commitment to re- establish the Shari'ah, the code of conduct for total life laid down by Islam. Every country of the Muslim world is pulsating with an intense longing to shape life in accordance with its precepts. The Shari'ah, in short, in the eyes of friend and foe alike, has come to epitomise the goal towards which Muslims are restlessly trying to advance in quest of their destiny.

But, paradoxically, it is the Shari'ah which, more than any other element in Islam, seems to arouse the greatest misgivings and most intense feelings of fear, hostility and ridicule both among those who are not within the fold of Islam and those Muslims who are either unaware of or have become intellectually alienated from their own traditions. For many of them, the Shari'ah is something barbaric and cruel, inhuman and uncivilised, which is trying to turn the clock back on progress and modernisation and plunge the world back into the Dark Ages (as if it was 'dark' in the world of Islam at the time it was 'dark' in Europe!): women will be no better than slaves and non-Muslims treated as second-class citizens. Cut off the hand of a thief; stone the adulterer; veil the woman; this, according to its opponents, is the sum substance of that Shari'ah which is so deeply inspiring Muslims everywhere today.





SHARI'AH - THE WAY TO GOD









সবিস্তার সূচীপত্র
টেম্পলেট কাষ্টমাইজেশন - তরঙ্গ ইসলাম | তরঙ্গ ইসলাম