আমার ফাঁসি চাই

৩রা মে ১৯৮৪ এর এক পড়ন্ত বিকেলে ধানমন্ডির বঙ্গবন্ধু ভবনে বসে গল্প করছেন বঙ্গবন্ধু কন্য জননেত্রী শেখ হাসিনা সহ কয়েকজন। গল্পে গল্পে ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ ও পাকিস্থানী সেনাবাহিনীর প্রসঙ্গ উঠলো। প্রসঙ্গ উঠলো ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যে দিয়ে গড়ে উঠা আমাদের সেনাবাহিনীর কথা।

জননেত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সম্পর্কে বললেন, এটা একটা সেনা বাহিনী হলো ? এটা একটা বর্বর, নরপিশাচ, উচ্ছৃংখল, লোভী, বেয়াদপ বাহিনী। এই বাহিনীর আনুগত্য নেই , শৃংখলা নেই , মানবিকতা নেই, নেই দেশ প্রেম। এটা একটা দেশদ্রোহী অসভ্য হায়েনার বাহিনী। তোমরা পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কথা বল। সারা বিশ্বে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মতো এতো ভদ্র, নম্র, সভ্য, বিনয়ী এ‌বং আনুগত্যশীল বাহিনী খঁজে পাওয়া যাবেনা। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মানবিকতা বোধের কোন তুলনাই চলেনা। কি অসম্ভব সভ্য আর নম্র তারা।

Mass killing on protesters in Dhaka-5 may-2013 (৫ মে গণহত্যা)

Mass killing on protesters in Dhaka at night by armed Joint forces.Killed thousands (06-05-13)


Today is the another black day of Bangladesh history ..In day time on 5th of May police killed around 25 protesters in Dhaka while the protesters protest at Motijhil in Dhaka for implementing their 13 points demand.At evening the protesters took decision to stay on street of Motijhil Shapla Square in  Dhaka...But at night (2:30 AM) when the protesters were sleeping the joint forces of government silently killing innocent protesters in street by firing , throwing tear shell ..even they conducted brutality by riot car and demolished the sleeping protesters to kill ..Not only joint forces , some ruling party's activists join to kill unarmed protesters by shot gun and stick .Some media person said joint forces have taken 5 truck of dead body to disappear..Even some journalists said the number of death will be 3000 ...Now you will see the some heart broken pictures ..

আওয়ামীলীগ একটা স্প্রিচুয়াল প্রজেক্ট, যেন ধর্ম-বিশেষ (নবুয়্যত দাবী!)


আওয়ামী লীগকে রাজনীতিক ভাবে মোকাবেলা করা কি সম্ভব?

আওয়ামী লীগ সম্বন্ধে, অন্তত শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ সম্বন্ধে আমাদের একটি প্রাথমিক ভুল ধারণা হোলো যে এটি একটি "রাজনীতিক" দল। আওয়ামী লীগ মূলত একটি স্পিরিচুয়াল প্রজেক্ট যার মঞ্জিলে মকসুদ হোলো একটা বিলিফ-সিস্টেম। রাজনীতি, ক্ষমতা, ভোট - এসব খুবই গুরুত্বপুর্ণ কিন্তু আসলে এই বিলিফ-সিস্টেমের ইনএভিটেবল এক্সটেনশান মাত্র।

বাংলাদেশে সেকুলারিষ্টদের অপরাধ ও ধর্মনিরপেক্ষতার বিষাক্ত ফলাফল


https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEj6BZNn1KK-7YTPprWGl8RMI52IY5UeBEO5ghAUjeL_0MP2rs6MIshWxhsKvqlLiUhod4LHATBE0dfndW0jB2bMFdELv6afVGK8WnD7OtZq9h5aORGmdptY1ChePyh7_zUWUbY_Zz7LiTqW/s1600/secular.jpg

অপরাধ বীভৎস ও বহুমুখি

বাংলাদেশে সেকুলারিষ্টদের অপরাধ অনেক। সবচেয়ে বড় অপরাধঃ নিরেট মিথ্যাচার। সেটি অতি বিচিত্র ও বীভৎসভাবে। দ্বিতীয় অপরাধঃ মুসলমানদের বিপুল সম্পদহানী, প্রাণহানী, শক্তিহানী ও ইজ্জতহানী। বাংলাদেশকে তারা তলাহীন ভিক্ষার ঝুলি বানিয়ে ছেড়েছে। তৃতীয় অপরাধঃ দুর্বৃত্তির সীমাহীন প্রসার। এবং চতুর্থ অপরাধঃ স্বাধীনতার মুখোশ পড়িয়ে দেশটিকে একনিষ্ঠ গোলামে পরিণত করেছে ভারতের। বিশ্বের প্রায় দুই শত দেশকে পর পর ৫ বার হারিয়ে বাংলাদেশ যে দুর্বৃত্তিতে শিরোপা পেল সেটিও এই সেকুলারিষ্টদের একক অবদান। দূর্নীতিকে ব্যাপক প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি দিতে ব্যবহার করেছে দেশের রাজনীতি, পুলিশ, প্রশাসন, সেনাবাহিনী, শিক্ষাব্যবস্থাকে। আগামী হাজারো বছরের ইতিহাসে বাংলাদেশ আর কোন গৌরব নিয়ে না হোক অন্ততঃ এ অর্জন নিয়ে বিশ্ববাসীর স্মৃতিতে প্রবলভাবে বেঁচে থাকবে। আজ পার পেলেও এ অপরাধ নিয়ে শত বছর পরও বাংলাদেশের মাটিতে অবশ্যই বিচার বসবে। আগামী দিনের প্রজন্ম অবশ্যই প্রশ্ন তুলবে, “আমাদের পূর্বপুরুষগণ কি এতটাই অযোগ্য ও অপদার্থ ছিল যে এমন দুর্বৃত্তদেরও মাথায় তুলেছিল?”

বাংলাদেশে ইসলাম বিদ্বেষ (আওয়ামী নাস্তিক মহাজোট)


http://www.sonarbangladesh.com/blog/uploads/puspita201106081307530847_jibon-----320110608170222.jpg
বর্তমান মহাজোট সরকারের তিন বছরে দেশে চরমভাবে বিদ্বেষের শিকার হয় ইসলাম, ইসলামী ব্যক্তিত্ব ও প্রতিষ্ঠান। ক্ষমতায় গেলে কোরআন-সুন্নাহবিরোধী কোনো আইন করা হবে না মর্মে নির্বাচনী ওয়াদা দেয়ার পর তা ভঙ্গ করে সরকার একের পর ইসলামবিরোধী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে। এতে হতবাক হয়ে যায় মানুষ। শতকরা ৯০ ভাগ মুসলমানের এদেশে সংবিধান থেকে আল্লাহর ওপর আস্থা বাদ ও ধর্মনিরপেক্ষতা প্রতিস্থাপন, কোরআন-সুন্নাহবিরোধী নারীনীতি প্রণয়ন, ইসলামবিরোধী ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষানীতি চালু, বোরকাবিরোধী রায় ও পরিপত্র জারি, সরকারের কর্তাব্যক্তিদের ইসলামবিরোধী বক্তব্য, আল্লাহ, রাসুল (সা.)

ইসলামবিদ্বেষ ও ইসলামবিরোধীতার অপর নাম : কামাল আতাতুর্ক

পশ্চিমা বিশ্বে মোস্তফা কামাল পাশাকে তুরস্কের জাতীয় নেতা বলে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু প্রকৃত ইতিহাস কী বলে? তা বোঝার জন্য তিনি কিভাবে তিনি ইসলামবিদ্বেষী ও ইসলামবিরোধী কর্মকান্ডসমুহ বাস্তবায়ন করেছিলেন তার বিবরণ দেয়া হল-

অধিকারের তথ্যানুসন্ধানে 'শাপলা চত্বর গণহত্যা' : নিহত ২০২ জনের নাম জেনেছে হেফাজত


গত ৫ ও ৬ মে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের ঢাকা অবরোধ কর্মসূচিতে সরকারি বাহিনীর হামলায় সংঘটিত ’গণহত্যা’ নিয়ে 'হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন' শিরোনামে এক দীর্ঘ তথ্যানুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে দেশের শীর্ষস্থানীয় মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’।

শেখ-মুজিবুর রহমানের শাসনামল ও অন্যান্য

শেখ মুজিব ও তার দল বাংলাদেশকে যে কতটা বিপর্যয়ের মুখে ফেলেছিল সে পরিচয় পাওয়া যাবে সে আমলের ঢাকার পত্রিকাগুলো পড়লে। নিজ ঘরে নিরপত্তা না পেয়ে বহু মানুষ তখন বনেজঙ্গলে লুকিয়েছে। ১৯৭৩ সালের ১৭ আগষ্ট দৈনিক ইত্তেফাকে প্রকাশিত একটি খবরের শিরোনাম ছিল,“নিরাপত্তার আকুতি গ্রাম-বাংলার ঘরে ঘর”। মূল খবরটি ছিল এরূপঃ “সমগ্র দেশে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতির ফলে এবং মানুষের জান-মাল ও ইজ্জতের প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার অভাবে গ্রাম-গঞ্জ ও শহরবাসীর মনে হতাশার মাত্রা দিন দিন বাড়িয়াই চলিয়াছে এবং আইন রক্ষাকারী সংস্থার প্রতি মানুষের আস্থা লোপ পাইতেছে। অবস্থা এমন দাঁড়াইয়াছে যে,চুরি-ডাকাতি, লুঠ-তরাজ তো আছেই, রাজনৈতিক, সামাজিক ও বৈষয়িক কারণে শত্রুতামূলক হত্যাকান্ডের ভয়ে মানুষ বাড়ীঘর ছাড়িয়া অন্যত্র আশ্রয় লইতেছে। যাহারা বিত্তশালী তাহারা শহরের আত্মীয়-স্বজনদের বাড়ীতে এমনকি শহরের আবাসিক হোটেগুলিতে পর্যন্ত আসিয়া উঠিতেছেন। যাঁহাদের শহরে বাস করিবার সঙ্গতি নাই,তাহার বনে-জঙ্গলে অথবা এখানে-ওখানে রাত্রি কাটাইতেছেন”।

আওয়ামী শাসনামলে নামাযী ও পর্দানশীন নারীর যত অপমান!!!

ঢাবিতে “জঙ্গি সম্পৃক্ততার অভিযোগে বিভিন্ন হল থেকে রাতে নামাযরত ছাত্রীদের আটক করেছে ছাত্রলীগ।” খবরটি দেখে একটু আঁতকে উঠলাম এই জন্য আরো জঙ্গি সম্পৃক্ততার সেই পুরনো নাটক মঞ্চস্থ করছে ঢাবি প্রশাসন? অবশ্য এ জাতীয় মিথ্যাচার এখন একেবারেই সেকেলে। এঅভিনয়ে অংশ নিয়েছে-ছাত্রলীগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত প্রক্টর এবং ভিসি মহোদয় নিজেই। ঢাকা বিশ¡বিদ্যালয়ের হলে তল্লাশি করে বিভিন্ন বিভাগের অসংখ্য ছাত্রীকে আটক করেছে ছাত্রলীগ ও প্রশাসন।

সত্যিই আমি বাংলাদেশের মুসলমানদের উদারতা দেখে মুগ্ধ হয়ে গেছি

(ছবি : চারুকলায় দোল পূজায় হিজাব পরা মুসলিম ছাত্রী )
১) যেখানে ভারতের হিন্দুরা মুসলমানদের ধর্মীয় উৎসব ঈদে গরু জবাই নিষিদ্ধ করে দিয়েছে, সেখানে বাংলাদেশের মুসলমানরা হিন্দুদের সাথে গলায় গলা মিলিয়ে হোলি পূজা করছে।

২) যেখানে ভারতে সরকারি চাকুরীতে সংখ্যালঘু মুসলমানদের দূর দূর করা হচ্ছে (http://goo.gl/I4u9ZP), সেখানে বাংলাদেশের বিভিন্ন সরকারি চাকুরীতে উচ্চহারে হিন্দু নিয়োগ দেয়া হচ্ছে।

৩) যেখানে ভারতের হিন্দু এমপিরা মুসলমান মেয়েদের লাশ কবর থেকে তুলে ধর্ষণ করতে বলছে, সেখানে বাংলাদেশের মুসলমানরা এখনও মান্ধাতার আমলের পূর্নিমা ধর্ষণ নাটকের (http://goo.gl/przKSl) বিচার চেয়ে যাচ্ছে।

আওয়ামী আমলে ওয়াজ মাহফিল


চাঁপাইনবাবগঞ্জে ওয়াজ মাহফিলে পুলিশের হামলা, গুলিবর্ষণ: আহত ৬ → (০৬ মার্চ ২০১৫)

খবর: চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলার সুরানপুর আমবাগানে একটি ওয়াজ মাহফিলে হামলা চালিয়ে গুলি বর্ষণ করেছে পুলিশ.

এতে পুলিশের সাথে মুসল্লীদের সংঘর্ষ বেধে যায়. সংঘর্ষে ৩ পুলিশ কর্মকর্তা সহ ৬ জন আহত হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ এ পর্যন্ত ৯ জন মুসল্লীকে আটক করেছে। আটককৃতরা জামাত-শিবিরের সমর্থক বলে জানান ভোলাহাট থানা। এ ঘটনায় আহত হয়েছে ভোলাহাট থানার উপ-পরিদর্শক শিশির কুমার চক্রবর্তী, আব্দুল মজিদ এবং সহকারী উপ-পরির্দশক শুকুর আলী সহ ৩ পুলিশ সদস্য।

একটি ভুল ধারণার অপনোদন -(লাকুম দ্বীনুকুম ও ধর্মনিরপেক্ষতা)

আমাদের অনেকের মাঝেই একটা ভুল ধারণা প্রচলিত হয়ে আছে। ভুল ধারণাটির উদ্ভব হয়েছে আয়াতটির প্রকৃত অর্থ না বুঝার কারণে। আয়াতটির ভুল অর্থ করা হয় এইভাবে, “তোমাদের জন্য তোমাদের ধর্ম, আমাদের জন্য আমাদের ধর্ম”। কিন্তু বাস্তবে আয়তটির অর্থ মোটেও এটা বুঝায় না। আসলেই কি বুঝায় সেই বিষয়টিই আলোকপাত করব। ইনশাল্লাহ আমাদের ভুল ধারণাটি দূর হয়ে যাবে।

এই আয়াতটি হচ্ছে কুরআন শরীফের ১০৯ নং সূরা কাফিরুনের ৬ নং আয়াত যার প্রকৃত অর্থ হচ্ছেঃ
“তোমাদের কর্ম ও কর্মফল তোমাদের জন্যে এবং আমার কর্ম ও কর্মফল আমার জন্যে”

এই সূরাটির সম্পূর্ণ অর্থ আর এর সরল ব্যাখ্যা হচ্ছেঃ
বলুন, হে কাফেরকুল!
এখানে কাফেরকুল দিয়ে এই পৃথিবীর জমিনে যত অবিশ্বাসী আছে তাদের সকলকেই বুঝানো হচ্ছে। যদিও এই সূরাটি নাযিল হয়েছিল তৎকালিন কুরাইশ অবিশ্বাসীদের উদ্দেশ্য করে। কুরাইশ সম্প্রদায় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে তাদের মূর্তিগুলোকে এক বছর পূজা করতে আহবান জানায় যার বিপরীতে তারা এক বছর আল্লাহর ইবাদত করবে। এরপরই আল্লাহ তাআলা এই সূরাটি নাযিল করেন এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নির্দেশ দেন ইসলাম যে তাদের ধর্ম থেকে সম্পূর্ণ অন্যরকম তা পরিস্কার করে দেওয়ার জন্য।

তোমরাই সুমাইয়ার বোন

ফারজানা কল্পনাও করেনি এমন পরিবেশে থাকতে হবে তাকে কোনদিন ।
ছোট্ট একটা রুম । নোংরা মেঝে । রুমের একপাশে কোমড় পর্যন্ত তোলা ওয়াল এটাই টয়লেট । সেখান থেকে দুর্গন্ধ আসছে । কোনমতে গাদাগাদি করে এখানে বসে আছে ফারজানা সহ মোট ২৭ জন মেয়ে । ফারহানারা ২৪ জন । আর ৩ জন আগে থেকেই ছিল ।

সেক্যিউলারিজমঃ আল্লাহর অবাধ্যতাই যার মুলমন্ত্র

https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEj6BZNn1KK-7YTPprWGl8RMI52IY5UeBEO5ghAUjeL_0MP2rs6MIshWxhsKvqlLiUhod4LHATBE0dfndW0jB2bMFdELv6afVGK8WnD7OtZq9h5aORGmdptY1ChePyh7_zUWUbY_Zz7LiTqW/s1600/secular.jpg
সেক্যিউলারারিজম বলতে আমারা কি বুঝি? সেক্যিউলারিজমের বিপদই বা কোথায়? বাংলাদেশের ন্যায় একটি মুসলিম দেশের প্রেক্ষাপটে এ দুটি অতি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। কারণ এর সাথে জড়িত শুধু বাংলাদেশের বর্তমান সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক দূরাবস্থাই নয়, বরং দেশটির কোটি কোটি নারী-পুরুষের ভবিষ্যৎ। জড়িত শুধু পার্থিব সাফল্যই নয়, অনন্ত আখেরাতের কল্যানও। সেক্যিউলারিজমের অভিধানিক অর্থ হলো ইহজাগতিকতা। তবে বাংলাদেশের রাজনীতিতের এর মূল প্রয়োগ হয়েছে ধর্মনিরপেক্ষতা বোঝাতে। অথচ এটি হলো সেক্যিউলারিজমের সম্পূর্ণ ভূল ও বিভ্রান্তিকর ব্যাখ্যা যা পেশ করা হয়েছে নিছক ইসলামবিরোধী পক্ষের রাজনৈতিক স্বার্থে। সেক্যিউলারারিজম আদৌ ধর্ম নিরপেক্ষ নয়, বরং দেয় এক প্রচন্ড ধর্মবিরোধী ধারণা। এর বিরোধ ইসলামের মূল আক্বীদা বা বিশ্বাসের সাথে। সেক্যিউলারিজমের ইহজাগতিক চেতনা ধর্মীয় বিশ্বাসের মূল শিকড়ই কেটে দেয়। ভূলিয়ে দেয় জীবনের আসল লক্ষ্যস্থল এবং পাল্টে দেয় চলার সঠিক পথ।

যে মহাবিপদ সেক্যিউলারিজমে

http://media.somewhereinblog.net/images/ladenvai_1291105771_1-Lp_islamic-foundatione-bala.jpg


বাংলাদেশসহ প্রতিটি মুসলিম দেশে মুসলমানদের বড় বিপদ এ নয় যে মানুষ দলে দলে হিন্দু, খৃষ্টান বা বৌদ্ধ হয়ে যাচ্ছে। বরং বিপদের মূল কারণ, সেক্যিউলারিজম ও অসংখ্য সেক্যিউলার প্রতিষ্ঠান। এগুলির মুল লক্ষ্য হলো জনগণের চেতনা থেকে পরকালের স্মরণকে দূর করা। এবং জীবনকে পার্থিব বা ইহকালমুখি করা। অথচ যারা মুসলমান তাদের সমগ্র জীবনই হলো পরকালমুখি। তাদের ধর্মকর্ম, রাজনীতি, সংস্কৃতি ও যুদ্ধবিগ্রহসহ সকল কাজকর্ম নিয়ন্ত্রিত হয় পরকালে জবাব দিতে হবে সে ভীতি থেকে। পার্থিব জীবনকে ভাবে পরকালীন কল্যাণ লাভে বিণিয়োগের ক্ষেত্ররূপে। ফলে পরকালের চেতনা লোপ পেলে তখন সে ধর্মে অঙ্গিকারশূন্য হতে বাধ্য। শিক্ষা, সংস্কৃতি ও জীবনের অন্যান্য অঙ্গনে তখন প্রকাশ পায় ইহজাগতিকতা। ফলে ধর্মে অঙ্গিকারহীন হয় রাজনীতি। এজন্যই কোন মুসলিম দেশে সেক্যিউলারিজম প্রতিষ্ঠা পেলে ইসলামের চেতনা-বিনাশ অনিবার্য। তখন মানুষ পরিণত হয় নিছক ভোগবাদী জীবে।

যে প্রতারণা ধর্মনিরপেক্ষতার নামে

http://a4.sphotos.ak.fbcdn.net/hphotos-ak-ash3/c0.52.843.403/p843x403/540942_430492363640785_1542008371_n.jpg

সেক্যিউলারদের দাবী, তারা ধর্ম-বিরোধী নয়। তারা নিরপেক্ষ। এটি অসত্য এবং নিছক এক প্রতারণা। এটি তাদের মূল লক্ষ্যকে আড়াল করার কৌশল। একটি মুসলিম দেশে ইসলাম বিরোধী প্রকল্পের মূল কথাটি খোলাখোলি বলার সাহস নাই বলেই তারা এরূপ নিরপেক্ষতার ভান করে। রাজনীতির ময়দানে এমন ছলনাকে তারা জায়েজও মনে করে। মুসলমানের সকল কর্ম ও ধর্ম পরাকালমুখি। পথচলায় প্রতিটি পদক্ষেপই ফেলা হয় মূল লক্ষ্যকে সামনে রেখে। যে পূব দিকে যায় সে কখনই তাই পশ্চিমে পা রাখে না। তেমনি অবস্থা তাই জীবনের আসল পথচলাতেও। আখেরাতমুখী মানুষের জীবনটি এজন্যই ইহজাগতিক মানুষ থেকে তাই ভিন্নতর হয়। এখানে সার্বক্ষণিক কাজ পরকালে সফল হওয়ার চেতনা।
অথচ পরকালের সে চেতনা সেক্যিউলারদের রাজনীতি এবং শিক্ষা-সংস্কৃতিতে অপ্রাসঙ্গিক। বরং তারা চায়, পরকালমুখি জীবনের সে গতিধারাকে ঘুরিয়ে দিতে। এভাবে সুস্পষ্ট ভাবে তারা একটি পক্ষ নেয়, অতএব তাদেরকে কি নিরপেক্ষ বলা যায়? আগুনকে তার উত্তাপ থেকে কখনই আলাদা করা যায় না। সেটি বিলুপ্ত হয় একমাত্র নেভানোর পর। তেমনি অবস্থা একজন মুসলমানেরও। যেখানেই সে যায় ঈমানকে সে সাথে নিয়েই যায়। তাই মুসলমানের ইবাদত-বন্দেগী ও পোষাক-পরিচ্ছদের পাশাপাশি তার রাজনীতি, অর্থনীতি, সংস্কৃতির মাঝেও প্রকাশ পায় ঈমানের উত্তাপ। প্রকাশ পায় পরকালমুখিতা। কিন্তু সেক্যিউলারদের দাবী, মুসলমানকে রাজনীতি, শিক্ষা-সংস্কৃতি, সাহিত্য, আইন-আদালত ও জীবনের অন্যান্য ক্ষেত্রে প্রবেশ করতে হবে ইসলামের প্রচার বা প্রকাশ না ঘটিয়েই। কিন্তু সেটি কি সম্ভব? সেটি একমাত্র সম্ভব ঈমানের সে আগুনকে নিভিয়েই।

সেক্যিউলারিস্টদের ইসলামবিরোধীতা


বাংলাদেশের সেক্যিউলার শক্তির মাঝে ইসলাম-ভীতি আজকের নয়, বরং শুরু থেকেই। শেখ মুজিবের মগজেও সে ভয় ছিল প্রচন্ড। ফলে আইন করে ইসলামী শক্তির উত্থানকে তিনি রহিত করেছিলেন। চিত্তরঞ্জন সুতারদের মত ভারতীয় দালাল-ঘাতকদের আওয়ামী টিকিটে তিনি এমপি বানিয়েছেন, কিন্তু লক্ষ লক্ষ বাংলাদেশী মুসলমানদের তিনি সংগঠিত হতে দেননি। শুধু এ অপরাধে যে তাদের অঙ্গিকার ছিল ইসলামের প্রতি। তিনি দেশের নাস্তিক কম্যিুনিষ্ট, সমাজতন্ত্রি, জাতিয়তাবাদী, এমনকি পতিতাদেরও সংগঠিত হওয়ার অধিকার দিয়েছিলেন যাতে তারা নিজ নিজ কর্ম, নিজ আদর্শ ও নিজ দূষীত জীবববোধের প্রসারে আত্মনিয়োগের সুযোগ পায়। কিন্তু যারা ইসলামের বিজয় ও গৌরব বাড়াতে নিজেদের শ্রমদান ও আত্মদানকে অতি পবিত্র ও অলংঘনীয় ঈমানী দায়িত্ব মনে করেন তাদেরকে সে সুযোগ দেননি।

শেখ মুজিবের এটি অজানা ছিল না যে প্রকৃত মুসলমান মানেই ইসলামের পক্ষের শক্তি। তার কাছে ইসলামে নিরপেক্ষ থাকাই মহাপাপ। এমন নিরপেক্ষতার অর্থ, ধর্ম-অধর্মের দ্বন্দে মুসলমানকে নিস্ক্রীয় করা। অথচ ধর্ম-অধর্মের দ্বন্দে নিস্ক্রীয় হওয়াটাই শুধু অধমর্ই নয়, এটি আল্লাহর বিরুদ্ধে চরমতম বিদ্রোহ। একাজ কাফেরদের বা মুনাফিকের। সুদ-ঘুষ, মদ-জুয়া, ব্যাভিচার ও শরিয়তের প্রতিষ্ঠার ন্যায় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নিরপেক্ষ বা নিস্ক্রীয় থাকাটা এজন্যই প্রতিটি ঈমানদারের জন্য অতিশয় বর্জনীয়। এটি তার ঈমান বাঁচানোর বিষয়। তাই সেক্যিউলারিজম আদৌ কোন ইসলামের পরিভাষা নয়। আদি আরবীভাষাতে এমন শব্দই নেই। অধুনা সেক্যিউলারিজম বোঝাতে আলমানী নামে আরবীতে একটি শব্দ যোগ হয়েছে নিছক পাশ্চাত্যের প্ররোচনায়। এটি তাই নিছক সাম্প্রতিক আবিস্কার।

বাংলাদেশে সেকুলারিজমের তান্ডব ও ইসলামি চেতনার বিপন্নদশা


বাংলাদেশ একটি মুসলিম দেশ রূপে পরিচিত হলেও, দেশটিতে যে চেতনা বা মতবাদটি বিজয়ী সেটি ইসলাম নয়। আইন রূপে যে বিধিমালা আদালতে প্রতিষ্ঠিত সেটিও আল্লাহর আইন নয়। ব্যবসা-বাণিজ্য, ব্যাংক-বীমা ও সাধারণ মানুষের প্রাত্যাহীক জীবনে যে আচার, রীতিনীতি বা সংস্কৃতিটি বিজয়ী সেটিও ইসলামী নয়। বাংলাদেশে বিজয়ী জীবনদর্শনটি হল সেকুলারিজম। তবে দেশটিতে  সেকুলারিজম যেভাবে ধর্ম-নিরপেক্ষতা বুঝাতে ব্যবহৃত হয়ে থাকে শব্দটির প্রকৃত অর্থ তা নয়। সেকুলারিজমের এটি এক ভূল, বিভ্রান্তকর এবং সে সাথে প্রতারণামূলক ব্যাখা। ধর্ম নিয়ে সেকুলারিজম যেমন নীরব নয়, তেমনি নিরপেক্ষও নয়। সেকুলারিজমের আভিধানিক অর্থ হল ইহজাগতিকতা। এটি হল এমন এক বিশ্বাস বা চেতনা যা শিক্ষা, সাহিত্য, সংগঠন ও রাজনীতির ক্ষেত্রে ধর্মের কোন ভূমিকা ও প্রভাবকে স্বীকার করে না। জীবনের গুরুত্বপূর্ণ এ ক্ষেত্রগুলোকে তারা ধর্মশূণ্য দেখতে চায়, তাই রাজী নয় ধর্মের প্রবেশাধিকার দিতে। ব্যক্তি ও সমষ্ঠির জীবনে ধর্মের প্রভাবকে বলে সাম্প্রদায়িকতা।

ধর্ম-নিরপেক্ষতার নামে মিথ্যাচার

অনেক মুসলমানও পাশ্চাত্যের নীতিকে ধর্ম-নিরপেক্ষ বলে প্রশংসায় বিভোর। তাদের যুক্তি, পাশ্চত্য দেশগুলীতে নামায-রোযার স্বাধীনতা রয়েছে। রয়েছে মসজিদ ও মাদ্রাসার গড়ার স্বাধীনতা। রয়েছে ধর্মীয় লেবাস পড়ে রাস্তায় চলাফেরা ও ধর্মীয় উৎসব পালনের স্বাধীনতাও। পাশ্চাত্য দেশের অনেক সরকার মসজিদ গড়ার জন্য জমি দেয়, এমনকি অর্থও দেয়। তারা আরো উল্লসিত যে, রোযার মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হোয়াইট হাউসে মুসলিম নেতাদের ইফতারির দাওয়াত দেয় এবং ঈদের দিনে বাণীও দেয়। যে কারণে তারা পাশ্চাত্যে এ আচরণে প্রশংসায় সোচ্চার তার মূল কারণ মূলতঃ একটিই। আর তা হল অজ্ঞতা। আর সে অজ্ঞতা যেমন ইসলামের মূল শিক্ষা নিয়ে, তেমনি ইসলামের বিরুদ্ধে পাশ্চাত্যের মূল এজেন্ডা নিয়ে। অজ্ঞতার কারণেই তারা ইসলামকে অন্যান্য ধর্মের সাথে এক করে ফেলে।

https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEj6BZNn1KK-7YTPprWGl8RMI52IY5UeBEO5ghAUjeL_0MP2rs6MIshWxhsKvqlLiUhod4LHATBE0dfndW0jB2bMFdELv6afVGK8WnD7OtZq9h5aORGmdptY1ChePyh7_zUWUbY_Zz7LiTqW/s1600/secular.jpg 


মুসলিম কি করিয়া ধর্মনিরপেক্ষ হয়? এমনকি অন্যরা?

 http://media.somewhereinblog.net/images/ladenvai_1291105771_1-Lp_islamic-foundatione-bala.jpg

 গত কয়েকবছর ধরে শব্দগুলো কানে বাজছে। মডারেট মুসলিম। ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশ। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি। মুসলিম উম্মাহ। ইত্যাদি। ইত্যাদি। ভাব চক্কর থেকে পরিস্কার যে কথাবার্তাগুলো খুব বেশী পোক্ত না। কথার কথা। জাতে উঠার জন্য মৌসুমী আলাপ। এসব মৌসুমী শব্দমালার তেমন কোন কম্প্রিহেনসিভ অর্থ নাই। তবু সমাজের খুবই ক্ষুদ্র কিন্তু প্রভাবশালী একটি অংশ ভাঙ্গা ক্যাসেটটি বাজাচ্ছে যেমন গাঁও গেরামের চা দোকানে এখনো বাজে পুরনো হিন্দী গান- তেরা লাল কো পাটকা মাল মাল ইয়ে হ্যায়....বাবুজি কিংবা ফাতেমা কুলসুমার জারি। মাত্রাতিরিক্ত স্মার্ট ও দুর্নীতির দায়ে একদা লাইসেন্স বাতিলকৃত একুশে টিভি ফাঁকে ফুঁকেই ধর্ম রাজনীতির হাতিয়ার হতে পারেনা। ইসলাম শান্তির ধর্ম। আমরা ধর্মনিরপেক্ষতায় বিশ্বাস করি জাতীয় টেলপ প্রচার করছে। শহর ঢাকার নব্য আকন্ট লুটতরাজে লিপ্ত ধনিক শ্রেনী, বোধহীন কিছু কেরানী গোত্রের শিক্ষিত মধ্যবিত্ত ও ভবঘুরে কিছু পথলেখক ব্যতীত বাংলাদেশের গরিস্ট সংখ্যক মানুষ মোটাদাগে এখনও ধর্মাশ্রয়ী। বুঝে হোক বা নাবুঝে হোক। কি মুসলিম, কি হিন্দু।
ধর্মনিরপেক্ষতার পক্ষবাদী ও প্রচারকরা যা বলতে চান সংক্ষেপে তা এরূপ- ব্যক্তিগত জীবনে মানুষ যার যার ধর্ম পালন করবে। কিন্তু রাস্ট্র হবে যেকোন ধর্ম থেকে আলাদা নিরপেক্ষ কিছু একটা। রাস্ট্রের আইন, আচার, সংস্কৃতি, প্রথা সদা সতর্ক থাকবে যেন কোন ধর্ম এর মধ্যে ঢুকে না পড়ে। ধর্মের সংশ্লেষ আছে এরূপ কোন বিষয় রাজনীতিতে আনা যাবেনা। সংবিধানেই এ দেয়াল তোলা থাকবে। ধর্ম তার পবিত্রতা ও শান্তির বাণী নিয়ে নাগরিকদের অন্তরে অন্দরমহলে থাকবে। বাইরের পৃথিবী চলবে রাস্ট্রের তৈরী নিরপেক্ষ বিধিমালায়।
বাহ্যত অনেকে সরলমনা ভাবে বিষয়টার প্রতি ধনাত্বক মনোভাব পোষন করলেও বা নিদেনপক্ষে ঋনাত্বক ভাব না দেখালেও গভীরে গেলে দেখা যাবে এটা একটা অন্তসার:শুন্য প্রস্তাব। ইন ফ্যাক্ট, উপরের বর্ননার মত খাঁটি ধর্মনিরপেক্ষ রাস্ট্র কোথাও পাওয়া যায়নি, যাবেও না। লিখার সুবিধার্থে তা কল্পনা করে নেয়া হল গণিতের 'মনে করি'র মত!
১. রাস্ট্রের মৌলিক উপাদানের প্রধানতমটিই হল মানুষ। মানুষ না থাকলে রাস্ট্র হয় না। মানবহীন রাস্ট্র বলতে কিছু নেইও। আর মানুষের জন্যই যেহেতু রাস্ট্র তাই মানুষের স্বভাব, কামনা, বাসনাকে তুচ্ছ করে শান্তিময় কোন রাস্ট্র হতে পারেনা। কোনদিন কোথাও হয়নি।
২. মানুষের অন্যতম মৌলিক উপাদান ধর্মের কোলে আশ্রয় কামনা। পার্থিব যাতনায় অতিস্ঠ মানুষ শেষ আশ্রয় খোঁজে অজ্ঞাত বিধাতার কোলে। ঘোরতর নাস্তিককেও যদি আল্লাহ থেকেই থাকেন জাতীয় মানসিকতার কবলে পড়ে মাঝে মধ্যে মসজিদমুখী হয়ে সম্ভাব্য পরকালের ব্যাপারে ব্যাকআপ নিতে দেখা যায়! তাই জগতজোড়া হাজারো ধর্ম।
৩. এহেন মানুষের সামাজিক কল্যানার্থে গড়ে উঠা রাস্ট্র চাইলেও সকল ধর্মকে পরিত্যাজ্য করে নিরপেক্ষ আচার আচরন দাঁড় করাতে পারবেনা। বিক্ষিপ্ত চেস্টার ফসল হবে নাগরিক সাধারনের মনে কস্ট দেয়া। আর নাগরিকদের মনে আঘাত দেয়া নিশ্চয়ই রাস্ট্রের কম্ম নয়!
৪. বহুজাতিক আধুনিক রাস্ট্রের স্থপতি মুহাম্মদ (স)ও মদীনা রাস্ট্রে ইহুদীদের বিচার আচার তাদের ধর্ম মোতাবেক করেছেন, নব্য ইসলামী আইনে নয়। তবে যেসব বিষয়ে সুনির্দিস্ট ইহুদী আইন নেই তা অবশ্যই রাস্ট্রের কাঠামোতে ইনসাফ বজায় রেখে ফায়সালা হয়েছে। তেমনিভাবে বর্তমানকালেও যেসব ধর্মে নানাবিধ সামাজিক প্রশ্নের সুনিদ্দিস্ট জবাব নেই তা নি:সন্দেহে পার্লামেন্টের ইনসাফমূলক প্রনীত আইনে হবে।
৫. কিন্তু ইসলাম এধরনের সীমাবব্ধতা থেকে বেশ দুরে। গোসল করা থেকে হজ্ব করা, ক্রয় বিক্রয় থেকে ব্যভিচারের প্রতিকার- সম্ভাব্য সকল বিষয়ে মুসলিমদের জীবনযাপন প্রনালী দেয়া হয়েছে। গভীর রাতের তাহাজ্জুদের একাকীত্বকে যেমন গুরুত্ব দেয়া হয়েছে, তেমনি আদেশ দেয়া হয়েছে যুদ্ধকালীন সৈনিকের আচরন কি হওয়া উচিৎ। কোন বিষয়ে সুনির্দ্দিস্ট নির্দেশনা না থাকলে পার্লামেন্টের এ ক্ষমতা রয়েছে মৌলিক রীতির আলোকে ইনসাফপুর্ন আইন প্রনয়নের। বলে রাখা ভাল, দেওয়ানী ও ফৌজদারী যেকোন অন্যায় কিংবা জটিলতার নিরসনপূর্বক রায় বাস্তবায়নের ক্ষমতা সরকারের মাধ্যমে শুধুই বিচারবিভাগের। কোন হুজুর, মোল্লা, সমাজপতির নয়। তালেবান ও বাংলাদেশের একশ্রেনীর ইসলামপন্থি বস্তুটা উপলব্ধি করতে ভুল করে বেআইনি কাজ করছেন। পাড়াগাঁয়ের এসব ঘটনা নিতান্ত কূপমন্ডুকতা বৈ কিছু নয়।
৬. মানুষের জীবনে রাস্ট্র এতটাই প্রোথিতযে তা থেকে ব্যক্তিগত জীবনকে পুরোপুরি আলাদাভাবে বিবেচনা করা কঠিন। সুতরাং মুসলিম মাত্রেরই জীবনাচারে ইসলাম ও রাস্ট্রের সাংঘর্ষিক আইন সমূহ (যদি থাকে) দু দুটো বস্তু মেনে সুনাগরিক হিসেবে চলা কঠিন। রাস্ট্রের পুলিশ বা জেলের ভয়ে মেনে চললেও মনের দু:খ মনে রেখে গুমরে কাদঁতে বাধ্য। আর যে রাস্ট্র নাগরিকের মনোবেদনার কারন তা ভাল রাস্ট্র হতে পারেনা।
৭. গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বেশীরভাগ মানুষের মতামতেই রাস্ট্র চলবে। যে অঞ্চলে গারো বেশী তার কালাকানুন গারোধাঁচের হবে এটাই স্বাভাবিক। গারো অধ্যুষিত রাস্ট্রটি যদি নানাবিধ আইন প্রনয়নে নিজেদের বুদ্ধিমত্তার পাশাপাশি কিছু ইসলামি আইনও ধার নেয় তাতেইবা অসুবিধা কি? মুসলিম সংখ্যাগরিস্ট্ বাংলাদেশের জনপ্রতিনিধিরা বেশীরভাগ মুসলিম হবেন, আইন প্রনয়নে গোড়া থেকেই নিজেদের ধ্যানধারনা বা পাশ্চাত্য আইনের হুবহু নকল না করে তাদের স্রস্টা, রাসুল, ধর্ম ইসলাম এ ব্যাপারে নির্দেশনা দিয়েছেন কিনা খুঁজে দেখবেন, ঘাটতি থাকলে নীতি বজায় রেখে নতুন আইন প্রনয়ন করবেন ও সৎ ভাবে সরকারী দায়িত্ব পালনকরে মেয়াদান্তে বিদায় নেবেন- এটাই স্বাভাবিক। এটার মধ্যে অতি অবশ্যই ভূখন্ডের নানান জনগোস্টির ব্যক্তিগত আইনগুলো যাতে সংখ্যাগুরু বা ক্ষমতাসীনদের বুটের তলায় চাপা না পড়ে সে দেখভাল করাও পরে। উপগোত্রীয় জটিলতায় গোত্রীয় গনভোট নেয়া যেতে পারে। মূল বিষয়টা ন্যায়বিচার কায়েম করা। এতে করেই ধর্ম যার যার রাস্ট্র সবার স্পিরিটের বাস্তবায়ন হতে পারে, রাস্ট্র থেকে সকল ধর্মকে বিতাড়িত করে নয়।
৮. অপরাপর ধর্মের ব্যাপারে বিশদ জানিনা, ইসলাম শান্তির ধর্ম, ইসলাম পবিত্র ধর্ম, ইহাকে নিয়া রাজনীতি করা বা ইহাকে রাজনীতিতে টানিয়া আনা নিন্দনীয় কাজ বলে যে শ্লোকগুলো প্রচার করা হচ্ছে তা নিজেদের অশান্তি ও অপবিত্রতার স্বীকারোক্তি বৈ কি! আপনার এ অধিকার আছে ইসলামকে সম্পুর্নরূপে অস্বীকার করার, ভিন কোন ধর্মের অনুসরন করার বা কোন ধর্মেরই নিকুচি না করার। কিন্তু নিজে মুসলিম সেজে, ইসলামের ভাল ভাল প্রশংসা করে, জন্ম-মৃত্যু-বিয়ে, নামাজ-রোজা-হজ্জ সবই মেনে এবং সাধ্যমত পালন করে রাস্ট্র ও রাজনীতির ব্যাপারে ইসলামকে টেনে আনা গুরুতর অপরাধের (!!) মনে করছেন। এ কেমন মনস্তাত্বিক দ্বৈততা? ঠান্ডা মাথায় বিচার করলে দেখা যাবে এটা হয়ত নিছক অজ্ঞতা, অথবা না বুঝে হট্টগোলের একজন হয়ে হাউ কাউ মাউ চিৎকার চেঁচামেচি করা। যেটা কিন্ডারগার্টেনের বাচ্চারা করে!
৯. মুল পথ থেকে সরে যাওয়া মানবগোস্টিকে সুপথে আনার জন্য অনেক নবীর আগমন হয়েছে। মানুষের আত্নিক, বৈষয়িক, পারিবারিক সংশোধনের জন্য তারা ডাক দিয়েছেন। রাজকার্য পরিচালনা করেছেন বা ততটা পথ পৌছতে পারেননি। মুহাম্মদ (স) ও একই কাজ করেছেন। রাজনীতির মাঠে বিরোধিদলের কন্টকাকীর্ন পথ পেরিয়ে প্রধান নির্বাহী হয়েছেন। চার খলিফাও সে রাস্তায় চলেছেন। উঁচু মানের ধর্মিক লোকরাই মন্ত্রী, পরামর্শক, প্রাদেশিক গভর্নর হয়েছেন। মুয়াবি'য়া (র) অন্যায্য শাসনের মধ্যদিয়ে সে ধারার বিচ্যুতি হয়েছে। ধার্মিকরা বাধ্য হয়েছেন রাজকার্য থেকে মসজিদে আশ্রয় নিতে। উদ্ভব হয়েছে মুসলিম সমাজে উদ্ভট আরব সাম্রাজ্যবাদের যেখানে ইমাম আবু হানিফার মত লোকও জেল খাটেন। যেখানে খুঁটি গেড়েছে রাজতন্ত্র।
১০. অনুসারীদের এহেন অধ:পতন ব্যাপকমাত্রার জীবনব্যবস্থা ইসলামকে খর্ব করেনা। করে ব্যর্থ মুসলিমদের। এখনও বোধযুক্ত মুসলিম ধর্মনিরপেক্ষতা কামনা করতে পারেননা। করবেন ঠিক উল্টোটা। এখানে আওয়ামীলিগ, বিএনপি, জামায়াতের প্রশ্ন নয়, প্রশ্ন মানুষ, রাস্ট্র, বিশ্বাস, ন্যায়বিচার, সহাবস্থানের, গণমত ও শান্তির।

লেখা : পাললিক মন


"দ্বীন" শব্দের চারটি অর্থ:
১- প্রভাব, প্রাধান্য, শক্তি, আধিপত্য
২- দাসত্ব, আনুগত্য
৩- কর্মফল, প্রতিফল
৪- আইন, বিধান, ব্যবস্থা

এই চতুর্থ অর্থে এসে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ চূড়ান্তভাবে বিব্রত হয়। কেননা, তাদের মূল বক্তব্যই হল কুরআন ঠিক আছে, ধর্ম ঠিক আছে। কুরআন আর ধর্ম নিজ নিজ জায়গায় ঠিক থাকবে, আর আইন, বিধান, ব্যবস্থা এগুলো মানুষ তৈরি করবে।

কিন্তু কুরআন দ্বীন শব্দের আওতার মধ্যে দেশের ব্যাবস্থা, আইন, বিধান সবগুলোকেই কব্জা করে নেয়। সূরা নূরের ২ নং আয়াত, আল্লাহ বলেন, ব্যভিচারী-ব্যভিচারিনী উভয়কে একশ করে বেত্রাঘাত করো। আল্লাহর দ্বীনের ব্যাপারে তোমরা যেন তাদের উপর দয়া না করো। এখানে বেত্রাঘাত করা হচ্ছে রাষ্ট্রের আইন। একে "দ্বীন" শব্দ দ্বারা প্রকাশ করা হয়েছে। আর আল্লাহ নির্ধারিত এই দ্বীন বা আইনের প্রয়োগের ব্যাপারে কোন ধরণের অবাঞ্ছিত দয়া না করার জন্য আল্লাহ হুশিয়ার করে দিয়েছেন।


বিষয়টির ব্যাপারে আমরা যারা নিয়মিত কুরআনকে অধ্যয়ন করি, কুরআনকে ভালবাসি, কুরআনকে শ্রদ্ধা করি, - আমাদের পরিষ্কার থাকা দরকার। দ্বীন শব্দের চারটি অর্থ যদি পরিষ্কারভাবে আমাদের মনে থাকে তবে যখনই কুরআন পড়বো, আমাদের চোখের সামনে সংশ্লিষ্ট আয়াতটি পরিষ্কারভাবে ফুঁটে উঠবে। কুরআন নিয়ে আমাদের কেউ বিভ্রান্ত করতে পারবেনা।

তৃতীয় অর্থ ছিল কর্মফল, প্রতিফল। আমরা যদি আমাদের বহুল পরিচিত একটি আয়াত এখানে আবার পাঠ করি, আমাদের সামনে তৃতীয় অর্থ পরিষ্কার হবে। "মালিকি য়াও মিদ দ্বীন।" প্রতিফল দিবসের মালিক।

এভাবে দ্বীন শব্দযুক্ত বিভিন্ন আয়াত পাঠ করলে সবগুলো অর্থই আমাদের সামনে পরিষ্কার হয়ে যাবে।


একজন মুসলিম যে আল্লাহর উপর পূর্ণ আস্থা রেখে তার প্রতি ঈমান আনয়ন করে, আনুগত্যের মস্তক অবনত করে- তার জন্য ধীরে ধীরে দ্বীনের মধ্যে তথা আল্লাহ প্রবর্তীত জীবন ব্যবস্থার মধ্যে পরিপূর্ণভাবে প্রবেশের আন্তরিকতা থাকা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে অনেক বাধা আসবে। কিন্তু আমরা যদি আল্লাহ যা বলতে চেয়েছেন সে সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখি, এবং দ্বীনকে গ্রহণ করার ব্যাপারে অনমনীয় থাকি। আমাদের জন্য আল্লাহর আনুগত্য করা সহজ হয়ে যাবে। নতুবা ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ চুপিসারে এবং ঘোষণা দিয়েই আমাদেরকে বিভ্রান্ত করবে। পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থাই যে আল্লাহ প্রদত্ত এবং জীবনের কোন প্রান্তেই যে স্ব-আবিষ্কৃত নীতিমালা ও বিধান প্রয়োগের কোন সুযোগ নেই, এ কথাগুলো মানুষের সামনে যত কম পৌঁছানো যায়- ধর্ম নিরপেক্ষতাবাদের প্রানান্ত চেষ্টা নিয়োজিত থাকে সেদিকেই। কিন্তু আমরা যতই কুরআনকে আঁকড়ে ধরবো, নিয়মিত অধ্যয়ন করবো, আমাদের বিভ্রান্ত হবার সম্ভাবনা ততই হ্রাস পাবে।













----------------------------------------------------------------------------------
এবার নিচে দ্বীন শব্দের চারটি অর্থের সমর্থনে কয়েকটি আয়াত কোট করছিঃ


প্রথম ও দ্বিতীয় অর্থে ( প্রাধান্য, প্রভুত্ব, শক্তিমত্তা এবং আনুগত্য, দাসত্ব)

দ্বীনকে একমাত্র তারই দিকে নিবদ্ধ করে তোমারা তাকেই ডাকো। সকল প্রসংশা আল্লাহ রব্বুল আলামীনের জন্য। সূরা আল মুমিনঃ ৬৫

একান্তভাবে দ্বীনকে তাঁর জণ্য খালেস করে আল্লাহর ইবাদত করার জন্যই আমি আদিষ্ট হয়েছি। সর্বপ্রথম আনুগত্যের শীর নত করার জন্য আমাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সূরা আজ জুমারঃ ১১

আসমান জমীন যা কিছু আছে সবই আল্লাহর, দ্বীন একান্তভাবে তারই জন্য নিবেদিত। তবুও কি আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে তোমরা ভয় করবে? সূরা আন নহলঃ ৫২




তৃতীয় অর্থেঃ (প্রতিফল, কর্মফল)

বহুল পঠিত ও পরিচিত সূরা, সূরা মাউন। তুমি কি তাকে দেখেছ যে দ্বীনকে প্রতিফল দিবসকে অস্বীকার করে? এই সে ব্যক্তি যে এতিমকে গলাধাক্কা দেয়, মিসকীনদের খাবার ব্যাপারে উৎসাহিত করেনা।

চতুর্থ অর্থেঃ (ব্যবস্থা, বিধান, আইন)

আর এমনি করে আমরা ইউসূফের জন্য পথ বের করেছি। বাদশার দ্বীনে (আইনে) তার ভাইকে পাকড়াও করা তার জন্য বৈধ ছিলনা। সূরা ইউসূফঃ ৭৬

শাসন কর্তৃত্ব আল্লাহ ছাড়া আর কারো নয়, তারই নির্দেশে তিনি ব্যাতিত আর কারো ইবাদাত করোনা। ইহাই সত্য সঠিক দ্বীন। সূরা ইউসূফঃ ৪০

তারা কি এমন শরীক বানিয়ে বসেছে, যারা তাদের জন্য দ্বীনের ব্যাপারে এমন সব আইন বিধান রচনা করেছে, আল্লাহ যার অনুমতি দেননি, দেননি কোন হুকুমে। সূরা আশ শূরাঃ২১

লেখক : হলদে ডানা

সবিস্তার সূচীপত্র
টেম্পলেট কাষ্টমাইজেশন - তরঙ্গ ইসলাম | তরঙ্গ ইসলাম