ফররুখ আহমদ সমগ্র

ইসলামী রেঁনেসার কবি খ্যাত প্রিয় এক কবির নাম ফররুখ আহমদ।যশোর জেলার মাগুরা থানার মাঝআইল গ্রামে ১৯১৮ সালের ১০ জুন ফররুখ আহমদ জন্ম গ্রহণ করেন। ১৯৩৭ সালে ফররুখ আহমদ প্রথম সাহিত্য জগতে আত্মপ্রকাশ করেন। বছরই বুলবুল ও মোহাম্মদী-তে তাঁর প্রথম রচনাবলি প্রকাশিত হয়। ১৯৪৪ সালে সাত সাগরের মাঝি প্রকাশিত হলে সওগাত-মোহাম্মদী প্রভৃতি পত্রিকায় তার দীর্ঘ আলোচনা ছাপা হয়। কলকাতা-জীবনে ফররুখ আহমদের দুটি কবিতাগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছিল- 'সাত সাগরের মাঝি' (১৯৪৪) ও 'আজাদ করো পাকিস্তান' (১৯৪৬)। ১৯৪৮ সালে ফররুখ ঢাকায় চলে আসার পর মৃত্যুকাল পর্যন্ত ঢাকাই ছিল তাঁর সাহিত্যক্ষেত্র। ১৯৭৪ সালের ১৯ অক্টোবর, সন্ধেবেলা ঢাকায় ইস্কাটন গার্ডেনে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর পূর্বে কবি তৎকালীন ক্ষমতাসীনদের অবহেলা ও বিরোধীতার সম্মুখিন হয়ে নিদারুন অর্থসংকটে পতিত হন। কর্মক্ষেত্রে বেতন বঞ্চিত হয়ে দারিদ্র, অনাহার ও বিনা চিকিৎসায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। 

উমর বিন খাত্তাব রা: এর ঢাকা সফর


এক জ্যোতির্ময় পুরুষ। চোখে মুখে অপূর্ব নুরানী আভা। চেহারায় প্রখর ব্যক্তিত্ব। চোখে সংকল্প ও দৃঢ়তার সুষ্পষ্ট ছাপ। পরনে সাদামাটা কাপড়।..
সারাদিন ঢাকার রাস্তায় ঘুরলেন তারা। বিভিন্ন স্থানে গেলেন। যুবক খুব ক্লান্তি বোধ করলো। ক্ষুধা পেলো। কিন্তু ক্ষুধার কথা অতিথিকে জানতে দিলনা। খুব সংকোচ বোধ করলেন।..

রাস্তা ধারে প্রেক্ষাগৃহ। আধুনিক কায়দায় নির্মিত বিল্ডিং। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত হল। প্রশস্ত লন। ...অতিথি বল্লেন, এদের কি কোন কাজকর্ম নেই? ছন্নছাড়ার দল। যুবক বললো , শো এখন ভাঙেনি। অতিথি জিজ্ঞেস করলো, কিসের শো? যুবক বল্লো ছায়াছবি। অতিথি উৎসুক্য সহকারে জিজ্ঞেস করলো , কিসের ছায়ছবি? যুবক বল্লো প্রেম কাহিনীর চিত্ররূপ। অতিথি বললেন, একজনের প্রেমের চিত্র অন্যজন দেখে কি করে? এটা তো বর্বরতা!

অতিথি বললেন, তোমাদের দেশ ধনী, কিন্তু তোমরা গরীব। ভুখা মানুষের আহাজারিতে আকাশ বাতাস ভরপুর। যে দেশের অধিকাংশ মানুষ না খেয়ে আছে সে দেশের মানুষ কি করে ভোগ বিলাসে অর্থ ব্যায় করে?

বিষ্ময় ও বিরক্তি নিয়ে অতিথি জিজ্ঞেস করলেন, এত লোক এভাবে রাস্তায় শুয়ে আছে কেন? এরা কারা? যুবক বললেন, এরা সর্বহারা। কোন ঠাঁই নেই এদের। ফুটপাথই এদের বাড়িঘর। অতিথি ধমক দিয়ে বললেন, যুবক ! কি বলছো তুমি?


(বইটির প্রথম দিকের কয়েকটা পাতা ক্ষতিগ্রস্থ)




ডাউলোড 



ফেসবুকে আমাদের লাইক করুন




পেজ-ভিউ

মহাকালের মহানায়ক

https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEhzx3Rt-GD5WNCgRThZwHzodCAP5b86Rl4RRukghzvIec9RELHkQ9HolO-jYeZ7Dh2uftBiMkdw73bfWX3arqMrv6iS1I64OklveCqkxaFLoXyS-5DRx_hhrkYUg4wCyPmVptElFADRxhw/s1600/Crusade+Gazi+SalahUddin+Asad+Bin+Hafiz.jpg
গাজী সালাহউদ্দিন আইয়ুবী। অসামান্য এক সেনানায়ক। জীবনের অধিকাংশ সম কেটেছে তার ঘোড়ার পিঠে, পাহাড়ে আর মরুভূমিতে, যুদ্ধের মাঠে। আজ থেকে হাজার বছর আগে বিশ্বব্যাপী যে রক্তক্ষয়ী ক্রুসেড শুরু হয়েছিলো সে ক্রুসেডের মোকাবেলা করেছিলেন তিনি। বিচক্ষণ, দুরদর্শী ও কুশলী সমরনায়ক হিসেবে তার খ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছিলো বিশ্ব জুড়ে। শত্রু -মিত্র নির্বিশেষে মানুষের জন্য তার দরদ ও মহানুভবতা ছিল কিংবদন্তীতুল্য।

শরৎচন্দ্র রচনা-সমগ্র

শরৎচন্দ্র চট্টপাধ্যায়ের মোটামুটি সবগুলি সাহিত্যকর্ম (উপন্যাস, ছোটগল্প, নাটক, প্রবন্ধ) এক ফাইলে একত্রিত করা হয়েছে (কে করেছে, জানা নাই। ব্লগ থেকে পাওয়া) । তিন হাজারের-ও বেশি পৃষ্ঠার পিডিএফ ফাইলটির সাইজ অবিশ্বাস্যভাবে মাত্র ৬.৪৩ মেগাবাইট।



উপন্যাস

* বড়দিদি, ১৯১৩
* বিরাজবৌ, ১৯১৪
* পরিণীতা, ১৯১৪
* বৈকুন্ঠের উইল, ১৯১৫
* পল্লীসমাজ, ১৯১৬
* চন্দ্রনাথ, ১৯১৬
* অরক্ষণীয়া, ১৯১৬
* পন্ডিতমশাই, ১৯১৭
* দেবদাস, ১৯১৭
* চরিত্রহীন, ১৯১৭
* শ্রীকান্ত ১, ১৯১৭
* নিষ্কৃতি, ১৯১৭
* শ্রীকান্ত ২, ১৯১৮
* দত্তা, ১৯১৮
* গৃহদাহ, ১৯২০
* বামুনের মেয়ে, ১৯২০
* দেনা পাওনা, ১৯২৩
* নববিধান, ১৯২৪
* পথের দাবী, ১৯২৬
* শ্রীকান্ত ৩, ১৯২৭
* শেষ প্রশ্ন, ১৯৩১
* বিপ্রদাস, ১৯৩৫
* শ্রীকান্ত ৪, ১৯৩৩
* শুভদা, ১৯৩৮
* শেষের পরিচয়, ১৯৩৯

রূপসী বাংলা - জীবনানন্দ দাস


‘রূপসী বাংলা’ কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় কবির মৃত্যুর পর। প্রকাশসময় ১৯৫৭ এর আগষ্ট। রূপসী বাংলা’র রচনাকাল ১৯৩২। জীবনানন্দ দাশ রূপসী বাংলা’র কবিতাগুলো ছিল শিরোনামহীন। লক্ষ্য করলে দেখা যাবে কাব্যগ্রন্থটির প্রতিটি কবিতার শিরোনাম প্রথম পঙক্তির প্রথমাংশ থেকে থেকে। ধারনা করা হয় রূপসী বাংলা কাব্যগ্রন্থের নামকরণ এবং উৎসর্গ কবির ভাই অশোকানন্দের।

‘রূপসী বাংলা’ প্রকাশের সময় অশোকানন্দ দাশ স্বাক্ষরিত (৩১ জুলাই ১৯৫৭) ভূমিকাটি উদ্ধৃত হলো-

"এই কাব্যগ্রন্থে যে কবিতাগুলি সংকলিত হল, তার সবগুলিই কবির জীবিতকালে অপ্রকাশিত ছিল; তাঁর মৃত্যুর পরে কোনো-কোনো কবিতা বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।

কবিতাগুলি প্রথমবারে যেমন লেখা হয়েছিল, ঠিক তেমনই পান্ডুলিপিবদ্ধ অবস্থায় রক্ষিত ছিল; সম্পূর্ণ অপরিমার্জিত। পঁচিশ বছর আগে খুব পাশাপাশি সময়ের মধ্যে একটি বিশেষ ভাবাবেগে আক্রান্ত হয়ে কবিতাগুলো রচিত হয়েছিল। এসব কবিতা “ধূসর পান্ডুলিপি” পর্যায়ের শেষের দিকের ফসল।

তারাবাঈ - সৈয়দ ইসমাঈল হোসেন সিরাজী

পরদিন প্রত্যুষে মালোজীকে শূলে চড়ান হইল। মুহুর্ত মধ্যে নৈরাশ্য-দিগ্ধ হিংসাপরায়ন আত্মা শূন্যে মিশিয়া গেল। রায়গড়ের বিষাদ ভার আরও বাড়িয়া গেল। কারণ সকলেই বুঝিল যে, মালোজী তারার প্রতি একান্তই আসক্ত এবং অনুরক্ত ছিলেন। কিন্তু তারা তাহাকে একেবারেই চাহিত না। সে আফজাল খাঁর রূপসরোবরেই প্রেমের কমল তুলিতে সাঁতার দিয়াছিল। কিন্তু হায়! হতভাগিনীর আশা পূরণ হইল না। দগ্ধজীবনের অতৃপ্ত আকাঙ্খা এবং প্রেমের আগ্নেয়-পিপাসা লইয়াই জীবন ত্যাগ করিল! প্রেম-সরোবরে ডুবিয়াও এক বিন্দু প্রেমসুধা পানের পূর্বেই তাহার জীবনলীলা শেষ হইল। কি তীব্র বিষাদপূর্ণ ভয়াবহ ঘটনা! শিবাজী কন্যার শোকে নিতান্ত বিমনায়মান এবং কিংকর্তব্যবিমূঢ় হইয়া পড়িলেন। আফজাল খাঁর নিকটে গভীর দুঃখ ও করুণ বিলাপ প্রকাশ করিলেন। আফজাল খাঁর চক্ষু হইতে অশ্রুধারা নির্গত হইল।
অনন্তর আফজাল খাঁর সহিত আত্মীয়তা এবং কুটুম্বিতা বজায় রাখিবার জন্য শিবাজী তাঁহার ভগ্নী কামিনীবাঈকে আফজাল খাঁর করে সমর্পণ করিবার প্রস্তাব করিলেন। কিন্তু আফজাল খাঁ কিছুতেই স্বীকৃত হইলেন না। আফজাল খাঁ তৎপর দিবস প্রাতঃকালে বিজাপুরে কুচ করিবার জন্য প্রস্তুত হইলেন। শিবাজীও অগত্যা তাহাতে সম্মত হইলেন। পরদিন প্রত্যুষে সেনাপতি সাহেব রাজধানীতে প্রত্যাবর্তন

ফিরোজা বেগম - সৈয়দ ইসমাঈল হোসেন সিরাজী

https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEiRPKPd7qFjX00uajLXc2iI7gPR_9OhPwUPXvSPeO9r_ZI2eISOwbqsHrRU9G0by6mRmtOkzT_BbcwhW-apEsVB7c042JQ-iWXUK5TVr5D-iDAGMlLONVwkkztywGRglmmgmN4iNP0MV90f/s1600/firoja-begum.jpg 
সফদরজঙ্গ এবং তাঁহার আত্মীয় স্বজন পরম সমাদরে যথানিয়মে বর এবং বরযাত্রিগণকে লইয়া বিবাহসভায় বসাইলেন। অনন্তর নানা প্রকার চর্ব্য, চুষ্য, লেহ্য, পেয় প্রভৃতি লজিজ ও নফিস খানা দ্বারা সকলকে পরিতৃপ্তিপূর্বক ভোজন করাইলেন। ভোজনান্তে যথারীতি ইসলামী কায়দা অনুযায়ী উদ্বাহক্রিয়া সম্পন্ন করা হইল। বিবাহান্তে আবার বাদ্যধ্বনির উচ্চ শব্দে এবং অবিরাম তোপ ও বোমের গর্জনে দিগ্বলয় কম্পিত হইতে লাগিল। নানা শ্রেণীর বিচিত্র আতশবাজীর অগ্নিক্রীড়ায় নভোমণ্ডল আলোকিত এবং সমবেত জনমণ্ডলী পরম পুলকিত হইলেন। বিবাহান্তে দিল্লীর প্রসিদ্ধ বাঈজীদিগের নাচের বন্দোবস্তের উপক্রমেই মওলানা আমিনুর রহমান এবং আরও কয়েকজন ধর্মভীরু বৃদ্ধ লোক উঠিয়া যাইবার উপক্রম করিলেন। কেহই তাঁহাদিগকে উঠিবার কারণ জিজ্ঞাসা করিরেন না।‌ তখন নজীব-উদ্দৌলা নিজেই তাঁহাদিগকে উঠিবার কারণ জিজ্ঞাসা করিরৈন।

সুকুমার রায় সাহিত্য সমগ্র


শিশুসাহিত্যিক সুকুমার রায় ১৮৮৭ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতার এক ব্রাহ্ম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ভারতীয় সাহিত্য ননসেন্সের প্রবর্তক সুকুমার ছিলেন রস রচনাকার, গল্প লেখক এবং নাট্যকার। সাহিত্যিক উপেন্দ্র কিশোর রায় ছিলেন তার পিতা। চলচ্চিত্রকার সত্যজিত রায় তার ছেলে। সাহিত্যিক মেধা বিকাশে সহায়ক একটি পরিবেশে বেড়ে ওঠেন সুকুমার। বাবা উপেন্দ্রকিশোরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হওয়ায় রবীন্দ্রনাথের সরাসরি প্রভাব পড়েছিল তার রচনায়। তাদের পরিবারের সঙ্গে জগদীশ চন্দ্র বসু এবং প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ের ঘনিষ্ঠতা ছিল। তার রচিত ব্যঙ্গাত্মক শিশুসাহিত্য ‘ননসেন্স’ বিশ্বসাহিত্যের একটি অমূল্য রত্ন। ১৯২৩ সালের ১০ সেপ্টেম্বর কলকাতায় তিনি পরলোক গমন করেন।

ছাড়পত্র

যে শিশু ভূমিষ্ঠ হল আজ রাত্রে
তার মুখে খবর পেলুমঃ
সে পেয়েছে ছাড়পত্র এক,
নতুন বিশ্বের দ্বারে তাই ব্যক্ত করে অধিকার
জন্মমাত্র সুতীব্র চিৎকারে।
খর্বদেহ নিঃসহায়, তবু তার মুষ্টিবদ্ধ হাত
উত্তোলিত, উদ্ভাসিত
কী এক দুর্বোধ্য প্রতিজ্ঞায়।
সে ভাষা বোঝে না কেউ,
কেউ হাসে, কেউ করে মৃদু তিরস্কার।
আমি কিন্তু মনে মনে বুঝেছি সে ভাষা।
পেয়েছি নতুন চিঠি আসন্ন যুগের
পরিচয়-পত্র পড়ি ভূমিষ্ঠ শিশুর
অস্পষ্ট কুয়াশাভরা চোখে।
এসেছে নতুন শিশু, তাকে ছেড়ে দিতে হবে স্থান;
জীর্ণ পৃথিবীতে ব্যর্থ, মৃত আর ধ্বংসস্তূপ-পিঠে
চলে যেতে হবে আমাদের।
চলে যাব- তবু আজ যতক্ষণ দেহে আছে প্রাণ
প্রাণপণে পৃথিবীর সরাব জঞ্জাল,
এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য ক’রে যাব আমি
নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।
অবশেষে সব কাজ সেরে
আমার দেহের রক্তে নতুন শিশুকে
করে যাব আশীর্বাদ,
তারপর হব ইতিহাস।।





অবরোধ বাসিনী

ভূমিকা : “অবরোধ-বাসিনী” লিখিয়া লেখিকা আমাদের সমাজের চিন্তাধারার আর একটা দিক খুলিয়া দিয়াছেন। অনেকে অনেক প্রকার ইতিহাস লিখিয়া যশস্বী হইয়াছেন; কিন্তু পাক-ভারতের অবরোধ-বাসিনীদের লাঞ্ছনার ইতিহাস ইতিপূর্বে আর কেহ লিখেন নাই।

পুস্তকখানি পাঠ করিয়া বারংবার এই কথাই মনে পড়ে,-আমরা কোথা হইতে আসিয়া কোথায় গিয়া পড়িয়াছি! যে মুসলিম সমাজ এককালে সমস্ত জগতের আদর্শ ছিল, সেই সমাজের এক বিরাট অংশ এখন প্রায় সমস্ত জগতের নিকট হাস্যাস্পদ হইয়া দাঁড়াইয়াছে, একথা বলিলে, বোধ হয়, অত্যুক্তি হইবে না।

ধূসর পাণ্ডুলিপি - জীবনানন্দ

ধূসর পান্ডুলিপি জীবনানন্দ দাশের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ। এই কাব্যগ্রন্থটি ১৯৩৬ সালে প্রকাশিত হয়। এই কাব্যগ্রন্থে মোট বিশটি কবিতা অন্তর্ভুক্ত হয়। কবিতাগুলোর নাম হলোঃ  নির্জন স্বাক্ষর, মাঠের গল্প, মেঠোচাঁদ, পেঁচা, পঁচিশ বছর পর, কার্তিক মাসের চাঁদ, সহজ, কয়েকটি লাইন, অনেক আকাশ, পরস্পর, বোধ, অবসরের গান, ক্যাম্পে, জীবন, ১৩৩৩, প্রেম, পিপাসার গান, পাখিরা, শকুন, মৃত্যুর আগে, স্বপ্নের হাতে।

যে কাব্যগ্রন্থ গুলো দিয়ে বাংলা আধুনিক কবিতার যাত্রা শুরু তার মধ্যে ধূসর পান্ডুলিপি অন্যতম বলে অনেকে মনে করেন।[২] প্রথম কাব্যগ্রন্থ ঝরা পালকের কবিতায় কাজী নজরুল ইসলাম, মোহিতলাল মজুমদার ও সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের প্রভাব ছিলো লক্ষ্যনীয়। ধূসর পাণ্ডুলিপি-তেই তাঁর স্বকীয় কাব্য কৌশল পরিস্ফুট হয়ে ওঠে।

ঝরা পালক - জীবনানন্দ

ঝরাপালক জীবনানন্দ দাশের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ। ১৯২৭ সালে এটি প্রকাশিত হয়েছিল।

প্রকাশ : ১৩৩৪ [১৯২৭]

উৎসর্গ : ‘ – কল্যাণীয়াসু – ’
কবি রচিত ভূমিকা :
ঝরা পালকের কবিতাগুলি কবিতা, প্রবাসী, বঙ্গবাণী, কল্লোল, কালি-কলম, প্রগতি, বিজলী প্রভৃতি পত্রিকায় প্রকাশিত হইয়াছিল। বাকিগুলি নূতন।
কলিকাতা। ১০ই আশ্বিন ১৩৩৪ শ্রীজীবনানন্দ দাশ


কবিতাসমূহ

১. আমি কবি-সেই কবি ২. নীলিমা ৩. নব নবীনের লাগি ৪. কিশোরের প্রতি ৫. মরীচিকার পিছে ৬. জীবন-মরণ দুয়ারে আমার ৭. বেদিয়া ৮. নাবিক ৯. বনের চাতক- মনের চাতক ১০. সাগর-বলাকা ১১. চলছি উধাও ১২. একদিন খুঁজেছিনু যারে ১৩. আলেয়া ১৪. অস্তচাঁদে ১৫. ছায়া-প্রিয়া ১৬. ডাকিয়া কহিল মোরে রাজার দুলাল ১৭. কবি ১৮. সিন্ধু ১৯. দেশবন্ধু ২০. বিবেকানন্দ ২১. হিন্দু-মুসলমান ২২. নিখিল আমার ভাই ২৩. পতিতা ২৪. ডাহুকী ২৫. শ্মশান ২৬. মিশর ২৭. পিরামিড ২৮. মরুবালু ২৯. চাঁদিনীতে ৩০. দক্ষিণা ৩১. সে কামনা নিয়ে ৩২. স্মৃতি ৩৩. স্মৃতি ৩৪. সেদিন এ-ধরণীর ৩৫. ওগো দরদিয়া ৩৬. সারাটি রাত্রি তারাটির সাথে তারাটিরই কথা হয়

মতিউর রহমান মল্লিক রচনাবলী

১৯৬৫ সালের পহেলা মার্চ বাগেরহাট জেলার বারুইপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মতিউর রহমান মল্লিক। তিনি খুলনা অঞ্চলের বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী মাদরাসা, বাগেরহাট পিসি কলেজ ও সর্বশেষ ঢাকার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে বাংলা বিভাগে পড়ালেখা করেন। ১৯৭৮ সালে ঢাকায় সমমনা সাংস্কৃতিক কর্মীদের নিয়ে গড়ে তোলেন ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক সংগঠন সাইমুম শিল্পীগোষ্ঠী।  সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন সাহিত্য সংগঠন 'বিপরীত উচ্চারণের'।

১৯৭৮ সালে তার প্রথম গীতিকবিতার সংকলন ‘ঝংকার’ প্রকাশিত হয়। তারপর একে একে প্রকাশ পায় তার কাব্যগ্রন্থ আবর্তিত তৃণলতা, অনবরত বৃক্ষের গান, তোমার ভাষায় তীক্ষ ছোরা, চিত্রল প্রজাপতি ও নিষন্ন পাখির নীড়ে; ছোটদের ছড়ার বই রঙিন মেঘের পালকি, প্রবন্ধের বই নির্বাচিত প্রবন্ধ ইত্যাদি। আশির দশকে প্রকাশ পায় তার কথা, সুর ও স্বকণ্ঠে পরিবেশিত গানের ক্যাসেট প্রতীতী এক ও দুই।  অনুবাদক হিসেবেও তিনি খ্যাতি লাভ করেছিলেন। পাহাড়ি এক লড়াকু ও মহানায়ক তার অনূদিত উপন্যাস। হযরত আলী (রা.) ও আল্লামা ইকবালের মতো বিশ্বখ্যাত মুসলিম কবিদের কবিতাও অনুবাদ করেছেন তিনি।

মল্লিকের সাহিত্যকর্ম

* ঝংকার (ইসলামি গানের বই)
* আবর্তিত তৃণলতা (কবিতাগ্রন্থ)
* তোমার ভাষায় তীক্ষ্ণ ছোরা (কবিতাগ্রন্থ)  ডাউনলোড
* অনবরত বৃক্ষের গান (কবিতাগ্রন্থ)  ডাউনলোড
* চিত্রল প্রজাপতি (কবিতাগ্রন্থ)  ডাউনলোড
* নীষন্ন পাখির নীড়ে  ডাউনলোড
* নির্বাচিত প্রবন্ধ (প্রবন্ধের বই)
* রঙিন মেঘের পালকি (ছোটদের ছড়ার বই)
* প্রতীতি এক (ইসলামি গানের ক্যাসেট)
* প্রতীতি দুই (ইসলামি গানের ক্যাসেট)
* যত গান গেয়েছি (ইসলামি গানের সঙ্কলন)
* প্রাণের ভিতরে প্রাণ (গীতিকাব্য) উল্লেখযোগ্য।

অনুবাদ

* পাহাড়ি এক লড়াকু
* মহানায়ক

পল্লিকবি জসীম উদ্দিন রচনাবলী

তিনি ১৯০৩ সনের পহেলা জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার বাড়ি ছিলো একই জেলার গোবিন্দপুর গ্রামে। বাবার নাম আনসার উদ্দিন মোল্লা। তিনি পেশায় একজন স্কুল শিক্ষক ছিলেন। মা আমিনা খাতুন ওরফে রাঙাছুট। জসীমউদ্দীন ফরিদপুর ওয়েলফেয়ার স্কুল, ও পরবর্তীতে ফরিদপুর জেলা স্কুল থেকে পড়ালেখা করেন। এখান থেকে তিনি তার প্রবেশিকা পরীক্ষায় ১৯২১ সনে উত্তীর্ন হন। তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি. এ. এবং এম. এ. শেষ করেন যথাক্রমে ১৯২৯ এবং ১৯৩১ সনে। ১৯৩৩ সনে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের রামতনু লাহিড়ী গবেষণা সহকারী পদে যোগদেন। এরপর ১৯৩৮ সনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগের প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। ১৯৬৯ সনে রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয় কবিকে সম্মান সূচক ডি লিট উপাধিতে ভূষিত করেন। তিনি ১৩ মার্চ ১৯৭৬ সনে ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। পরে তাকে তার নিজ গ্রাম বিমলগুহে সমাধিস্থ করা হয়।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচনাবলী

মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের বইসমূহ

মেঘনাদবধকাব্য
হেকটরবধকাব্য
চতুর্দশপদী কবিতাবলী
বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ
তিলোত্তমাসম্ভবকাব্য
ব্রজাঙ্গণাকাব্য
মায়াকানন
পদ্মাবতীকাব্য
বিরাঙ্গণাকাব্য
নানাকবিতা
কৃষ্ণকুমারী



কবির কয়েকটি কবিতা


বঙ্গভাষা

হে বঙ্গ, ভাণ্ডারে তব বিবিধ রতন;-
তা সবে, (অবোধ আমি!) অবহেলা করি,
পর-ধন-লোভে মত্ত, করিনু ভ্রমণ
পরদেশে, ভিক্ষাবৃত্তি কুক্ষণে আচরি।
কাটাইনু বহু দিন সুখ পরিহরি।
অনিদ্রায়, নিরাহারে সঁপি কায়, মনঃ,
মজিনু বিফল তপে অবরেণ্যে বরি;-
কেলিনু শৈবালে; ভুলি কমল-কানন!
স্বপ্নে তব কুললক্ষ্মী

ঝড়ের পরে- (ভয় কাতুরে মাহবুব আজ এমন সাহসী)

সবাই অবাক, সবাই ভাবে, ব্যাপারখানা কি? ভয়কাতুরে মাহবুব আজ এমন সাহসী! কাঁপুনি নেই কঁকানি নেই হেঁট করে নেই মাথা, দুটি চোখে ভীরুতা নেই, জড়ানো নয় কথা। তাঁকে কেঁচোই বলা যেত। রাতারাতি মানুষ হল সে? আহা, মানুষ মানেই ছেলেমানুষ, তার বয়স তো বেশি নয় , শক্ত মেরুদন্ড সহ মানুষ ছেলে হয়। সেই কাহিনী বলি।

মাহবুব হল অতি গরীব দুখী অনাথ ছেলে। এ জগতে কেউ নেই তার, পর সকলে। হায়রে কপাল, শুধুই গালাগালি। পান থেকে চুন খসলেই মার আথালি পাথালি। এই বয়সে এমন ভাগ্য যার, কেবল নিঠুর অত্যাচার। ভীরু তো সে হবেই। তাকে ভরসা দেবে কে? ভালবাসায় ঘিরে রেখে কে-ই বা শেখাবে? ভয়েই বাড়ে ভয়। দরদ পাওনা তার? তারও আছে হেসেখেলে বাঁচার অধিকার। তবু, এমনি মোদের মাহবুব ঝড়ের সাথে লড়ে ভয়কে গেল ভুলি। সেই কাহিনী বলি।

সবিস্তার সূচীপত্র
টেম্পলেট কাষ্টমাইজেশন - তরঙ্গ ইসলাম | তরঙ্গ ইসলাম