চতুর্থ অধ্যায় : অর্থব্যয়-আখেরাত-জান্নাত-জাহান্নাম-ব্যক্তিগত রিপোর্ট-আত্মসমালোচনা


আত্মসমালোচনা

কুরআন

اِقْتَرَبَ لِنَّاسِ حِسَابُهُمْ وَ هُوْ فِيْ غَفْلَةٍ مُّعْرِضُوْنَ ـ
উচ্চারণ: : ইকতারাবা লিন্নাসি হিসাবুহুম ওয়া হুম ফী গাফলাতিম মু’রিদূন।
(১) মানুষের হিসাব অতি নিকটে ঘানিয়ে আসছে অথচ তারা গাফলতির মধ্যে বিমুখ হয়ে রয়েছে। (সূরা আম্বিয়া : ১)

وَلَتُسْئَلُنَّ عَمَّا كُنْتُمْ تَعْلَمُوْنَ ـ
উচ্চারণ: : ওয়া লাতুসআলুন্না আম্মা কুনতুম তালামূন।
(২) তোমাদের কার্যক্রম সম্পর্কে তোমাদেরকে অবশ্য অবশ্যই জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। (সূরা নাহল : ৯৩)

اِنَّ اللهَ سَرِيْعُ الْحِسَابِ ـ
উচ্চারণ: : ইন্নাল্লাহা সারীউ’ল হিসাব।
(৩) নিশ্চিত জেনো, আল্লাহ অতি দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী। (সূরা আলে ইমরান : ১৯৯)

وَاِنَّهُ لَذِكْرُلَكَ وَلَقَوْمِكَ ـ وَسُوْفَ تُسْئَلُوْنَ ـ
উচ্চারণ: : ওয়া ইন্নাহূ লাযিকরুলাকা ওয়া সাওফা তুসআলূন।
(৪) অবশ্যই এই কিতাব আপনার জন্যে এবং আপনার জাতির জন্যে অতি বড় মর্যাদার বিষয়। আর শীঘ্র আপনাদেরকে তার জন্যে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। (সূরা যুখরুফ : ৪৪)

اِنَّ اِلَيْنَا اِيَابَهَهُمْ ـ ثُمَّ اِنَّ عَلَيْنَا حِسَابَهُمْ ـ
উচ্চারণ: : ইন্না ইলঅইনা ইয়াবাহুম, ছুম্মা ইন্না আ’লাইনা হিসাবাহুম।
(৫) সন্দেহ নেই তাদেরকে আমার কাছেই ফিরে আসতে হবে। অত:পর তাদের হিসাব নিকাশ গ্রহণ করা আমারই কাজ। (সূরা গাশিয়া : ২৫-২৬)

فَلَنَسْئَلُنَّ الَّّذِيْنَ اُرْسِلَ اِلَيْهِمْ وَلَنَسْئَلَنَّ الْمُرْسَلِيْنَ ـ
উচ্চারণ: : ফালানাসআলুন্নাল্লাযীনা উরসিলা ইলাইহিম ওয়া লানাসআলান্নাল মুরসালীন।
(৬) যাদের প্রতি রাসূল পাঠান হয়েছিল আমি তাদের অবশ্য অবশ্যই জিজ্ঞাসাবাদ করবো এবং অবশ্যই নবী-রাসূলগণকেও জিজ্ঞাসাবাদ করব। (সূরা আরাফ : ৬)

হাদীস

قَالَ رَسُوْلُ اللهِ (صلعم) اَلْكَيْسُ مَنْ دَانَ نَفْسَهُ وَعَمِلَ لِمَا بَعْدَ الْمَوْتِ وَالْعَاجِزُ مَنْ اَتْبَعَ نَفْسَهُ هُوَاهُ وَ تَمَنَّى عَلَى اللهِ ـ
(১) আল্লাহর রাসূল (সা) বলেছেন, যে ব্যক্তি নিজের নাফসকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং মৃত্যুর পরবর্তী জীবনের জন্য কাজ করে। সেই প্রকৃত বুদ্ধিমান। আর যে ব্যক্তি নিজেকে কুপ্রবৃত্তির গোলাম বানায় অথচ আল্লাহর নিকট প্রত্যাশা করে সেই অক্ষম। (তিরমিযী)






ব্যক্তিগত রিপোর্ট

কুরআন

اِقْرَأْ كِتَابَكَ كَفي بِنَفْسِكَ الْيَوْمَ عَلَيْكَ حَسِيْبًا ـ
উচ্চারণ: : ইকরা কিতাবাকা কাফা বিনাফসিকাল ইয়াওমা আলাইকা হাসীবা।
(১) আপন কর্মকর্তা কর্মের রেকর্ড পড়! আজ তোমার হিসাব দেয়ার জন্য তুমিই যথেষ্ট। (সূরা বণী ঈসরাইল : ১৪)

اِذْ يَتْلَقّي الْمُتَلَقِّيْنِ عَنْ الْيَمِيْنِ وَعَنْ الشِّمَالِ قِعِيْدُ ـ مَا يَلْفِظُ مِنْ قَوْلٍ اِلاَّ لَدَيْهِ رَقِيْبٌ عِتِيْدُ ـ
উচ্চারণ: : ইয ইয়াতালাক্কাল মুতালাক্কীয়ানি আনিল ইয়ামীনি ওয়া আনিশ শিমালি কাইদু, মা ইয়ালফিযু মিন কাওলিন ইল্লা লাদাইহি রাকীবুন আতীদ।
(২) দু’জন লেখক তাদের ডানে বামে বসে সব কিছু রেকর্ড করে চলেছে। তাদের (মানুষ) মুখ থেকে এমন কথাই বের হয় না যা রেকর্ড করার জন্য একজন সজাগ সচেতন প্রহরী উপস্থিত না থাকবে। (সূরা আল-কাফ্ব : ১৭-১৮)

হাদীস
قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِرْجُلٍ وَهُوَ يَعِظُهُ : اِغْتَنِمْ خَمْسًا قَبْلَ خَمْسٍ شَبَابَكَ قَبْلَ هَرَمِكَ وَصِحَّتَكَ قِبْلَ سُقْمِكَ وَغِنَاكَ قَبْلَ فَقْرِكَ وَفَرَاغَكَ قَبْلَ شُغْلِكَ وَحَيَاتَكَ قَبْلَ مَوْتِكَ ـ (مشكوة)

(১) জনৈক ব্যক্তিকে উপদেশ দিতে গিয়ে রাসূলুল্লাহ (সা) বললেন : পাঁচটি বিষয়ের আগে বিষয়ের প্রতি (সময় থাকতেই) গুরুত্ব প্রদান কর-

• বার্ধক্য আসার আগে যৌবনের
• রোগাক্রান্ত হওয়ার আগে স্বাস্থের,
• দারিদ্র আসার আগে সচ্ছলতার,
• ব্যস্ত হয়ে যাবার আগে অবসর সময়ের,
• মৃত্যু আসার আগে জীবনের। (মেশকাত)



জাহান্নাম

কুরআন

وَالَّذِيْنَ كَفَرُوْا لَهُمْ نَارُ جَهَنَّمَ ـ لاَيُقْضى عَلِيْهِمْ فِيْمُوْتُوْا وَلاَ يُخَفَّفُ عَنْهُمْ مِّنْ عَذَابِهَا ـ كَذلِكَ نَجْزِيْ كُلُّ كُفَوْرٍ ـ
উচ্চারণ: : ওয়াল্লাযীনা কাফারূ লাহুম নারু জাহান্নামা, লা ইয়ুকদা আলাইহিম ফাইয়ামূতূ ওয়া লা ইয়ুখাফফাফু আনুহম মিন আযাবিহা, কাযালিকা নাজযী কুল্লা কাফূর।
(১) যারা অবিশ্বাসী তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের আগুন।তাদের মৃত্যুর আদেশ দেয়া হবে না যে, তারা মরবে এবং তাদের জন্য শাস্তি কমিয়েও দেয়া হবে না, এভাবেই আমি প্রত্যেক কাফিরকে শাস্তি দিয়ে থাকি। (সূরা আল ফাতির : ৩৬)

فِيْ سَمُوْمٍ وَّحَمِيْمٍ ـ وَظِلِّ مِّنْ يَّحْمُوْمٍ ـ لاَبَارِدٍوَّلاَكِرِيْمِ ـ
উচ্চারণ: : ফী সামূমিও ওয়া হামীমিন ওয়া যিল্লিম মিন ইয়াহমূম, লা বারিদিও ওয়া লা কারীম।
(২) তারা (জাহান্নামের অধিবাসীরা) লু-হাওয়া, টগবগ করা ফুটন্ত পানি এবং কালো ধোঁয়ার মাঝে থাকবে। তা না ঠান্ডা না শাস্তিপ্রদ হবে। (সূরা আল-ওয়াকিয়াহ : ৪২-৪৪)

اِنَّهُ مِنْ رَبَّهُ مُجْرِمًا فِانَّ عَذَابِ جَهَنَّمَ خَالِدُوْنَ ـ
উচ্চারণ: : ইন্নাহূ মাই ইয়াতি রাব্বাহূ মুজারিমান ফাইন্না লাহূ জাহান্নামা লা ইয়ামূতু ফীহা ওয়া লা ইয়াহইয়া।
(৩) যে তার প্রতিপালকের নিকট অপরাধী হয়ে উপস্থিত হবে তার জন্য তো জাহান্নাম। সেথায় সে মরবেও না বাঁচবেও না। (সূরা ত্বহা : ৭৪)

হাদীস

عَنْ اِبْي هُرَيْرَةَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ (صلعم) مَنء قَضَاءَ الْمُسْلِمِيْنَ حِتّى يَنَالَهُ ثُمَّ غَلَبَ عَدْلَهُ جُوْرُهُ فَلَهُ الْجَنَّةَ وَمَنْ غَلَبَ جُوْرُهُ عَدَلُهُ فَلَهُ النَّارِ ـ
(১) হযরত আবু হুরায়রা (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (সা) বলেছেন, যে ব্যক্তি মুসলামানের বিচারকের পর্দা প্রার্থনা করলো এবং পদ লাভের পর তার ন্যায় বিচার যুলুমের উপর বিজয়ী হলো, সে জান্নাতবাসী হবে, আর যদি ন্যায় বিচারের উপর যুলুম বিজয়ী হয়ে যায় তবে তার জন্যে জাহান্নাম। (আবু দাউদ )

قَالَ النَّبِيٌّ (صلعم) وَاِيَّاكُمْ وَالْكِذْبُ فَانَّ الْكِذْبَ يَهْدِيْ اِلى الفُجُوْرِ ـ وَ اِنَّ الْفُجُوْرَ يَهْدِيْ اِلى النَّارِ ـ
(২) মহানবী (সা) বলেছেন, তোমরা অবশ্যই মিথ্যা হতে দূরে থাকবে। কেননা মিথ্যা মানুষকে পাপ ও নাফরমানীর কাজের দিকে পচিারচালিত করে। আর পাপ ও নাফরমানী মানুষকে জাহান্নামে নিয়ে যায়।

وَعَنْ عَئِشَةَ (رض) عَنْهَا اَنَّ النَّبِيُّ (صلعم) قَالَ الْحُمَّي مِنْ فِيْحِ جَهَنَّمَ فَاَبْرِدُوْهَا بَالْمَاء ـ
(৩) হযরত আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (সা) বলেছেন, জ্বর জাহান্নামের প্রচন্ড উত্তাপের অংশ বিশেষ। তোমরা পানি দিয়ে তা ঠান্ডা কর। (বুখারী, মুসলিম)




লে ইমরান : ১৩৩)

وَبَشِّرِ الَّذِيْنَ اَمَنُوْا الصَّلِحَتِ أَنَّ لَهُمْ جَنَّتٍ تَجْرِيْ مِنْ تَحْتِهَا الاَنْهَار ـ
উচ্চারণ: : ওয়া বাশশিরিল্লাযীনা আমানূ ওয়া আমিলুছ ছালাহাতি আন্না লাহুম জান্নাতিন তাজরী মিন তাহতিহাল আনহার।
(২) হে মুহম্মাদ! আপনি সুসংবাদ প্রদান করুন যারা ঈমান এবং নেক আমল করেছে, নিশ্চয়ই তাদের জন্য রয়েছে এমন জান্নাত যার তলদেশ দিয়ে ঝর্ণাসমূহ প্রবাহিত হচ্ছে। (সূরা বাকারা : ২৫)

وَعَدَ اللهُ اَلْمُؤْمِنِيْنَ وَالمُؤْمِنَبَ جَنَّبٍ تَجْرِيْ مِنْ تَحْتِهَا الاِنْهَارُ خَلِدِيْنَ فِيًْهَا وَمَسكِنَ طِّيَّبَةً فِيْ جَنَّبٍ عَدْنٍ وَّرِضْوَانٌ مِنَ اللهِ اَكْبَرُ ذَالِكَ هَوْ الْفَوْزُ الْعِظِيْمُ ـ
উচ্চারণ: : ওয়াআ’দাল্লাহুল মুমিনীনা ওয়ালমুমিনাতি জান্নাতিন তাজরী মিন তাহতিহাল আনহারু খলিদীনা ফীহা ওয়া মাসাকিনা তয়্যিবাতান ফী জান্নাতি আদনিও ওয়া রিদওয়ানুম মিনাল্লাহি আকবারু, যালিকা হুয়াল ফাওজুল আযীম।
(৩) আল্লাহ মুমিন নর-নারীকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন জান্নাতের। যার নিন্মদেশে ঝর্ণাধারা প্রবাহমান, সেথায় তারা চিরদিন থাকবে। এই চির দিন সবুজ শ্যামল জান্নাতে তাদের জন্য রয়েছে পবিত্র পরিচ্ছন্ন বসবাসের স্থান। আল্লাহর সন্তোষ লাভ করে তারা হবে সৌভাগ্যবান আর তা তাদের জন্যে সবচেয়ে বড় সাফল্য। (সূরা তাওবা : ৭২)

وَلَكُمْ فِيْهَا مَا تَشْتَهِيْ اَنْفِسَكُمْ وَلَكُمْ فِيْهَا مَاتَدَّعُوْنَ ـ
উচ্চারণ: : ওয়া লাকুম ফীহা মা তাশতাহী আনফুসুকুম ওয়া লাকুম ফীহা মা তাদ্দাউ’ন।
(৪) জান্নাতে তোমাদের জন্য তোমাদের মন যা চাইবে তা-ই দেয়া হবে এবং তোমরা সেখানে যা চাইবে তা-ই পাবে। (সূরা হা-মীম সিজদা : ৩১)

হাদীস

عَنْ اِبْيْ ذَرٍ قَالَ قَالَ رًسُوْلُ اللهِ (صلعم) مَامِنْ عِنْدٍ قِالَ لاَ اِلهَ اِلاَّ اللهُ ـ ثُمَّ مَاتَ عَلَى ذَلِكَ اِلاَّ دَخَلَ الْجَنَّةَ ـ
(১) হযরত আবু যার (রা) বর্ণিত, রাসূল (সা) বলেছেন, কোন ব্যক্তি যদি এ কথার ঘোষণা দেয় লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ (আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই এবং এ অনুযায়ী) এবং এরই উপর মৃত্যুবরণ করে তাহলে সে অবশ্যই জান্নাতে যাবে।

عَنْ اِبْ هُرَيْرَةَ (رض) قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ (صلعم) قَالَ اللهُ تَعَالَى اَعَدَدْتُّ لِعِبَادِيَ الصَّالِحِيْنَ مَالاَ عِيْنَُ رَأَتَ وَلاَأُذُنُ سَمَعْتَ وَلاَخَطَرَ عَلَى قََلْبِ بَشَرٍ ـ
(২) হযরত আবু হুরায়রা (রা) হতে বর্ণিত, নবী করীম (সা) বলেন, আল্লাহ বলেছেন, আমি আমার সৎকর্মশীল বান্দাহদের জন্য জান্নাতে এমন সব নিয়ামতসমূহ তৈরী করে রেখেছি যা কোন চোখ দেখেনি, কোন কান শুনেনি এবং কোন অন্ত:করণও তা সম্পর্কে ধারণা রাখেনি।(বুখারী, মুসলিম)



আখেরাত

কুরআন

وَاَتَّقُوْا يُوْمًالاَّ تَجْزْيْ نَفْسٌ عَنْ نًَّفْسٍ شَيْئًا وَّلاَيُقْبَلُ مِنْهَا شَفَاعَةُ وَّلاَيُؤْخَذُ مِنْهَا عَدْلٌ وًّلاَهُمْ يُنْصَرُوْنَ ـ
উচ্চারণ: : ওয়াত্তাকূ ইয়াওমাল লা তাজযী নাফসুন আন নাফসিন শাইয়াও ওয়া লা ইউকবালু মিনহা শাফাআতুও ওয়া লা ইয়ুখাযু মিনহা আদুলও ওয়া লা হুম ইয়ুনছারুন।
(১) আর তোমরা সেদিনের ভয় কারো, যখন কেউ কারও সামান্য উপকারে আসবে না এবং তার পক্ষে কোনো সুপারিশও কবুল হবে না, কারও কাছ থেকে ক্ষতিপূরণও নেয়া হবে না এবং কোনো রকম সাহায্যও পাবে না। (সূরা বাকারা : ৪৮)

وَاتَّقُوْا يَوْمًَا لاًّتَجْزِي نَفْسٌ عَنْ نَّفْسٍ شَيْئًا وَّلاَيُقْبَلُ مِنْهَا عَدْلٌ وَّلاَتَنْفَعُهَا شفَاعَةُ وَّلاَهُمْ يُنْصَرُوَْنَ ـ
উচ্চারণ: : ওয়াত্তাকূ ইয়াওমাল লা তাজযী নাফসূন আন নাফসিন শাইয়াও ওয়া লা ইকবালু মিনহা আদুলুও ওয়া লা তানফাউহা শাফাআতুও ওয়া লা হুম ইয়ুনছারূন।
(২) তোমরা ভয় করো সেদিনকে, যে দিন এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তি বিন্দুমাত্র উপকৃত হবে না, কারও কাছ থেকে বিনিময় গৃহীত হবে না, কারও সুপারিশ ফলপ্রসূ হবে না এবং তারা সাহায্য প্রাপ্তও হবে না। (সূরা বাকারা : ১২৩)

وَكُلُّهُمْ اتِيْهِ يَوْمَ الْقِيْمَةِ فِرْدًا ـ
উচ্চারণ: : ওয়া কুল্লুহুম আতীহি ইয়াওমাল কিয়ামাতি ফারদা।
(৩) কিয়ামতের দিন তাদের সবাই তাঁর কাছে নি:সংগ অবস্থায় একাকী আসবে। (সূরা মারইয়াম: ৯৫)

يَوْمَ لاَتَمْلِكُ نَفْسٌ شَيْئًا ـ وَاَلاَمْرُ يَوْمَئِذٍللَّهِ ـ
উচ্চারণ: : ইয়াওমা তাশহাদু আলাইহিম আলসিনাতুহুম ওয়া আইদীহিম ওয়া আরজুলুহুম বিমা কানূ ইয়ালামূন।
(৪) সেই দিন (কিয়ামতে) তাদের জিহ্বা তাদের হাত এবং তাদের পা তারা যা কিছু করেছে সে সম্পর্কে সাক্ষ্য দান করবে। (সূরা আন-নূর : ২৪)

يَوْمَ لاَتَمْلِكُ نفْسٌ لِّنَفْسٍ شَيْئًا ـ وَالاَمْرُ يَوْمَئِذِلِّلَّهِ ـ
উচ্চারণ: : ইয়াওমা লা তামলিকু নাফসুল লিনাফসিন শাইয়ান, ওয়াল আমরু ইয়াওমাইযিন লিল্লাহ।
(৫) এটা সেই দিন যখন কারো জন্য কিছু করার সাধ্য কারো থাকবে না, ফয়সালা সে দিন একমাত্র আল্লাহর এখতিয়ারে থাকবে। (সূরা আল-ইনফিতার : ১৯)

قُلْ لَكُمْ مِيْعَادُ يَوْمٍ لاَّتَسْتَاخِرُوْنَ عَنْهُ سَاعَةً وَّلاَتَسْتَقْدِمُوْنَ ـ
উচ্চারণ: : কুল লাকুম মীআদ ইয়াওমিল লাতাসতা খিরূনা আনহু সাআতাও ওয়া লা তাসতাকদিমূন।
(৬) বলুন হে নবী! তোমাদের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট দিন নির্ধারিত করা হয়েছে যা এক মুহূর্ত আগে ও পরে করতে তোমারা সক্ষম নও। (সূরা সাবা : ৩০)

ثُمَّ لَتُسْئَلُنَّ يُوْمَئِذٍ عَنِ النَّعِيْمِ ـ
উচ্চারণ: : ছুম্মা লাতুসআলুন্না ইয়াওমাইযিন আনিন নাঈম।
(৭) তারপর সেই দিন (কিয়ামতের দিন) তোমাদেরকে দেয়া সকল নেয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে। (সূরা আত-তাকাসূর : ৮)

হাদীস

عَنْ اِبْنِ مَسْعُوْدٍ (رض) اَنَّ رَسُوْلَ اللهِ (صلعم) قَالَ كُنْتُ نَهَاكُمْ عَنْ زِيْارَةِ الْقُبُوْرِ فَزُوْرُوَهَا فَاِنَّهَا تُزَّهَدُ فِيْ الدُّنِيَْاَ وَتُذَكِّرُ الاخِرَةِ ـ
(১) আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (সা) এরশাদ করেছেন, আমি তোমাদেরকে কবর যিয়ারত করতে নিষেধ করেছিলাম। হ্যাঁ, এখন তোমরা করব যিয়ার করো। কারণ কবর যিয়ারত প্রতি অনাশক্তি সৃষ্টি করে দেয় আর পরকালের কথা অন্তরে সজীব করে তোলে।(ইবনে মাজাহ)

عَنْ عَبْدِ اللهِ بِنْ عَمَرَ (رض) قَالَ رَجُلٌ يَانَبِيَّ اللهُ مَنْ اَكْيَاسُ النَّاسِ وَاَحْزَمُ النَّاسِ قَالَ اَكْثَرُ هُمْ ذِكْرًا لِّلْمُوْتِ اَكْثَرُهُمْ اِسْتِعْدَادًا أُوْلئِكَ الاَكْيَاسُ ذَهَبُوْا بِشّرَفِ الدُّنْيَا وَكَرَامَةِ الاخِرَةِ ـ
(২) হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি বলল: লোকদের মধ্যে অধিক বুদ্ধিমান, জ্ঞানী ও সতর্ক ব্যক্তি কে? উত্তরে নবী করীম (সা) বলেছেন, লোকদের মধ্যে যে মৃত্যুকে সবচেয়ে বেশী স্মরণ করে এবং তার জন্য যে সবচেয়ে বেশী প্রস্তুতি গ্রহণ করে তারাই হচ্ছে প্রকৃত বুদ্ধিমান ও হুশিঁয়ার লোক, তারাই দুনিয়ার সম্মান ও পরকালের মর্যাদা লাভ করতে পারে। (তাবরানী)

عَنْ اِبْنِ عُمَرَ (رض) قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ (صلعم) مَنْ سَرَّةُ اَنْ يُّنْظُرَ يَوْمَ الْقِيْمَةِ كَانَّهُ رَايَ عَيْنَ فِلْيَقْرَأُ اِذَا الشَّمْسُ كُوِّرَتْ وَاِذَا السَّمَاءُ اَنْفَطَرَتْ وَاِذَا السَّمَاءُ انْشَقَّتْ ـ
(৩) হযরত ইবনে উমার (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (সা) বলেন, কো ব্যক্তি যদি কিয়ামতেটনশিক্বাক পাঠ করে। (মুসনাদে আহমাদ ও তিরমিযী)



আল্লাহর পথে অর্থ ব্যয়/বায়তুলমাল

কুরআন

يًآيُّهَا الَّذِيْنَ امَنُوْا اَنْفِقُوْا مِمَا رَزَقْنَكُمْ مِنْ قِبْلِ اَنْ يَّاتِيَ يَوْمٌ لاَّبَيْعُ فِيْهِ وَلاَخُلَّةُ وَّلاَشَفَاعَةٌ ـ
উচ্চারণ: : ইয়া আইয়ুহাল্লাযীনা আমানূ আনফিক মিম্মা রাযাকনাকুম মিন কাবলি আই ইয়অতিইয়া ইয়াওমুল লা বাইউন ফীহি ওয়া লা খুল্লাতুও ওয়া লা শাফাআহ।
(১) হে মুমিনগণ! তোমরা দান কর; আমি যা তোমাদেরকে দিয়েছি তা থেকে সেদিন আসার পূর্বেই যেদিন বেচাকেনা, কোন বন্ধুত্ব এবং কোন সুপারিশ চলবে না। (সূরা বাকারা : ২৪৫)

اَلَّذِيْنَ يُنْفِقُوْنَ فِيْ السَّرَّاءِ وَالضَّرَّاءِ وَالْكظِِلِمِيْنَ الْغِيْظَ وَالْعَافِيْنَ عَنِ النَّاسِ ـ وَاللهُ يُحِبُّ الْمُحْسِنِيْنَ ـ
উচ্চারণ: : আল্লাযীনা ইউনফিকূনা ফিস সাররায়ি ওয়াদদাররায়ি ওয়ালকাযিমীনাল গাইয়া ওয়াল আফীনা আনিস নাসি, ওয়াল্লাহু ইয়ুহিব্বুল মুহসিনীন।
(২) যারা সচ্ছল অবস্থায় ও অসচ্ছল অবস্থায় দান করে, যারা ক্রোধ নিয়ন্ত্রিণ করে এবং যারা মানুষকে ক্ষমা করে, এসব নেককার লোককেই আল্লাহ ভালবাসেন। (সূরা আলে ইমরান : ১৩৪)

وَلاَيُنْفِقُوْنَ نَفَقَةُ صَغِيْرَةً وَّلاَكَبْيْرَةً وَّلاَيَقْطَعُوْنَ وَديِاً اِلاَّ كُتِبَ لُهُمْ لِيَجْزْيَهُمُ اللهُ اَحْسَنَ مَاكَانُوْا يَعْمَلَوْنَ ـ
উচ্চারণ: : ওয়া লা ইউনফিকূনা নাফাকাতান ছাগীরাতাও ওয়া লা কাবীরাতাও ওয়া লা ইয়াকতাউনা ওয়াদিয়ান ইল্লা কুতিবা লাহুম লিইয়াজযিইয়াহুমুল্লাহ আহসানা মা কানূ ইয়ামালুন।
(৩) তারা অল্প বা বেশী যা কিছু খরচ করুক না কেন কিংবা কোন উপত্যকাই অতিক্রম করুক না কেন এসব তাদের নামে রেকর্ড করা হয় যাতে তারা যা করেছে তার সর্বোত্তম প্রতিদান আল্লাহ তাদের দিতে পারেন। (সূরা তওবা : ১২১)

وَاَنْفِقُوْا فِيْ سَبِيْلِ اللهَ وَلاَتُلْقُوْا بِاَيْدِيْكُمْ اِلَى التَّهْلُكَةِ وَاَحْسِنُوْا ـ اِنَّ اللهَ يُحِبُّ الْمُحْسَنِيْنَ ـ
উচ্চারণ: : ওয়া আনফিকূ ফী সাবীলিল্লাহি ওয়া লা তুলকূ বিআইদিকুম ইলাত তাহলুকাতি, ওয়া আহসিনূ, ইন্নাল্লাহা ইয়ুহিব্বুল মুহসিনীন।
(৪) খরচ কর আল্লাহর পথে, নিজের হাতে নিজকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিও না। উত্তমরূপে নেক কাজ আঞ্জাম দাও। এভাবে যারা নেক কাজ উত্তমরূপে আঞ্জাম দিতে যত্নবান আল্লাহ তাদের অবশ্যই ভালবাসেন। (সূরা বাকারা : ১৯৫)

اِنْ تُقْرِضُوْا اللهَ قَرْضًا حَسَنًا يُضعِفْهُ لَكُمْ وَيَغْفِرْلَكُمْ ـ
উচ্চারণ: : ইন তুকরিদুল্লাহ কারদান হাছানা ইউদোয়াইফিহু লাকুম ওয়া ইয়াগফিরি লাকুম।
(৫) আল্লাহকে যারা উত্তম ঋণ দান করে, আল্লাহ তাদেরকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেন এবং তাদেরকে ক্ষমা করেন। (সূরা তাগাবুন : ১৬)

হাদীস

عَنْ اَبِيْ هُرَيْرَةَ (رض) قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهَ (صلعم) مَامِن يَّوْمٍ يُّصْبِحُ الْعِبَادُ اِلاَّ مَكَانَ يَنْزْلاَنِ فِيْقُوْلُ اَحَدَكُمْ اَللَّهُمَّ اَعْطِيْ مُنْفِقًا خَلفًا وَّيَقُوْلُ الاَخِرُ اَعْطِ مُمْسِكًا تَلَقًا ـ
১) হযরত আবু হুরায়রা (রা) বলেন, রাসূল (সা) বলেছেন, যখনই আল্লাহর বান্দারা প্রত্যুষে ত্যাগ করে তখনই দুজন ফিরিশতা অবতীর্ণ হয়। তার মধ্যে একজন বলতে থাকেন হে আল্লাহ, তুমি দানকারীকে প্রতিদান দাও। আর অন্যজন বলতে থাকেন হে আল্লাহ! কৃপণ ব্যক্তিকে ধ্বংস কর। (বুখারী,মুসলিম)

عَنْ اَبِيْ يَحْيَي خَرِيْمِ اِبْنِ فَاتِكٍ (رض) قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ (صلعم) مَنْ اَنْفَقَ نَفَقَةً فِيْ سَبِيْلِ اللهِ كُتِبَ لَهُ سَبْعَ مِائَةًَّ ضُعْفِ ـ
(২) আবু ইয়াহইয়া খারীম ইবনে ফাতিক (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন রাসূল (সা) বলেছেন, যে আল্লাহর পথে একটি জিনিস দান করলো, তার জন্য সাতশত গুণ সওয়াব লিখা হবে। (তিরমিযী)

عِنْ اِبْى هُرَيْرَةَ (رض) قَالَ قَالَ رَسُوْلَ اللهِ (صلعم) قَالَ اللهُ تَعَالِي اَنْفِق يَا اِبْنَ ادَمَ اُنْفِقُ عَلَيْكَ ـ
(৩) হযরত আবু হুরায়রা (রা) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন আল্লাহ বলেন, হে আদম সন্তান! তুমি দান করতে থাক আমিও তোমাকে দান করব। (বুখারী, মুসলিম)



0 comments:

Comment Please

মন্তব্য..

সবিস্তার সূচীপত্র
টেম্পলেট কাষ্টমাইজেশন - তরঙ্গ ইসলাম | তরঙ্গ ইসলাম