অনল-প্রবাহ

https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEjyEZKri52poPJ_50KKqnqBXnjthUzsFwVizf890I9LLVx1NiV1hJcZi3-fm8nW7e2VwwgHU-kU4UNt3PH3zPJPlOpQ2Wmi3TeMSs1BtXBrHn_dcZNaM5Ng1VNmMtCKTMRWNfQ-ilFEI3Q/s1600/Onol-Probaho-priyoboi.jpgআর ঘুমিও না নয়ন মেলিয়া,
ঊঠরে মোসলেম ঊঠরে জাগিয়া,
আলস্য জড়তা পায়েতে ঠেলিয়া,
পূত বিভু নাম স্মরণ করি।

যুগল নয়ন করি উন্মীলন,
কর চারিদিকে কর বিলোকন,
অবসর পেয়ে দেখ শত্রুগণ,
করেছে কীদৃশ অনিষ্ট সাধন,
দেখো চাহিয়া অতীত স্মরি।

বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের ঠিক পূর্বে যিনি বাংলা ভাষায় ও মুসলিম উম্মাহর পক্ষে আগুনের বীণা বাজিয়েছিলেন, তিনি হলেন সৈয়দ ইসমাইল হোসেন শিরাজী। বাংলা সাহিত্য জগতে তখন ইসলাম ও মুসলমান জাতিকে হেয় করা -কটাক্ষ করা- বিকৃত করা -অপমানিত করার উতসব চলছিলো, ইসমাইল হোসেন সিরাজীই  নজরুল-পূর্ব সেই যুগে কলম হাতে তুলে নিয়ে প্রবল পরাক্রমে তার মোকাবিলা শুরু করেছিলেন!

দ্বীপ নির্মাণ - ফররূখ আহমদ

প্রবাল দ্বীপের গোড়া পত্তন হবে ,
কি করে সে কথা হয়ে গেল জানাজানি !
দল বেঁধে এল অযুত প্রবালকীট
কাঁপায়ে দু'পাশে দরিয়ার লোনা পানি ।

রেখে এল তারা জীবনের সব সাধ,
ফেলে এল তারা জীবনের সব গান,
নব সৃষ্টির পথে চলে উন্মাদ ;
ভিত্তিমূলেই জীবন করিতে দান ।

অযুত,লক্ষ, কোটি প্রবালের দেহে ,
শত যুগ ধরি' সেই দ্বীপ গড়ে ওঠে ,
কোটি প্রবালের তনুতে না হয় যদি
আরো বহুকোটি প্রবাল কীটেরা জোটে ।

কবে দূরচারী পথিক পাখিরা এসে
কাকলি-মুখর সে দ্বীপে বাঁধবে ঘর,
জাগবে কখন প্রবাল দ্বীপের বুকে
নারিকেল শাখে সপ্নের মর্মর ।

প্রবাল কীটেরা জানে না সে কথা, তবু
দল বেঁধে তারা করে গোড়াপত্তন ।
বত্‍সর কাটে...শতাব্দী কেটে যায়...
তবু কোন দিন হয় না-তো উণ্মন ।

হে আমার ভাইগণ, দ্যুতিময় হীরা - ভয়েতে কাঁপিছে দেখো অত্যাচারীরা!



থেমোনা থেমোনা ভাই, আল্লাহর দল!
টগবগা রক্তরে করোনা শীতল।
দেয়ালের কাছে আজ ঠেকে গেছে পিঠ,
ফায়সালা হয়ে যাক, হোক হার-জিত।_

ফায়সালা চূড়ান্ত হয়ে যাক আজ;
দুনিয়াতে কে পড়িবে বিজয়ের তাজ।
টিকে থাকা - বেঁচে থাকা সিংহের মত-
আজ হতে মুমিনের শির উন্নত..........

আজ হতে জালিমের টুটি চেপে ধর;
আর কোন ছাড় নয়, -ঐ থরো থরো
কাঁপিছে কাঁপিছে দেখো মিথ্যাবাদিরা;
হে আমার ভাইগণ, দ্যুতিময় হীরা।।

বিজলি ঝলক নিয়ে হানো হে আঘাত,
প্রচন্ড আক্রোশে করো উত্‍খাত_
কুচক্রী জালিমের চক্র যত -
শোধ নাও, করে দাও ক্ষত বিক্ষত!!

কত ভার বয়ে চলে আমাদের কাঁধ,
পাহাড়ের ও ভেঙে যায় ধৈর্যের বাঁধ।
শহীদে শহীদে কত রক্ত সাগর,
কত কারাগার হলো আমাদের ঘর ।

আর কত? বলো ভাই, অপমান হবে?
আল্লাহর বান্দারা সহিবে নীরবে?
আর কতদিন বলো শোনা সম্ভব,
ইবলিশি তামাশার এই কলরব?

আর নয়, এইবার দাঁড়াও রূখে,
ভয়ের কাঁপন দাও জালিমের বুকে;
কঠিন দোলন দাও, -সিংহ আসন;
উল্টে পাল্টে যাক জুলুম শাসন!!

রাজপথ ছেড়ো নাকো, ওহে নির্ভয়,
চূড়ান্ত প্রতিরোধ এখনি সময়।
রূখে দাও ফেরাউন অত্যাচারীরে_
পদ্মা মেঘনা যমুনার তীরে!

টগবগা রক্তরে করোনা শীতল,
এখনি নামিবে দেখো রহমের ঢল!
সীসা দিয়ে গেঁথে করো প্রাচীর সু-দৃঢ়
কালেমার পতাকারে জয়ী করে ফিরো।।

শিক্ষকের মর্যাদা - কাজী কাদের নেওয়াজ



বাদশাহ আলমগীর
কুমারে তাঁহার পড়াইত এক মৌলভী দিল্লীর ;
একদা প্রভাতে গিয়া,
দেখেন বাদশাহ-শাহাজাদা এক পাত্র হস্তে নিয়া;
ঢালিতেছে বারি গুরুর চরণে;
পুলকিত হৃদয় আনত-নয়নে ।।
শিক্ষক শুধু নিজ হাত দিয়া নিজেরি পায়ের ধুলি
ধুয়ে মুছে সব করিছেন সাফ্ সঞ্চারি অঙ্গুলি।

শিক্ষক মৌলভী
ভাবিলেন আজি নিস্তার নাহি, যায় বুঝি তার সবি।
দিল্লীপতির পুত্রের করে
লইয়াছে পানি চরণের পরে,
স্পর্ধার কাজ হেন অপরাধ কে করেছে কোন্ কালে!
ভাবিতে ভাবিতে চিন্তার রেখা দেখা দিল তার ভালে।
হঠাৎ কি ভাবি উঠি

আপনার নামে আমার সালাম - আল মাহমুদের কবিতা (মাহমুদুর রহমান কে নিয়ে)

আমার নামও তো মাহমুদই বটে
জীবনের তটে
আমিও বৃক্ষ
কিংবা প্রাচীন গাছের মতোই
ডালপালা মেলে দূর নিরীক্ষ-
হয়ে আছি এই জীবন নদীর পাড়ের বনে
সংগোপনে।

আমি মাহমুদ, কী যে অদ্ভুত স্বপ্নের কবি
হাওয়ায় আঁকছি নিজের ছবি!

কাজ তো আমার আলো ও আঁধার পটের ওপর
দাগ কেটে যাওয়া হাওয়ার ভেতর
কাঁপি থরথর ডালপালা মেলে।

ছাত্রলীগের গান - (বি.স.)


আমরা টেরর আমরা বিগ
আমরা ছাত্রলীগ !
মোদের পায়ের তলায় মুর্ছে স্বদেশ
উর্দ্ধ্বে তুলে মারসি কিক !


আমরা ছাত্রলীগ !!

থাকি; দিন-বা-রাতে অস্ত্র হাতে
পত্রিকা পাতায়,
আমরা শক্তখুলি রক্তে রাঙাই
ক্ষুর-চাপাতির ঘায় !

দিনে দিনে হচ্ছি দানব
ছুটছে সবাই দিগ্বিদিক _

ধূসর পাণ্ডুলিপি - জীবনানন্দ

ধূসর পান্ডুলিপি জীবনানন্দ দাশের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ। এই কাব্যগ্রন্থটি ১৯৩৬ সালে প্রকাশিত হয়। এই কাব্যগ্রন্থে মোট বিশটি কবিতা অন্তর্ভুক্ত হয়। কবিতাগুলোর নাম হলোঃ  নির্জন স্বাক্ষর, মাঠের গল্প, মেঠোচাঁদ, পেঁচা, পঁচিশ বছর পর, কার্তিক মাসের চাঁদ, সহজ, কয়েকটি লাইন, অনেক আকাশ, পরস্পর, বোধ, অবসরের গান, ক্যাম্পে, জীবন, ১৩৩৩, প্রেম, পিপাসার গান, পাখিরা, শকুন, মৃত্যুর আগে, স্বপ্নের হাতে।

যে কাব্যগ্রন্থ গুলো দিয়ে বাংলা আধুনিক কবিতার যাত্রা শুরু তার মধ্যে ধূসর পান্ডুলিপি অন্যতম বলে অনেকে মনে করেন।[২] প্রথম কাব্যগ্রন্থ ঝরা পালকের কবিতায় কাজী নজরুল ইসলাম, মোহিতলাল মজুমদার ও সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের প্রভাব ছিলো লক্ষ্যনীয়। ধূসর পাণ্ডুলিপি-তেই তাঁর স্বকীয় কাব্য কৌশল পরিস্ফুট হয়ে ওঠে।

ঝরা পালক - জীবনানন্দ

ঝরাপালক জীবনানন্দ দাশের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ। ১৯২৭ সালে এটি প্রকাশিত হয়েছিল।

প্রকাশ : ১৩৩৪ [১৯২৭]

উৎসর্গ : ‘ – কল্যাণীয়াসু – ’
কবি রচিত ভূমিকা :
ঝরা পালকের কবিতাগুলি কবিতা, প্রবাসী, বঙ্গবাণী, কল্লোল, কালি-কলম, প্রগতি, বিজলী প্রভৃতি পত্রিকায় প্রকাশিত হইয়াছিল। বাকিগুলি নূতন।
কলিকাতা। ১০ই আশ্বিন ১৩৩৪ শ্রীজীবনানন্দ দাশ


কবিতাসমূহ

১. আমি কবি-সেই কবি ২. নীলিমা ৩. নব নবীনের লাগি ৪. কিশোরের প্রতি ৫. মরীচিকার পিছে ৬. জীবন-মরণ দুয়ারে আমার ৭. বেদিয়া ৮. নাবিক ৯. বনের চাতক- মনের চাতক ১০. সাগর-বলাকা ১১. চলছি উধাও ১২. একদিন খুঁজেছিনু যারে ১৩. আলেয়া ১৪. অস্তচাঁদে ১৫. ছায়া-প্রিয়া ১৬. ডাকিয়া কহিল মোরে রাজার দুলাল ১৭. কবি ১৮. সিন্ধু ১৯. দেশবন্ধু ২০. বিবেকানন্দ ২১. হিন্দু-মুসলমান ২২. নিখিল আমার ভাই ২৩. পতিতা ২৪. ডাহুকী ২৫. শ্মশান ২৬. মিশর ২৭. পিরামিড ২৮. মরুবালু ২৯. চাঁদিনীতে ৩০. দক্ষিণা ৩১. সে কামনা নিয়ে ৩২. স্মৃতি ৩৩. স্মৃতি ৩৪. সেদিন এ-ধরণীর ৩৫. ওগো দরদিয়া ৩৬. সারাটি রাত্রি তারাটির সাথে তারাটিরই কথা হয়

আযান


কে ওই শোনাল মোরে আযানের ধ্বনি।
মর্মে মর্মে সেই সুর,
বাজিল কি সুমধুর
আকুল হইল প্রাণ, নাচিল ধমনী।
কি মধুর আযানের ধ্বনি!

আমি তো পাগল হয়ে সে মধুর তানে,
কি যে এক আকর্ষণে,
ছুটে যাই মুগ্ধমনে
কি নিশীথে, কি দিবসে মসজিদের পানে।

হৃদয়ের তারে তারে,
প্রাণের শোণিত-ধারে,
কি যে এক ঢেউ উঠে ভক্তির তুফানে-
কত সুধা আছে সেই মধুর আযানে।

পাখি-সব করে রব


পাখী-সব করে রব, রাতি পোহাইল।
কাননে কুসুমকলি, সকলি ফুটিল।।
রাখাল গরুর পাল, ল'য়ে যায় মাঠে।
শিশুগণ দেয় মন নিজ নিজ পাঠে।।
ফুটিল মালতী ফুল, সৌরভ ছুটিল।
পরিমল লোভে অলি, আসিয়া জুটিল।।
গগনে উঠিল রবি, লোহিত বরণ।
আলোক পাইয়া লোক, পুলকিত মন।।
শীতল বাতাস বয়, জুড়ায় শরীর।
পাতায় পাতায় পড়ে, নিশির শিশির।।
উঠ শিশু মুখ ধোও, পর নিজ বেশ।
আপন পাঠেতে মন, করহ নিবেশ।।


প্রিয়- ঈদ শুভেচ্ছা নি-ও... :)


ঈদ মুবারাক-ঈ-দ
মলিন-মুখী খুকীর মনে
জমাট বাঁধা জিদ ।।

চোকখু ফোলা ফোলা..
বাবার দেয়া জরীর জামা
দেয়না মনে দোলা !

'একটু হাসো খুকু '
নওল মামা দেয় উপদেশ
ঈদের সময়টুকু-

আনন্দে রও মেতে তুমি ,
পারবে যত খেতে তুমি ,
খেও ঈদের মিষ্টি...
সালাম দিও
আজকে ঘরে, আসবে অনেক ইষ্টি ।।

আম্মু আসেন এবার -
কিন্তু খুকী, ঠোঁট বাকিয়ে
বলছে , "নেভার.. নেভার.. " !!

সেমাই-পায়েশ-মিষ্টি __
রইলো পড়ে ; খুকুর মনে
দুখের মুষল-বিষ্টি !

ছোট্ট চাচু এসে ,
নাকের ডগায় আঙুল ঠুকে
নিজেই দিল হেসে !

খুকির মুখে তালা ;
কয়না কথা - ব্যর্থ হলো
মান ভাঙানোর পালা ।

কী জানি কি ভুল হয়েছে ..
অনেক না; এক-চুল হয়েছে..
তাতেই এমন গোমড়া_
গুমোট মনে আনন্দ নেই
ব্যথার কাজল-ভোমরা !



এমন সময় ভাইয়া ,
কোত্থেকে যে আসলো ছুটে
এহেন খবর পাইয়া !

খুকুর হাতের মুঠোয় _
হাত বুলিয়ে, বকুল তলে
চললো হেঁটে দু'টোয় ।

"কী হয়েছে আপুনি ?"
কোমল স্বরে শুধায় তারে,
খুকুর কন্ঠে কাঁপুনি ;

অনেক ভেবে চিন্তে -
বলল শেষে, কিনতে হবে
জরীর জামা তিনটে !!

ভাইয়া ভ্রু কুঁচকে,
চোখে হাসির ঝিলিক দিয়ে
বললো , ও-রে পুঁচকে ,

জানিসনে তুই বুঝি ;
চাচ্চু-মামা-দাদুর ঘরে
চল-তো গিয়ে খুঁজি !!

দু’জনে যায় আবার ঘরে..
শোবার ঘরে- খাবার ঘরে..
করছে খোঁজার ভান..
ফিচলে হাসি ভাইয়া হাসে
টইটম্বুর প্রান !!


তিনটে রঙীন জা-মা ,
গোপন ছিলো চমক দিতে
প্লান করেছে মামা !

খুকী ছুটে বাইরে...
আসমানীরা গরীব বড়
ঈদের জামা নাই-রে !

আম্মু-চাচু-ভাইয়া ,
আব্বু এবং মামার সাথে
দাদু-ও দেখে চাইয়া ,


তাদের যে এক খুকী ছিলো ,
মুখটা চন্দ্র-মুখী ছিলো ;
সেই খুকীটা অবলীলায়,
ঈদের জামা দিচ্ছে বিলায়’
কেমন খুশি মনে___
হেসে হেসে কইছে কথা
গরীব সখীর সনে !!

হেসেই সবে শেষ
ঈদের খুশি পূর্ণ হলো
মধুর পরিবেশ ।।

:)

লেখক : ব্লগার বিবেক সত্যি

আমাদের মিছিল - (আল মাহমুদ)

https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEg5E1fusucvDj7wWpSpwAY352y9DEq-ryQSLGHRnMeGeeEOXfkFoQFAfzrkRgTFdLlTcBmV94PR_d0M9J6tOv01YxpjEJYjF6WWWTlCxKdDGxpZszoQB-DO1NUvGw-zFNOEdGdoIYEVoRI/s1600/pkp5w3ye.jpg

আমাদের এ মিছিল নিকট অতীত থেকে অনন্ত কালের দিকে

আমরা বদর থেকে ওহুদ হয়ে এখানে,

শত সংঘাতের মধ্যে এ শিবিরে এসে দাঁড়িয়েছি।

কে প্রশ্ন করে আমরা কোথায় যাবো ?

আমরা তো বলেছি আমাদের যাত্রা অনন্ত কালের।

উদয় ও অস্তের ক্লান্তি আমাদের কোনদিনই বিহবল করতে পারেনি।

আমাদের দেহ ক্ষত-বিক্ষত,

আমাদের রক্তে সবুজ হয়ে উঠেছিল মূতার প্রান্তর।

পৃথিবীতে যত গোলাপ ফুল ফোটে তার লাল বর্ণ আমাদের রক্ত, তার সুগন্ধ আমাদের নিঃশ্বাসবায়ু।


আমাদের হাতে একটি মাত্র গ্রন্থ আল কুরআন,
এই পবিত্র গ্রন্থ কোনদিন, কোন অবস্থায়, কোন তৌহীদবাদীকে থামতে দেয়নি।
আমরা কি করে থামি ?


পণ্ডশ্রম (শামসুর রহমান)

 http://a6.sphotos.ak.fbcdn.net/hphotos-ak-prn1/525541_342763319111761_120165098038252_794092_2033519464_n.jpg


এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,
চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।
কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,
আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।


দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা গেল উড়ে,
কান না পেলে চার দেয়ালে মরব মাথা খুঁড়ে।
কান গেলে আর মুখের পাড়ায় থাকল কি-হে বল?
কানের শোকে আজকে সবাই মিটিং করি চল।

যাচ্ছে, গেল সবই গেল, জাত মেরেছে চিলে,
পাঁজি চিলের ভূত ছাড়াব লাথি-জুতো কিলে।
সুধী সমাজ! শুনুন বলি, এই রেখেছি বাজি,
যে-জন সাধের কান নিয়েছে জান নেব তার আজই।

মিটিং হল ফিটিং হল, কান মেলে না তবু,
ডানে-বাঁয়ে ছুটে বেড়াই মেলান যদি প্রভু!
ছটতে দেখে ছোট ছেলে বলল, কেন মিছে
কানের খোঁজে মরছ ঘুরে সোনার চিলের পিছে?

নেইকো খালে, নেইকো বিলে, নেইকো মাঠে গাছে;
কান যেখানে ছিল আগে সেখানটাতেই আছে।
ঠিক বলেছে, চিল তবে কি নয়কো কানের যম?
বৃথাই মাথার ঘাম ফেলেছি, পণ্ড হল শ্রম।

গুন্টার গ্রাসের সমালোচিত সংগ্রামী কবিতা !!!

http://media.somewhereinblog.net/images/thumbs/Nasiruddin1073_1334061438_1-Gunter-Grass20120409191456.jpg

অবশ্যই যা বলতে হবে

কেন আমি চুপ করে আছি?
সোজাসাপ্টা নয়তো ভঙ্গিভাট্টা করেই
তব্দা হয়ে আছি দীর্ঘ সময়,
যেন টিকে থাকার প্রান্তসীমায়
বড়জোর পাদটীকা হয়ে বেঁচে আছি।

দুর্বলকে ভয় দেখিয়ে কাত করো-
সংগঠিত আর আহ্লাদি এমন নির্দেশে
শানানো হচ্ছে প্রথম হামলার অধিকার,
এতে উন্মূল হয়ে যাবে ইরানিরা
কারণ ওদের কোনো বর্তুল ভবনে নাকি
সন্দেহজনক বোমা রাখা আছে।

কেন আমি নিজেকে বলছি_
ওই অন্য দেশটিকে নাম ধরে ডাকো
যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ_ তারা নিভৃতে, নীরবে
তৈরি করেছে পারমাণবিক বোমা।
কিন্তু সে বোমাই কেন অনিয়ন্ত্রিত বলে গণ্য হবে,
শুধু পরীক্ষিত হয়নি বলে?

আর সবার নীরবতার নিচে
চাপা পড়ে আছে আমার নীরবতাও
অপমানিত-লাঞ্ছিত
মুখ খুললেই মিথ্যা দমন ও দোষারোপ
বিধান দেয়াই আছে_
অ্যান্টি-সেমেটিক দণ্ড ঝুলবে মাথার ওপর।

আমার নিজের দেশ
ক্ষমাহীন নিজস্ব অপরাধে
যখন তখন গালি খায় আর
জরিমানা গোনে,
কেবলই বিশুদ্ধ বাণিজ্যিক স্বার্থে
ক্ষিপ্র ঠোঁটে ঘোষিত হয়েছে পুনর্বাসিত বলে
আমার দেশ ডুবোজাহাজ দেবে ইসরায়েলকে
যার মাথায় থাকবে মারাত্মক ক্ষেপণাস্ত্র।
মারা হবে সেখানে, যেখানে
একটা একাকী আণবিক বোমার অস্তিত্বও অপ্রমাণিত
এখন অপ্রমাণই হতে চলেছে অকাট্য যুক্তি
ফলে আমি বলি, কথাটা বলতেই হবে এখন
কিন্তু কেন আমি একটু আগেও চুপ করে ছিলাম?
আমি ভেবেছি আমার অতীত, শরীরে অমোচনীয় কলঙ্করেখা
ভেবেছি_ ইসরায়েলের মতো দেশ_
এখন আর সবসময় যার সঙ্গে আমার সংযোগ
মেনে নেবে সত্যের সর্বজনীন ঘোষণা

কেন এখনই, এই শেষকালে ঠেকে
শেষ কালিটুকুতে বলছি আমি_
আণবিক ইসরায়েল ইতিমধ্যে বিপন্ন করে তুলেছে
ভঙ্গুর বিশ্বশান্তির শেষ আশাটুকু?
কেননা, এটা এখন বলতেই হবে
আগামীকাল হয়তো বড্ড দেরি হয়ে যাবে
আর এ-ও এক সঙ্গত কারণ যে আমরা,
জার্মানরা ইতিমধ্যে অনেক ভারাক্রান্ত হয়ে আছি
ফলে অপরাধ করার জন্য যে কোনো অজুহাতে অস্ত্র দেওয়া
দুষ্কর্মে সজ্ঞান সহযোগিতা বলেই গণ্য হবে

আর পারছি না
পশ্চিমের ভণ্ডামি দেখে দেখে পরিশ্রান্ত আমি
তবুও আশা থাকছে, হয়তো অনেকে নীরবতার জঞ্জাল থেকে
ছিন্ন হয়ে ভাববে আসন্ন বিপদের কথা,
বিরুদ্ধে দাঁড়াবে সহিংসতার।
ইসরায়েলের আণবিক শক্তির
স্থায়ী ও অপ্রতিরোধ্য বাড় নিয়ে
আর ইরানের আণবিক শক্তি নিয়েও
রফা হবে, আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায়
দুই দেশের সম্মতিক্রমে

কেবল তখনই ইসরায়েলি আর ফিলিস্তিনিরা
ওই অঞ্চলে বসবাসরত সকল মানুষ
প্রতারণায় অধিকৃত হয়ে
যারা ঘনিষ্ঠভাবে বাস করে সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ শত্রুর সঙ্গে
তখনই কেবল তারা আমাদের সহায় হতে পারে। 


Why I am silent, silent about too long,
what is obvious and in simulations
was practiced, as at the end of survivor
We are footnotes at best.

It is alleged that on the first strike,
of the subjugated by bullies
organized and directed rejoicing
could wipe out people of Iran,
because in the sphere of construction
a bomb is suspected.
But why do I say to myself,
that other country to call by name,
In the years since - though secret -
a growing nuclear capabilities available
but out of control, because no test
accessible?
The general concealment of this fact,
which my silence has subordinated
I feel as burdensome lie
and is forced, the penalty in view,
when it is ignored;
the verdict of "antisemitism" is familiar.
But now, because in my country,
from the very own crime
who are without comparison,
Time to time will be sought and taken to task,
turn and purely commercial basis, albeit
with nimble lip declared as restitution,
another U-boat to Israel
be delivered to the specialty
in it, everything is devastating warheads
there may be direct, where the existence
a single atomic bomb is unproven,
wants to be but as a fear of evidentiary value,
I say what needs to be said.

But why I kept quiet until now?
As I said, my background,
which is never subject to tilgendem flaw
forbid this as a fact distinct truth
the land of Israel, whom I am connected
and wants to stay, be expected.

Why do I say now only
aged and last ink:
The nuclear-armed Israel at risk
the already fragile world peace?
Because it must be said
what tomorrow might be too late;
also because we - as a German loaded enough -
Suppliers could be a crime
that is predictable, which is why our complicity
none of the usual excuses
would pay off.

And yes, I hold not more,
because I was the hypocrisy of the West
'm tired, also is to be hoped
There may be many free of silence
the cause of the apparent danger
to renounce violence and call on
also insist
that unrestricted and permanent control
of Israel's nuclear potential
and the Iranian nuclear facilities
by an international body
is approved by the governments of both countries.

Only then is all, the Israelis and Palestinians
more, all people working in this
region occupied by the delusion
live close to enemies close
and ultimately to help us.

মা, যদি হও রাজি, বড় হলে আমি হব খেয়াঘাটের মাঝি

http://a2.sphotos.ak.fbcdn.net/hphotos-ak-ash4/s720x720/431639_293640324024061_120165098038252_684918_57083936_n.jpg 


আমার যেতে ইচ্ছে করে
নদীটির ওই পারে
যেথায় ধারে ধারে
বাঁশের খোঁটায় ডিঙি নৌকো
বাঁধা সারে সারে।


কৃষাণেরা পার হয়ে যায়
লাঙল কাঁধে ফেলে,
জাল টেনে নেয় জেলে,
গরু মহিষ সাঁতরে নিয়ে
যায় রাখালের ছেলে।


সন্ধ্যে হলে যেখান থেকে
সবাই ফেরে ঘরে,
শুধু রাত দুপুরে
শেয়ালগুলো ডেকে ওঠে
ঝাউ ডাঙাটার পরে।



মা, যদি হও রাজি,
বড় হলে আমি হব
খেয়াঘাটের মাঝি।

প্রিয়-কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা সঙ্কলন

https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEhNsCsl9xX8DcjoaJAoWkq6td82qzqHDwtuxDF_ZXWmV1XEg5DAoneRMUq9tboPx8YO9oRWMDNBmsYwtF0a4tbWNEEd8JCZXLt1AvdEBJjNPukZrYMxmZVGAUn0kDOUj9B8CeXCerOlRJk/s1600/ss.jpg 
আমাদের প্রিয়তম কবি কাজী নজরুল ইসলাম (মে ২৫, ১৮৯৯ — আগস্ট ২৯, ১৯৭৬)। প্রিয় কবির অনেকগুলো কবিতা অনলাইন থেকেই সংগ্রহ করে একত্রিত করা হলো। প্রিয়কবির কাজের বিশাল এক সংগ্রহ রয়েছে ‌দুখুমিয়া.ব্লগস্পট.কম ওয়েবে । উইকিপিডিয়ার বাংলা ভার্সনের এডমিন একজন বাংলাদেশী। অথচ উইকিতে কাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে বলার মত কোন আয়োজন ই নেই । যেখানে রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে আদিখ্যেতার কোন শেষ নেই । নজরুলের জীবনিটি অতি সাদামাটা দায়সারাগোছের করে ফেলে রাখা হয়েছে। লেখার কোন সংকলন তো বলতে গেলে নেই ই । বিদ্রোহীর মত কবিতা অসম্পুর্ন ভাবে রাখা! আমরা উইকির বাংলাদেশী কন্ট্রিবিউটরদের দৃষ্টি আকর্ষন করছি। নজরুলের পাতাগুলি সমৃদ্ধ করার উদ্যোগ নেয়ার অনুরোধ রইলো। চিড়বিদ্রোহী সাম্যবাদী সত্যিকারের একমাত্র অসাম্প্রদায়িক এই মহান কবির সাহিত্যকে মর্যাদার সাথে যেন স্থান দেয়া হয়।

শেয়াল পন্ডিত


আমড়া গাছের ঝোঁপের ভিতর মৌমাছিদের বাসা,
মাঝখানে তার প্রকাণ্ড এক চাক রয়েছে খাসা।
তাই না দেখে শেয়াল মশাই মধু খাওয়ার তরে,
সেই পথেতে সকাল বিকাল আনাগোনা করে।

রাত্রি বেলায় মৌমাছি সব ঘুমিয়ে আছে জানা,
একদিন তাই রাতে শেয়াল মৌচাকে দেয় হানা।
যেমনি পরা মৌমাছি সব বেজায় রকম তেড়ে,
উঠলো বলে রাত দুপুরে ঘরের ভেতর কে রে?
চুরি করে মধু খাওয়ার ফলটা দেখাই তবে,
এই না বলে চোর বেচারার পড়লো ঘাড়ে সবে।

হুলের জ্বালায় ঝালা পালা প্রাণটা রাখা ভার,
কাতর হয়ে বলে শেয়াল, ছাড়না রে ভাই ছাড়।
পথ-ভুলে ভাই এসেছি্লেম আমড়া গাছের কাছে,
তাই না হলে হেথায় আসে এমন গাধাও আছে?

কবর - জসীম উদ্দিন

http://a3.sphotos.ak.fbcdn.net/hphotos-ak-snc7/380168_271531026234991_120165098038252_633980_2136381915_n.jpg


এই খানে তোর দাদির কবর ডালিম-গাছের তলে,
তিরিশ বছর ভিজায়ে রেখেছি দুই নয়নের জলে।
এতটুকু তারে ঘরে এনেছিনু সোনার মতন মুখ,
পুতুলের বিয়ে ভেঙে গেল বলে কেঁদে ভাসাইত বুক।
এখানে ওখানে ঘুরিয়া ফিরিতে ভেবে হইতাম সারা,
সারা বাড়ি ভরি এত সোনা মোর ছড়াইয়া দিল কারা!
সোনালি ঊষার সোনামুখ তার আমার নয়নে ভরি
লাঙল লইয়া খেতে ছুটিলাম গাঁয়ের ও-পথ ধরি।
যাইবার কালে ফিরে ফিরে তারে দেখে লইতাম কত
এ কথা লইয়া ভাবি-সাব মোরে তামাশা করিত শত।
এমনি করিয়া জানি না কখন জীবনের সাথে মিশে
ছোট-খাট তার হাসি ব্যথা মাঝে হারা হয়ে গেনু দিশে।

বাপের বাড়িতে যাইবার কাল কহিত ধরিয়া পা
আমারে দেখিতে যাইও কিন্তু উজান-তলীর গাঁ।
শাপলার হাটে তরমুজ বেচি পয়সা করি দেড়ী,
পুঁতির মালার একছড়া নিতে কখনও হত না দেরি।
দেড় পয়সার তামাক এবং মাজন লইয়া গাঁটে,
সন্ধাবেলায় ছুটে যাইতাম শ্বশুরবাড়ির বাটে!
হেস না হেস না শোন দাদু, সেই তামাক মাজন পেয়ে,
দাদি যে তোমার কত খুশি হত দেখিতিস যদি চেয়ে!
নথ নেড়ে নেড়ে কহিত হাসিয়া, এতদিন পরে এলে,
পথ পানে চেয়ে আমি যে হেথায় কেঁদে মরি আঁখিজলে।
আমারে ছাড়িয়া এত ব্যথা যার কেমন করিয়া হায়,
কবর দেশেতে ঘুমায়ে রয়েছে নিঝঝুম নিরালায়!
হাত জোড় করে দোয়া মাঙ দাদু, আয় খোদা! দয়াময়,
আমার দাদীর তরেতে যেন গো ভেস্ত নসিব হয়।

তারপর এই শূন্য জীবনে যত কাটিয়াছি পাড়ি
যেখানে যাহারে জড়ায়ে ধরেছি সেই চলে গেছে ছাড়ি।
শত কাফনের, শত কবরের অঙ্ক হৃদয়ে আঁকি,
গণিয়া গণিয়া ভুল করে গণি সারা দিনরাত জাগি।
এই মোর হাতে কোদাল ধরিয়া কঠিন মাটির তলে,
গাড়িয়া দিয়াছি কত সোনামুখ নাওয়ায়ে চোখের জলে।
মাটিরে আমি যে বড় ভালবাসি, মাটিতে মিশায়ে বুক,
আয়-আয় দাদু, গলাগলি ধরি কেঁদে যদি হয় সুখ।

এইখানে তোর বাপজি ঘুমায়, এইখানে তোর মা,
কাঁদছিস তুই? কী করিব দাদু! পরাণ যে মানে না।
সেই ফালগুনে বাপ তোর এসে কহিল আমারে ডাকি,
বা-জান, আমার শরীর আজিকে কী যে করে থাকি থাকি।
ঘরের মেঝেতে সপটি বিছায়ে কহিলাম বাছা শোও,
সেই শোওয়া তার শেষ শোওয়া হবে তাহা কী জানিত কেউ?
গোরের কাফনে সাজায়ে তাহারে চলিলাম যবে বয়ে,
তুমি যে কহিলা বা-জানরে মোর কোথা যাও দাদু লয়ে?
তোমার কথার উত্তর দিতে কথা থেমে গেল মুখে,
সারা দুনিয়ার যত ভাষা আছে কেঁদে ফিরে গেল দুখে!

তোমার বাপের লাঙল-জোয়াল দুহাতে জড়ায়ে ধরি,
তোমার মায়ে যে কতই কাঁদিতে সারা দিনমান ভরি।
গাছের পাতার সেই বেদনায় বুনো পথে যেতো ঝরে,
ফালগুনী হাওয়া কাঁদিয়া উঠিত শুনো-মাঠখানি ভরে।
পথ দিয়া যেতে গেঁয়ো পথিকেরা মুছিয়া যাইত চোখ,
চরণে তাদের কাঁদিয়া উঠিত গাছের পাতার শোক।
আথালে দুইটি জোয়ান বলদ সারা মাঠ পানে চাহি,
হাম্বা রবেতে বুক ফাটাইত নয়নের জলে নাহি।
গলাটি তাদের জড়ায়ে ধরিয়া কাঁদিত তোমার মা,
চোখের জলের গহীন সায়রে ডুবায়ে সকল গাঁ।

ঊদাসিনী সেই পল্লী-বালার নয়নের জল বুঝি,
কবর দেশের আন্ধারে ঘরে পথ পেয়েছিল খুজি।
তাই জীবনের প্রথম বেলায় ডাকিয়া আনিল সাঁঝ,
হায় অভাগিনী আপনি পরিল মরণ-বিষের তাজ।
মরিবার কালে তোরে কাছে ডেকে কহিল, বাছারে যাই,
বড় ব্যথা র’ল, দুনিয়াতে তোর মা বলিতে কেহ নাই;
দুলাল আমার, যাদুরে আমার, লক্ষী আমার ওরে,
কত ব্যথা মোর আমি জানি বাছা ছাড়িয়া যাইতে তোরে।
ফোঁটায় ফোঁটায় দুইটি গন্ড ভিজায়ে নয়ন জলে,
কী জানি আশিস করে গেল তোরে মরণ ব্যথার ছলে।

ক্ষণপরে মোরে ডাকিয়া কহিল আমার কবর গায়
স্বামীর মাথার মাথালখানিরে ঝুলাইয়া দিও বায়।
সেই যে মাথাল পচিয়া গলিয়া মিশেছে মাটির সনে,
পরাণের ব্যথা মরে নাকো সে যে কেঁদে ওঠে ক্ষণে ক্ষণে।
জোড়মানিকেরা ঘুমায়ে রয়েছে এইখানে তরু ছায়,
গাছের শাখারা স্নেহের মায়ায় লুটায়ে পড়েছে গায়।
জোনকি মেয়েরা সারারাত জাগি জ্বালাইয়া দেয় আলো,
ঝিঁঝিরা বাজায় ঘুমের নূপুর কত যেন বেসে ভালো।
হাত জোড় করে দোয়া মাঙ দাদু, রহমান খোদা! আয়;
ভেস্ত নসিব করিও আজিকে আমার বাপ ও মায়!

এখানে তোর বুজির কবর, পরীর মতন মেয়ে,
বিয়ে দিয়েছিনু কাজিদের বাড়ি বনিয়াদি ঘর পেয়ে।
এত আদরের বুজিরে তাহারা ভালবাসিত না মোটে,
হাতেতে যদিও না মারিত তারে শত যে মারিত ঠোঁটে।
খবরের পর খবর পাঠাত, দাদু যেন কাল এসে
দুদিনের তরে নিয়ে যায় মোরে বাপের বাড়ির দেশে।
শ্বশুর তাহার কশাই চামার, চাহে কি ছাড়িয়া দিতে
অনেক কহিয়া সেবার তাহারে আনিলাম এক শীতে।
সেই সোনামুখ মলিন হয়েছে ফোটে না সেথায় হাসি,
কালো দুটি চোখে রহিয়া রহিয়া অশ্রু উঠিছে ভাসি।
বাপের মায়ের কবরে বসিয়া কাঁদিয়া কাটাত দিন,
কে জানিত হায়, তাহারও পরাণে বাজিবে মরণ বীণ!
কী জানি পচানো জ্বরেতে ধরিল আর উঠিল না ফিরে,
এইখানে তারে কবর দিয়েছি দেখে যাও দাদু! ধীরে।

ব্যথাতুরা সেই হতভাগিনীরে বাসে নাই কেহ ভালো,
কবরে তাহার জড়ায়ে রয়েছে বুনো ঘাসগুলি কালো।
বনের ঘুঘুরা উহু উহু করি কেঁদে মরে রাতদিন,
পাতায় পাতায় কেঁপে উঠে যেন তারি বেদনার বীণ।
হাত জোড় করে দোয়া মাঙ দাদু, আয় খোদা! দয়াময়।
আমার বু জীর তরেতে যেন গো বেস্ত নসিব হয়।

হেথায় ঘুমায় তোর ছোট ফুপু, সাত বছরের মেয়ে,
রামধনু বুঝি নেমে এসেছিল ভেস্তের দ্বার বেয়ে।
ছোট বয়সেই মায়েরে হারায়ে কী জানি ভাবিত সদা,
অতটুকু বুকে লুকাইয়াছিল কে জানিত কত ব্যথা!
ফুলের মতন মুখখানি তার দেখিতাম যবে চেয়ে,
তোমার দাদির ছবিখানি মোর হদয়ে উঠিত ছেয়ে।
বুকেতে তাহারে জড়ায়ে ধরিয়া কেঁদে হইতাম সারা,
রঙিন সাঁঝেরে ধুয়ে মুছে দিত মোদের চোখের ধারা।

একদিন গেনু গজনার হাটে তাহারে রাখিয়া ঘরে,
ফিরে এসে দেখি সোনার প্রতিমা লুটায় পথের পরে।
সেই সোনামুখ গোলগাল হাত সকলি তেমন আছে।
কী জানি সাপের দংশন পেয়ে মা আমার চলে গেছে।
আপন হস্তে সোনার প্রতিমা কবরে দিলাম গাড়ি,
দাদু! ধর ধর বুক ফেটে যায়, আর বুঝি নাহি পারি।
এইখানে এই কবরের পাশে আরও কাছে আয় দাদু,
কথা কস নাকো, জাগিয়া উটিবে ঘুম ভোলা মোর যাদু।
আস্তে আস্তে খুঁড়ে দেখ দেখি কঠিন মাটির তলে,


ওই দূর বনে সন্ধ্যা নামিয়ে ঘন আবিরের রাগে,
অমনি করিয়া লুটায়ে পড়িতে বড় সাধ আজ জাগে।
মজিদ হইতে আযান হাঁকিছে বড় সুকরুণ সুরে,
মোর জীবনের রোজকেয়ামত ভাবিতেছি কত দূরে।
জোড়হাত দাদু মোনাজাত কর, আয় খোদা! রহমান।
ভেস্ত নসিব করিও সকল মৃত্যু ব্যথিত প্রাণ।

প্রতিদান

আমার এ ঘর ভাঙিয়াছে যে বা আমি বাঁধি তার ঘর
আপন করিতে কাঁদিয়া বেড়াই যে মোরে করেছে পর
যে মোরে করিল পথের বিবাগি_
পথে পথে আমি ফিরি তার লাগি
দিঘল রজনী তার তরে জাগি ঘুম যে হরেছে মোর
আমার এ ঘর ভাঙিয়াছে যে বা আমি বাঁধি তার ঘর

আমার্ এ কূল ভাঙিয়াছে যে বা আমি তার কুল বাঁধি
যে গেছে বুকেতে আঘাত করিয়া তার লাগি আমি কাঁদি
যে মোরে দিয়েছে বিষে ভরা বাণ
আমি দেই তারে বুক ভরা গান
কাঁটা পেয়ে তারে ফুল করি দান সারাটি জনম ভর
আপন করিতে কাঁদিয়া বেড়াই যে মোরে করেছে পর।

মোর বুকে যে বা কবর বেঁধেছে আমি তার বুক ভরি
রঙিন ফুলের সোহাগ জড়ানো ফুল মালঞ্চ ধরি
যে মুখে কহে সে নিঠুরিয়া বাণী
আমি লয়ে করে তারি মুখখানি
কত ঠাঁই হতে কত কী যে আনি সাঁজাই নিরন্তর
আপন করিতে কাঁদিয়া বেড়াই যে মোরে করেছে পর।

► জসীম উদদীন
► ক্লাশ সেভেন
► ছেলেবেলার ছড়া-কবিতা :)


http://a2.sphotos.ak.fbcdn.net/hphotos-ak-ash4/185212_200604269994334_771905_n.jpg

চাষী

সব সাধকের বড় সাধক আমার দেশের চাষা,
দেশ মাতার-ই মুক্তিকামী, দেশের সে যে আশা।

দধীচি কি তাহার চেয়ে সাধক ছিল বড়?
পুণ্য অত হবে না'ক সব করিলে জড়।

মুক্তিকামী মহাসাধক মুক্ত করে দেশ,
সবারই সে অন্ন জোগায় নাইক গর্ব লেশ।

ব্রত তাহার পরের হিত, সুখ নাহি চায় নিজে,
রৌদ্র দাহে শুকায় তনু, মেঘের জলে ভিজে।

আমার দেশের মাটির ছেলে, নমি বারংবার
তোমায় দেখে চূর্ণ হউক সবার অহংকার।

 http://a6.sphotos.ak.fbcdn.net/hphotos-ak-ash4/205081_167481699973258_8108297_n.jpg

সবিস্তার সূচীপত্র
টেম্পলেট কাষ্টমাইজেশন - তরঙ্গ ইসলাম | তরঙ্গ ইসলাম