উপমহাদেশ - আল মাহমুদ

অন্ধকারে হঠাৎ গুলীর শব্দে নৌকাটা দুলে উঠল। যাত্রীরা উবুড় হয়ে পড়ল এ-ওর গায়ের ওপর। নৌকার পেটের ভেতর থেকে ময়লা পানির ঝাপটা এসে আমার মুখটা সম্পূর্ণ ভিজিয়ে দিল। সার্ট ও গেঞ্জির ভেতর ছলছলানো পানি ঢুকে ঝুলতে লাগল। আর ফোঁটা ফোঁটা চুঁইয়ে পড়তে লাগল পাটাতনে। ততক্ষণে বুড়ো মাঝি ও তার ছোটো ছেলেটা বৈঠা গুটিয়ে নিয়ে পাটাতনে লম্বা হয়ে শুয়ে পড়েছে। কে একজন ছিটকে এসে আমাকে দুহাতে জড়িয়ে ধরে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠেছে। কান্না ও শরীরের ছোঁয়াতেই আমার বুঝতে বাকি রইল না, একটা মেয়ে আমাকে জড়িয়ে ধরে ফোঁপাচ্ছে। 

আমার অস্তিত্বের সমর্থন পেয়েই কিনা জানি না, মেয়েটার কান্না আরও শব্দ করে একটু রোদন বা বিলাপের মতো হয়ে উঠল। আর সাথে সাথেই আখাউড়ার দিক থেকে সারিবাঁধা পটকা ফাটানোর মতো গর্জন করে বইতে লাগল গুলীর শব্দ। সীসার বাতাস কেটে চলে যাওয়ার শিস উঠছে। 

তিনটি সেনা অভ্যুত্থান ও কিছু না বলা কথা

১৯৭৫ সালে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে সংঘটিত হয়েছিল তিন তিনটি ভয়াবহ সেনা-অভ্যুত্থান। তিনটি অভ্যুত্থানই যুগান্তকারী ঘটনা, শতাব্দীর অন্যতম ঐতিহাসিক ঘটনা, যেগুলোর মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক ও সামরিক পরিমন্ডলে ঘটে ব্যাপক উত্থান-পতন। এমনকি সরকার পরিবর্তনের মত অবিশ্বাস্য ঘটনাও ঘটে যায়।

সৌভাগ্যবশতঃ তিনটি ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানই অতি নিকট থেকে দেখার সুযোগ আমার হয়েছিলো। প্রায় প্রতিটি ঘটনার সাথে কমবেশী প্রত্যক্ষ অথবা পরোক্ষভাবে সংযুক্ত ছিলাম। অন্যরা যেখানে শুনে শুনে লিখেছেন, আমি সেখানে নিজে প্রত্যক্ষ করে লিখেছি। ইতিমধ্যে বেশকিছু লেখক অভ্যুত্থান ঘটনাগুলো না দেখেই শুধু শুনে শুনে রঙ-চং দিয়ে বিভিন্নভাবে অতিরঞ্জিত করে গল্পাকারে অলঙ্করণ করে লিখেছেন। এতে প্রকৃত তথ্য বিকৃত হয়েছে।

দর্পণে আপন ছায়া - খাদিজা আখতার রেজায়ী

১৯৭৪ সালের কথা। চারদিকে ভীষণ অস্বস্তি। রাজনীতি শ্বাসরুদ্ধকর আবহাওয়ায় বিষাক্ত এই জনপদ। দেশজুড়ে শতাব্দীর ভয়ংকর ক্ষুধার আগ্রাসন, মাত্র বছরের ব্যাবধানে পঁচিশ লাখ আদম সন্তান দুর্ভিক্ষের বলি হয়ে নিঃশেষ হয়ে গেলো! চলছে, 'ভাতে মারবো-পানিতে মারবো' এর নিদারুন পরিহাস!

পিতামাতা তাদের বুকের সন্তানকে মাত্র ৫ টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে, সোমত্ত মেয়েরা এক মালসা ফেনের জন্য রাজনৈতিক টাউটদের কাছে দেহ বিক্রী করে। এমনই এক ভয়াবহ পরিস্থিতির বেদনাবিধুর স্মৃতি পরবর্তী বংশধরদের কাছে পৌঁছে দেবার দায়িত্ব যে সাহিত্যিক সাংবাদিক বুদ্ধিজীবিদের হাতে ন্যাস্ত, তাদের বিরাট অংশ খদ্দেরের আশায় 'কলম' হাতে লাইনে দাঁড়ানো, নিবিড় নিদারুন অন্ধকারের একচ্ছত্র রাজত্ব চতুর্ধারে!

গৌড় থেকে সোনার গাঁ -(উপন্যাস)

ইখতিয়ারউদ্দিন-মুহাম্মদ-বিন-বখতিয়ার খলজী জানবাজী রেখে বাঙ্গালা মুলুকে মুসলিম রাজ্য প্রতিষ্ঠা করে গেলেন। তাকে সাহায্য করলেন তার নিকটতম তিন-ইয়ার শিরান খলজী, আলী মর্দান ও ইওজ খলজী। তারা লাক্ষ্ণৌ, বিহার ও বরেন্দ্র অঞ্চলকে এই নতুন রাজ্যের অন্তর্ভূক্ত করেন। ইশায়ী ১২০৫ সালে ইখতিয়অরউদ্দিন ইন্তেকাল করলে দিল্লীর সুলতানকে নামমাত্র সদকা দিয়ে তার তিন বন্ধু পরপর ইসায়ী ১২২৭ সাল পর্যন্ত বাঙ্গালা শাসন করে গেলেন। কিন্তু ১২২৭ সালে দিল্লীর সুলতান ইলতুতমিশের পূত্র নাসিরউদ্দিন মাহমুদ সুবিশাল বাহিনী নিয়ে বাঙ্গালার গিয়াসউদ্দিন ইওজ খলজীকে পরাজিত ও হত্যা করে দখল করে নেন এ অঞ্চল। এরপর একটানা আটান্ন বছর দিল্লী থেকে নিযুক্ত পনেরোজন শাসক বাঙ্গালা শাসন করেন। এদের দশজনই ছিলেন মামলুক বা দাস।


আমার ফাঁসি চাই

৩রা মে ১৯৮৪ এর এক পড়ন্ত বিকেলে ধানমন্ডির বঙ্গবন্ধু ভবনে বসে গল্প করছেন বঙ্গবন্ধু কন্য জননেত্রী শেখ হাসিনা সহ কয়েকজন। গল্পে গল্পে ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ ও পাকিস্থানী সেনাবাহিনীর প্রসঙ্গ উঠলো। প্রসঙ্গ উঠলো ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যে দিয়ে গড়ে উঠা আমাদের সেনাবাহিনীর কথা।

জননেত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সম্পর্কে বললেন, এটা একটা সেনা বাহিনী হলো ? এটা একটা বর্বর, নরপিশাচ, উচ্ছৃংখল, লোভী, বেয়াদপ বাহিনী। এই বাহিনীর আনুগত্য নেই , শৃংখলা নেই , মানবিকতা নেই, নেই দেশ প্রেম। এটা একটা দেশদ্রোহী অসভ্য হায়েনার বাহিনী। তোমরা পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কথা বল। সারা বিশ্বে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মতো এতো ভদ্র, নম্র, সভ্য, বিনয়ী এ‌বং আনুগত্যশীল বাহিনী খঁজে পাওয়া যাবেনা। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মানবিকতা বোধের কোন তুলনাই চলেনা। কি অসম্ভব সভ্য আর নম্র তারা।

বখতিয়ারের তলোয়ার

https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEjqgY0x-whEf2bCTN3-j4hQVroPg5a0qm4jnTdl2K0sizwb3zrXfpL1agGJXzPOzZ39M9-ZenBxREKyK3vFGf2CB82BEI9f68___uocCc_7OU1uVhkkF2XAIvUESOFLIcxifbr8rrRXaVc/s1600/Bokhtiarer_Talwar.jpgইখতিয়ার উদ্দীন মুহাম্মদ-বিন-বখতিয়ার খলজীর নদীয়া বিজয় থেকে দাউদ কাররানীর রাজমহলের যুদ্ধ বাংলা মুলুকের পৌনে চারশো বছরের ইতিহাস। গৌড়পান্ডুয়া-তান্ডার-মুসলমান শাসনের এক অবিস্মরণীয় ও ঐতিহ্যময় অতীত। অথচ ইংরেজ ও তার সহযোগীদের চাতুর্যে এই অতীত আমাদেদের জানতে দেয়া হয়না আজ ও। এই ইতিহাসের গুরুত্ব খুবই কম আমাদের পাঠ্যসূচীতে।

সামাল-সামাল-
হুশিয়ার হুশিয়ার-

জাঁন কাঁপানো আওয়াজ গজবের আলামত। জায়গার নাম গরমশির। আফগান মুলকের এক প্রাচীন জনপদ। এক প্রান্তিক এলাকা। গরমশিরের একদিকে সিস্তান ও অন্যদিকে গজনী। জনপদের দুইপাশে লোক বসতি, মাঝখানে রাস্তা। বালি-কাঁকর-পাথর ঢাকা পথ। ঘটনা এই পথের উপর।

লৌহমানব - নসীম হিজাযী

শীতের জমকালো দীর্ঘ-রাত। কনকনে শীতের প্রাবল্য গোটা প্রকৃতিতে খেলে যাচ্ছে একের পর এক। পথপ্রান্তর ও লোকালয় শূণ্য। হিরাত থেকে নিশাপুরের দিকে যাওয়া গিরিপথগুলোতে মৃত্যুর নিস্তব্ধতা। কোথাও কেউ নেই। সহসাই ভেসে এলো দ্রুতগামী অশ্বখুড়ধ্বনি। সেই ধ্বনিতে পাথুরে ভূমি কেপে উঠলো, খানিকবাদে জনা তিনেক অশ্বারোহীকে ঝড়োবেগে নিশাপুরের দিকে যেতে দেখা যায়...

...এশিয়া মাইনরের ইতিহাস নিয়ে এ কাহিনী! ইতিহাসের ধূষর পাতায় চকচক করা এক উপাখ্যান! নিশাপুরের পার্বত্যাঞ্চল থেকে আড়মোড়া দিয়ে জেগে ওঠা সিংহ শার্দুল - তার নাম সুলতান মুহাম্মাদ ঘুরী!  ভারতবিজেতা , মুক্তিকামী কোটি মানুষের ত্রাণকর্তা মুহাম্মাদ ঘুরী! তরাইনের যুদ্ধে ভারতের ভাগ্যাকাশে সুরাইয়া সেতারা হয়ে উদিত হওয়া লৌহমানব মুহাম্মাদ ঘুরী!...

হেজাযের কাফেলা - নসীম হিজাযী

বসন্ত কাল। যতদূর দৃষ্টি যায় কেবল সবুজের সমারোহ। ডান দিকে দৃষ্টির শেষ সীমানা পর্যন্ত সবুজ ক্ষেত-খামার। বাতাসে নাচছে গমের শীষ। বায়ে ফোরাতের পারে লতাগুল্ম ঘেরা গভীর অরণ্য।

হাসান প্রবেশ করলো এ এলাকায়। অনেক পথ হেঁটে ফসলের ক্ষেত আর বাগান পেরিয়ে গাঁয়ের বস্তি ছাড়িয়ে কেল্লার মত এক বাড়ির কাছে পৌঁছল ও। ডুবে যাচ্ছিলো সূর্য। বাইরের মাঠে খেলা করছিলো বালকেরা। এদিক ওদিক তাকিয়ে ও এগিয়ে গেল ফটকের কাছে। ভেতর থেকে ভেসে এল কুকুরের ঘেউঘেউ। কিছুক্ষণ এক ধরনের অস্থিরতা নিয়ে দাঁড়িয়ে রইলো সে। তারপর দরজায় কড়া নেড়ে ডাকলো:''কেউ আছেন?"

কালো পঁচিশের আগে ও পরে

 জাতীয় জীবনের একটা অতি গুরুত্বপূর্ণ সময় ১৯৭১ সাল। এক রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ের মাধ্যমে পাকিস্তান বিভক্ত হয়ে এ বছর স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের পত্তন হয়। জাতীয় ইতিহাসের অবিস্মরণীয় অধ্যায় এ মহা ঘটনা। এ মহা ঘটনার ইতিহাস আমি এখানে লিখিনি। সে এক বিরাট কাজ। আমি মাত্র দুটো প্রশ্নের উত্তর সন্ধান করতে চেষ্টা করেছি। প্রশ্ন দুটি হলো, কোন পটভূমিতে স্বাধীকার আন্দোলন রক্তক্ষয়ী স্বাধীনতাযুদ্ধে রূপান্তরিত হলো এবং জাতীয় জীবনের সে মহা ঘটনায় কেন জাতি একমত হয়ে এক কাতারে দাঁড়াতে পারেনি।

প্রশ্নদু'টির উত্তর সন্ধান করতে গিয়ে আমি যা লিখেছি, তা বিভিন্ন সংবাদপত্র ও গ্রন্থের বিবরণী এবং অনেক দায়িত্বশীল ব্যক্তির উক্তির সমাহার মাত্র। সেই সময়ের একজন কর্মজীবি সাংবাদিক হিসেবে যা দেখেছি, যা অনুভব করেছি, তাও আমাকে যথেষ্ট সাহায্য করেছে। মানুষ অবশ্যই ক্যামেরা নয়, মানুষ মানুষ ই। ইচ্ছা, আবেগ বিশিষ্ট সত্তা সে।

৩০ লাখের তেলেসমাত - জহুরী

আমাদের মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ লোক নিহত হয়েছে আর ২ লাখ নারী সতীত্ব হারিয়েছে - এই সংখ্যাদ্ব্য় বহুল আলোচিত; কিন্তু পরিকল্পিত অনুমানের দুষ্ট মগজ থেকে সৃষ্ট। সত্যকে মিথ্যা দিয়ে ঢেকে ফেলার এই প্রচেষ্টা দুঃখজনক। মুক্তিযুদ্ধের এতবড় গুরুত্বপূর্ণ একটি তথ্যকে সঠিকভাবে জানার ব্যাপারে যে অলসতা, তাকে জাতীয় লজ্জ্বা ছাড়া আর কি বলা যায়! আমি এই বইয়ে ধুম্রজাল থেকে সত্যকে উদ্ধারের আহবান জানিয়েছি এবং ভুলকে ভুল বলে প্রমাণের চেষ্টা করেছি। এ জন্য ৩০ লাখ সংখ্যাকে এক তেলেসমাত বলেছি।

আযাদী আন্দোলন - ১৮৫৭


আন্দামান দীপপুঞ্জ বঙ্গোপসাগর থেকে বেশী দূরে নয়। মাওলানা ফজলে হক খায়রাবাদী ১৮৫৯ সালে নির্বাসিত হন আন্দামানে।আস্ সাওরাতুল হিনদীয়া এবং কাসিদাতু ফিতনাতুল হিন্দ-এ দুটি ছিল তার সেই বন্দী জীবনের দিনলিপি। এসব তিনি কাফনের কাপড়ে, টুকরা কাগজে লিখে রেখেছিলেন। মুফতী এনায়েত কাকুরী অনেক আগেই নির্বাসিত হয়েছিলেন ,তাকবীমুল বুলদান নামে একটি বই অনুবাদ করে কোন এক রাজ-কর্মচারীর সু-দৃষ্টিলাভ করেছিলেন এবং পরে তাকে মুক্তি দেয়া হয়।



মুফতী সাহেব চলে যাওয়ার সময় তার হাতে মাওলানা খায়রাবাদী সেই কাফনের কাপড় ও কিছু কাগজের টুকরা দিয়ে অনুরোধ করেছিলেন এগুলো যেন তার সুযোগ্য পুত্র আব্দুল হক খায়রাবাদীর নিকট পৌছে দেন। ইংরেজ আমলেই এটা প্রকাশিত হয়েছিল। মাওলানা আব্দুল হক্ক ও মাওলানা সামসুল হক্ক খায়রাবাদী পিতার মুক্তির জন্য বিলেতের প্রিভি কাউন্সিলে আপীল করেন । অন্য দেশের সুধী সমাজ শিল্পি-সাহিত্যিক ও বুদ্ধিজীবীদের পক্ষ হতেও সরকারের কাছে আবেদন-নিবেদন পেশ হতে থাকে ।

ভেঙ্গে গেলো তলোয়ার - নসীম হিজাযী


একদিন ফরহাত বালাখানার এক কামরায় বসে তাঁর পরিচারিকার সাথে কথা বলছেন। আচানক সিঁড়ির উপর  কার ছুটে আসার আওয়াজ শোনা গেল। দেখতে দেখতে বারো বছরের কাছাকাছি বয়সের একটি শ্যামবর্ণ বালক এসে কামরায় প্রবেশ করলো।

পরিচারিকা বললো: মুনাওয়ার, তুমি বড় নালায়েক হয়েছো। বিবিজী কতোবার তোমায় মানা করেছেন সিঁড়ির ওপর ছুটাছুটি করতে!

মুনাওয়ার পরিচারিকার জওয়াব না দিয়ে ফরহাতকে লক্ষ্য করে বললো: আজ এক মেহমান এসেছেন। খুব বড় লোক মনে হচ্ছে। এসেই তিনি ভাইজান আনওয়ার আলী ও ভাইজান মুরাদ আলীর কথা জিজ্ঞেস করলেন। এরপর দীলাওয়ার আলী ও সাবেরের কথা জানতে চাইলেন। সাবের তো মরে গেছে।

রক্তাক্ত জনপদ -(শাহাদাতের ইতিহাস সঙ্কলণ)


বাংলাদেশে ইসলামী আন্দোলনের পথ পরিক্রমার প্রথম দুই যুগের নথিভূক্ত শহীদগণের শাহাদাতের প্রেক্ষাপট ও রক্তপিচ্ছিল নির্যাতনময় আন্দোলনমুখর প্রথম দিনগুলোর ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে এ সংকলনে। এটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত হয়। তখন পর্যন্ত ছাত্র ইসলামী আন্দোলনের শাহাদাতের ৫০ তম সংখ্যা পর্যন্ত ঘটনাবলী নিয়ে সংলনটি প্রকাশ করা হয়। পরবর্তী দুই যুগ অর্থাত বর্তমান সময় পর্যন্ত শাহাদাতের সেই সংখ্যা তিনগুনের বেশি হয়ে গিয়েছে; যা প্রমান করে কন্টকময় মক্কীযুগের কঠোর সংকটের দিনগুলোর ঈমানী তামান্না সময়ের পরিবর্তনে এতোটুকু কমেনি, বরং বেড়েছে। আল্লাহর জমীনে আল্লাহ প্রদত্ত জীবনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার দূরন্ত দু:সাহসী কাফেলার মুজাহিদদেরকে কোন রক্তচক্ষু আজ অবধি সামান্যতম ভয় দেখাতে পারেনি, তারা ছুটে চলেছে পরিপূর্ণ নিশ্চিৎ আস্থা ও বিশ্বাস নিয়ে। পূর্বসূরী শহীদগনের দেখানো পথ থেকে সামান্যতম বিচ্যুত হয়নি এ কাফেলা! পূর্ববর্তীগনের পদচিহ্নে পা রেখে রেখেই চূরান্ত নজরানা দিয়ে এগিয়ে চলছে মুক্তির আলোকিত রাজতোরনের দিকে!

সীমান্ত ঈগল - নসীম হিজাযী

পাহাড়ের ঢাল বেয়ে নেমে এলো পঞ্চাশজন ঘোড় সওয়ার। ঘন বন পেরিয়ে নদীর ভাংগা পুলের কাছে থামল ওরা। নদীর ওপারে বন আরো গভীর। উপত্যকায় জংলী গাছের সাথে আংগুরলতা, আপেল, নাশপাতি আর হরেক ফলের গাছ দেখে বুঝা যায়, কোন কালে এ অরণ্য এক সুদৃশ্য বাগান ছিলো। পুলের ওপাশে রাস্তার দুধারে গাছের ডালপালা ভাঙা সড়কটাকে ছাদের মত ঢেকে রেখেছে। ঘাস আর গুল্মলতা জড়িয়ে রেখেছে সড়কের ভাঙা ইট-পাথর। দেখলেই বুঝা যায়, এ সড়কে মানুষের পা খুব কমই পড়ে।

নদীটা গভীর নয়। সড়ক ছেড়ে কয়েক পা নিচে নামলে সহজেই নদী পেরোতে পারে সওয়াররা। কিন্তু সামনের দু'জন কি ভেবে পুলের কাছে পৌঁছেই পেছন ফিরে সওয়ারদের থেমে যেতে ইশারা করলো।


মরণজয়ী - নসীম হিজাযী

মরণজয়ী নসীম হিজাযীর দাস্তান-ই-মুজাহিদ উপন্যাসের বাংলা অনুবাদ। ইসলামের ইতিহাসের পঁয়ত্রিশ থেকে পঁচাত্তর হিজরী পর্যন্ত সময়কালের পটভূমিতে এটি রচিত হয়েছে। এই চল্লিশটি বছর ছিলো সত্যিকার অর্থে বিশ্ব-ইতিহাসের এক ক্রান্তিকাল যখন আলমে-ইসলামের সীমানা একদিকে স্পেন ছাড়িয়ে ফ্রান্সের পিরিনিজ পর্বতমালা, অপরদিকে ভারতবর্ষ পর্যন্ত, একদিকে আফ্রিকার সাহারা মরুভূমি, অপরদিকে মধ্য এশিয়ার তুর্কিস্তান তাতারস্তান পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। এ ছিলো সেই অবিষ্মরণীয় সময়কাল যখন, মুহাম্মদ বিন কাশিম সিন্ধু জয় করেন, মুসা বিন নুসায়ের স্পেন জয় করেন আর কুতায়বা বিন মুসলিম মধ্য এশিয়া জয় করেন। ইসলামের শান্তিময় শীতল ছায়াতলে সারা বিশ্বের কোটিকোটি তপ্তহৃদয় দিগভ্রান্ত মানবতাকে নিয়ে আসেন বীরত্ব ও মমতার মেলবন্ধনের মধ্য দিয়ে!

শেষ প্রান্তর - নসীম হিজাযী

গোবী মরুভূমির দূরন্ত মরুচারী তেমুজিন! ইতিহাসে তার পরিচয় চেংগিস খান! তার নেতৃত্বে মঙ্গোলিয়ার বর্বর বাহিনী জেগে উঠলো দূরন্ত ঝড়ের মত, সভ্যতার দীপশিখা নিভিয়ে দিতে লাগলো একটি একটি করে। ছয়শ' বছর আগে আরব মরু থেকে উঠে এসেছিলো যে মেঘছায়া, তা মানবতার উপর বর্ষন করেছিলো রহমতের বারিধারা। আর ছয়'শ বছর পর গোবীর মরুবুক থেকে উঠলো যে দূরন্ত ধূলিঝড়, তা থেকে বারিবর্ষণ হলোনা। হলো অগ্নিগিরির ধূম উদগীরণ, হলো উত্তপ্ত লাভার উদ্গীরণ!

শেষ বিকেলের কান্না - নসীম হিজাযী

দশ মাইল দীর্ঘ এবং পাঁচ মাইল প্রশস্ত আলফাজরার পার্বত্য এলাকা। হিজরতের পর এটাই ছিলো স্পেনের শেষ মুসলিম সম্রাট আবু আবদুল্লাহর সাম্রাজ্য। পশ্চিমে ছোট ছোট পর্বত শ্রেণী। পর্বতের পাদদেশে একটা পুরনো কেল্লায় আবু আবদুল্লাহর আবাস। পাহাড় শ্রেণী ধীরে ধীরে উঁচু হয়ে গেছে উত্তর দিকে। পেছনে শস্য-শ্যামল উপত্যকা। সেখানে প্রায় চল্লিশটা বসতবাড়ি। এখানেই আরেক কেল্লায় থাকেন সাবেক উজির আবুল কাসেম।

আবুল কাসেমের জায়গীর দেখাশুনার দায়িত্ব ছিল মাসয়াবের ওপর। সম্পর্কে তার স্ত্রীর চাচাতো ভাই। সুলতানের আগমনের কয়েকদিন পর দেহরক্ষী, চাকর-বাকর এবং ছেলেমেয়েদের নিয়ে এসেছিলেন তিনি। আবুল কাসেম কাজে কর্মে ব্যস্ত থাকতেন গ্রানাডায়, গত তিন বছরে বড় জোর কয়েক সপ্তাহ কাটিয়েছেন এখানে।

আমরা সেই সে জাতি

মুজাদ্দিদের মাথা মানুষ-সম্রাটের কাছে নত হলোনা : মোগল আমল। সম্রাট আকবরের ছেলে জাহাঙ্গীর তখন মোগল সাম্রাজ্যের প্রতাপশালী সম্রাট। একদা তিনি শায়খ আহমদ সরহিন্দীকে দরবারে ডেকে পাঠালেন। শায়খ আহমদ ছিলেন ইসলামী আন্দোলনের এক অকুতভয় কর্মী পুরুষ।

জাহাঙ্গীরের দরবারে এ রেওয়াজ ছিলো যে, কোন ব্যক্তি দরবারে আগমণ করলে প্রথমে বাদশাহকে কুর্ণিশ করতে হত। বাদশাহ আশা করেছিলেন শয়খ আহমদ তাই করবেন। কিন্তু তিনি দরবারে প্রবেশ করে ইসলামী বিধান অনুসারে সালাম করলেন।


বাদশাহ রাগান্বিত হয়ে জিজ্ঞাসা করলো, 'আপনার সাহস তো কম নয়। আপনি কেন দরবারের বিধি লংঘন করলেন? কেন সম্মানসূচক কুর্ণিশ করলেন না?'

জবাবে শায়খ আহমদ সরহিন্দী বললেন, 'হে সম্রাট! যে মস্তক প্রত্যহ কমপক্ষে পাঁচবার সম্রাটের সম্রাট রাব্বুল আ'লামীনের সামনে নত হয়, সে মাথা দুনিয়ার কোন মানুষের সামনে নত হতে পারেনা, তিনি যত বড় শক্তিধরই হোন না কেন।'


আঁধার রাতের মুসাফির -(নসীম হিযাজী)

: 'চাচীজান', বই খুলতে খুলতে বলল আতেকা। 'বইয়ের জন্য সাঈদের ঘরে গিয়েছিলাম। ভেবেছিলাম তারাতারি-ই ফিরে আসবো। কিন্তু জোবাইদার সাথে কথা বলতে বলতে দেরী হয়ে গেলো। এখনো গ্রানাডা থেকে সাঈদ ফিরে আসেনি। মনসুর খুব চিন্তা করছে। জাফর এবং জোবাইদাও দারুন পেরেশান। জাফর বলল, সন্ধ্যা পর্যন্ত ফিরে না এলে তাকে খুঁজতে সে নিজেই গ্রানাডা যাবে। ওর ভয় হচ্ছে, গোয়েন্দারা তাঁকেও আবার খৃষ্টানদের হাতে তুলে না দেয়।'

স্টোরী অব বাংলাদেশ (১৯৭১ নিয়ে ৬ টা বই)

আলবদর নেতার জবানী : জামাত-আ'লীগ এর সমালোচনা : মুক্তিযুদ্ধ ও তার পরবর্তী সাড়ে ৩ বছরের অজ্ঞাত ধোঁয়াশাচ্ছন্ন ইতিহাস


আমি আলবদর ছিলাম। একাত্তরের সিদ্ধান্ত আমার নিজস্ব। আমার বিবেকের সাথে পরামর্শ করে এ সিদ্ধান্ত আমি নিয়েছিলাম। কোন দল কোন গোষ্ঠী অথবা কোনব্যক্তি এ সিদ্ধান্ত আমার ওপর চাপিয়ে দেয়নি। আবেগ দ্বারা তাড়িত হয়ে অথবা কোন কিছুতে প্রলুব্ধ হয়ে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম একথা সত্য নয়। বন্দুকের নলেরমুখে এ সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছি তাও নয়। ২শ’ বছরের গোলামীর ইতিহাস, সমসাময়িক হিন্দু চক্রান্ত, ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগের অতীত কার্যকলাপ, তথাকথিত সমাজতন্ত্রীদের দুরভিসন্ধি সব মিলে ২৫ শে মার্চের পর আমার বিবেকে একটা ঝড়ো হাওয়া বইতে থাকে। আমার তারুণ্যকে পরিস্থিতির সুলভ শিকারে পরিণত হতে মন সায় দেয়নি। বার বার মনকে প্রশ্নক রেছি: এদেশে ইট কাঠ দালানগুলো ও অন্যান্য জড় পদার্থের মত আমি নীরবদর্শক হয়ে বোবার মত দাঁড়িয়ে থাকব? এই আত্মঘাতী ষড়যন্ত্রের শেষ কোথায়? যে হিন্দুস্তান তার নিজের দেশে হাজার হাজার সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার সৃষ্টি করে মুসলমানদের নিধন করছে, সেই ভারত কী স্বার্থে পূর্ব-পাকিস্তানের আট কোটিমুসলমানদের জন্য দরদে উচ্ছসিত হয়ে উঠল?

সবিস্তার সূচীপত্র
টেম্পলেট কাষ্টমাইজেশন - তরঙ্গ ইসলাম | তরঙ্গ ইসলাম