আমাদের মাননীয়া প্রধানমন্ত্রী কয়েকদিন আগে সংসদে বলেছিলেন হেফাজত কর্মীরা রাত্রে গায়ে রং মেখে শুয়ে ছিলেন ..আজকে আবার তত্বাবধায়ক সরকারের সময় ধোলাই খাওয়া আওয়ামী নেতা শেখ সেলিম বলেছেন হেফাজতের উপর হামলায় কোনো খুনের ঘটনা ঘটেনি .....যদি কেউ খুনের কিছু দেখাতে পারে তাহলে তিনি রাজনীতি ছেড়ে দিবেন ...আমার এই পোস্ট মূলত ওই রাত্রে কি ঘটেছিল, বিভিন্ন মাধ্যমে পাওয়া ভিডিও ফুটেজের সংকলন বা আর্কাইভ বলতে পারেন । ৫ ই মে এর হত্যাকান্ডের পর কে কি বলেছিল মূলত থাকছে এই পোস্টে ..
১৫ আগষ্ট-১৯৬৯। ইসলামী শিক্ষাব্যবস্থার স্বপক্ষে বক্তব্য রাখায় নাস্তিক-কম্যুনিষ্ট আর ধর্মনিরপেক্ষবাদের সমর্থকদের স্বশস্ত্র আক্রমনে নিহত হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ রসায়ন বিভাগের সেরা ছাত্র শহীদ আব্দুল মালেক । এই দিনটিকে ইসলামী শিক্ষা দিবস হিসেবে পালন করা হয় ।
অসাধারণ মেধাবী আব্দুল মালেকের শিক্ষাজীবন ছিলো আলোকোজ্জ্বল_
স্টালিন নিজ দেশের ৩০ মিলিয়ন মানুষ হত্যা করেছে বিভিন্ন কারনে। তার মধ্যে ধর্ম-কর্ম বন্ধ করে এক সংস্কৃতি প্রতিষ্টার লক্ষ্যে সকল উপাসনালয় বন্ধ করে দিয়েছিলো। খৃষ্টান পাদ্রীদের জেলে পাঠিয়েছিলো। কিন্তু মুসলসানরা যে গনহত্যার শিকার হয়েছে - তা অনেকের জানা ছিলো না। এর কারন এই গনহত্যার পরপরই ২য় বিশ্বযুদ্ধ হয় - যেখানে বৃটেন-আমেরিকান রাশিয়ার মিত্রতে পরিনত হয়। সুতরাং জেনেশুনেও সবাই এই হত্যাযজ্ঞকে এড়িয়ে যায়।
২৪শে সেপ্টেম্বর সৌদি আরবে ছিল ঈদের দিন। দক্ষিণ দাম্মাম ইসলাম প্রচার অফিস থেকে আসা আমরা ৪৮ জন অবস্থান করছিলাম লোকাল হজ্জ এজেন্সি ‘আল রাজেহী’ এর তাবুতে। যার অবস্থান ছিল ৫২২/৯ মুজদালিফার শুরু এবং মিনার ঠিক শেষে, মিনার আল ওয়াদী হাসপাতালের বিপরীতে। সকাল পৌনে সাতটায় আমার কাফেলা নিয়ে বের হই জামারাতে কংকর নিক্ষেপের উদ্দেশ্যে। ৫২২ নং রোড ধরে জামারাতের অভিমূখে আমরা পায়ে হেঁটে চলতে থাকি। কিছুদুর যাওয়ার পর ৫১১ নং রোডে উঠি। এই সড়কটি দু’দিকে ভাগ হয়ে গেছে। ডান পাশের রাস্তাটি গিয়ে জামারাতের একটি প্রধান সড়ক (কিং ফাহাদ রোড) এর সাথে মিশেছে। আর বাম পাশের পথটিও জামারাতের আরেকটি প্রধান সড়কে গিয়ে সংযুক্ত হয়েছে। আমরা এই পথটি ধরেই অগ্রসর হয়েছি। কিছুদূর যাওয়ার পর সিড়ি বেয়ে জামারাতে যাওয়ার অন্যতম প্রধান সড়ক সূক আল আরব মহা সড়কে আমরা উঠি।
আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মুফাসসিরে কুরআন, সুদীর্ঘ অর্ধশতাব্দীকাল ধরে বাংলাদেশের প্রতিটি প্রান্তরে প্রান্তরে ও বিশ্বের অসংখ্য শহরে কুরআনের বানী প্রচারক, আল্লামা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদী সাহেবের অগণিত ওয়াজ ও বক্তব্য থেকে ইউটিউবে খুঁজে পাওয়া খুব সামান্য কয়েকটি ভিডিও একজায়গায় পোষ্ট করার টার্গেটে এই পাতাটি খোলা হলো। এর বাইরে পাঠকদের সংগ্রহে বা খোঁজে যেকোন ভিডিও বা অডিও থাকলে মন্তব্যের ঘরে লিঙ্কটি পোষ্ট করে দেবেন প্লিজ। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মুফাসসিরে কুরআন, সুদীর্ঘ অর্ধশতাব্দীকাল ধরে বাংলাদেশের প্রতিটি প্রান্তরে প্রান্তরে ও বিশ্বের অসংখ্য শহরে কুরআনের বানী প্রচারক, আল্লামা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদী সাহেবের অগণিত ওয়াজ ও বক্তব্য থেকে ইউটিউবে খুঁজে পাওয়া খুব সামান্য কয়েকটি ভিডিও একজায়গায় পোষ্ট করার টার্গেটে এই পাতাটি খোলা হলো। এর বাইরে পাঠকদের সংগ্রহে বা খোঁজে যেকোন ভিডিও বা অডিও থাকলে মন্তব্যের ঘরে লিঙ্কটি পোষ্ট করে দেবেন প্লিজ।...(আপডেট চলবে...)
ইউটিউব থেকে সহজে ডাউনলোড করতে হলে কিপভিড.কম ওয়েবে চলে যান এবং লিঙ্কটি ডাউনলোড বক্সে পেস্ট করে ডাউনলোড বাটন ক্লিক করুন। ব্রাউজার জাভা এনাবল করতে বলতে পারে, করে নিন।
“The Black-Horor & Comedy” লেখা পোস্টারে থাকলেও ফিল্মটা আসলে আগাগোড়াই রাজনৈতিক। বাংলাদেশে এর আগেও রাজনৈতিক ফিল্ম তৈরি হয়েছে, যেমন- জহির রায়হানের জীবন থেকে নেয়া (১৯৭০), আলমগীর কবীরের সীমানা পেরিয়ে (১৯৭৭), ১৯৭৩ সালে নির্মিত আলমগীর কুমকুমের আমার জন্মভূমি ও খান আতার আবার তোরা মানুষ হ ,মোহাম্মদ আলীর বাংলার ২৪ বছর ও কার হাসি কে হাসে ইত্যাদী।
পবিত্র কাবা শরীফ পরিস্কার করার জন্যে এর দরজা বছরে দুইবার খোলা হয়। রমজান এর ১৫ দিন আগে এবং হজ্জ এর ১৫ দিন আগে।
কাবা শরীফের দরজার চাবি বনী সায়বা নামক এক গোত্রের কাছে থাকে (মহানবী মুহাম্মদ (সাঃ) এই চাবী এই গোত্রের কাছে দিয়েছিলেন, যা কিয়ামতের আগ পর্যন্ত তাদের কাছেই থাকবে)। তারা কাবা শরীফ পরিস্কার করার কাজের জন্য বিভিন্ন মুসলিম দেশের প্রেসিডেন্ট, মন্ত্রী, কুটনীতিক ও গন্যমান্য ব্যক্তিদের দের অভিবাদন জানান। মক্কা শহরের গভর্নর তাদের কাবা শরীফের ভিতরে নিয়ে যান এবং তারা জমজম কুপের পানি এবং গোলাপ জল দিয়ে কাবা শরীফের ভিতর পরিস্কার করেন।
সচলায়তন ব্লগটি নাস্তিকদের অভয়ারন্য। সাথে রয়েছে কিছু 'প্রতিভাবান' আওয়ামীলীগার। শিক্ষানবিস নিকধারী জনৈক নাস্তিক একটি ইউটিউব ভিডিওর বাংলা অনুবাদ করে এখানে প্রকাশ করে। যেখানে দেখানো হয়েছে, ডা: যাকির নায়েক নাকি ভিডিও তে মিথ্যা কথা বলছেন। মূলত নাস্তিককুলের আতঙ্কের কারন ডা: জাকির নায়েকের আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ইসলামের দাওয়াত পদ্ধতি এবং অসাধারণ স্মরণশক্তি দিয়ে অনৈতিক অগ্রহণযোগ্য সকল মতবাদের মূলোচ্ছেদ পদ্ধতি। যা বাংলাদেশ সহ সারাবিশ্বের বিশেষ করে নতুন প্রজন্মকে দারুনভাবে আকৃষ্ট করেছে।
অন্যদের জন্য বাকি সব দিনের মত একটি সাধারন দিন হলেও ১৯৭৯ সালের ২০ নভেম্বর মুসলমানদের জন্য একটি ইতিহাস, অত্যন্ত বেদনাদায়ক একটি দিন। দিনটি ছিল ১৪০০ হিজরীর মহররম মাসের প্রথম দিন। প্রায় পঞ্চাশ হাজার মুসল্লির অংশগ্রহনে মুহাম্মাদ ইবনে সুবাইইল এর ঈমামতিতে পবিত্র হারাম শরীফে ফজরের নামাজ শেষ হয়েছে। অব্যবহিত পরেই হারাম শরীফের আকাশে বেশ কয়েকটি গুলির শব্দে উপস্থিত মুসল্লিবৃন্দ স্তম্ভিত। সামনের কাতারে কয়েকজন লোকের মধ্যে কিছুটা হৈ চৈ। তাদের মধ্যে থেকে হঠাৎ একজন লোক উঠে এসে ঈমাম মুহাম্মাদ ইবনে সুবাইইল এর কাছ থেকে মাইক্রোফোন নিয়ে নিল এবং একের পর এক বলতে শুরু করল সৌদী সরকারের দুর্নীতির নানা দিক। লোকটি রাসূল (স) এর ঈমাম মাহদীর আগমন সম্পর্কিত হাদীস উল্লেখ করে বলল, যখন সারাবিশ্ব অন্যায় এবং পাপ কর্মে পরিপূর্ণ হয়ে যাবে, তখন ঈমাম মাহদীর আগমন ঘটবে। লোকটি আরও ঘোষনা করল, এটাই সেই সময় যখন ঈমাম মাহদীর আগমনের ব্যাপারে রাসূল (স) ভবিষ্যৎবানী করেছিলেন। আর ঈমাম মাহদী আমাদের মাঝেই বর্তমান রয়েছে। অজ্ঞাত লোকটি ছিল জুহাইমান আল ওতাইবি।
মিশরবিজয়ী ইখওয়ানের জীবিত আধ্যাত্মিক নেতা ইউসুফ আল কারজাভি সম্প্রতি বাংলাদেশ সম্পর্কে বক্তব্য দিয়েছেন। বাংলাদেশ সরকারের গৃহীত নানারকম কর্মকান্ড সম্পর্কে হুশিয়ারী জানিয়েছেন এই জীবন্ত কিংবদন্তি।
আমার এই বক্তব্য সমাপ্ত করার আগে, বাংলাদেশে আমাদের ভাইদের সম্পর্কে কিছু কথা বলা আমার কর্তব্য। তারা আমাদের মুসলিম ভাই। একটা বিশাল মুসলিম দেশের অধিবাসী। আমাদের ভাইরা বাংলাদেশে আছে, আমাদের ভাইরা পাকিস্তানে আছে, এগুলো গুরুত্বপূর্ণ ও বড় দেশ যারা ভারত থেকে স্বাধীন হয়েছে। এ স্বাধীনতার উদ্দেশ্য ছিলো ইসলাম প্রতিষ্ঠা করা। একসময় এদুটি দেশের একসাথে নাম ছিলো পাকিস্তান; পশ্চিম পাকিস্তান ও পূর্ব পাকিস্তান। পূর্ব পাকিস্তান এরপর স্বাধীন হয়ে নতুন নাম ধারণ করে, বাংলাদেশ। এদেশে এমন সরকার ছিলো যারা ছিলো ইসলামের নিকটবর্তী, আবার কখনো এমনও সরকার এসেছে যারা ইসলাম থেকে অনেক দূরে। দু:খনজকভাবে, ইসলাম থেকে দূরবর্তী সরকারগুলো সাধারণ মানুষকেও ইসলাম থেকে দূরে সরানোর চেষ্টা করছে।
এটি মুসলিম জাতি, এ জাতি ইসলাম ছাড়া অন্য কিছু চায় না, যখন তারা ভারতবর্ষ থেকে আলাদা হয়েছিলো, তারা নিজেদের ইসলামী পরিচয় প্রতিষ্ঠা করার জন্যই স্বাধীন হয়েছিলো। অথচ আওয়ামী লীগের সরকার এই জনগণকে ইসলাম থেকে, ইসলামী শরীয়াত থেকে, মুহাম্মদ সা: এর প্রদর্শিত বিধান থেকে, আল কুরআনের বিধান থেকে দূরে নিয়ে যাওয়ার সব চেষ্টা করছে। এই দল জনগণকে, মুসলিম উম্মাতকে ইসলামের সরল পথ থেকে, সঠিক পথ থেকে সরিয়ে নিতে চায়। অথচ এই সত্যের দিকে আল্লাহই মানবজাতিকে পথনির্দেশনা দিয়েছেন। এই দল চায় বাংলাদেশকে আরব বিশ্ব থেকে পৃথক করে আন্তর্জাতিক জাতিগত নিসঙ্গতা তৈরী করতে, এবং এমন সব বিষয় তাদের সমাজে চালু করতে যা থেকে আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে নিষেধ করেছেন। আমরা ঐসব নির্যাতিত মানুষদেরকে বলবো, হে জাতি, তোমরা অবিচল থাকো। মুসলিম উম্মাহ কখনোই তোমাদের থেকে দূরে না। তারা তোমাদেরকে আপন মনে করে। তোমরা মুসলিম উম্মাহর অংশ, এবং মুসলিম উম্মাহ তোমাদের মতো মানুষদের মাধ্যমেই গঠিত, এই উম্মাহ থেকে দূরে সরে যাওয়া বৈধ না। এই সরকারের জন্য জায়েয না ঐদেশের মুসলিম জাতিকে ইসলাম থেকে দূরে সরিয়ে নেয়া। বরং ইসলাম হলো তোমাদের প্রাণশক্তি, জীবনের মূল কথা। ইসলাম হলো উম্মাহর জীবনশক্তি। এই দ্বীন ছাড়া উম্মাহর কোন জীবন নেই।
দেশে বিদেশে বিভিন্ন জায়গায় অধ্যাপক গোলাম আযমের গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। প্রচারিত হয় বিভিন্ন খবর। নেতার্দের বিভিন্ন বক্তব্য। আর এই সব নিয়েই এই পোস্ট।
ইশার নামাযের পর বাংলাদেশের ইসলামী আন্দোলনের প্রাণপুরুষ, ডাকসুর সাবেক জি এস, ভাষা সৈনিক, সাবেক আমীরে জামায়াত অধ্যাপক গোলাম আযম স্যারের গায়েবানা জানাজা পবিত্র মসজিদে নববীতে দেশ-বিদেশের হাজার হাজার হাজী, ওলামায়ে কেরাম, জামায়াতে ইসলামী, বিএনপি সহ বিশ দলীয় জোটের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে পর পর তিনটি জামাতে সম্পন্ন হয়
An Islamic history of Europe : full Documentary (BBC)
১ ঘন্টা ২৮ মিনিট
যখন মুর (মুসলিম) ইউরোপ শাসন করতো
গ্রীক আর রোমান সভ্যতার পতন যখন ঘটলো পঞ্চম শতাব্দীতে, তারপর পাশ্চাত্যে বা ইউরোপে এক ধরনের অন্ধকার রাজত্ব বিরাজ করছিলো যাকে বলা হয় ডার্ক এজ। তখন সেখানে ছিল বার্বেরিয়ানদের রাজত্ব। ইউরোপকে এই অন্ধকার যুগ থেকে আলোর পথে কারা নিয়ে এসেছিলো? এই ইতিহাস আধুনিক পাশ্চাত্যের ইতিহাস শিক্ষায় অনেক দিন ধরে লুকিয়ে অথবা সরিয়ে রাখা হয়েছিল। কিন্তু এখন তা বেড়িয়ে আসছে আস্তে আস্তে। ইউরোপ বা পাশ্চাত্য সভ্যতা উত্থানের পিছনে রয়েছে আল-আন্দালুসের মুসলিমরা।
ইসলামের যখন গোড়া পত্তন ঘটলো আরব দেশে ষষ্ঠ শতাব্দীতে, তারপর থেকে মুসলমানরা ছড়িয়ে পড়লো এবং তারা প্রথমে উত্তর আফ্রিকায় অভিযান চালিয়ে চালিয়ে স্পেনের কাছে চলে আসলো। স্পেনে তখন বার্বেরিয়ান ভিজিগোথদের রাজত্ব। মুসলমানরা স্পেন এর একটা বিশাল অংশ দখল করে নিল এবং সেটার নামকরণ হলো আল-আন্দালুস বা বর্বরদের দেশ। সেটা ৭১১ সালে।
এই মুসলিমরা জ্ঞান বিজ্ঞানের, শিল্প সাহিত্যের অনুরাগী ছিল। আর ইসলাম ধর্ম হিসেবে জ্ঞান আহরণকে সবসময় উৎসাহ দিয়ে এসেছে। তখনকার যুগের জ্ঞান বিজ্ঞান মূলত গ্রীক আর রোমান সভ্যতা লদ্ধ জ্ঞান। মুসলিমরা এই জ্ঞান খুব দ্রুত করায়ত্ত করে ফেললো। অন্যদিকে সেই যুগের খ্রীষ্টানরা গ্রীক আর রোমান সভ্যতা বর্জন করে চলতো কারণ তাদের ধর্ম গ্রীক দেব-দেবীকে সমর্থন করতো না। তাই আমরা অষ্টম শতাব্দীতে দেখি আমরা আধুনিক মুসলিম আর গোঁড়া খ্রীষ্টানকে। ফলাফল যা হবার তাই, আজকের পুরো উলটো। মুসলিমরা জ্ঞান বিজ্ঞান, শৌর্যে-বীর্যে এগিয়ে গেল আর খ্রীষ্টানরা পড়ে রইলো অন্ধকার যুগে।
গ্রীক-রোমান সভ্যতা লদ্ধ জ্ঞান কৃষিকাজ, সেচকাজ, আস্ট্রোনমি, আস্ট্রোলজি ইত্যাদিতে কাজে লাগিয়ে আল-আন্দালুসের মুসলিমরা একেবারে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা শুরু করলো। যার ফলে কৃষিতে বাম্পার ফলন ঘটতো। প্রচুর খাদ্যের সম্ভার থাকায় অন্যান্য দিকেও সমৃদ্ধি ঘটতে লাগলো। তাই দেখা যেতো স্পেনের কর্ডোবাতে যখন স্ট্রীট ল্যাম্প ছিলো, সুরম্য অট্টালিকা এবং রানিং ওয়াটার ছিলো তখন লন্ডন, প্যারিস এই সব শহরগুলোতে লোকজন বলতে গেলে কুড়েঁ ঘরে বাস করছে।
স্পেনের কর্ডোবা, টলেডো, গ্রেনাডা এই শহরগুলো ছিলো এক একটি জ্ঞান বিজ্ঞানের সূতিকাগার। এখানে মুসলিম শাসকের রাজত্বে মুসলমান, ইহুদী আর খ্রীষ্টান স্কলাররা একসাথে হয়ে কাজ করতো। তাদের সবচেয়ে বড় অবদান যেটি সেটি হলো গ্রীক এবং রোমান যত জ্ঞানের আধার সেগুলো তারা ট্রান্সলেট করে নিয়ে আসছিল আরবী এবং অন্যান্য ইউরোপীয়ান ভাষায়। তারপর ব্রিটিশ পন্ডিত মাইকেল স্কট যখন স্পেনে আসলো তিনি এইগুলো ইংল্যান্ড, ফ্রান্স এবং ইউরোপের অন্যান্য জায়গায় ছড়িয়ে দিলেন। এই জ্ঞান-ভান্ডার পরে ইউরোপের রেঁনেসা জাগাতে সাহায্য করে যেটি ইউরোপ বা পাশ্চাত্যের জ্ঞান বিজ্ঞানে এগিয়ে আসতে বিরাট ভূমিকা রেখেছে।
তাই নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, আজকে পশ্চিমা বিশ্বের যে দাপট তার পিছনে ইউরোপের মুসলমানদের অবদান অনেক। এ থেকে আজকের মুসলিমদের শিক্ষণীয় হচ্ছে বোমা, অস্ত্র শস্ত্র, ভায়োলেন্স দিয়ে নিজেদের অধিকার বা আধিপত্য সবসময় বিস্তার করা যায় না। পাশ্চাত্য সভ্যতা আজকে পৃথিবী শাসন করছে কারণ জ্ঞান বিজ্ঞানের আধার এখন পশ্চিম মুখী। ভারত, চীন ধীরে ধীরে উঠে আসছে এই জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রসার ঘটিয়েই। তাই এই থেকে পৃথিবীর অতি রক্ষণশীল এবং জংগী মুসলিমদের শিক্ষা হলো যে পাশ্চাত্যের সবকিছুর প্রতি ঘৃণার প্রকাশ না ঘটিয়ে, আল-কায়েদা, হিজবুল তাহিরি বা লস্কর-ই-তৈয়িবার ট্রেনিং ক্যাম্প ছেড়ে দলে দলে স্কুল, কলেজ আর বিশ্ববিদ্যালয় অভিমুখে যাত্রা করুন। আপনি যখন জ্ঞান-বিজ্ঞানে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করবেন, সারা পৃথিবী আপনার শ্রেষ্ঠত্ব মেনে নিবে। সে আপনি মুসলিম, খ্রীষ্টান, হিন্দু, ইহুদী যাই হোন না কেন। সাতশ থেকে চোদ্দশ খ্রীষ্টাব্দ পর্যন্ত ইউরোপে মুসলিম রাজত্বের মূর্ত প্রতীক আল-আন্দালুসের অস্তিত্ব থেকে মুসলিমদের সবচেয়ে বড় শিক্ষা এটাই হতে পারে।
বাংলাদেশের ছোট্ট একটা গ্রাম। বাবা, মা, দাদি, ছোট্ট একটা ভাই আর এক বোনের সঙ্গে থাকে ও। মিঠু নামে ওর একটা পোষা টিয়ে পাখিও আছে। মায়ের কাজে সাহায্য করে।
ছোট ভাই রাজু স্কুলে যায়। কিন্তু ও যায় না। ওরও স্কুলে যেতে ইচ্ছে করে। এই ইচ্ছের কথা বাবাকে জানাতেই বাবা বললেন, 'তুমি মাইয়্যা মানুষ, তোমার ইস্কুলে যাওনের দরকার নাই।'
বাবার কথায় মা-ও সায় দেন। কী আর করা! স্কুলে যখন যাওয়া হচ্ছেই না, তখন একটা বুদ্ধি করে ও। ছোট ভাই রাজুর সঙ্গে মিঠুকে স্কুলে পাঠায়। মিঠু স্কুল থেকে শিখে এসে ওকে শেখায়। এভাবে একসময় গুনতেও শিখে যায়। একদিন গুনতে গুনতেই ও বুঝে ফেলে, ওদের মুরগি চুরি হচ্ছে। ওর বুদ্ধি আর শেখার গুণে ধরা পড়ে চোর। শেষে মা-বাবা লেখাপড়ার গুরুত্ব বুঝতে পারেন। ও স্কুলে যেতে শুরু করে।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদনে দেখা যায়, বিরোধী দলের ডাকা হরতালের সময় র্যাব ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নির্যাতন এবং বিনা ওয়ারেন্টে বিরোধী দলের কর্মীদের আটক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সহনশীলতার প্রয়োজনীয়তা ম্লান করে দিয়েছে। কারণ কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়াই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিরোধী দলের সহস্রাধিক নেতাকর্মীকে কারাগারে আটকে রেখেছে। সাধারণ নাগরিক ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এসব কর্মকাণ্ড নিয়ে খুব উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ছে। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধ হয়নি। যদিও বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধের প্রতিজ্ঞা করেছিলেন এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধের ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়ার কথা বলেছিলেন। কিন্তু বাস্তবে এ বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধে সরকার কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি । (বিস্তারিত)
বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের সোনালি ইতিহাস ছাত্রদের আন্দোলনের কাছে অসাধারণ ঋণী। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে স্বাধীনতার পরে ছাত্ররাজনীতির কোনো স্বচ্ছ এবং গঠনমূলক ধারা গড়ে উঠেনি আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। দলীয় রাজনীতি আর আধিপত্য প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো পরিণত হয়েছে বারবার যুদ্ধক্ষেত্রে। এর সাথে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, ভর্তিবাণিজ্য এসব তো আছেই। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের সংঘর্ষে ছাত্রছাত্রী নিহত হওয়ার ঘটনা সারা পৃথিবীতে বিরল হলেও বাংলাদেশে প্রায় নিত্য নৈমিত্যিক ঘটনা।
যেখান থেকে বেরিয়ে আসবে সৎ, দক্ষ ও দেশপ্রেমিক নাগরিক; যাদের ছোঁয়ায় সমৃদ্ধির উচ্চশিখরে আরোহণ করবে বাংলাদেশ, আজ সেখানে কলমের পরিবর্তে অস্ত্র দেখা যায়। বই-খাতার বদলে হাতে হাতে শোভা পায় মদ-গাঁজা ও ফেন্সিডিলের নীল ছোবল। মেধার লড়াইয়ের পরিবর্তে আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ে সর্বশক্তি ব্যয় করতে দেখা যায় বিদ্যাপীঠের বিদ্যার্থীদের। পিতা-মাতার স্বপ্ন খুন হয়ে কফিন হয়ে দরজায় কড়া নাড়তে দেখা যায়।
২০০৮-এর ২৯ ডিসেম্বরে একটি প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনের মাধ্যমে অগণতান্ত্রিক সরকার পরিবর্তিত হয়ে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করে। দেশের মানুষ গণতন্ত্র ফিরে পাওয়ার প্রত্যাশায় আশান্বিত হয়ে ওঠেন। ছাত্ররা শিক্ষার অন্বেষায় প্রিয় ক্যাম্পাসে ছুটে আসে। কিন্তু হায়! ক্যাম্পাসে এসে দেখে প্রিয় প্রতিষ্ঠান নেকড়ের আঁখড়ায় পরিণত হয়েছে। কোথাও শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নেই। নেই জীবনের নিরাপত্তা। প্রতিদিন সংবাদ হয়ে ছড়িয়ে পরে অসংখ্য ঘটনা। যে ঘটনাগুলোর জন্ম দেয় ক্ষমতাশীন দলের ছাত্রসংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ।
বাংলাদেশ ছাত্রলীগের দলীয় সংগীত ‘কাঁপিয়ে তুলবো সারা চরাচর কাঁপাবো দিগি¦দিক’। সত্যিই তাদের দলীয় সংগীতের মত আজ প্রতিটি জনপদ ছাত্রলীগের ভয়ে কাঁপছে। বন্ধ হয়ে যাচ্ছে একের পর এক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। লাশ হয়ে ফিরছে প্রিয় ভাই, আদরের সন্তান। সম্ভ্রম হারাচ্ছে বোন। অরক্ষিত হচ্ছে জীবনের নিরাপত্তা।
আজ ছাত্রলীগের সার্বিক কর্মকাণ্ড নিয়ে পর্যালোচনা করলে যে সত্যগুলো বেরিয়ে আসে তা সমগ্র জাতিকে ভাবিত করে। এভাবে চলতে থাকলে নিশ্চিত দেশ এক মহা সঙ্কটে পতিত হবে।
একটি ছাত্রসংগঠনের যে যে বৈশিষ্ট্য থাকা দরকার ছাত্রলীগের মাঝে তার অণুপরিমাণ বৈশিষ্ট্যও লক্ষ্য করা যায় না। ছাত্রলীগের নিয়মিত কাজের অংশ হিসেবে খুন, ধর্ষণ, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ, পতিতাবৃত্তি, অস্ত্রব্যবসা, আন্ডারওয়ার্ল্ড কানেকশন, মাদকব্যবসা, সিট ও ভর্তি বাণিজ্য, বিরোধী আদর্শের অনুসারীদের ছাত্রাবাস ও বাসাবাড়িতে হামলা, ভাঙ্চুর ও তা দখল, টেন্ডারবাজি, ছিনতাই, শিক্ষক লাঞ্ছনা, সাংবাদিক নির্যাতন, সংখ্যালঘু নির্যাতন, চুরিসহ মানবতাবিরোধী বৈশিষ্ট্যগুলো সকালের সূর্যের ন্যয় সত্য হয়ে বিকশিত হচ্ছে। সময় যত গড়াচ্ছে ছাত্রলীগের অপকর্মের রেকর্ডও তত বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাদের এই অপকর্মের কারণে দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে নিজেদের অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষে নিহত হয়..