ইসলামী আইন ও মানবরচিত আইন (শহীদ আবদুল কাদের আওদাহ)


;
আমি আপনাদের সামনে এমন একটি ক্ষুদ্র পুস্তিকা পেশ করছি যার ভিতরে আমি সংক্ষিপ্তরূপে শরীয়তের এমন সব বিধান লিপিবদ্ধ করেছি, যেগুলো জানা একজন শিক্ষিত ব্যক্তির জন্য একান্ত আবশ্যক। এর ভিতরে এমনি কতিপয় জাহিল লোকের শরীয়ত-পরিপন্থী উদ্ভট দাবীর থলিও খুলে দিয়েছি যাতে পরিস্কাররূপে বোঝা যাবে যে এই দাবীগুলোর নেই কোন যুক্তি, নেই কোন দলীল প্রমান। আমি আশা করি এ পুস্তিকা সেইসব বিপরীত ধ্যান ধারনা ও মতবাদ সংশোধন ও সংস্কার করে দিতে সক্ষম হবে, যা কতিপয় দর্শন-বিজ্ঞানে পারদর্শী ও শিক্ষিত লোকের মানসিকতায় সৃষ্টি হয়েছে। আর আমি এ আশাও পোষণ করছি যে, আমাদের শ্রদ্ধেও 'উলামাএ ইসলাম' ইসলামী খিদমতের বর্তমান কর্মপদ্ধতিটিকে পরিবর্তন করে আধুনিক কর্মপদ্ধতি গ্রহণ করতে কুন্ঠিত হবেন না। - লেখক 

ইসলামী জাগরণের তিন পথিকৃৎ

বিংশ শতাব্দীতে ইসলামী জাগরণের জন্য যারা ভূমিকা পালন করেছেন তাদের মধ্যে শীর্ষস্থানীয় হচ্ছেন শায়খ হাসানুল বান্না (রহ), বাদীউজ্জামান নুরসী (রহ) ও সাইয়েদ আবুল আলা মওদূদী (রহ)। নাস্তিকতাবাদ, অংশীবাদ ও ধর্ম্নিরপেকক্ষতাবাদ-সৃষ্ট তাত্বিক বিভ্রান্তি দূরকরণে তারা মূল্যবান অবদান রেখেছেন। সৃষ্টি করেছেন ইসলামী জাগরণ।

ইউরো-আমেরিকান জীবন দর্শনে বিশ্বাসী শাসকগোষ্ঠী তাদেরকে স্বস্তিতে থাকতে দেয়নি। বারবার প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছে তাদের চলার পথে, বারবার তাদেরকে পাঠানো হয়েছে কারাগারে। আল্লাহর ওপর পরিপূর্ণ তাওয়াক্কুল রেখে, উচ্চমানের সবর অবলম্বন করে, নিয়মতান্ত্রিক পন্থায় তারা প্রতিটি বাঁধার মুকাবিলা করেছেন অকুতোভয় বীরের মত।

ইসলামী সমাজ বিপ্লবের ধারা

মানব জীবনের সকল ক্ষেত্রে ইসলামী বিধান প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়ে যারা নিয়োজিত তাদেরকে উদ্দেশ্য করে বইটি রচনা করা হয়েছে৷ ইসলামের সমতা বিধান, ইসলামের শান্তি প্রিয়তা, মানবতার মুক্তির মন্ত্র ও ইসলমের সার্বিক সৌন্দর্য মানুষের মাঝে তুলে ধরার জন্য তার অনুসারিদেরকে যে যোগ্যতা অর্জন করা আবশ্যক সে সম্পর্কে বইটিতে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেয়া হয়েছে৷ মানব রচিত মতবাদের অনুসারিরা শিক্ষা-আবিষ্কার সর্বদিক থেকে মুসলমানদেরকে ছাড়িয়ে গেছে৷ বস্তুবাদী দর্শন মানুষের মনে এমনভাবে গেঁথে গেছে যে ইসলামের সার্বিক সৌন্দর্য আর তাদের মাঝে শাশ্বত আবেদন জাগাতে পারছেনা৷

কারাগারের রাতদিন (ইখওয়ান)

১৯৩৬ সালে মিশরে প্রতিষ্ঠিত হয় ইসলামী মহিলা সংস্থা (মুসলিম উইমেন্স এসোসিয়েশন) । এটি একটি নিয়মতান্ত্রিক ইসলামী সংগঠন এবং জীবনের যাবতীয় সমস্যার সুষ্ঠু এবং স্থায়ী সমাধানের  লক্ষ্যে আল্লাহর দেয়া জীবন বিধান আল কুরআনকে পূর্ণরুপে বাস্তবায়ন করা এর লক্ষ্য। সংস্থাটি একটি স্বাধীন সংগঠন ছিলো!

এর কয়েকবছর পূর্বে ইমাম হাসানুল বান্না প্রতিষ্ঠা করেন ইখওয়ানুল মুসলেমিন বা মুসলিম ব্রাদারহুড! যেই অবিস্মরণীয় ইসলামি আন্দোলনটি আজ মিশর বিজয় করে পৃথিবীর দিকে দিকে অনেকগুলো দেশে ঢেউ তুলেছে।  ইসলামী মহিলা সংস্থা প্রতিষ্ঠার প্রায় মাস ছয়েক পরে এক সভায় ইমাম বান্না ইখওয়ানের একটি মহিলা সভায় বক্তব্য রাখছিলেন। জনাব বান্না এসময়ে ইখওয়ানের মহিলা মাখা খুলবার প্রথম উদ্বোগ নেন। জনাবা জয়নাব গাজালী ওই সভায় উপস্তিত ছিলেন। মুসলিম মহিলা সংস্থার নেতৃ জয়নাব গাজালীকে ইমাম বান্না ইখওয়ানের মহিলা শাখার দায়িত্ব নেবার দাওয়াত দেন। কিন্তু ইসলামী মহিলা সংস্থার শীর্ষ নেতৃদের পরামর্শ আনুযায়ী তারা ইখওয়ানের সাথে একাত্ম হতে অসম্মতি জানান তবে ইখওয়ানের যেকোন প্রোগ্রাম ও প্রয়োজনে সার্বিক সহযোগিতার অংগীকার করেন।


ফী-যিলালিল কুরআন (সাইয়্যেদ কুতুব শহীদ)

আল্লাহর হাজার শোকর, এক সুদীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এই শতকের ক্ষণজন্ম ইসলামী চিন্তানায়ক সাইয়েদ কুতুব শহীদ-এর বিশ্ববিখ্যাত তাফসীর ‘ফী যিলালিল কোরআন’ –এর বাংলা অনুবাদ প্রকাশিত হলো। ৫ বছরের চাইতে কিছুটা কম সময়ের ভেতরে আল্লাহ্ তায়ালা যুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ (সর্বমোট ২২ খন্ডে সমাপ্ত) এই তাফসীরের অনুবাদ প্রকাশনার কাজ শেষ করার যে তাওফীক আমাদের দান করেছেন তার জন্যে আমরা একান্ত বিনয়ের সাথে আল্লাহ্ তায়ালার কৃতজ্ঞতা জানাই। (প্রথম প্রকাশনা অনুষ্ঠান ৬ জানুয়ারী ৯৫ ও সমাপনী অনুষ্ঠান ১২ই মে ২০০০)


‘ফী যিলালিল কোরআন’ ও তার প্রণেতা সাইয়েদ কুতুব শহীদ-এর পরিচয় আজকের ইসলামী বিশ্বে নতুন করে দেয়ার অবকাশ নেই। আমরা শুধু এটুকুই বলতে পারি যে, ইসলাম প্রতিষ্ঠার মহান সংগ্রামে শহীদ কুতুবের নাম যেমনি চিরস্মরণীয় হয়ে আছে, তেমনি তাঁর রচিত তাফসীর ‘ফী যিলালিল কোরআন’ও অনন্তকাল ধরে কোরআন অনুধাবনের ক্ষেত্রে একটি ‘মাইলফলক’ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।

সাইয়্যেদ কুতুব শহীদ : জীবন ও কর্ম

সাইয়্যেদ কুতুব শহীদ, বিপ্লবী ইসলামী চিন্তাবিদ, প্রজ্ঞাবান লেখক ও বাস্তব
ময়দানে আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী মহান নেতা। আল্লাহর জমীনে আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করার যে অভূতপূর্ব দৃষ্টান্ত তিনি স্থাপন করে গেছেন তা ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের অনুপ্রাণিত করবে যুগের পর যুগ ধরে। ১৯০৬ সালে মিশরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। মিশরের অবিষ্মরণীয় বিজয়ী ইসলামী আন্দোলন ইখওয়ানুল মুসলেমিন বা মুসলিম ব্রাদারহুড এবং পৃথিবী বিখ্যাত তাফসিরগ্রন্থ ফী-যিলালীল কুরআনের রচয়িতা ও আন্দোলনে আপোষহীনতার কারনে জালিম রাষ্ট্রব্যবস্থা কর্তৃক ফাঁসিতে ঝুলে শহীদ হয়ে তিনি অমর হয়ে আছেন গত শতাব্দীর ইতিহাস থেকে। এই সাহসী নেতার জীবন ও কর্ম সম্পর্কে জানতে বইটি ডাউনলোড করুন। বইটির লেখক : আব্দুদ্দাইয়ান মুহাম্মদ ইউনুছ।

জয়নাব আল গাজালী (সংক্ষিপ্ত জীবনী)


জয়নাব আল গাজালী আল জুবাইলী। বিশ শতকের ইসলামী জাগরণে যারা ভূমিকা রাখেন তাদের মধ্যে একটি অন্যতম নাম। বিশ্বব্যাপী এ জাগরণের সম্ভবত সবচেয়ে বড় ঢেউটি তুলতে সক্ষম হন হাসান আল বান্না।  তিনি ছিলেন আল বান্নার মতই নির্ভীক, মৃত্যুকে হাসি মুখে বরণ করে নিতে প্রস্তুত। স্বৈর শাসকের রক্তচক্ষু, নিষ্ঠুর নির্যাতন অথবা অর্থ-ক্ষমতার লোভ কোন কিছুই তাকে তার পথ থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি। অল্প বয়সে তিনি যে আদর্শের পথে পা বাড়িয়েছেন মৃত্যু পর্যন্ত তিনি ছিলেন তার উপর পর্বতের মতই অবিচল। তার বক্তৃতা চুম্বকের মত মানুষকে আকৃষ্ট করত এবং তিনি হাজার হাজার মানুষকে বক্তৃতা দ্বারা প্রভাবিত করতে পারতেন। এমনকি জেলে চরম নির্যাতনের মুখে তার ক্ষুরধার সত্যভাষণে অত্যাচারীরা হতভম্ব হয়ে যেত, কখনও তারা হত ক্রোধে উন্মাতাল। শুধু সুবক্তাই নয়, তিনি ছিলেন সুপন্ডিত লেখিকা, একজন যোগ্য সংগঠক ও সমাজসেবীও বটে।

মুসলিম ব্রাদারহুডের জনপ্রিয়তার উৎসের খোঁজে এবং তাদের কিছু ইতিহাস!


 http://cdn.c.photoshelter.com/img-get/I0000OGxCJzxYSdk/s/750/750/girls-flags-tahrir.jpg
এক ভয়ংকর অন্ধকারে মুসলিম বিশ্ব, উসমানীয়/অটোমান খিলাফাত ধংসের পর বিশ্ব রাজনীতির স্টেজ হতে মুসলিমদের বিদায়। সোস্যালিজম, কম্যুনিজম, বাথিজমের মতো নিত্য নতুন মতবাদে মুসলিম যুবকরা ঝুঁকে পড়েছে। ওদের ইসলামের পথ দেখানোর কেউ নেই। জাতীয়তাবাদের ন্যারো ডিফিনেশানে মুসলিম বিশ্ব হয়ে পড়েছে খন্ড খন্ড। ঠিক সেই সময়ে ১৯২৯ সালে হাসানুল বান্না এসব দেখে ব্যাথিত হন। শুরু করেন মুসলিম ব্রাদারস, কার্যক্রম ছড়িয়ে পড়ে কায়রো হয়ে সমগ্র মিশরে।

হামীদা কুতুব : কুতুব পরিবারের শেষ তারকা

বিশ শতকে মুসলমানদের প্রথম পুনর্জাগরণে যারা নেতৃত্ব দিয়েছেন, যাদের চেষ্টা প্রচেষ্টায় ইসলামের ডিস্কোর্স গুলো আধুনিক মনস্কদের সামনে গ্রহনযোগ্য হয়ে উঠেছে, সাইয়েদ কুতুব এবং তার পরিবার ছিলো তাদের অন্যতম। কুতুব পরিবারের এই সদস্যরা সাধারণ দুনিয়াবী দৃষ্টিতে ছিল বোকা প্রকৃতির, কিন্তু আখিরাতের জন্য তারা ছিলেন অগ্রসেনানি। সাধারণদের দৃষ্টিতে এরা ছিলেন দৃশ্যতঃ তাদেরি একজন, কিন্ত ইসলাম বিরোধীদের দৃষ্টিতে এরা ছিলো মারাত্মক হুমকি। তবে যাদের অন্তরে ঈমানের বিকাশ আছে, তারা এই পরিবারকে ভালোবাসতে পারা সৌভাগ্যের নমূনা মনে করে। আজ সেই পরিবারের সর্বশেষ মানুষ হামিদা কুতুব আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। তিনি প্যারিসে ইন্তেকাল করেছেন গত ১৩ই জুলাই, ২০১২ মুতাবিক ২৩শে শাবান ১৪৩৩ শুক্রবার জুমার নামাজের আযান শুনতে শুনতে, আর ১৮ই জুলাই তার জানাযা নামাজান্তে পাঠানো হয় মিশরে। সেখানে আবু বাকর সিদ্দিক মাসজিদে দ্বিতীয়বার জানাযা হয়। এরপর কায়রোতেই তাকে দাফন করা হয়। মৃত্যুকালে তার বয়স ছিলো ৭৫ বছর।

বেলতাগীর চিঠি...

আমার প্রিয় মা আসমা !

তোমার মৃত্যুর পরেও আমি তোমাকে বিদায় জানাবোনা। তোমাকে শেষ বিদায় জানাবোনা কারণ তোমার সাথে বাবার আবার দেখা হবে। দেখা হবেই ভবিষ্যতে ইনশাল্লাহ। দেখা হবে জান্নাতে।

মা আমার, তুমি বেঁচে ছিলে তোমার শির উচু করে। সেই উচু শিরের নীচে চাপা পড়ে গিয়েছিলো স্বৈরতন্ত্রের ধারক বাহকেরা। তুমি ছিলে এক নীরব বিপ্লবী যে কিনা নতুন এক প্রভাতের স্বপ্ন দেখতো। তুমি স্বপ্ন দেখতে নতুন এক মিশরের যা কিনা ইসলামের উপর দাঁড়িয়ে থাকবে অনন্ত কাল ধরে।

টুয়েন্টি প্রিন্সিপল্স অব আন্ডারস্টান্ডিং - শহীদ বান্না

https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEhFqetFlQ1AJQWCHNgokY9V3F3wOmAvWe_KlAfusaikFSLT_n6OreJVkBBkbLuEiLd7Yftf6vVRh5i5CEHho2S6Zu9LUCTW99ZKsOipPpDPit6Bcr68R_MYGPJDxIxRjxBejR_MaW3p68ys/s400/hasan%252Bal%252Bbanna.jpg
The 20 Principles of Understanding
By: Imam Hassan Al-Banna (ডাউনলোড করুন )

Through what he called 'the twenty principles", Imam al-Banna called for a general covenant whose base is these twenty principles, which clearly draw the background needed for the Islamic starting point towards the revival.
In his book Nazarat fil Qur'an al Karim (Reflection on the Ever-honorable Qur'an) where these twenty principles appeared for the first time, Imam al-Banna said, "I spent much time thinking about the difference that may be called a scientific difference between Muslim organizations first in Egypt and secondly in countries throughout the Muslim world. I also spent much time seeking a way with which I could gather the Muslims' hearts around a supreme aim that would unify their souls and stimulate their activity, and that would be a foundation of the prospective revival. I wanted to display these principles - which are, Allah willing, in compliance with the truth - before Muslim thinkers, aiming that they would draw near the different viewpoints. I hope that they would contemplate them deeply, and if they would find them suitable to gather them Muslims' viewpoints together, we might take them as a basis..."

The twenty principles are introduced in an explicit, specific, and logical form. They actually contribute to setting a base for cooperation between all Muslims for the sake of the proposed revival. Imam al-Banna said about them,

প্রতিবিপ্লবের মুখে মিশরের বিপ্লব ও পাকিস্তান রাষ্ট্রের ইতিহাস থেকে শিক্ষা

http://www.ikhwanweb.com/uploads/flash/PA252A12MAG7PS9.jpg 

ষড়যন্ত্র প্রথম দিন থেকেই
কোন বিপ্লবই শত্রু-মুক্ত নয়। প্রতিটি বিপ্লবের পরই শুরু হয় প্রতিবিপ্লবের প্রবল প্রচেষ্টা। বিপ্লব ঘটে প্রতিষ্ঠিত একটি সরকারকে হটিয়ে। বিপ্লবের পর পরাজিত শক্তি ও তার দেশী-বিদেশী মিত্ররা কখনই নীরবে বসে থাকে না। কারণ, বিপ্লবের ফলে তাদের প্রতিষ্ঠিত কায়েমী স্বার্থ বিপদে পড়ে। ফলে সে স্বার্থ উদ্ধারের লক্ষ্যে প্রতিবিপ্লব শুরু হয় বিপ্লবের প্রথম দিনটি থেকেই। তাছাড়া যে স্বৈরাচারি হুসনে মোবারককে হটিয়ে মিশরে বিপ্লব সংঘটিত হলো সে ছিল ইসরাইল ও পাশ্চাত্যের অতি বিশ্বস্ত মিত্র। গাজায় যখন ইসরাইলী বাহিনী অতি বর্বর ভাবে ফিলিস্তিনীদের বিরুদ্ধে নিধনযজ্ঞ চালাচ্ছিল তখন সে হত্যাযজ্ঞ থেকে প্রাণ বাঁচাতে আসা ফিলিস্তিনীদের হুসনে মোবারক মিশরে ঢুকতে দেননি। মিশর সরকারের পক্ষ থেকে তারা কোনরূপ সহানুভূতিও পায়নি। তাঁর সে নির্মম আচরণটি পশ্চিমা মহলে সেদিন প্রচন্ড ভাবে প্রশংসিত হয়েছিল। তবে ইসরাইল ও পাশ্চাত্যের পক্ষে সে বর্বর খেলাটি হুসনী মোবারক সেদিন একা খেলেননি। তাঁর সাথে ছিল দেশের বিশাল প্রশাসন, সেনাবাহিনী, বিচারকবাহিনী, তাঁবেদার মিডিয়া ও হুসনে মুবারকের নিজ দলের বিশাল কর্মিবাহিনী। মুবারক আজ অপসারিত হয়েছে বটে তবে বাঁকিরা অক্ষত রয়ে গেছে। তাদের হাতে রয়ে গেছে বিপুল অর্থ ও সামরিক-বেসামরিক শক্তি। রয়ে গেছে দেশের বাইরে বিশাল বিদেশী মিত্ররাও। ফলে অভাব নেই সেদেশে প্রতিবিপ্লব ঘটাতে আগ্রহী হবে এমন লোকের।

মুসলিম ব্রাদারহুডের সিস্টারেরা, আকা মুসলিম সিস্টারহুড।

আমর(২৮) মধ্যের জন। তার বোনদের সাথে নতুন কায়রোতে। সে কায়রো স্কুল অফ ল হতে গ্রেজুয়েট, তবে কাজ করে না বর্তমানে তার ছেলের সাথে সময় কাটানের জন্যে। তার মতে, চাকরী করার চেয়ে একজন মায়ের রোলটাই তার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন। সে আট বছর আগে তার বিয়ের পরপরই মুসলিম ব্রাদারহুডে যোগ দেয়। তার মতে মুসলিম ব্রাদারহুড সম্পূর্ন ডেমোক্রেটিক, সে যদি পোগ্রামে যোগ নাও দেয়, তাহলে অন ্য আরেকজন এসে তার কাছ হতে জেনে নিয়ে যাবে তার মতামতটা কি।

শহীদ মাহমুদ রামাদান (Mahmoud Ramadan) -মিশর (ইখওয়ান)

গত ৫ মার্চ ২০১৫ ভোরে মাহমুদ রমাদান নামক মুরসী সমর্থক ফাঁসি কার্যকর করা হলো। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ হলো, তিনি মুরসীকে অপসারণ করা হলে, মুরসীর সমর্থনে ও সীসীর বিপক্ষে মিছিলে বেরিয়ে আসেন।

আলেকজান্দ্রিয়ার প্রধান সড়কে যখন মিছিল চলছিলো মাহমুদ এবং কয়েকজন তখন এক বিল্ডিং এ উঠে সেখান থেকে একজন ছোট ছেলে কে ছাদ থেকে ফেলে দিয়ে হত্যা করেন।

কিন্তু মাহমূদের স্ত্রী ডঃ লীন বলেনঃ এই অভিযোগ ছিলো চরম মিথ্যা। আমার স্বামী ইতিহাসের সবচেয়ে চরম মিডীয়া সন্ত্রাসের শিকার। মুরসীর সমর্থ হওয়ায় এবং মুখের লম্বা দাড়ি থাকায় তাকে সন্ত্রাসী হিসেবে দেখানোর জন্যই বিচারের নামে হত্যা করা হয়েছে।

মিশরের বিপ্লবে আসমা মাহফুজ ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রী সংস্হার ভূমিকা

পটভুমি :
দৈনিক নয়াদিগন্ত , ২৩ সেপ্টেম্ববর ২০১২, ২ য় পৃষ্ঠা ৭ম কলাম -এ এই খবরটি দেখে মন খারাপ হয়ে গেলো । না ! পরে ভাবলাম মন খারাপের কিছু নেই । কারণ খবরটির ভেতর দেওয়া মেয়েদের মধ্যেই বাংলাদেশের কোন আসমা মাহফুজ থাকতে পারে ।






সূচনা :
পশ্চিমা গণমাধ্যমে মুসলিম দেশের নারীদের অধিকার সম্পর্কে অনেক লেখালেখি হয়েছে । নারী মুক্তির জন্য পশ্চিমা শক্তি আফগানিস্তানের মতো মুসলিম দেশে সামরিক আগ্রাসন চালিয়েছে ।

পশ্চিমা বিশ্বের নারীবাদী আন্দোলনের আলোচনা :


পশ্চিমা বিশ্বের নারীবাদী আন্দোলন পরিচালনাকারী সংগঠণগুলোর মধ্যে মিশরের রাজনৈতিক পরিবর্তনের সাথে নারীদের জোড়ালো অংশগ্রহণের ব্যাপারটি আলোচনা হচ্ছে না । উপরন্তু মিডিয়াগুলো এ বিষয়ে গুরুত্ব না দেওয়ায় অনেকেই হয়ত জানেন না মিশরের গনতান্ত্রিক অন্দোলনে ২৬ বছর বয়সী, মিশরীয় আপু আসমা মাহফুজ সহ মেয়েদের অবদান কি ছিল ?

বাংলাদেশ সরকারের প্রতি ইউসুফ আল কারাযাভীর সতর্কবার্তা

মিশরবিজয়ী ইখওয়ানের জীবিত আধ্যাত্মিক নেতা ইউসুফ আল কারজাভি সম্প্রতি বাংলাদেশ সম্পর্কে বক্তব্য দিয়েছেন। বাংলাদেশ সরকারের গৃহীত নানারকম কর্মকান্ড সম্পর্কে হুশিয়ারী জানিয়েছেন এই জীবন্ত কিংবদন্তি।

ভিডিও

আমার এই বক্তব্য সমাপ্ত করার আগে, বাংলাদেশে আমাদের ভাইদের সম্পর্কে কিছু কথা বলা আমার কর্তব্য। তারা আমাদের মুসলিম ভাই। একটা বিশাল মুসলিম দেশের অধিবাসী। আমাদের ভাইরা বাংলাদেশে আছে, আমাদের ভাইরা পাকিস্তানে আছে, এগুলো গুরুত্বপূর্ণ ও বড় দেশ যারা ভারত থেকে স্বাধীন হয়েছে। এ স্বাধীনতার উদ্দেশ্য ছিলো ইসলাম প্রতিষ্ঠা করা। একসময় এদুটি দেশের একসাথে নাম ছিলো পাকিস্তান; পশ্চিম পাকিস্তান ও পূর্ব পাকিস্তান। পূর্ব পাকিস্তান এরপর স্বাধীন হয়ে নতুন নাম ধারণ করে, বাংলাদেশ। এদেশে এমন সরকার ছিলো যারা ছিলো ইসলামের নিকটবর্তী, আবার কখনো এমনও সরকার এসেছে যারা ইসলাম থেকে অনেক দূরে। দু:খনজকভাবে, ইসলাম থেকে দূরবর্তী সরকারগুলো সাধারণ মানুষকেও ইসলাম থেকে দূরে সরানোর চেষ্টা করছে। এটি মুসলিম জাতি, এ জাতি ইসলাম ছাড়া অন্য কিছু চায় না, যখন তারা ভারতবর্ষ থেকে আলাদা হয়েছিলো, তারা নিজেদের ইসলামী পরিচয় প্রতিষ্ঠা করার জন্যই স্বাধীন হয়েছিলো। অথচ আওয়ামী লীগের সরকার এই জনগণকে ইসলাম থেকে, ইসলামী শরীয়াত থেকে, মুহাম্মদ সা: এর প্রদর্শিত বিধান থেকে, আল কুরআনের বিধান থেকে দূরে নিয়ে যাওয়ার সব চেষ্টা করছে। এই দল জনগণকে, মুসলিম উম্মাতকে ইসলামের সরল পথ থেকে, সঠিক পথ থেকে সরিয়ে নিতে চায়। অথচ এই সত্যের দিকে আল্লাহই মানবজাতিকে পথনির্দেশনা দিয়েছেন। এই দল চায় বাংলাদেশকে আরব বিশ্ব থেকে পৃথক করে আন্তর্জাতিক জাতিগত নিসঙ্গতা তৈরী করতে, এবং এমন সব বিষয় তাদের সমাজে চালু করতে যা থেকে আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে নিষেধ করেছেন। আমরা ঐসব নির্যাতিত মানুষদেরকে বলবো, হে জাতি, তোমরা অবিচল থাকো। মুসলিম উম্মাহ কখনোই তোমাদের থেকে দূরে না। তারা তোমাদেরকে আপন মনে করে। তোমরা মুসলিম উম্মাহর অংশ, এবং মুসলিম উম্মাহ তোমাদের মতো মানুষদের মাধ্যমেই গঠিত, এই উম্মাহ থেকে দূরে সরে যাওয়া বৈধ না। এই সরকারের জন্য জায়েয না ঐদেশের মুসলিম জাতিকে ইসলাম থেকে দূরে সরিয়ে নেয়া। বরং ইসলাম হলো তোমাদের প্রাণশক্তি, জীবনের মূল কথা। ইসলাম হলো উম্মাহর জীবনশক্তি। এই দ্বীন ছাড়া উম্মাহর কোন জীবন নেই।
http://iranazaddotcom.files.wordpress.com/2012/02/karzavi.jpg?w=632


আমিনা কুতুব : এক বিপ্লবী রমণীর বেহেশতি মুখ

কে ছিলেন আমিনা কুতুবঃ
মিসরের ইসলামি পুনুর্জাগরণের অন্যতম পুরধা ছিল কুতুব পরিবার। এই পরিবারের বড় ভাই সাইয়েদ কুতুব ছিলেন ইখওয়ানুল মুসলিমূনের পথিকৃতদের একজন। জামাল আব্দুল নাসেরের হাতে তিনি নির্মম ভাবে শহীদ হয়েছেন। তার আরেক ভাই মুহাম্মাদ কুতুব এখনো জীবিত, এবং লেখার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। দুইবোন তাদের, হামিদা কুতুব এবং আমিনা কুতুব।

আমিনা কুতুব মিসরের আসিয়ূতের মুশা নামক গ্রামে জন্মগ্রহন করেন। তিনি ছিলেন পিতা কুতুব ইবরাহীমের সব চাইতে ছোট মেয়ে। ফলে কুতুব ইবরাহীম যখন ইন্তেকাল করেন, তার বয়স এতই কম ছিল যে, বাবার চেহারাটাও তার মনে পড়তোনা। বাবার ইন্তেকালের পর কুতুব পরিবার কায়রোতে চলে আসেন। এখানে মায়ের আদরে আর বড় দু'ভায়ের তত্বাবধানে বড় হতে থাকেন তিনি। একাডেমিক লেখা পড়া আমিনা কুতুবের তেমন একটা হয়নি, কারন স্কুলের চৌহদ্দিকে তিনি কারাগারের মত মনে করতেন। ফলে বাসায় বসেই তার পড়া লেখা চলতো। এ পরিবারের ঘরটা ছিল স্কুলের মতই। আশ-পাশের ছেলে মেয়েরা এই বাড়িতে আসত ইসলাম সম্পর্কে পড়ার জন্য। তাদের সাথে আমিনা কুতুব এক সুন্দর ইসলামি স্কুলে পড়া শুনা করতে লাগলেন। মায়ের কাছ থেকে পাওয়া ইসলামি জ্ঞান, দু'ভায়ের কাছ থেকে পাওয়া সাহিত্য ও কাব্য এবং আজন্ম অধ্যাবসায় তাকে মিসরের পরিচিত কবি ও গল্পকারের আসনে ঠাঁই করে দেয়। আরবি ভাষায় তার ছিল দারুন দক্ষ

সাইয়েদ কুতুব শহীদ (রহ.) -(দুর্লভ ভিডিও)

বিশ্ব ইসলামী আন্দোলনের অন্যতম প্রাণপুরুষ সাইয়েদ কুতুব শহীদ (রহ.)। সাইয়েদ কুতুব ১৯০৬ সালে মিসরের উস্ইউত জেলার মুশা গ্রামে কুতুব বংশে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম হাজী ইব্রাহীম কুতুব, মায়ের নাম ফাতিমা হোসাইন ওসমান। মা যেমন ছিলেন অত্যন্ত খোদাভীরু ও দ্বীনদার তেমনি তাঁর বাবাও ছিলেন অত্যন্ত ধর্মপরায়ণ ও সচ্চরিত্রবান। বাবা মায়ের পাঁচ সন্তান-সন্ততির মধ্যে সাইয়েদ কুতুব ছিলেন সবার বড়। সকল ভাইবোনই উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে ইসলামী জীবন প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে শরীক হয়ে কঠোর ঈমানী পরীক্ষার মুখোমুখি হয়ে গোটা বিশ্বের ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের প্রেরণার উৎস হয়ে রইলেন।

কারাগারে রাতদিন : ফটো


নতুন নেতৃত্বের অধীনে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে ব্রাদারহুড


২০১৩ সালের জুলাই মাসে ক্যু করে প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর মিশরের মসনদে বসেন জেনারেল আবদুল ফাত্তাহ আল সিসি। তার সরকারের অব্যাহত নিপীড়নে বিগত দুই বছর ধরে মুসলিম ব্রাদারহুডের ইতিহাসে অন্যতম কঠিন পরিস্থিতি মোকাবেলা করে আসছে সংগঠনটি।

সম্প্রতি প্রধান নেতাদের প্রায় সবাইকে মৃত্যুদণ্ডসহ বিভিন্ন মেয়োদে কারাদণ্ড দিয়ে জেলে পুরে রাখার প্রেক্ষিতে নতুন নেতৃত্বের অধীনে সংগঠনকে সাজিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে কাজ শুরু করেছে মিশরের সবচেয়ে জনপ্রিয় এই দলটি।

সবিস্তার সূচীপত্র
টেম্পলেট কাষ্টমাইজেশন - তরঙ্গ ইসলাম | তরঙ্গ ইসলাম