ইসলামী জাগরণের তিন পথিকৃৎ

বিংশ শতাব্দীতে ইসলামী জাগরণের জন্য যারা ভূমিকা পালন করেছেন তাদের মধ্যে শীর্ষস্থানীয় হচ্ছেন শায়খ হাসানুল বান্না (রহ), বাদীউজ্জামান নুরসী (রহ) ও সাইয়েদ আবুল আলা মওদূদী (রহ)। নাস্তিকতাবাদ, অংশীবাদ ও ধর্ম্নিরপেকক্ষতাবাদ-সৃষ্ট তাত্বিক বিভ্রান্তি দূরকরণে তারা মূল্যবান অবদান রেখেছেন। সৃষ্টি করেছেন ইসলামী জাগরণ।

ইউরো-আমেরিকান জীবন দর্শনে বিশ্বাসী শাসকগোষ্ঠী তাদেরকে স্বস্তিতে থাকতে দেয়নি। বারবার প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছে তাদের চলার পথে, বারবার তাদেরকে পাঠানো হয়েছে কারাগারে। আল্লাহর ওপর পরিপূর্ণ তাওয়াক্কুল রেখে, উচ্চমানের সবর অবলম্বন করে, নিয়মতান্ত্রিক পন্থায় তারা প্রতিটি বাঁধার মুকাবিলা করেছেন অকুতোভয় বীরের মত।

ইসলাম ও জিহাদ

জিহাদ একটি অবশ্য পালনীয় কর্তব্য : জিহাদ প্রত্যেক মুসলমানের জন্যে ওয়াজিব। আল্লাহর দৃষ্টিতে জিহাদের গুরুত্ব অপরিসীম। আল্লাহর দীনের যারা মুজাহিদ এবং যারা তাঁরই সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে নিজেদের প্রাণ বিলিয়ে দিয়ে শাহাদাত বরণ করেন তাঁদের জন্যে রয়েছে আল্লাহর পক্ষ থেকে অফুরন্তু পুরস্কার। তিনি তাদেরকে এমন সম্মান-সম্ভ্রম ও মর্যাদা দান করেছেন, যা আর কাউকে দান করেননি। শহীদানের পূত-পবিত্র রক্ত আল্লাহর হুজুরে বিজয় ও সাহায্যের নিদর্শন বই আর কিছু নয় এবং আল্লাহর দরবারে তাঁদের উচ্চ মর্যাদা ও সম্মানের এটিই হচ্ছে মৌল মাপকাঠি। জিহাদ ফি সাবিলিল্লায় যারা পিছ পা হয় আল্লাহর কাছে রয়েছে তাদের জন্যে ভয়াবহ পরিণাম এবং তারা অপমানিত ও ঘৃণিত। আল্লাহ কঠোরভাবে নিন্দা করেছেন জিহাদের ভয়ে ভীত কাপুরুষ মুসলমানদেরকে। দুনিয়াতে তাদের জন্যে রয়েছে লাঞ্ছনা, গঞ্জনা, অপমান, আর আখেরাতে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। এমনকি সোনার পাহাড়ের বিনিময়েও তারা এ শাস্তি থেকে রেহাই পাবে না। জিহাদ না করা আল্লাহর দৃষ্টিতে গুরুতর অপরাধ। কোনো জাতি না করা আল্লাহর দৃষ্টিতে গুরুতর অপরাধ। কোনো জাতি বা সম্প্রদায়ের জন্যে জিহাদ পরিত্যাগ করা মৃত্যুকে আলিঙ্গন করার শামিল।

সত্য ও ন্যায়ের জন্যে সংগ্রাম, প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগ এবং পারস্পরিক ঐক্য ও ভ্রাতৃত্বের ওপর ইসলাম সর্বাধিক গুরুত্ব আরোপ করেছে। দুনিয়ার অন্য কোনো ধর্ম বা মতবাদ এসব বিষয়ের ওপর এত বেশী জোর দেয়নি। এমনতর বিধি-ব্যবস্থা অতীতে বা বর্তমানে কোনো রাষ্ট্রীয় আইন-কানুন বা ধর্মে অনুসন্ধান করলে পাওয়া যাবে না। আল্লাহর কুরআন ও রাসূল (সা) এর হাদীস জিহাদের শিক্ষায় ভরপুর। ইসলাম আমাদেরকে জিহাদের আহ্বান জানায়, মুজাহিদ জীবন যাপনে উদ্বুদ্ধ করে এবং জিহাদের জন্যে প্রয়োজনীয় উপায়-উপকরণ ও অস্ত্র-শস্ত্র সংগ্রহের নির্দেশ দান করে।

বক্ষ্যমান প্রবন্ধে আমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সা) জিহাদ সম্পর্কে যে সমস্ত মূল্যবান হেদায়াত দিয়েছেন তা সংক্ষেপে আলোচনা করবো। এ প্রসঙ্গে উল্লেখিত কুরআনুল কারীমের পবিত্র আয়াত ও হুজুর (সা) এর হাদীসমসূহের বিস্তারিত ব্যাখ্যাদান আমাদের উদ্দেশ্যে নয়। কারণ এ সম্পর্কিত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বাণী অত্যন্ত সুস্পষ্ট, যুক্তিযুক্ত ও আধ্যাত্মিকতায় পরিপূর্ণ এবং তাতে কোনো ব্যাখ্যার অবকাশ নেই।

আল্লাহর পথে জিহাদ :

সকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহ তা’আলারই জন্যে, আল্লাহর অশেষ রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক তাঁর প্রিয় নবী, সরদারে মুজাহিদীন, ইমামুল মুত্তাকীন হযরত মুহাম্মাদ মোস্তফা (সা) এবং তাঁর আহলে বায়েত ও সম্মানিত সাহাবীগণের ওপর।



লেখক : শহীদ হাসানুল বান্না

পেইজভিউ

শহীদ হাসানুল বান্না

কর্মতৎপরতার স্বীকৃতি
সকালের এ্যাসেম্বলীর পর ছাত্ররা নিজ নিজ শ্রেণী কক্ষের দিকে যাওয়া শুরু করেছে। এ সময় হাসানুল বান্নাও প্রিন্সিপালের অফিসের পাশ দিয়ে যাচ্ছেন। প্রিন্সিপাল নিজের কক্ষের দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে অদ্ভূত ভঙ্গিতে হাসানুল বান্নার দিকে তাকিয়ে আছেন।

হাসানুল বান্নার দৃষ্টিও প্রিন্সিপাল আহমদ আবদুল হাদীর উপর পড়ে। হাসানুল বান্না প্রিন্সিপালের মনোভাব বুঝতে পেরে তার কাছে গিয়ে বলেন, আসসালামু আলাইকুম। শুভ সকাল প্রিন্সিপাল সাহেব। সালামের জবাব দিয়ে প্রিন্সিপাল সাহেব বলেন, ভালো আছেন তো? খবর ভালো তো? হাসানুল বান্না বলেন, জী না! মনের মধ্যে কিছু ভেজাল তো আছেই।

সবিস্তার সূচীপত্র
টেম্পলেট কাষ্টমাইজেশন - তরঙ্গ ইসলাম | তরঙ্গ ইসলাম