উপমহাদেশ - আল মাহমুদ

অন্ধকারে হঠাৎ গুলীর শব্দে নৌকাটা দুলে উঠল। যাত্রীরা উবুড় হয়ে পড়ল এ-ওর গায়ের ওপর। নৌকার পেটের ভেতর থেকে ময়লা পানির ঝাপটা এসে আমার মুখটা সম্পূর্ণ ভিজিয়ে দিল। সার্ট ও গেঞ্জির ভেতর ছলছলানো পানি ঢুকে ঝুলতে লাগল। আর ফোঁটা ফোঁটা চুঁইয়ে পড়তে লাগল পাটাতনে। ততক্ষণে বুড়ো মাঝি ও তার ছোটো ছেলেটা বৈঠা গুটিয়ে নিয়ে পাটাতনে লম্বা হয়ে শুয়ে পড়েছে। কে একজন ছিটকে এসে আমাকে দুহাতে জড়িয়ে ধরে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠেছে। কান্না ও শরীরের ছোঁয়াতেই আমার বুঝতে বাকি রইল না, একটা মেয়ে আমাকে জড়িয়ে ধরে ফোঁপাচ্ছে। 

আমার অস্তিত্বের সমর্থন পেয়েই কিনা জানি না, মেয়েটার কান্না আরও শব্দ করে একটু রোদন বা বিলাপের মতো হয়ে উঠল। আর সাথে সাথেই আখাউড়ার দিক থেকে সারিবাঁধা পটকা ফাটানোর মতো গর্জন করে বইতে লাগল গুলীর শব্দ। সীসার বাতাস কেটে চলে যাওয়ার শিস উঠছে। 

তিনটি সেনা অভ্যুত্থান ও কিছু না বলা কথা

১৯৭৫ সালে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে সংঘটিত হয়েছিল তিন তিনটি ভয়াবহ সেনা-অভ্যুত্থান। তিনটি অভ্যুত্থানই যুগান্তকারী ঘটনা, শতাব্দীর অন্যতম ঐতিহাসিক ঘটনা, যেগুলোর মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক ও সামরিক পরিমন্ডলে ঘটে ব্যাপক উত্থান-পতন। এমনকি সরকার পরিবর্তনের মত অবিশ্বাস্য ঘটনাও ঘটে যায়।

সৌভাগ্যবশতঃ তিনটি ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানই অতি নিকট থেকে দেখার সুযোগ আমার হয়েছিলো। প্রায় প্রতিটি ঘটনার সাথে কমবেশী প্রত্যক্ষ অথবা পরোক্ষভাবে সংযুক্ত ছিলাম। অন্যরা যেখানে শুনে শুনে লিখেছেন, আমি সেখানে নিজে প্রত্যক্ষ করে লিখেছি। ইতিমধ্যে বেশকিছু লেখক অভ্যুত্থান ঘটনাগুলো না দেখেই শুধু শুনে শুনে রঙ-চং দিয়ে বিভিন্নভাবে অতিরঞ্জিত করে গল্পাকারে অলঙ্করণ করে লিখেছেন। এতে প্রকৃত তথ্য বিকৃত হয়েছে।

অরক্ষিত স্বাধীনতাই পরাধীনতা - মেজর জলিল

লেখক পরিচিতি :

পারিবারিক নাম মোহাম্মদ আবদুল জলিল। বরিশাল জেলার উজিরপুর থানায় জন্ম। পিতা জনাব আলী চৌধুরীর মৃত্যুর ৩মাস পরে উজিরপুর সদরেই অবস্থিত মামার বাড়ীতে জন্ম। শিশুকাল এবং কৈশোর মামদের পরম স্নেহেই কাটে। উজিরপুরের W.B. UNION INSTITUTION থেকে কৃতিত্বের সংগে ম্যাট্রিক পাস করেন। এ সময়ে ‘পথের কাঙাল’ এবং ‘রীতি’ নামক দু’খানা উপন্যাস রচনা করেন। পরে পান্ডুলিপি হারিয়ে ফেলেন। ১৯৬১ সনে ‘Y’ Cadet স্কীমের অধীনে পশ্চিম পাকিস্তানের ‘মারী হিলস’(রাওয়ালপিন্ডি জেলায়) ভর্তি হন। কৃতিত্বের সংগে ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষায় উত্তীন্ন হন। ১৯৬৩ সনে পাকিস্তানী মিলিটারী একাডেমী কাকুলে সামরিক বাহিনীর অফিসার কাম ট্রেনিং- এ যোগদান করেন। ১৯৬৫ সনের সেপ্টেম্বর মাসে কমিশন প্রাপ্ত হয়ে ১২ নং ক্যাভালরী রেজিমেন্ট (ট্যাঙক বাহিনী) যোগদান করে

আমার ফাঁসি চাই

৩রা মে ১৯৮৪ এর এক পড়ন্ত বিকেলে ধানমন্ডির বঙ্গবন্ধু ভবনে বসে গল্প করছেন বঙ্গবন্ধু কন্য জননেত্রী শেখ হাসিনা সহ কয়েকজন। গল্পে গল্পে ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ ও পাকিস্থানী সেনাবাহিনীর প্রসঙ্গ উঠলো। প্রসঙ্গ উঠলো ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যে দিয়ে গড়ে উঠা আমাদের সেনাবাহিনীর কথা।

জননেত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সম্পর্কে বললেন, এটা একটা সেনা বাহিনী হলো ? এটা একটা বর্বর, নরপিশাচ, উচ্ছৃংখল, লোভী, বেয়াদপ বাহিনী। এই বাহিনীর আনুগত্য নেই , শৃংখলা নেই , মানবিকতা নেই, নেই দেশ প্রেম। এটা একটা দেশদ্রোহী অসভ্য হায়েনার বাহিনী। তোমরা পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কথা বল। সারা বিশ্বে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মতো এতো ভদ্র, নম্র, সভ্য, বিনয়ী এ‌বং আনুগত্যশীল বাহিনী খঁজে পাওয়া যাবেনা। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মানবিকতা বোধের কোন তুলনাই চলেনা। কি অসম্ভব সভ্য আর নম্র তারা।

কালো পঁচিশের আগে ও পরে

 জাতীয় জীবনের একটা অতি গুরুত্বপূর্ণ সময় ১৯৭১ সাল। এক রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ের মাধ্যমে পাকিস্তান বিভক্ত হয়ে এ বছর স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের পত্তন হয়। জাতীয় ইতিহাসের অবিস্মরণীয় অধ্যায় এ মহা ঘটনা। এ মহা ঘটনার ইতিহাস আমি এখানে লিখিনি। সে এক বিরাট কাজ। আমি মাত্র দুটো প্রশ্নের উত্তর সন্ধান করতে চেষ্টা করেছি। প্রশ্ন দুটি হলো, কোন পটভূমিতে স্বাধীকার আন্দোলন রক্তক্ষয়ী স্বাধীনতাযুদ্ধে রূপান্তরিত হলো এবং জাতীয় জীবনের সে মহা ঘটনায় কেন জাতি একমত হয়ে এক কাতারে দাঁড়াতে পারেনি।

প্রশ্নদু'টির উত্তর সন্ধান করতে গিয়ে আমি যা লিখেছি, তা বিভিন্ন সংবাদপত্র ও গ্রন্থের বিবরণী এবং অনেক দায়িত্বশীল ব্যক্তির উক্তির সমাহার মাত্র। সেই সময়ের একজন কর্মজীবি সাংবাদিক হিসেবে যা দেখেছি, যা অনুভব করেছি, তাও আমাকে যথেষ্ট সাহায্য করেছে। মানুষ অবশ্যই ক্যামেরা নয়, মানুষ মানুষ ই। ইচ্ছা, আবেগ বিশিষ্ট সত্তা সে।

৩০ লাখের তেলেসমাত - জহুরী

আমাদের মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ লোক নিহত হয়েছে আর ২ লাখ নারী সতীত্ব হারিয়েছে - এই সংখ্যাদ্ব্য় বহুল আলোচিত; কিন্তু পরিকল্পিত অনুমানের দুষ্ট মগজ থেকে সৃষ্ট। সত্যকে মিথ্যা দিয়ে ঢেকে ফেলার এই প্রচেষ্টা দুঃখজনক। মুক্তিযুদ্ধের এতবড় গুরুত্বপূর্ণ একটি তথ্যকে সঠিকভাবে জানার ব্যাপারে যে অলসতা, তাকে জাতীয় লজ্জ্বা ছাড়া আর কি বলা যায়! আমি এই বইয়ে ধুম্রজাল থেকে সত্যকে উদ্ধারের আহবান জানিয়েছি এবং ভুলকে ভুল বলে প্রমাণের চেষ্টা করেছি। এ জন্য ৩০ লাখ সংখ্যাকে এক তেলেসমাত বলেছি।

স্টোরী অব বাংলাদেশ (১৯৭১ নিয়ে ৬ টা বই)

আলবদর নেতার জবানী : জামাত-আ'লীগ এর সমালোচনা : মুক্তিযুদ্ধ ও তার পরবর্তী সাড়ে ৩ বছরের অজ্ঞাত ধোঁয়াশাচ্ছন্ন ইতিহাস


আমি আলবদর ছিলাম। একাত্তরের সিদ্ধান্ত আমার নিজস্ব। আমার বিবেকের সাথে পরামর্শ করে এ সিদ্ধান্ত আমি নিয়েছিলাম। কোন দল কোন গোষ্ঠী অথবা কোনব্যক্তি এ সিদ্ধান্ত আমার ওপর চাপিয়ে দেয়নি। আবেগ দ্বারা তাড়িত হয়ে অথবা কোন কিছুতে প্রলুব্ধ হয়ে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম একথা সত্য নয়। বন্দুকের নলেরমুখে এ সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছি তাও নয়। ২শ’ বছরের গোলামীর ইতিহাস, সমসাময়িক হিন্দু চক্রান্ত, ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগের অতীত কার্যকলাপ, তথাকথিত সমাজতন্ত্রীদের দুরভিসন্ধি সব মিলে ২৫ শে মার্চের পর আমার বিবেকে একটা ঝড়ো হাওয়া বইতে থাকে। আমার তারুণ্যকে পরিস্থিতির সুলভ শিকারে পরিণত হতে মন সায় দেয়নি। বার বার মনকে প্রশ্নক রেছি: এদেশে ইট কাঠ দালানগুলো ও অন্যান্য জড় পদার্থের মত আমি নীরবদর্শক হয়ে বোবার মত দাঁড়িয়ে থাকব? এই আত্মঘাতী ষড়যন্ত্রের শেষ কোথায়? যে হিন্দুস্তান তার নিজের দেশে হাজার হাজার সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার সৃষ্টি করে মুসলমানদের নিধন করছে, সেই ভারত কী স্বার্থে পূর্ব-পাকিস্তানের আট কোটিমুসলমানদের জন্য দরদে উচ্ছসিত হয়ে উঠল?

ডেড রেকনিং : ৭১ এর বাংলাদেশ যুদ্ধের স্মৃতি (বাংলা অনুবাদ)

https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEi9TTLIkMlYqnZop_7eogHR_So1kYC_1evFE116nwPIBKDIxhnS66vRJgZ4Vw1xUTJHl1msyFDJLmSV2Agp_YMeUbdUuB4cumFK5tErB7LE9Qq3KPW7naM4yQf2alWM1XeS3pVwEjqDi0Q/s1600/Dead+Reckoning+@www.priyoboi.blogspot.com.jpg 
শর্মিলা বোস জন্মসূত্রে একজন বাঙালি হিন্দু। মুক্তিযুদ্ধের সময়ে কলকাতায় অবস্খান করে বাংলাদেশ থেকে প্রাণভয়ে ভারতে যাওয়া শরণার্থীদের দুর্দশা দেখেছেন। ১৯৪৭ সালের দেশ বিভাগের ফলে এবং ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশে হিন্দুরাই অধিক যাতনার শিকার হয়েছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও শর্মিলা বোস সম্প্রতি প্রকাশিত তার ‘ডেড রেকোনিং : মেমোরিজ অব দি ১৯৭১ বাংলাদেশ ওয়ার’ গ্রন্থে মুক্তিযুদ্ধকে ‘গৃহযুদ্ধ’ বলে উল্লেখ করে পাকিস্তানি সৈন্যদের ৩০ লাখ বাঙালি হত্যা ও দুই লক্ষাধিক মহিলাকে ধর্ষণের ঘটনাকে ‘অবাস্তব ও অতিরঞ্জিত’ বলে বর্ণনা করে স্বাধীনতার সপক্ষ শক্তির তীব্র সমালোচনা ও ভর্ৎসনার মুখোমুখি হয়েছেন। ১৯৭১ সালে শর্মিলা বোসের বয়স ছিল মাত্র ১২ বছর, তাই তিনি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের কী জানেন এবং তিনি কী করে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস লেখার ধৃষ্টতা দেখাতে পারেন, এমন প্রশ্নও তোলা হয়েছে। পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্খা আইএসআই’র কাছ থেকে অর্থ নিয়ে গ্রন্থটি রচনা করেছেন কি না, তাকে সরাসরি এমন প্রশ্নও করা হয়েছে গত ১৫ মার্চে যে দিন তিনি ওয়াশিংটন ডিসি’র উড্রো উইলসন সেন্টারে গ্রন্থটির আনুষ্ঠানিক প্রকাশনায় বক্তব্য রাখেন। বক্তব্যদানকারীদের মধ্যে বাংলাদেশে নিযুক্ত সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম বি মাইলামও ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে ৩৭.৫০ ডলার মূল্য দিয়ে যারা বইটি কিনে তার অটোগ্রাফ নেন, তার সমালোচনাকারীরা তাদের ’জামায়াতি’ বলে অভিহিত করেন।


ইসলাম-জাতীয়তাবাদ-বাংলাদেশ-পাকিস্তান-ভারত-মুক্তিযুদ্ধ-পলাশী-উপমহাদেশের সার্বিক স্বাধীনতা আন্দোলন

আপনি সম্ভবত জানেন, জামায়াত আজকাল মুক্তিযোদ্ধাদের সম্বর্ধনা দেয়, শিবির বিজয় র্যালী করে, জামায়াতের মুক্তিযোদ্ধা ফোরাম রয়েছে !!! এর মানে কিন্তু এটা না যে জামায়াত মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের দল হয়ে গিয়েছে । এর মানে হলো, জামায়াত মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে পাওয়া বাংলাদেশ রাষ্ট্রের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের পক্ষে এসে দাড়িয়েছে । যেটা তারা ৭১ এ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পরেও অনেকদিন পর্যন্ত করেনি ।

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় যে ইতিহাস শেখানো হয়, তার মূল ফোকাস থাকে ১৯৫২ থেকে শুরু করে । ভাবটা এমন আমাদের ইতিহাস ওই সময় থেকে শুরু । কিন্তু বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থা ও বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মকান্ড সম্পর্কে জানতে হলে এই ইতিহাসকে অনেক আগে থেকে খুব ভালোভাবে জানতে হবে ।  অন্তত ১৭৫৭ এর সীরাজুদ্দৌলার  পরাজয়ে মাধ্যমে স্বাধীনতা হারানোর পর থেকে কি কি হলো, তা জানাটা খুব ই জরুরী । আরো ভালো হয় যদি বখতিয়ার খিলজীর অভিযান থেকে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে সব ইতিহাস নিজে নিজে জেনে নেয়া যায় । তাহলে অনেক বিষয়েই আর কাউকে প্রশ্ন করা লাগবেনা ।

সবিস্তার সূচীপত্র
টেম্পলেট কাষ্টমাইজেশন - তরঙ্গ ইসলাম | তরঙ্গ ইসলাম