কালো পঁচিশের আগে ও পরে

 জাতীয় জীবনের একটা অতি গুরুত্বপূর্ণ সময় ১৯৭১ সাল। এক রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ের মাধ্যমে পাকিস্তান বিভক্ত হয়ে এ বছর স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের পত্তন হয়। জাতীয় ইতিহাসের অবিস্মরণীয় অধ্যায় এ মহা ঘটনা। এ মহা ঘটনার ইতিহাস আমি এখানে লিখিনি। সে এক বিরাট কাজ। আমি মাত্র দুটো প্রশ্নের উত্তর সন্ধান করতে চেষ্টা করেছি। প্রশ্ন দুটি হলো, কোন পটভূমিতে স্বাধীকার আন্দোলন রক্তক্ষয়ী স্বাধীনতাযুদ্ধে রূপান্তরিত হলো এবং জাতীয় জীবনের সে মহা ঘটনায় কেন জাতি একমত হয়ে এক কাতারে দাঁড়াতে পারেনি।

প্রশ্নদু'টির উত্তর সন্ধান করতে গিয়ে আমি যা লিখেছি, তা বিভিন্ন সংবাদপত্র ও গ্রন্থের বিবরণী এবং অনেক দায়িত্বশীল ব্যক্তির উক্তির সমাহার মাত্র। সেই সময়ের একজন কর্মজীবি সাংবাদিক হিসেবে যা দেখেছি, যা অনুভব করেছি, তাও আমাকে যথেষ্ট সাহায্য করেছে। মানুষ অবশ্যই ক্যামেরা নয়, মানুষ মানুষ ই। ইচ্ছা, আবেগ বিশিষ্ট সত্তা সে।

আমরা সেই সে জাতি

মুজাদ্দিদের মাথা মানুষ-সম্রাটের কাছে নত হলোনা : মোগল আমল। সম্রাট আকবরের ছেলে জাহাঙ্গীর তখন মোগল সাম্রাজ্যের প্রতাপশালী সম্রাট। একদা তিনি শায়খ আহমদ সরহিন্দীকে দরবারে ডেকে পাঠালেন। শায়খ আহমদ ছিলেন ইসলামী আন্দোলনের এক অকুতভয় কর্মী পুরুষ।

জাহাঙ্গীরের দরবারে এ রেওয়াজ ছিলো যে, কোন ব্যক্তি দরবারে আগমণ করলে প্রথমে বাদশাহকে কুর্ণিশ করতে হত। বাদশাহ আশা করেছিলেন শয়খ আহমদ তাই করবেন। কিন্তু তিনি দরবারে প্রবেশ করে ইসলামী বিধান অনুসারে সালাম করলেন।


বাদশাহ রাগান্বিত হয়ে জিজ্ঞাসা করলো, 'আপনার সাহস তো কম নয়। আপনি কেন দরবারের বিধি লংঘন করলেন? কেন সম্মানসূচক কুর্ণিশ করলেন না?'

জবাবে শায়খ আহমদ সরহিন্দী বললেন, 'হে সম্রাট! যে মস্তক প্রত্যহ কমপক্ষে পাঁচবার সম্রাটের সম্রাট রাব্বুল আ'লামীনের সামনে নত হয়, সে মাথা দুনিয়ার কোন মানুষের সামনে নত হতে পারেনা, তিনি যত বড় শক্তিধরই হোন না কেন।'


সাইমুম-সিরিজ

সাইমুম সিরিজটা আসলে আমি লিখেছি এমন একটা সময়ে, আসলে যখন আমি পরিকল্পনা করি ইসলামকে রাজনৈতিকভাবে আনতে হবে। তখন মনে করেছি কাজটা কঠিন হবে। এই জন্য আমি মনে একটা কিছু লিখতে চাই যাতে নতুন জেনারেশনের মধ্যে আমরা যে আলাদা জাতি, আমরা মুসলমান, আমাদের যে আলাদা পরিচয় আছে,- এই জিনিসটা যাতে করে তাদের মধ্যে সৃষ্টি হয় সেই বিষয়টাকে সামনে রেখে আমি সাইমুম সিরিজের পরিকল্পনা করি। এবং আমি চেষ্টা করেছি যে, এই সাজেশন সৃষ্টির জন্য যা যা করার দরকার, এই যেমন এর মধ্যে সবকিছুই আছে- রোমাঞ্চ আছে, হিস্ট্রি আছে, তারপর এখানে গোয়েন্দা উপন্যাসের সব উপাদানই আছে। কিন্তু এর মূল উদ্দেশ্য হলো সবাইকে একটা

সবিস্তার সূচীপত্র
টেম্পলেট কাষ্টমাইজেশন - তরঙ্গ ইসলাম | তরঙ্গ ইসলাম