হাদীস সঙ্কলণের ইতিহাস

ইসলামী জীবন বিধান দুইটি মৌল বুনিয়াদের উপর স্থাপিত। একটি কুরআন, অপরটি হাদীস। দু:খের বিষয় যে মুসলমানদের জীবনকে রাসূলে আকরাম সা: এর জীবন ও কর্মধারা হইতে বিচ্ছিন্ন করা ও ইসলামকে একটি নিষ্প্রাণ ও স্থবির ধর্মে পরিণত করার লক্ষ্যে হাদীসের প্রামাণিকতা ও বিশুদ্ধতা এবং ইহার সংকলন ও সংরক্ষণ সম্পর্কে একটা সন্দেহের ধূম্রজাল সৃষ্টির অপচেষ্টা চলিয়া আসিতেছে সূদীর্ঘকাল হইতে। এই সর্বনাশা চক্রান্তের মুকাবিলা করার লক্ষ্যেই এই ভূখন্ডের বিশিষ্ট হাদীস বিশেষজ্ঞ শায়খুল ইসলাম মুহাম্মাদ আবদুর রহীম ষাটের দশকের প্রথমভাগে এই গ্রন্থখানি প্রণয়ন করেন। প্রায় অর্ধযুগের ব্যাপক অধ্যয়ণ ও গবেষণার ফসল এই মূল্যবান গ্রন্থে হাদীসের সংকলন, লিপিবদ্ধকরণ ও সংরক্ষণ এবং হাদীস শাস্ত্রের ইতিহাস সম্পর্কে হাদীস বিরোধীদের সকল কূট-প্রশ্নের  তিনি বিস্তৃত ও পুঙ্খানুপুঙ্খ জওয়াব দিয়েছেন।

সুন্নত ও বিদয়াত


বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ সা: যে আদর্শ দুনিয়ার মানুষের সামনে উপস্থাপিত করেছেন, এক কথায় তা-ই হচ্ছে সুন্নাত এবং তার বিপরীত যা কিছু তা বিদয়াতের পর্যায়ে গণ্য। নবী করীম সা: তার তেইশ বছরের অবিশ্রান্ত সাধনা ও সংগ্রামের মাধ্যমে যে সমাজ গড়ে তুলেছিলেন তাকে তিনি মুক্ত করেছিলেন সর্বপ্রকারের বিদয়াত ও জাহিলিয়াতের অক্টোপাশ থেকে এবং প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন সুন্নতের আলোকোদ্ভাসিত মহান আদর্শের ওপর। বিশ্ব মানবতার পক্ষে এ ছিলো মহা সৌভাগ্যের ব্যাপার।

উত্তরকালে নানা কারনে মুসলিম সমাজ সুন্নাতের আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়ে, তাদের আকীদা ও আমলে প্রবেশ করে অসংখ্য বিদয়াত। এমন দিনও দেখা যায় যখন মুসলমানরা সুন্নত ও বিদয়াতের এক সংমিশ্রিত জগাখিচুরী বিধানকে-ই ইসলামী আদর্শ বলে মনে করতে এবং অনুসরন করতে শুরু করে। ফলে তাদের জীবনে আসে সার্বিক ভাংন ও বিপর্যয়। কিন্তু এ অবস্থা বাঞ্ছনীয় নয় মুসলমানদের জন্য। কারো পক্ষেই কাম্য হতে পারেনা এ আদর্শিক বিচ্যুতি। এ জন্য আজ নতুন করে লোকদের সামনে ইসলামী আদর্শবাদের ব্যাপক ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ অপরিহার্য্য যেন মুসলমানদের মনে চেতনা জেগে ওঠে। সুন্নাত ও বিদয়াতের মৌলিক ব্যাখ্যা ও আকিদা বিশ্বাসের কোথায় কোথায় সুন্নতের বিচ্যুতি ও বিদআতের অনুপ্রবেশ ঘটেছে তা ষ্পষ্ট করে তুলে ধরাই আমার এ গ্রন্থের মূল উদ্দেশ্য।

তাওহীদের ত্বত্ত্বকথা

শুরু কথা

তাওহীদ দ্বীন-ইসলাম মর্মবানী। ইসলামে বিশ্বাসী মানুষ মাত্রেরই মানস-লোকে তাহা ঝংকৃত হইয়া ওঠা একান্তই বাঞ্চনীয়। কিন্তু আমার পক্ষে আজ একথা অস্বীকার করিতে লজ্জা নাই যে, এতদ্দেশে প্রচলিত দ্বীনি মাদ্রাসার উচ্চ পর্যায় পর্যন্ত শিক্ষালাভ এবং পাঠ্যপুস্তক হিসাবে তাফসীর ও হাদীসের বিশুদ্ধতম গ্রন্থাবলী পাঠ করিয়াও তাওহীদের সঠিক ধারণা অন্তনির্হিত ভাবধারার সহিত বিন্দুমাত্রও পরিচিত হইতে পারি নাই। ইহার সহিত আমার সত্যিকার ভাবে প্রথম পরিচয় ঘটে ইসলামী আন্দোলনের দাওয়াতী পুস্তকাদীর সহিত পরিচিত হওয়ার মাধ্যমে। সে আজ হইতে দীর্ঘ বাইশ বছর পূর্বের কথা। যেদিন সেই সব পুস্তক গভীর মনোযোগ সহকারে পাঠ করিয়াছিলাম সেদিন তাওহীদের মর্ম বুঝিতে পারিয়াছিলাম, শুধু তাহাই নয়, ইহা মর্মে মর্মে উপলদ্ধি করাও আমার পক্ষে সম্ভব হইয়াছিল।

ইসলামী সমাজে মজুরের অধিকার

পূর্বকথা 

শ্রমিক-মালিক মানব সমাজের এক সুপ্রাচীন সমস্যা। যুগ যুগ ধরিয়া এই সমস্যাটি মানব সমাজকে নানাভাবে আলোড়িত করিয়াছে, অনাকাক্ষিতভাবে মেহনতী মানুষের রক্ত ঝরাইয়াছে। এমনকি, শ্রমিক-মালিক সম্পর্কে ভারসাম্য রক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (ILO) নামে একটি বিশ্বসংস্থা পর্যন্ত গঠন করা হইয়াছে। কিন্তু তৎসত্ত্বেও শ্রমিক-মালিক সমস্যার সুষ্ঠু সমাধান নিশ্চিত হইয়াছে, একথা কোনক্রমেই দাবি করা চলেনা। বরং এখনও দেশে দেশে শ্রমিক-মালিক সমস্যা একটি প্রকট সমস্যা রূপে বিরাজ করিতেছে, শ্রমজীবি মানুষের রক্তে অহরহ রাজপথ রঞ্জিত হইতেছে। বলাবাহুল্য যে, বাংলাদেশেও কম-বেশি একই পরিস্থিতি বিরাজ করিতেছে।

মূলত শ্রমিক-মালিক সমস্যাটিকে অধূনা বিবেচনা করা হইতেছে নেহায়েত একটি শ্রেণীগত সমস্যা হিসাবে, এখানে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিকে মোটেই গুরুত্ব দেওয়া হইতেছে না। ফলে শ্রমিক-মালিক উভয় পক্ষই বিষয়টিকে বিবেচনা করিতেছে নেহায়েত শ্রেণীস্বার্থের দৃষ্টিতে। কিন্তু আল্লাহর মনোনীত জীবন-বিধান ইসলাম সমগ্র বিষয়টিকে বিবেচনা করিয়াছে মানবিক ও ন্যায়নুগ দৃষ্টিতে। শ্রমিক ও মালিক কোন পক্ষকেই সে বড় কিংবা ছোট করিয়া দেখে নাই; বরং উভয় পক্ষের স্বার্থকেই সে রক্ষা করিয়াছে পরিপূর্ণ ন্যায়পরতার দৃষ্টিতে। প্রখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদ ও দার্শনিক হযরত মওলানা মুহাম্মদ আবদুর রহীম (রহ) এই বিষয়টিকেই অত্যন্ত চমৎকার রূপে তুলিয়া ধরিয়াছেন ইসলামী সমাজে মজুরের অধিকার নামক বর্তমান পুস্তিকায়।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, এই পুস্তিকাটি রচিত হইয়াছে দীর্ঘ প্রায় পঞ্চাশ বৎসর পূর্বে। তৎকালীন দুনিয়ার সামাজিক রাজনৈতিক ও অথনৈতিক পরিস্থিতির আলোকে। তারপর দুনিয়ার উপর দিয়া অনেক পানি গড়াইয়া গিয়াছে; কমিউনিস্ট বিশ্বের মানচিত্রে অনেক পরিবর্তন ঘটিয়াছে। উপমহাদেশে পাকিস্তান ভাঙিয়া বাংলাদেশ হইয়াছে। ইহার ফলে দুনিয়ার শ্রমিক আন্দোলনেও কিছু কিছু পরিবর্তনের ছাপ পড়িয়াচে। কিন্তু তৎসত্ত্বেও বর্তমান শ্রমিক-মালিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে তেমন কোন পরিবর্তন সূচিত হয় নাই। এই কারণেই বর্তমান পুস্তিকার সংশ্লিষ্ট অংশে আমরা কোন মৌলিক পরিবর্তন সাধনের প্রয়োজন বোধ করি নাই।

পুস্তিকার নিবন্ধসমূহ প্রথম প্রকাশিত হইয়াছিল পঞ্চাশের দশকের প্রথম ভাগে তৎকালীন দৈনিক আজাদসহ বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় এবং প্রায় একই সময়ে তাহা পুস্তকাকারেও আত্মপ্রকাশ করে। বিগত বৎসরগুলিতে ইহার অনেকগুলি সংস্করণ প্রকাশিত হয় এবং পাঠক সমাজেও তাহা ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে। পুস্তকটির বর্তমান সংস্করণও পাঠকদের নিকট ব্যাপকভাবে সমাদৃত হইবে বলিয়া আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।

মহান আল্লাহ পুস্তকটির লেখককে যথোচিত প্রতিফল দান করুন, ইহাই আমাদের সানুনয় প্রার্থনা
মুহাম্মদ হাবীবুর রহমান
চেয়ারম্যান
মওলানা আবদুর রহীম ফাউন্ডেশন
ঢাকা, ২৫ জানুয়ারি, ২০০৩
 

গ্রন্থকারের কথা

শ্রমিক ও মালিকের পারস্পরিক সমস্যা মানব সমাজের এক প্রাচীনতম ও জটিলতার সমস্যা। এই সমস্যার সমাধানের জন্য মানুষের চেষ্টার অন্ত নাই-এই উদ্দেশ্যে রচিত মতবাদেরও কোন অভাব নেই। কিন্তু কার্যত এই সমস্যার সুষ্ঠ সমাধানের জন্য কোন নির্ভূল নীতি আজ পর্যন্ত নির্ধারণ করা সম্ভব হয় নাই। মানুষ যত চেষ্টাই করিতেছে, সমস্যা ততই তীব্রতর ও জটিল হইয়া উঠিতেছে।

ইসলাম মানুষের জন্য আল্লাহর দেওয়া এক পরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্থা। ইহাতে মানুষের সকল প্রকার সমস্যার সুষ্ঠু সমাধানের মূলনীতি বর্তমান রহিয়াছে। দুনিয়ার সকল মানুষের-বিশেষত মুসলমানদের বাস্তব জীবনে তা অনুসরণ করা একান্তই কর্তব্য।

এই ভূখন্ডে শ্রমিক-মালিক দীর্ঘকাল হইতেই বিরাজ করিতেছে এবং ক্রমশই উহা জটিলতার হইয়া উঠিয়াছে। ইহার সুস্থু ও সমাঞ্জস্যপূর্ণ সমাধান একমাত্র ইসলামী আদর্শ অনুযায়ী সম্ভব। এই সম্পর্কে ইসলামের সমাধান জনগণের সম্মুখে পেশ করার বিশেষ প্রয়োজনীয়তা বোধ হওয়ায় এই পুস্তিকা প্রকাশ করা হইল। বিষয়টি বিশদভাবে আলোচনা সাপেক্ষ, তাহাতে সন্দেহ নাই। সে পথের দিকে ইঙ্গিত করাই এই পুস্তিকা লেখার উদ্দেশ্য।

শিক্ষিত সমাজ এই দিকে উৎসাহিত হইলে এবং দেশের মজুর-শ্রমিকগণ ইসলামের মূলনীতির ভিত্তিতে শ্রমিক সমস্যার সমাধানে যত্নবান হইলেই লেখকের শ্রম সার্থক হইবে।

------গ্রন্থাকার








আব্দুর রহিমের ৬ টি বই (জিহাদ,গণতন্ত্র,মজলুম মুসলমান)


বইটি ১৯৮৫ সনের ২৬ শে অক্টোবর ইসলামী ঐক্য আন্দোলনের কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণে প্রদত্ত ভাষণের লিখিত রূপ। লেখকের ভাষায়, এটি কোন ত্বাত্ত্বিক বক্তব্য সম্বলিত বই নয়, ওই সময়ের অবস্থার সাথে সাধারণভাবে এবং ইসলামী ঐক্য আন্দোলনের সাথে সম্পর্কিত লোকদের মানসিক জিজ্ঞাসার সাথে বিশেষভাবে বাস্তবভিত্তিক সম্পর্কিত। ওই সময়টা ছিলো একটা সশস্ত্র যুদ্ধসহ প্রায় চার দশকের সামরিক শাসনের যাতাকলে পিষ্ট একটা দেশের শতভাগ অস্থিতিশীল অবস্থা। এমন পরিস্থিতিতে লেখক বর্ণনা করেছেন, প্রচলিত অন্যান্য রাজনৈতিক দল ও ধারাগুলোর কর্মপদ্ধতি, দেশের বিভিন্ন সমস্যা ও সেসব সমস্যার প্রচলিত সমাধানের সাথে ইসলামী ঐক্য আন্দোলনের কর্মপদ্ধতি ও চিন্তাধারার পার্থক্য।

সবিস্তার সূচীপত্র
টেম্পলেট কাষ্টমাইজেশন - তরঙ্গ ইসলাম | তরঙ্গ ইসলাম