রাসূলুল্লাহর বিপ্লবী জীবন

পূর্ব-কথা:

বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা:)-এর পবিত্র জীবনচরিত পর্যালোচনা করলে এর দু’টি বৈশিষ্ট্য সবচেয়ে বেশি প্রতিভাত হয়ে উঠে। প্রথমত ,তার জীবনধারার অন্তর্নিহিত বৈপ্লবিক আদর্শ ।
-যার ছোঁয়ায় মানব জাতির সমাজ ও সভ্যতায় এসেছে বৈপ্লবিক রূপান্তর । দ্বিতীয়ত, সে আদর্শের সু্‌ষ্ঠু রূপায়নের জন্যে তার নির্দেশিত বৈপ্লবিক কর্মনীতি - যার সফল অনুস্মৃতির মাধ্যমে একটি অসভ্য ও উচ্ছৃঙ্খল জনগোষ্ঠী পেয়েছিল পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম সভ্যতা ও সংস্কৃতির শিরোপা।

দুঃখের বিষয় যে, আজকের মুসলিম মানস থেকে বিশ্বনবীর পবিত্র জীবনচরিতের এই মৌল বৈশিষ্ট্য দু’টি প্রায় লোপ পেতে বসেছে। আজকের মুসলমানরা বিশ্বনবীর জীবন আদর্শকে দেখছে খণ্ডিত রূপে ,নেহাত একজন সাধারণ ধর্মপ্রচারকের জীবন হিসেবে । এর ফলে তার জীবনচরিতের সমগ্র রূপটি তাদের চোখে ধরা পড়ছে না ; তার জীবন আদর্শের বৈপ্লবিক তাৎপর্য ও তারা উপলব্ধি করতে পারছে না। বস্তুত ,আজকের মুসলিম মানসের এই ব্যর্থতা ও দীনতার ফলেই আমরা বিশ্বনবীর পবিত্র জীবনচরিত থেকে আমাদের সমাজ ও রাষ্ট্রের কোন বৈপ্লবিক রুপান্তর ঘটানোর তাগিদ অনুভব করছি না ।

নবীদের সংগ্রামী জীবন

মহান আল্লাহ তায়ালা আল কুরআনে ২৫ জন নবী রাসূলের নাম উল্ল্যেখ করেছেন। তাদের অনেকের কথা বারবার উল্ল্যেখ করেছেন। তাদের আদর্শ ও সংগ্রামী জীবনের কথা উল্ল্যেখ করেছেন। তাদের আদর্শ অনুসরণের আহবান জানিয়েছেন। তাই নবীদের পথই আমাদের মুক্তির পথ।

আল কুরআনের আলোকে নবীগণের জীবনকথা ও জীবনাদর্শ লেখার বাসনা আমার অনেক দিনের। তবে সময় সুযোগের অভাব ছিলো। অবশেষে লেখার কাজে হাত দিলাম। কিশোর ও তরুনদের কথা সামনে রেখেই লেখার কাজ শুরু করেছি। 'কিশোর কণ্ঠ' পত্রিকায় লেখাগুলো প্রকাশও হয়ে আসছে। পুস্তক আকারে প্রকাশিত হলো।

বইটি তিন খন্ডে প্রকাশিত, প্রথম খন্ডে এগারোজন নবী রাসূলের জীবনী রয়েছে এখানে, তারা হলেন -

হাদীস সঙ্কলণের ইতিহাস

ইসলামী জীবন বিধান দুইটি মৌল বুনিয়াদের উপর স্থাপিত। একটি কুরআন, অপরটি হাদীস। দু:খের বিষয় যে মুসলমানদের জীবনকে রাসূলে আকরাম সা: এর জীবন ও কর্মধারা হইতে বিচ্ছিন্ন করা ও ইসলামকে একটি নিষ্প্রাণ ও স্থবির ধর্মে পরিণত করার লক্ষ্যে হাদীসের প্রামাণিকতা ও বিশুদ্ধতা এবং ইহার সংকলন ও সংরক্ষণ সম্পর্কে একটা সন্দেহের ধূম্রজাল সৃষ্টির অপচেষ্টা চলিয়া আসিতেছে সূদীর্ঘকাল হইতে। এই সর্বনাশা চক্রান্তের মুকাবিলা করার লক্ষ্যেই এই ভূখন্ডের বিশিষ্ট হাদীস বিশেষজ্ঞ শায়খুল ইসলাম মুহাম্মাদ আবদুর রহীম ষাটের দশকের প্রথমভাগে এই গ্রন্থখানি প্রণয়ন করেন। প্রায় অর্ধযুগের ব্যাপক অধ্যয়ণ ও গবেষণার ফসল এই মূল্যবান গ্রন্থে হাদীসের সংকলন, লিপিবদ্ধকরণ ও সংরক্ষণ এবং হাদীস শাস্ত্রের ইতিহাস সম্পর্কে হাদীস বিরোধীদের সকল কূট-প্রশ্নের  তিনি বিস্তৃত ও পুঙ্খানুপুঙ্খ জওয়াব দিয়েছেন।

আসহাবে রাসূলের জীবনকথা

(১) সাহাবা কারা ?


সাহাবা শব্দটি আরবী ভাষার “সুহবত” শব্দের একটি রুপ। একবচনে সাহেব ও সাহাবী এবং বহুবচনে সাহাবা ব্যবহৃত হয়। আভিধানিক অর্থ সঙ্গী, সাথী, সহচর, একসাথে জীবনযাপনকারী অথবা সাহচর্যে অবস্থানকারী। ইসলামী পরিভাষায় সাহাবা শব্দটি দ্বারা রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর মহান সঙ্গী-সাথীদের বুঝায়।



(২) সাহাবাদের মর্যাদা


সাহাবীদের পরস্পরের মধ্যে মর্যাদার স্তর থাকতে পারে, কিন্ত পরবর্তী যুগের কোন মুসলমানই, তা তিনি যত বড় জ্ঞানী, গুনী ও সাধক হোন না কেন কেউই একজন সাধারন সাহাবীর মর্যাদাও লাভ করতে পারেন না। এ ব্যাপারে কোরআন, সুন্নাহ ও ইজমা একমত।

মানবতার বন্ধু মুহাম্মদ রসূলুল্লাহ (সাঃ)


এই বইখানা উপমহাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গবেষক ও চিন্তাবিদ নঈম সিদ্দীকির মুহসিনে ইনসানিয়াত গ্রন্থের অনুবাদ। এর ইংরেজী অনুবাদের নাম Human Benefactor. এটি চিরাচরিত পন্থায় রচিত রাসূল সাঃ এর কোন জীবনী গ্রন্থ নয়, এখানে মূলত রাসূল সাঃ যে অনুপম সমাজবিপ্লব সংঘটিত করেছিলেন এবং সুনিপুন কাড়িগরের মত যে অনন্য মানবদল ও মানবসমাজ নির্মাণ করেছিলেন সেই কাজের এক অপূর্ব বিশ্লেষণধর্মী শিক্ষণীয় চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। বইটি একাধারে রাসূল সাঃ এর সীরাত ও ইসলামী সমাজবিপ্লবের প্রতিবেদন।




সীরাতে ইবনে হিশাম


বলা হয়ে থাকে এই সীরাত গ্রন্থটি রাসূল সাঃ এর সবচেয়ে নিকটবর্তী সময়ে লিখিত হয়। বইটির বাঙলা অনুবাদক

১.মাওলানা আকরাম ফারূক
২.মাওলানা সাইদ মেসবাহ
৩.মাওলানা আব্দুল্লাহ বিন সাইদ
৪.মাওলানা সাইফুল ইসলাম

বইটির প্রথম প্রকাশকাল ১৯৯৪ সাল ।

৮৫ হিজরীতে ইবনে ইসহাক সীরাত গ্রন্থটি লিখেন । ইনার জন্ম মদীনাতে। ইবনে হিশাম মূলত ওই বইটির সংশোধন করে প্রসিদ্ধি লাভ করেন । মুল নাম, আব্দুল মালিক । তিনি বসরায় জন্মগ্রহন করেন । মিশরে ইমাম শাফেয়ী র এর ছাত্র ছিলেন তিনি ।

মুয়াত্তা - ইমাম মালিক র: (হাদীস গ্রন্থ)

ইমাম মালিক ইবনে আনাস (রহ.) আরবের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ধিকাংশ ইতিহাসবিদ একমত যে তিনি হিজরি ৯৩ সনে জন্মগ্রহণ করেন এবং ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর চেয়ে ১৩ বছরের ছোট।   শাহ্ ওয়ালীউল্লাহ (রহ.)-এর মতে ইমাম মালিক (রহ.) সংগৃহীত হাদিসের মধ্যে 'মুয়াত্তা' অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং যথার্থ হাদিস সংকলন।
 


পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের পরই তিনি হাদিসগুলোর যথার্থতা সম্পর্কে নিঃসন্দেহ হয়েছিলেন। প্রথমে মুয়াত্তায় ১০ হাজারের বেশি হাদিস সংকলিত হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে এই সংখ্যা এক হাজার ৭২০টিতে হ্রাস করা হয়। হাদিসের নির্ভরযোগ্যতা সম্পর্কে বিস্তারিত অনুসন্ধান ও বিশ্লেষণের পরই ইমাম মালিক (রহ.) 'মুয়াত্তা' সংশোধন করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। ইমাম মালিক (রহ.) একজন সেরা আইনবিদও ছিলেন। তিনি দীর্ঘ ৬০ বছর মদিনায় বিভিন্ন জটিল বিষয়ের ওপর শরিয়তের ব্যাখ্যা প্রদানের মাধ্যমে সমস্যার নিষ্পত্তি করেছেন।

ইমাম মালিকের মর্যাদা এবং তাঁর জ্ঞান ও প্রজ্ঞার পরিপূর্ণতা সম্পর্কে মদিনার সর্বস্তরের আলেম, বিশেষজ্ঞ এবং শায়খদের মধ্যে কোনো বিতর্ক ছিল না। এককথায় তিনি ছিলেন সর্বজন মান্য। এ ব্যাপারে ইমাম মালিকের বিনয় ও সতর্কতাও কম ছিল না। যত দিন পর্যন্ত প্রথম শ্রেণীর স্বীকৃত ৭০ জন আলেম-বিশেষজ্ঞ তাঁর দক্ষতা-যোগ্যতার স্বীকৃতিস্বরূপ ফতোয়া ঘোষণা করেননি, তত দিন তিনিও উচ্চতর এ আসনে নিজে গিয়ে বসেননি। তাঁর চরিত্রে বিনয় অত্যন্ত স্পষ্টভাবে প্রমাণিত এবং উদ্ভাসিত হয়ে ওঠে।




মুয়াত্তা ইমাম মালিক

(ডাউনলোড লিঙ্ক-সমূহ)










►মুয়াত্তা ইমাম মালিক (প্রথম খন্ড)◄



পেজ-ভিউ

সুনানে আবু দাউদ (হাদীস-গ্রন্থ)

সুনানে আবু দাউদ-এর সংকলক ইমাম আবু দাউদ (রহ.) ইলমে হাদিস চর্চার স্বর্ণযুগ ২০২ হিজরি সনে, ৮১৭ খ্রিস্টাব্দে বর্তমান আফগানিস্তানের অন্তর্গত কান্দাহার ও চিশতের কাছে সিস্তান নামক স্থানে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর প্রকৃত নাম সুলাইমান, উপনাম আবু দাউদ, বাবার নাম আশয়াস, দাদার নাম ইসহাক। জন্মস্থানের সঙ্গে সম্পর্ক রেখে তাঁকে সিজিস্তানি বা সিস্তানি বলা হয়। ইমাম আবু দাউদ (রহ.)-এর শৈশব সম্পর্কে বিশদভাবে তেমন কিছু জানা যায় না। তবে তাঁর জীবনী সম্পর্কে বিভিন্ন লেখকের লেখা পড়লে অনুমিত হয় যে ইমাম আবু দাউদ (রহ.)-এর শৈশব সিস্তানেই কেটেছিল এবং তিনি পারিবারিক পরিমণ্ডলে প্রাথমিক শিক্ষা অর্জন করেন।
 


তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, ইমাম আবু দাউদ (রহ.) তাঁর যৌবনে 'সুনানে আবু দাউদ'-এর রচনা সম্পন্ন করেন। তিনি স্মৃতিবদ্ধ হাদিসের বিশাল ভাণ্ডার থেকে যাচাই-বাছাই করে মোট চার হাজার ৮০০ হাদিস তাঁর সুনান গ্রন্থে সনি্নবেশ করেন। এ বিষয়ে তিনি নিজেই বলেন, 'আমি রাসুলে করিম (সা.)-এর পাঁচ লাখ হাদিস লিপিবদ্ধ করেছিলাম। তার মধ্য থেকে বাছাই করে মনোনীত হাদিসগুলো এ গ্রন্থে সনি্নবেশ করেছি।' ইমাম আবু দাউদ (রহ.) গ্রন্থখানা সংকলনের পর প্রথম তা নিজের উস্তাদ ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (রহ.)-এর সামনে উপস্থাপন করেন। ইমাম আহমাদ (রহ.) গ্রন্থখানা খুবই পছন্দ করেন এবং একখানা উত্তম হাদিস গ্রন্থ বলে খুবই প্রশংসা করেন।)


সুনানে আবু দাউদ

(ডাউনলোড লিঙ্ক-সমূহ)









আবু-দাউদ (প্রথম খন্ড)




পেজ-ভিউ

নির্বাচিত কুরআন-হাদীস সংকলন


বিষয়সমূহ :

ঈমান ....
নামায ....
রোযা ....
যাকাত ....
মুমিনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ....
প্রথম দফা: দাওয়াত ....
দ্বিতীয় দফা: সংগঠন ....
তৃতীয় দফা: প্রশিক্ষণ ....
ইসলামী শিক্ষা আন্দোলন ও ছাত্র সমস্যা ....
ইসলামী বিপ্লব/ জিহাদ ....
ত্যাগ/কুরবানী/পরীক্ষা ....
পর্দা ....
তাকওয়া ....
আনুগত্য ....
বাইয়াত ....
মুমিনের গুণাবলী ....
গীবত ....
আল্লাহর পথে অর্থ ব্যয়/বায়তুলমাল ....
আখেরাত ....
জান্নাত ....
জাহান্নাম ....
ব্যক্তিগত রিপোর্ট ....
আত্মসমালোচনা ....

সংকলনে
মুহাম্মদ গোলাম মাওলা
মুহাম্মদ গোলাম এলাহী

সহযোগিতায়
হাফেয মাওলানা ওয়ালীউল্লাহ
ইমাম, কাঁটাবন মসজিদ, ঢাকা




সহীহ বুখারী শরীফ (হাদীস গ্রন্থ)

ইসলামের ইতিহাসে যে ক’জন মনীষী রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ সমুন্নত রাখা ও তা মানব জাতির নিকট পৌঁছে দেওয়ার জন্য অবিস্মরণীয় অবদান রেখে গেছেন, তাদের মধ্যে শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্ব হলেন ইমাম বুখারী রহ.। তার লিখিত হাদীস গ্রন্থ সহীহ বুখারী আল কুরআনের পরেই সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য ও বিশুদ্ধ গ্রন্থ হিসেবে স্বীকৃত। ইমাম বুখারী রহ. ১৯৪ হিজরী ১৩ ই শাওয়াল উজবেকিস্তানের অন্তর্গত বুখারা নামক শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তার নাম রাখা হয় মুহাম্মাদ, পরিচিত ছিলেন আবু আব্দুল্লাহ নামে। পিতার নাম ছিলো ইসমাইল।

সহীহ মুসলিম শরীফ (হাদীস-গ্রন্থ)

হযরত আবু যার জুনদুব ইব্‌ন জুনাদা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মহান আল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেনঃ " হে আমার বান্দারা! আমি নিজের উপর যুলুমকে হারাম করে রেখেছি এবং তোমাদের মধ্যেও তা হারাম করেছি।কাজেই তোমরা পরস্পর যুলুম করো না। হে আমার বান্দারা! আমি যাকে হিদায়াত দিয়েছি সে ছাড়া তোমাদের প্রত্যেকেই পথভ্রষ্ট। কাজেই আমার কাছে হিদায়েত চাও, আমি তোমাদেরকে হিদায়েত দেব।হে আমার বান্দারা! আমি যাকে খাদ্য দিয়েছি সে ছাড়া তোমাদের প্রত্যেকেই ক্ষুধার্ত। কাজেই আমার কাছে খাদ্য চাও, আমি তোমাদের খাদ্য দেব। হে আমার বান্দারা! আমি যাকে কাপড় দিয়েছি সে ছাড়া প্রত্যেকেই বস্ত্রহীন। কাজেই আমার কাছে কাপড় চাও , আমি তোমাদেরকে কাপড় দেব। হে আমার বান্দারা! তোমারা রাত-দিন ভুল করে থাক, আর আমি সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেই। কাজেই তোমরা আমার কাছে ক্ষমা চাও, আমি তোমাদের ক্ষমা করে দেব। হে আমার বান্দারা! তোমরা আমার কোন ক্ষতি করতে পারবে না, আমার কোন লাভ ও করতে পারবে না। হে আমার বান্দারা! যদি তোমাদের পূর্বের ও পরের সমস্ত জিন্‌ ও মানুষ তোমাদের মধ্যকার শ্রেষ্ঠতম আল্লাহ্‌ ভীরুর হৃদের মত হৃদয়সম্পন্ন হয়ে যায়, তবুও তাতে আমার রাজত্বের এতটুকু মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে না। হে আমার বান্দারা! যদি তোমাদের পূর্বের ও পরের সমস্ত জিন্‌ ও মানুষ তোমাদের মধ্যকার সব চেয়ে খারাপ মানুষের হৃদয়ের মত হৃদয়সম্পন্ন হয়ে যায়, তবুও তাতে আমার রাজত্বের এতটুকু মর্যাদা ক্ষুন্ন হবে না। হে আমার বান্দারা! যদি তোমাদের পূর্বের ও পরের সমস্ত জিন্‌ ও মানুষ কোন এক ময়দানে দাঁড়িয়ে একত্রে আমার কাছে চায় এবং আমি প্রত্যেকের চাহিদা পূরণ করে দেই, তাহলে আমার কাছে যে ভান্ডার রয়েছে তার এতটুকু কমে যায় যতটুকু সমুদ্রে একটি সূঁচ ফেললে তার পানি কমে যায়। হে আমার বান্দারা! আমি তোমাদের নেক আমলকে তোমাদের জন্য জমা করে রাখছি, তারপর আমি তোমাদের তার পূর্ণ বিনিময় দেব। কাজেই যে ব্যক্তি কোন কল্যাণ পায়, সে যেন আল্লাহর প্রশংসা করে। আর যে ব্যক্তি অন্য কিছু পায়, সে যেন নিজেকেই তিরস্কার করে। (মুসলিম)


সহীহ মুসলিম
শরীফ






►প্রথম খন্ড◄
 




পেজ-ভিউ

রিয়াদুস সালেহীন

রিয়াদুস সালেহীন গ্রন্থ যা সংকলন করেছেন ইমাম মুহাদ্দিস ফকীহ আবু যাকারিয়া ইয়াহইয়া বিন শারাফ আন-নববী, মৃত ৬৭৬ হিজরী -রহমাতুল্লাহি আলাইহি। এটি বিশ্বে বহুল প্রচারিত গুরুত্বপূর্ণ বইসমূহের একটি। বিশ্বের বহু ভাষায় এর অনুবাদ হয়েছে।

আবূ মাবাদ মিকদাদ ইবনুল আসওয়াদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করলামঃ আপনি কি বলেন যদি কোন কাফেরের সাথে আমার মোকাবেলা হয় এবং পারস্পরিক যুদ্ধে সে আক্রমণ থেকে বাঁচার জন্য একটি গাছের আড়ালে আশ্রয় নিয়ে বলে, আমি আল্লাহর জন্য ইসলাম গ্রহণ করলাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ! তার ঐ কথা বলার পর আমি কি তাকে হত্যা করব? তিনি বলেনঃ তাকে হত্যা করো না। আমি বললাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ! সে তো আমার দুই হাতের একটি কেটেছে, অতঃপর একথা বলেছে। তিনি বলেনঃ তাকে হত্যা করো না। কেননা তুমি যদি তাকে হত্যা করো, তাহলে তুমি তাকে হত্যা করার পূর্বে যে মর্যাদায় ছিলে, সে সেই মর্যাদায় পৌঁছে যাবে; আর যে কলেমা সে পাঠ করেছে, সেই কলেমা পাঠের পূর্বে সে যে স্তরে ছিল; তুমি(তাকে হত্যা করলে) সেই স্তরে নেমে যাবে।

আদর্শ মানব মুহাম্মদ (সা)

বইয়ের আলোচ্য বিষয়সমূহ:


আইয়ামে জাহিলিয়াত... ... ... ... ... ৫
মুহাম্মাদ (সা) এলেন দুনিয়ায়... ... ... ... ... ৬
মুহাম্মাদের (সা) জন্মসনে আবরাহার অভিযান... ... ... ... ... ৬
মুহাম্মাদের (সা) বাল্যজীবন... ... ... ... ... ৭
যুদ্ধের ময়দানে যুবক মুহাম্মাদ (সা)... ... ... ... ... ৮
হিলফুল ফুদুল... ... ... ... ... ৮
হিলফুল ফুদুলের পাঁচ দফা... ... ... ... ... ৮
হাজরে আসওয়াদ বিরোধ মীমাংসা... ... ... ... ... ৯
ব্যবসায়ী মুহাম্মাদ (সা)... ... ... ... ... ১০
বিবাহ... ... ... ... ... ১০
শিরক থেকে আত্মরক্ষা... ... ... ... ... ১০
অধীন ব্যক্তির প্রতি সদাচরণ... ... ... ... ... ১১
হিরা গুহায় অবস্থান... ... ... ... ... ১২
প্রথম ওহী প্রাপ্তি... ... ... ... ... ১২
আল্লাহর দিকে আহ্বান... ... ... ... ... ১২
প্রথমে যাঁরা সাড়া দিলেন... ... ... ... ... ১৩
প্রকাশ্য আহ্বান... ... ... ... ... ১৬
বিরোধিতা... ... ... ... ... ১৭
চাপ প্রয়োগ... ... ... ... ... ১৭
প্রলোভন... ... ... ... ... ১৮
যুলম-নির্যাতন... ... ... ... ... ২০
হাবশায় (ইথিওপিয়া) হিজরাত... ... ... ... ... ২০
কুরাইশদের সমাবেশে মুহাম্মাদ (সা)... ... ... ... ... ২১
হামজার ইসলাম গ্রহণ... ... ... ... ... ২১
উমারের ইসলাম গ্রহণ... ... ... ... ... ২২
শিয়াবে আবু তালিবে আটক... ... ... ... ... ২৩

কুরআনে বর্ণিত ২৫ জন নবীর জীবনী

কুরআনে বর্ণিত পঁচিশজন নবী হলেন

→ ০১ : হযরত আদম আ:
→ ০২ : হযরত নূহ আ:
→ ০৩ : হযরত ইদরীস আ:
→ ০৪ : হযরত হূদ আ:
→ ০৫ : হযরত ছালেহ আ:
→ ০৬ : হযরত ইবরাহীম আ:
→ ০৭ : হযরত লূত আ:
→ ০৮ : হযরত ইসমাঈল আ:
→ ০৯ : হযরত ইসহাক আ:
→ ১০ : হযরত ইয়াকূব আ:
→ ১১ : হযরত ইউসুফ আ:
→ ১২ : হযরত আইয়ূব আ:
→ ১৩ : হযরত শু‘আয়েব আ:
→ ১৪ : হযরত মূসা আ:
→ ১৫ : হযরত হারূণ আ:
→ ১৬ : হযরত ইউনুস আ:
→ ১৭ : হযরত দাঊদ আ:
→ ১৮ : হযরত সুলায়মান আ:
→ ১৯ : হযরত ইলিয়াস আ:
→ ২০ : হযরত আল-ইয়াসা‘ আ:
→ ২১ : হযরত যুল-কিফ'ল আ:
→ ২২ : হযরত যাকারিয়া আ:
→ ২৩ : হযরত ইয়াহ্ইয়া আ:
→ ২৪ : হযরত ঈসা আ:
→ ২৫ : হযরত মুহাম্মাদ (সা:)




সকল পোষ্ট ►

ডাউনলোড

হুনায়নের যুদ্ধ (ইবনে হিশাম)

ডাউনলোড

হযরত (স)-এর দয়া সুলভ আচরণ এং মুসলমানদের সাথে মেলামেশার ফলে একদিকে মক্কায় দলে দলে লোকেরা ইসলাম গ্রহণ করতে লাগলো, অন্যদিকে তামাম আরব গোত্রের ওপর বিজয়ের এর বিরাট প্রভাব পড়লো। তারা বুঝতে পারলো, ইসলামের প্রতি আহবানকারী বাস্তবিকই ধন-দৌলত বা রাজত্বের কোনো কাঙাল নন; বরং তিনি আল্লাহরই পয়গাম্বর। পরন্ত এ সময়ে ইসলাম ও তার বৈশিষ্ট্য কোনো চোরা-গুপ্তা জিনিস ছিলো না; বরং ইসলামী আদর্শের স্বরূপটা প্রায় গোটা আরব দেশই জেনে ফেলেছিলো। যাদের হৃদয়ে বুঝবার শক্তি ছিলো, তারা বুঝে নিয়েছিলো যে, এই হচ্ছে আসল সত্য।

তাই মক্কা বিজিত হবার সঙ্গে সঙ্গেই আরবের দূর-দূরাঞ্চল থেকে বিভিন্ন গোত্রের লোকেরা এসে ইসলাম কবুল করতে লাগলো। এতদসত্ত্বেও যে সব লোকের অন্তরে ইসলামী আন্দো

ওহুদ যুদ্ধ (ইবনে হিশাম)

ডাউনলোড

বদর যুদ্ধে মুসলমানরা জয়লাভ করলো বটে, কিন্তু যুদ্ধের মাধ্যমে তারা যেনো ভীমরুলের চাকে ঢিল ছুঁড়লো। এই প্রথম যুদ্ধেই তারা দৃঢ়তার সঙ্গে কাফিরদের মুকাবেলা করেছিল এবং কাফিরদেরকেও শোচনীয় ভাবে পরাজিত হয়ে পিছু হটতে হয়েছিল। এ ঘটনা মুসলমানদের বিরুদ্ধে সমগ্র আরব জনগোষ্ঠীকে প্রচণ্ড ভাবে উত্তেজিত করে দিলো। যারা এই নয়া আন্দোলনের দুশমন ছিল , তারা এ ঘটনার পর আরো ক্ষিপ্ত হয়ে উঠলো। তদুপরি মক্কার যে সব কুরাইশ সর্দার এ যুদ্ধে নিহত হয়েছিল, তাদের রক্তের বদলা নেবার জন্যে অসংখ্য চিত্ত অস্থির হয়ে উঠলো। আরবে যেকোন এক ব্যক্তির রক্তই পুরুষানুক্রমে যুদ্ধের কারণ হয়ে দাঁড়াতো। আর এখানে তো এমন অনেক ব্যক্তিই নিহত হয়েছিল ,যাদের রক্তমূল্য অসংখ্য যুদ্ধে ও আদায় হতে পারতো না। তাই চারদিকে ঝড়ের আলামত দেখা যেতে লাগলো। ইহুদীদের যে সব গোত্র ইতঃপূর্বে মুসলমানদের সঙ্গে চুক্তি সম্পাদন করেছিলো, তারা চুক্তির কোন মর্যাদা রক্ষা করলো না।

বদর যুদ্ধ (ইবনে হিশাম)


বদর যুদ্ধের ফলাফল ও প্রতিক্রিয়া

ফলাফল ও প্রতিক্রিয়ার দিক দিয়ে বদর যুদ্ধ ছিল অতীব গুরুত্বপূর্ণ । প্রকৃতপক্ষে ইসলামের দাওয়াত অগ্রাহ্য করার দরুন মক্কার কাফের দের জন্যে যে খোদায়ী আযাব নির্ধারিত হয়েছিল , এ যুদ্ধ ছিল তারই প্রথম নিদর্শন। তাছাড়া ইসলাম ও কুফরের মধ্যে মূলত কার টিকে থাকবার অধিকার রয়েছে এবং ভবিষ্যতের হাওয়ার গতিই বা কোন দিকে মোড় নেবে, এ যুদ্ধ তা স্পষ্টত জানিয়ে দিল। এ কারণেই একে ইসলামী ইতিহাসের পয়লা যুদ্ধ বলা হয়। কুরআন পাকের সূরা আনফালে এই যুদ্ধ সম্পর্কে অনেক বিস্তৃত পর্যালোচনা করা হয়েছে। তবে দুনিয়ার রাজা- বাদশাহ বা জেনারেলগণ কোন যুদ্ধ জয়ের পর যে ধরণের পর্যালোচনা করে থাকে , এ পর্যালোচনা তা থেকে সম্পুর্ণ স্বতন্ত্র ।
এ পর্যালোচনার একটি বৈশিষ্ট্য এই যে, এর ওপর একটু বিস্তৃত ভাবে দৃষ্টিপাত করলে ইসলামী আন্দোলনের প্রকৃতি এবং মুসলমানদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অত্যন্ত সুস্পষ্ট উদ্ভাসিত হয়ে উঠে।
বদর যুদ্ধের পর্যালোচনা এবং মুসলমানদের প্রশিক্ষণ

রাসূলুল্লাহ (সা:) এর নামায আদায়ের পদ্ধতি

ডাউনলোড

১. সুন্দর ও পরিপূর্ণভাবে ওযু করবেঃ আল্লাহ্ তা’আলা কুরআনে যেভাবে ওযু করার নির্দেশ প্রদান করেছেন সেভাবে ওযু করাই হলো পরিপূর্ণ ওযু। আল্লাহ্ সোবহানাহু ওয়াতা’আলা এ সম্পর্কে এরশাদ করেনঃ (হে মুমিনগণ! যখন তোমরা নামাযের উদ্দেশ্যে দণ্ডায়মান হও তখন (নামাযের পূর্বে) তোমাদের মুখমণ্ডল ধৌত কর এবং হাতগুলোকে কনুই পর্যন্ত ধুয়ে নাও, আর মাথা মাসেহ কর এবং পাগুলোকে টাখনু পর্যন্ত ধুয়ে ফেল।)) [সূরা আল-মায়েদাহঃ ৬] নবী করীম সাল্লাল্লাহু ‘আলইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেনঃ অর্থঃ ((পবিত্রতা ব্যতীত নামায কবুল করা হয় না। আর খেয়ানতকারীর দান গ্রহণ করা হয় না।)) ইমাম মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেনঃ নবী করীম সাল্লাল্লাহু ‘আলইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে নামাযে ভুল করার কারণে বললেনঃঅর্থঃ ((তুমি যখন নামযে দাঁড়াবে (নামাযের পূর্বে) উত্তম রূপে ওযু করবে।))

সবিস্তার সূচীপত্র
টেম্পলেট কাষ্টমাইজেশন - তরঙ্গ ইসলাম | তরঙ্গ ইসলাম