ফররুখ আহমদ সমগ্র

ইসলামী রেঁনেসার কবি খ্যাত প্রিয় এক কবির নাম ফররুখ আহমদ।যশোর জেলার মাগুরা থানার মাঝআইল গ্রামে ১৯১৮ সালের ১০ জুন ফররুখ আহমদ জন্ম গ্রহণ করেন। ১৯৩৭ সালে ফররুখ আহমদ প্রথম সাহিত্য জগতে আত্মপ্রকাশ করেন। বছরই বুলবুল ও মোহাম্মদী-তে তাঁর প্রথম রচনাবলি প্রকাশিত হয়। ১৯৪৪ সালে সাত সাগরের মাঝি প্রকাশিত হলে সওগাত-মোহাম্মদী প্রভৃতি পত্রিকায় তার দীর্ঘ আলোচনা ছাপা হয়। কলকাতা-জীবনে ফররুখ আহমদের দুটি কবিতাগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছিল- 'সাত সাগরের মাঝি' (১৯৪৪) ও 'আজাদ করো পাকিস্তান' (১৯৪৬)। ১৯৪৮ সালে ফররুখ ঢাকায় চলে আসার পর মৃত্যুকাল পর্যন্ত ঢাকাই ছিল তাঁর সাহিত্যক্ষেত্র। ১৯৭৪ সালের ১৯ অক্টোবর, সন্ধেবেলা ঢাকায় ইস্কাটন গার্ডেনে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর পূর্বে কবি তৎকালীন ক্ষমতাসীনদের অবহেলা ও বিরোধীতার সম্মুখিন হয়ে নিদারুন অর্থসংকটে পতিত হন। কর্মক্ষেত্রে বেতন বঞ্চিত হয়ে দারিদ্র, অনাহার ও বিনা চিকিৎসায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। 

দ্বীপ নির্মাণ - ফররূখ আহমদ

প্রবাল দ্বীপের গোড়া পত্তন হবে ,
কি করে সে কথা হয়ে গেল জানাজানি !
দল বেঁধে এল অযুত প্রবালকীট
কাঁপায়ে দু'পাশে দরিয়ার লোনা পানি ।

রেখে এল তারা জীবনের সব সাধ,
ফেলে এল তারা জীবনের সব গান,
নব সৃষ্টির পথে চলে উন্মাদ ;
ভিত্তিমূলেই জীবন করিতে দান ।

অযুত,লক্ষ, কোটি প্রবালের দেহে ,
শত যুগ ধরি' সেই দ্বীপ গড়ে ওঠে ,
কোটি প্রবালের তনুতে না হয় যদি
আরো বহুকোটি প্রবাল কীটেরা জোটে ।

কবে দূরচারী পথিক পাখিরা এসে
কাকলি-মুখর সে দ্বীপে বাঁধবে ঘর,
জাগবে কখন প্রবাল দ্বীপের বুকে
নারিকেল শাখে সপ্নের মর্মর ।

প্রবাল কীটেরা জানে না সে কথা, তবু
দল বেঁধে তারা করে গোড়াপত্তন ।
বত্‍সর কাটে...শতাব্দী কেটে যায়...
তবু কোন দিন হয় না-তো উণ্মন ।

কবি ফররুখ আহমেদের বিস্তারিত জীবনী



পুলিশ ইন্সপেক্টর সৈয়দ হাতেম আলী আই.এ.পাশ করেই চাকরিতে যোগ দেন। খুলনা, ময়মনসিংহ প্রভৃতি জেলা ছিল তাঁর কাজের এলাকা। তবে আই.জি. পুলিশ অফিসে রিপোর্ট দাখিল করার জন্য তিনি মাঝে মাঝে কলকাতায় যেতেন। সৎ মানুষ হিসেবে সুনাম ছিল তাঁর। তিনি মজলিশি ছিলেন এবং 'খান সাহেব' উপাধি পেয়েছিলেন। তাঁর দুই স্ত্রী। প্রথম পক্ষের স্ত্রী ১৯২৪ সালে মারা যাবার পর তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করেন।

প্রথম স্ত্রীর ঘরে পর পর তিনটি মেয়ে জন্মের পর ফররুখ আহমদের জন্ম হয়। রমজানের সময় ফররুখের জন্ম হয়েছিল বলে তাঁর দাদি তাঁকে আদর করে রমজান বলে ডাকতেন। ছয় বছর বয়সে মাতৃহারা হয়েছিলেন ফররুখ। দীর্ঘজীবী দাদিই তাঁকে লালনপালন করেন। শৈশবে দাদির কাছে ফররুখ শুনতেন পুঁথির কাহিনী, তাজকিরাতুল আউলিয়া এবং কাসাসুল আম্বিয়া। দাদীর অতি আদরের এই নাতীটি ছোটবেলায় ছিলেন খুব দুরন্ত। তবে সেই বয়সের দুরন্ত এই ছেলেটিকেই আবার ভাবুকতা ও উদাসীনতা পেয়ে বসত প্রায়ই । ধুঁ ধুঁ মাঠে কিংবা মধুমতী নদীতীরে একা একা ঘুরে বেড়াতেন ঘন্টার পর ঘন্টা। জ্যোৎস্নারাতে বাঁশঝাড়ের পাশে গিয়ে ডাহুকের ডাক শুনতেন চুপ করে। আর এসবই হয়তো তাঁর মধ্যে কবিতা লেখার প্রেরণা জুগিয়েছিল। যার ফলে তিনি স্কুল জীবন থেকেই লেখালেখি শুরু করেন এবং এদেশের বিশিষ্ট ও প্রধান সারির কবিদের তালিকায় তাঁর নাম উঠে আসে।

ঝুমকো জবা


ঝুমকো জবা বনের দুল
উঠল ফুটে বনের ফুল।
সবুজ পাতা ঘোমটা খোলে,
ঝুমকো জবা হাওয়ায় দোলে।
সেই দুলুনির তালে তালে,
মন উড়ে যায় ডালে ডালে।

সবিস্তার সূচীপত্র
টেম্পলেট কাষ্টমাইজেশন - তরঙ্গ ইসলাম | তরঙ্গ ইসলাম