অনল-প্রবাহ

https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEjyEZKri52poPJ_50KKqnqBXnjthUzsFwVizf890I9LLVx1NiV1hJcZi3-fm8nW7e2VwwgHU-kU4UNt3PH3zPJPlOpQ2Wmi3TeMSs1BtXBrHn_dcZNaM5Ng1VNmMtCKTMRWNfQ-ilFEI3Q/s1600/Onol-Probaho-priyoboi.jpgআর ঘুমিও না নয়ন মেলিয়া,
ঊঠরে মোসলেম ঊঠরে জাগিয়া,
আলস্য জড়তা পায়েতে ঠেলিয়া,
পূত বিভু নাম স্মরণ করি।

যুগল নয়ন করি উন্মীলন,
কর চারিদিকে কর বিলোকন,
অবসর পেয়ে দেখ শত্রুগণ,
করেছে কীদৃশ অনিষ্ট সাধন,
দেখো চাহিয়া অতীত স্মরি।

বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের ঠিক পূর্বে যিনি বাংলা ভাষায় ও মুসলিম উম্মাহর পক্ষে আগুনের বীণা বাজিয়েছিলেন, তিনি হলেন সৈয়দ ইসমাইল হোসেন শিরাজী। বাংলা সাহিত্য জগতে তখন ইসলাম ও মুসলমান জাতিকে হেয় করা -কটাক্ষ করা- বিকৃত করা -অপমানিত করার উতসব চলছিলো, ইসমাইল হোসেন সিরাজীই  নজরুল-পূর্ব সেই যুগে কলম হাতে তুলে নিয়ে প্রবল পরাক্রমে তার মোকাবিলা শুরু করেছিলেন!

ইসমাইল হোসেন সিরাজী উপন্যাসসমগ্র


বাঙ্গালী লেখকগনের যত্ন এবং চেষ্টায় বাংলা ভাষা আজ ভারতের সর্বপ্রধান ভাষায় পরিণত। বাংলা ভাষায় ইতিহাস, দর্শন, বিজ্ঞানের গ্রন্থ যত সামান্যই হঊক, কিন্তু উপন্যাস এবং নাটক নভেলে বাংলা ভাষা আজ ভারাক্রান্ত। আর সেই সমস্ত গ্রন্থের পত্রে-পত্রে ছত্রে -ছত্রে মুসলমানের অলীক কলঙ্ক, কুৎসা - বিজাতীয় বিদ্বেষ এবং ঘৃণা পরিপূর্ণ। উপন্যাসগুলি মোসলেম বিদ্বেষের অনলকুন্ড। সে অনলকুন্ডে বিরাট-কীর্তি, বিপুল-যশ, সিংহতেজা মুসলমান জাতির গোলাম হইতে সম্রাট নবাব এবং বেগম ও শাহজাদীগণ পর্যন্ত নিতান্ত নিষ্ঠুরভাবে নিক্ষিপ্ত হইয়াছে!

তারাবাঈ - সৈয়দ ইসমাঈল হোসেন সিরাজী

পরদিন প্রত্যুষে মালোজীকে শূলে চড়ান হইল। মুহুর্ত মধ্যে নৈরাশ্য-দিগ্ধ হিংসাপরায়ন আত্মা শূন্যে মিশিয়া গেল। রায়গড়ের বিষাদ ভার আরও বাড়িয়া গেল। কারণ সকলেই বুঝিল যে, মালোজী তারার প্রতি একান্তই আসক্ত এবং অনুরক্ত ছিলেন। কিন্তু তারা তাহাকে একেবারেই চাহিত না। সে আফজাল খাঁর রূপসরোবরেই প্রেমের কমল তুলিতে সাঁতার দিয়াছিল। কিন্তু হায়! হতভাগিনীর আশা পূরণ হইল না। দগ্ধজীবনের অতৃপ্ত আকাঙ্খা এবং প্রেমের আগ্নেয়-পিপাসা লইয়াই জীবন ত্যাগ করিল! প্রেম-সরোবরে ডুবিয়াও এক বিন্দু প্রেমসুধা পানের পূর্বেই তাহার জীবনলীলা শেষ হইল। কি তীব্র বিষাদপূর্ণ ভয়াবহ ঘটনা! শিবাজী কন্যার শোকে নিতান্ত বিমনায়মান এবং কিংকর্তব্যবিমূঢ় হইয়া পড়িলেন। আফজাল খাঁর নিকটে গভীর দুঃখ ও করুণ বিলাপ প্রকাশ করিলেন। আফজাল খাঁর চক্ষু হইতে অশ্রুধারা নির্গত হইল।
অনন্তর আফজাল খাঁর সহিত আত্মীয়তা এবং কুটুম্বিতা বজায় রাখিবার জন্য শিবাজী তাঁহার ভগ্নী কামিনীবাঈকে আফজাল খাঁর করে সমর্পণ করিবার প্রস্তাব করিলেন। কিন্তু আফজাল খাঁ কিছুতেই স্বীকৃত হইলেন না। আফজাল খাঁ তৎপর দিবস প্রাতঃকালে বিজাপুরে কুচ করিবার জন্য প্রস্তুত হইলেন। শিবাজীও অগত্যা তাহাতে সম্মত হইলেন। পরদিন প্রত্যুষে সেনাপতি সাহেব রাজধানীতে প্রত্যাবর্তন

ফিরোজা বেগম - সৈয়দ ইসমাঈল হোসেন সিরাজী

https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEiRPKPd7qFjX00uajLXc2iI7gPR_9OhPwUPXvSPeO9r_ZI2eISOwbqsHrRU9G0by6mRmtOkzT_BbcwhW-apEsVB7c042JQ-iWXUK5TVr5D-iDAGMlLONVwkkztywGRglmmgmN4iNP0MV90f/s1600/firoja-begum.jpg 
সফদরজঙ্গ এবং তাঁহার আত্মীয় স্বজন পরম সমাদরে যথানিয়মে বর এবং বরযাত্রিগণকে লইয়া বিবাহসভায় বসাইলেন। অনন্তর নানা প্রকার চর্ব্য, চুষ্য, লেহ্য, পেয় প্রভৃতি লজিজ ও নফিস খানা দ্বারা সকলকে পরিতৃপ্তিপূর্বক ভোজন করাইলেন। ভোজনান্তে যথারীতি ইসলামী কায়দা অনুযায়ী উদ্বাহক্রিয়া সম্পন্ন করা হইল। বিবাহান্তে আবার বাদ্যধ্বনির উচ্চ শব্দে এবং অবিরাম তোপ ও বোমের গর্জনে দিগ্বলয় কম্পিত হইতে লাগিল। নানা শ্রেণীর বিচিত্র আতশবাজীর অগ্নিক্রীড়ায় নভোমণ্ডল আলোকিত এবং সমবেত জনমণ্ডলী পরম পুলকিত হইলেন। বিবাহান্তে দিল্লীর প্রসিদ্ধ বাঈজীদিগের নাচের বন্দোবস্তের উপক্রমেই মওলানা আমিনুর রহমান এবং আরও কয়েকজন ধর্মভীরু বৃদ্ধ লোক উঠিয়া যাইবার উপক্রম করিলেন। কেহই তাঁহাদিগকে উঠিবার কারণ জিজ্ঞাসা করিরেন না।‌ তখন নজীব-উদ্দৌলা নিজেই তাঁহাদিগকে উঠিবার কারণ জিজ্ঞাসা করিরৈন।

সবিস্তার সূচীপত্র
টেম্পলেট কাষ্টমাইজেশন - তরঙ্গ ইসলাম | তরঙ্গ ইসলাম