বিয়ে ► করণীয় ও বর্জনীয় ► (যে বিবাহে খরচ কম ও সহজ সে বিবাহই অধিক বরকতপূর্ণ)


শরীয়তে বিবাহ বলতে কী বুঝায় :

নারী-পুরুষ একে অপর থেকে উপকৃত হওয়া এবং আদর্শ পরিবার ও নিরাপদ সমাজ গড়ার উদ্দেশ্যে পরস্পর চুক্তিবদ্ধ হওয়া। এ সংজ্ঞা থেকে আমরা অনুধাবন করতে পারি, বিবাহের উদ্দেশ্য কেবল ভোগ নয়; বরং এর সঙ্গে আদর্শ পরিবার ও আলোকিত সমাজ গড়ার অভিপ্রায়ও জড়িত।

বিবাহের তাৎপর্য :

বিবাহ একটি বৈধ ও প্রশংসনীয় কাজ। প্রত্যেক সামর্থ্যবান ব্যক্তির ক্ষেত্রেই এর যার গুরুত্ব অপরিসীম। বিয়ে করা নবী-রাসূলদের (আলাইহুমুস সালাম) সুন্নাত। আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন,
وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا رُسُلًا مِنْ قَبْلِكَ وَجَعَلْنَا لَهُمْ أَزْوَاجًا وَذُرِّيَّةً
‘আর অবশ্যই তোমার পূর্বে আমি রাসূলদের প্রেরণ করেছি এবং তাদেরকে দিয়েছি স্ত্রী ও সন্তান-সন্ততি।’ (রা‘দ : রা‘দ : ৩৮)

মুসলিম স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক কেমন হবে

http://farm4.static.flickr.com/3263/3121186329_46179e5fed.jpg
১ম পর্ব
জীবনের স্রোতোধারার অনিবার্য সঙ্গী হলো মানবজাতি ৷ 'নর' এবং 'নারী' মানবজাতির এই জীবনধারাকে প্রবাহমান গতি দিয়েছে সেই সৃষ্টির আদি মানব আদমের যুগ থেকে ৷ বর্তমান বিশ্বের ৬১০ কোটি মানুষ যুগ-যুগান্তের ধারাবাহিক উত্তরাধিকার এখন ৷ মানুষ সম্পর্কে প্রসিদ্ধ একটি বক্তব্য প্রায় সবারই জানা, তাহলো-‘মানুষ হলো বিচার বুদ্ধি সম্পন্ন প্রাণী' ৷ সত্যিই এই বিচারবোধই মানুষকে অন্যান্য প্রাণী থেকে আলাদা করে তুলেছে ৷ সেজন্যে মানুষ অন্যান্য প্রাণীর মত জীবন যাপন না করে আল্লাহ প্রদত্ত বুদ্ধিমত্তা দিয়ে গড়ে তুলেছে একটি সুশৃঙ্খল সামাজিক ও পারিবারিক জীবন ৷ যুগে যুগে আল্লাহ প্রেরিত রাসূলগণই এই পরিবার গঠনের অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন ৷ সুশৃঙ্খল এই পারিবারিক কাঠামো থেকেই মানুষ পেয়েছে সভ্যতার আলো ৷ পরিবার কাঠামোর সাথে সভ্যতা যেন নিত্যসঙ্গী ৷ যেখানে পরিবার কাঠামো নেই, সেখানে সভ্যতা বলতে যা বোঝায়, তার সাথে অন্যান্য প্রাণীকূলের জীবনযাপন পদ্ধতির খুব বেশী পার্থক্য নেই ৷ নারী এবং পুরুষ উভয়ের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গড়ে ওঠে পরিবার ৷

ভালোবাসার জৈবিক বিজ্ঞান ► হস্তকর্ম (নিজ হাতে করা ভুল)

http://media.somewhereinblog.net/images/thumbs/jitudhkbd_1342177745_5-ima2.jpg
masturbation নিয়ে কোন দিন লিখব ভাবি নাই। আমার হিসাবে masturbation এর সাথে ভালোবাসার কোন সম্পর্ক নাই, যদিয় mutual masturbation এর থাকতে পারে। বিজ্ঞানের হিসাবেও এই দুই এর পার্থক্য আকাশ আর পাতাল।

আমাদের স্নায়ু তন্ত্রের একটা খুবই গুরুত্ত পুর্ণ অংশ হল autonomic nervous system(ANS). এই অংশটা হল আমাদের স্নায়ু তন্ত্রের সেই অংশ যেখানে আমাদের ইচ্ছার কোন গুরুত্ত নাই। যেমন আমরা দৌড়ালে আমাদের হৃদস্পন্দন বৃদ্ধি পায় আবার ঘুমিয়ে থাকলে হৃদস্পন্দন কমে যায়। এটা ANS এর কাজ। এখানে আমাদের কিছুই করবার নাই। পুরা শরিরে ANS এর কাজের লিখতে গেলে কয়েক শত মেগাবাইট লেগে যেতে পারে, তাই অপ্রাসঙ্গিক আলোচনা বাদ। যাই হক আজকের মূল প্রসংগটা ANS নয়। কিন্তু তবুয় এসম্পর্কে কিছু বলতে হবে।

আন্তধর্ম বিয়ে - অমুসলিম বিয়ে


একজন মুসলিম কখনো অমুসলিম নারীকে বিয়ে করতে পারে না। মুসলিম হয়ে অন্য ধর্মাবলম্বীকে বিয়ে করা প্রসঙ্গে আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন,

‘আর তোমরা মুশরিক নারীদের বিয়ে করো না, যতক্ষণ না তারা ঈমান আনে এবং মুমিন দাসী মুশরিক নারীর চেয়ে নিশ্চয় উত্তম, যদিও সে তোমাদেরকে মুগ্ধ করে। আর মুশরিক পুরুষদের সাথে বিয়ে দিয়ো না, যতক্ষণ না তারা ঈমান আনে। আর একজন মুমিন দাস একজন মুশরিক পুরুষের চেয়ে উত্তম, যদিও সে তোমাদেরকে মুগ্ধ করে। তারা তোমাদেরকে আগুনের দিকে আহ্বান করে, আর আল্লাহ তাঁর অনুমতিতে তোমাদেরকে জান্নাত ও ক্ষমার দিকে আহ্বান করেন এবং মানুষের জন্য তাঁর আয়াতসমূহ স্পষ্টরূপে বর্ণনা করেন, যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করতে পারে’। {সূরা আল-বাকারা, আয়াত : ২২১}

বিয়ের পাত্রী


কোরআনে উল্লেখিত 'মাওদ্দাহ' এবং 'রাহমাহ'পূর্ণ একটা পারিবারিক অবস্থা দীর্ঘমেয়াদে বজায় রাখতে একেবারে মৌলিক জিনিস হল পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় থাকা। 'কম আকর্ষনীয়' হওয়ার কারনে পাত্রের যদি পাত্রীর প্রতি শ্রদ্ধাবোধ কমে যাবার আশংকা থাকে তাহলে চিন্তার অবকাশ আছে। চিন্তার অবকাশ মানে রিজেক্ট করার স্বাধীনতা নয়, প্রস্তাব ফিরিয়ে দেয়ার একমাত্র মাপকাঠি দ্বীনদারী বা তাক্বওয়ার ফিল্টার, যা হাদীসে পরিস্কারভাবে বলে দেয়া আছে। প্রায়োরিটি লিস্টে দ্বীনদারীকে এক নাম্বার থেকে দুই বা তিন নাম্বারে নিয়ে যাওয়ার মানে হচ্ছে ইবাদতকে ইবাদতের জায়গা থেকে সরিয়ে সামাজিকতার পর্যায়ে নিয়ে গিয়ে নিজের মত করে
পালন করা।

যদি মনে হয় পাত্রীর অন্যান্য ভালো গুণাবলী (যেমন মেধা) 'কম আকর্ষনীয়' হবার বিষয়কে ঢেকে দিতে সক্ষম, যেটা শ্রদ্ধাবোধকে কমাবে না, তাহলে আপাত দৃষ্টিতে খুবএকটা চ্যালেঞ্জ থাকেনা। এটা হলো 'কম আকর্ষনীয়' হবার মানসিক অস্থিরতার দিক। কিন্তু মূল অস্থিরতার দিকটা হলো শারীরিক।

এই ক্ষেত্রে আমার হায়পোথিসিস হলো- শারীরিক চাহিদায় যদি দুইজনের অন্তত একজন হাইপার আরেকজন এভারেজ হয় তাহলেও তেমন বড় কোন চ্যলেঞ্জ আছে বলে মনে হয়না। যদি দুজনেই শারীরিক সম্পর্কে কম আগ্রহী হন, তাহলে কিছুটা কনফিউশন থাকে। যেটা সরাসরি দূর করা সম্ভব নয়। শারীরিক বিষয়টা পুরোপুরি শারীরিক নয়, কিছুটা সাইকোলজিক্যালও বটে, তাই এসব বিষয়ে প্রয়োজন ফিল করলে সেক্সোলজিস্ট কারো সাথে কথা বলাও যেতে পারে।

দ্বীনদারীর বিষয়ে সন্তুষ্ট থাকলে আমার নিজস্ব ননজেনেরিক এলগরিদমের সারসংক্ষেপ হল:

১. আল্লাহ ভরসা করে কবুল বলে ফেলা, মানে ফিউচার চ্যলেঞ্জকে মোকাবেলার দায়দায়িত্ব শুরু থেকেই আল্লাহর উপর ছেড়ে দেয়া.... বিয়ের ইস্যুটা কিভাবে ডিল করবেন তার ডিসিশন আপনার হাতে, বাট হাদীসে যে বরকতের কথা বলা হয়েছে তা আল্লাহর হাতে...
২. ইস্তিখারা করে ওয়েট করা
৩. দ্বীনদারীর মাপকাঠিতে বেটার অপশন হাতে থাকলে তা বিবেচনা করা যায়। তবে আমি ব্যক্তিগতভাবে যদ্দুর বুঝেছি, তাক্বওয়া ব্যতিরেকে অন্য কোন পয়েন্টকে প্রাধান্য দিয়ে বিয়ের প্রস্তাবে না করার সরাসরি অপশন হাদীসে দেয়া হয়নি। শুধুমাত্র দ্বীনদারী ঠিক রেখে বেটার অপশন হাতে থাকলেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দেয়া যেতে পারে। বিয়ের ক্ষেত্রে সামাজিক অস্থিরতার মূল কারনটা হাদীসে বলাই আছে, তাক্বওয়ার মাপকাঠিতে সন্তষ্ট থাকার পরও বাছাই পর্ব দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর করা।

- Asm Chowdhury

সবিস্তার সূচীপত্র
টেম্পলেট কাষ্টমাইজেশন - তরঙ্গ ইসলাম | তরঙ্গ ইসলাম