সুরা আনফাল (শেষ) (৭২ থেকে ৭৫): ইসলামী রাষ্ট্রের পররাষ্ট্র-মন্ত্রণালয়ের কিছু নীতিমালা...

http://photos-g.ak.fbcdn.net/hphotos-ak-prn1/19163_284700582132_7053446_a.jpg 

 ৭২) যারা ঈমান এনেছে, হিজরাত করেছে এবং আল্লাহর পথে নিজের জানমালের ঝুকি নিয়ে জিহাদ করেছে আর যারা হিজরাতকারীদেরকে আশ্রয় দিয়েছে ও সাহায্য করেছে, আসলে তারাই পরস্পরের বন্ধু ও অভিভাবক৷ আর যারা ঈমান এনেছে ঠিকই কিন্তু হিজরাত করে (দারুল ইসলামে) আসেনি তারা হিজরাত করে না আসা পর্যন্ত তাদের সাথে তোমাদের বন্ধুত্বের ও অভিভাবকত্বের কোন সম্পর্ক নেই৷ ৫০ তবে হাঁ দীনের ব্যাপারে যদি তারা তোমাদের কাছে সাহায্য চায় তাহলে তাদেরকে সাহায্য করা তোমাদের জন্য ফরয৷ কিন্তু এমন কোন সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে নয় যাদের সাথে তোমাদের চুক্তি রয়েছে৷ ৫১ তোমরা যা কিছু করো আল্লাহ তা দেখেন৷
___________________________

*৫০ . এ আয়াতটি ইসলামের সাংবিধান আইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারা৷ এখানে একটি মূলনীতি নির্ধারিত হয়েছে৷ সেটি হচ্ছে, অভিভাবকত্বের সম্পর্ক এমন সব মুসলমানদের মধ্যে স্থাপিত হবে যারা দারুল ইসলামের বাসিন্দা অথবা বাইর থেকে হিজরত করে দারুল ইসলামে এসেছে৷ আর যেসব মুসলমান ইসলামী রাষ্ট্রের সীমানার বাইরে বাস করে তাদের সাথে অবশ্যি ধর্মীয় ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত থাকবে কিন্তু অভিভাকত্বের সম্পর্ক থাকবে না৷ অনুরূপভাবে যেসব মুসলমান হিজরত করে দারুল ইসলামে আসবে না বরং দারুল কুফরের প্রজা হিসেবে দারুল ইসলামে আসবে তাদের সাথে ও সম্পর্ক থাকবে না৷ অভিভাকত্ব শব্দটিকে এখানে মূলে ওয়ালায়াত শব্দের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে৷ আরবীতে ওয়ালায়াত ,অভিভাকত্ব বলতে সাহায্য সহায়তা, সমর্থন, পৃষ্ঠপোষকতা, মৈত্রী ,বন্ধুত্ব, নিকট আত্মীয়তা, অভিভাবকত্ব এবং এ সবের সাথে সামঞ্জস্যশীল অর্থ বুঝায়৷ এ আয়াতের পূর্বাপর আলোচনায় সুষ্পষ্টভাবে এ থেকে এমন ধরনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বুঝানো হয়েছে যা একটি রাষ্ট্রের তার নাগরিকদের সাথে, নাগরিকদের নিজেদের রাস্ট্রের সাথে এবং নাগরিকদের নিজেদের মধ্যে বিরাজ করে৷ কাজেই এ আয়াতটি "সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক অভিভাকত্ব"কে ইসলামী রাস্ট্রের ভুখণ্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে দেয়৷ এ সীমানার বাইরে মুসলমানদেরকে এ বিশেষ সম্পর্কের বাইরে রাখে৷ এ

সুরা আনফাল (৬৫ থেকে ৭১): বিজয়ের শর্তের কিছু গাণিতিক হিসেব-নিকেশ : ১ অনুপাত ১০ (ধৈর্য্যশীল ঈমানদার) - ১ অনুপাত ২ (দুর্বল ঈমানদার)

 http://a6.sphotos.ak.fbcdn.net/hphotos-ak-ash3/22063_267922757132_4459298_n.jpg
65) হে নবী! মুমিনদেরকে যুদ্ধের জন্য উদ্বুদ্ধ করো। তোমাদের মধ্যে বিশজন সবরকারী থাকলে তার দুশ জনের ওপর বিজয়ী হবে। আর যদি এমনি ধরনের একশ জন থাকে তাহলে তারা সত্য অস্বীকারকারীদের মধ্যে থেকে এক হাজার জনের ওপর বিজয়ী হবে। কারণ তারা এমন এক ধরনের লোক যাদের বোধশক্তি নেই। *৪৭
___________________________________________________

*৪৭ . আধুনিক পরিভাষায় যাকে আভ্যন্তরীণ সুক্ষ্মতর , শক্তি, নৈতিক শক্তি বা মনোবল (Morale) বলা হয় আল্লাহ তাকেই ফিকাহ , বোধ ,উপলব্ধি, বুদ্ধি, ও ধী-শক্তি (Understanding)বলেছেন৷ এ অর্থ ও ভাবধারা প্রকাশের জন্যে এ শব্দটি আধুনিক পরিভাষার তুলনায় বেশী বিজ্ঞানসম্মত৷ যে ব্যক্তি নিজের উদ্দেশ্যের ব্যাপারে সঠিকভাবে সচেতন এবং ঠাণ্ডা মাথায় ভালভাবে চিন্তে এ জন্যে সংগ্রাম করতে থাকে যে, যে জিনিসের জন্যে সে নিজের প্রাণ উৎসর্গ করতে এসেছে তা তার ব্যক্তিগত জীবনের চেয়ে অনেক বেশী মূল্যবান এবং তা নষ্ট হয়ে গেলে তার জন্যে বেঁচে থাকা অর্থহীন হয়ে পড়বে, সে এ ধরনের চেতনা ও উপলব্দি থেকে বঞ্চিত একজন যোদ্ধার চেয়ে কয়েকগুণ বেশী শক্তিশালী৷ যদিও শরীরিক শক্তির প্রশ্নেউভয়ের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই তারপর যে ব্যক্তি সত্যের জ্ঞান রাখে , যে ব্যক্তি নিজের অস্তিত্ব ,আল্লাহর অস্তিত্ব, আল্লাহর সা, নিজের সম্পর্ক এবং পার্থিব জীবনের তাৎপর্য ,মৃত্যুর তাৎপর্য ও মৃত্যুর পরের জীবনের তাৎপর্য ভালভাবে উপলব্দি করে এবং যে ব্যক্তি হক ও বাতিলের পার্থক্য আর এই সাথে বাতিলের বিজয়ের ফলাফল সম্পর্কেও সঠিকভাবে জ্ঞাত, তার শক্তির ধারে কাছেও এমন সব লোক পৌছতে পারবে না যারা জাতীয়তাবাদ ,স্বাদেশিকতাবাদ বা শ্রেনী সংগ্রামের চেতনা নিয়ে কর্মক্ষেত্রে নেমে আসে৷ এ জন্যেই বলা হয়েছে, একজন বোধশক্তি সম্পন্ন সজাগ মুমিন ও একজন কাফেরের মধ্যে সত্যের জ্ঞান ও সত্য সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণেই প্রকৃতগতভাবে এক ও দশের অনুপাত সৃষ্টি হয়৷ কিন্তু শুধুমাত্র উপলব্দি ও জ্ঞানের সাহায্যে এই অনুপাত প্রতিষ্ঠিত হয় না বরং সেই সাথে সবরের গুণও এর একটি অপরিহার্য শর্ত৷

সুরা আনফাল (৬০ থেকে ৬৪) : "আমাদের দরকার! অন্ত:ত কয়েক-শ' পারমানবিক বিষ্ফোরক, যার দাপটে থরথর কাঁপে সময়ের নমরুদ আর ফিরাউনেরা"

http://a6.sphotos.ak.fbcdn.net/hphotos-ak-prn1/22063_243887757132_4060533_n.jpg
60) আর তোমরা নিজেদের সামর্থ অনুযায়ী সর্বাধিক পরিমাণ শক্তি ও সদাপ্রস্তুত ঘোড়া তাদের মোকাবিলার জন্য যোগাড় করে রাখো। **৪৪ এর মাধ্যমে তোমরা ভীতসন্ত্রস্ত করবে আল্লাহর শত্রুকে , নিজের শত্রুকে এবং অন্য এমন সব শত্রুকে যাদেরকে তোমরা চিন না। কিন্তু আল্লাহ চেনেন। আল্লাহর পথে তোমরা যা কিছু খরচ করবে তার পূর্ণ প্রতিদান তোমাদেরকে ফিরিয়ে দেয়া হবে, এবং তোমাদের প্রতি কখনো জুলুম করা হবে না।
__________________________________

**৪৪ . এর অর্থ হচ্ছে, তোমাদের কাছে যুদ্ধোপকরণ ও একটি স্থায়ী সেনাবাহিনী (Standing Army) সর্বক্ষণ তৈরী থাকতে হবে৷ তাহলে প্রয়োজনের সময় সংগে সংগেই সামারিক পদক্ষেপ নেয়া সম্ভবপর হবে৷ এমন যেন না হয়, বিপদ মাথার ওপর এসে পড়ার পর হতবুদ্ধি হয়ে তাড়াতাড়ি স্বেচ্ছাসেবক, অস্ত্রশস্ত্র ও অন্যান্য রসদপত্র যোগাড় করার চেষ্টা করা হবে এবং এভাবে প্রস্তুতি পূর্ব সম্পন্ন হতে হতেই শত্রু তার কাজ শেষ করে ফেলবে৷
__________________________________

61) আর হে নবী! শত্রু যদি সন্ধিও শান্তির দিকে ঝুঁকে পড়ে, তাহলে তুমিও সেদিকে ঝুঁকে পড়ো এবং আল্লাহর প্রতি নির্ভর করো। নিশ্চয়ই তিনি সবকিছু শুনেন এবং জানেন।
__________________________________

সুরা আনফাল (৫৫ থেকে ৫৯) : চুক্তি-ভঙ্গ - বিশ্বাসঘাতকতা ও যুদ্ধের ক্ষেত্রে খিয়ানত বিষয়ক নীতিমালা...

http://photos-h.ak.fbcdn.net/hphotos-ak-ash3/21863_218926762132_6535060_a.jpg 

৫৫) অবশ্যি আল্লাহর কাছে যমিনের ওপর বিচরনশীল জীবের মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট হচ্ছে তারাই যারা সত্যকে মেনে নিতে অস্বীকার করেছে৷ তারপর তারা আর কোন মতেই তা গ্রহণ করতে প্রস্তুত নয়৷ ___________

৫৬) বিশেষ করে তাদের মধ্যে থেকে এমন সব লোক যাদের সাথে তুমি চুক্তি করছো তারপর তারা প্রত্যেকবার তা ভংগ করে এবং একটুও আল্লাহর ভয় করে না৷ *৪১
____________________

*৪১ . এখানে বিশেষভাবে ইহুদীদের প্রতি ইশারা করা হয়েছে৷ মদীনা তাইয়েবায় আসার পর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সর্বপ্রথম তাদের সাথেই সৎ প্রতিবেশী সূলভ জীবন যাপন ও পারস্পরিক সাহায্য সহযোগিতার চুক্তি করেছিলেন ৷ তাদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখার জন্যে তিনি নিজের সামর্থ অনুযায়ী পূর্ণ প্রচেষ্টা চালিয়ে ছিলেন৷ তাছাড়া ধর্মী

সুরা আনফাল (৪৮ থেকে ৫৪) : কোন জাতির ভাগ্য পরিবর্তন আল্লাহ ততক্ষণ পর্যন্ত করেন না, যতক্ষণ সেই জাতি তার কর্মনীতির পরিবর্তন না করে

http://photos-c.ak.fbcdn.net/hphotos-ak-prn1/12464_208826527132_4847148_a.jpg 

৪৮) সেই সময়ের কথা একটু মনে করো যখন শয়তান এদের কার্যকলাপ ওদের চোখে ঔজ্জ্বল্যময় করে দেখিয়েছিল এবং এদেরকে বলেছিল, আজ তোমাদের ওপর কেউ বিজয়ী হতে পারে না এবং আমি তোমাদের সাথে আছি৷ কিন্তু যখন উভয় বাহিনীর সামানাসামনি মোকাবিলা শুরু হলো তখনই সে পিছনের দিকে ফিরে গেলো এবং বলতে লাগলোঃ তোমাদের সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই৷ আমি এমন কিছু দেখছি যা তোমরা দেখো না৷ আমি আল্লাহকে ভয় পাচ্ছি৷ আল্লাহ বড় কঠোর শাস্তিদাতা৷

____________________
৪৯) যখন মুনাফিকরা এবং যাদের দিলে রোগ আছে তারা সবাই বলছিল, এদের দীনই তো এদের মাথা বিগড়ে দিয়েছে৷ *৩৯ অথচ যদি কেউ আল্লাহর ওপর ভরসা করে তাহলে আল্লাহ অবশ্যি বড়ই পরাক্রান্ত ও জ্ঞানী ৷

*৩৯ . অর্থাৎ মদীনার মুনাফীক গোষ্ঠি এবং বৈষয়িক স্বার্থ পূজায় ও আল্লাহর প্রতি গাফলতির রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিবর্গ যুদ্ধের সাজ সরঞ্জামহীন মুষ্টিমেয় লোকের একটি দলকে কুরাইশদের মত বিরাট শক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধ যাত্রা করতে দেখে নিজেদের মধ্যে এ মর্মে বলাবলি করছিল যে, এরা আসলে নিজেদের ধর্মীয় আবেগে উন্মাদ হয়ে গেছে৷ এ যুদ্ধে এদের ধ্বংস অনিবার্য৷ কিন্তু এই নবী (সা) এদের কানে এমন মন্ত্র ফুঁকে দিয়েছে যার ফলে এরা বুদ্ধিভ্রষ্ট হয়ে গেছে এবং সামনে মৃত্যু গূহা দেখেও তার মধ্যে ঝাঁপিয়ে পড়ছে৷

________________________________________

সুরা আনফাল (৪৫ থেকে ৪৭) : "নিজেদের মধ্যে বিবাদ করলে প্রতিপত্তির দিন শেষ হয়ে যাবে"(..বিজয়ের মাসে ঐক্যবদ্ধ সমৃদ্ধ জাতি গড়ার শপথ..)

http://photos-c.ak.fbcdn.net/hphotos-ak-ash3/12464_200213797132_100084_a.jpg 

৪৫) হে ঈমানদারগণ! যখন কোন দলের সাথে তোমাদের মোকাবিলা হয়, তোমরা দৃঢ়পদ থাকো এবং আল্লাহকে স্মরণ করতে থাকো বেশী বেশী করে৷ আশা করা যায়, এতে তোমরা সাফল্য অর্জন করবে৷
._________________

৪৬) আর আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আনুগত্য করো এবং নিজেদের মধ্যে বিবাদ করো না, তাহলে তোমাদের মধ্যে দুর্বলতা দেখা দেবে এবং তোমাদের প্রতিপত্তির দিন শেষ হয়ে যাবে৷ সবরের পথ অবলম্বন করো, *৩৭ অবশ্যি আল্লাহ সবরকারীদের সাথে রয়েছেন৷
_____________________________________

*৩৭ . অর্থাৎ নিজেদের আবেগ অনুভূতি ও কামনা-বাসনাকে সংযত রাখো ৷ তাড়াহুড়ো করো না৷ ভীত-আতংকিত হওয়া, লোভ-লালসা পোষণ করা এবং অসংগত উৎসাহ -উদ্দীপনা প্রকাশ থেকে দূরে থাকো৷ স্থির মস্তিস্কে এবং ভারসাম্যপূর্ণ ও যথার্থ পরিমিত বিচক্ষণতা ও ফায়সালা করার শক্তি সহকারে কাজ করে যাও৷ বিপদ-আপোদ ও সংকট -সমস্যার সম্মুখীন হলেও যেন তোমাদের পা না টলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি দেখা দিলে ক্রোধ ও ক্ষোভের তরংগে ভেসে গিয়ে তোমরা

সুরা আনফাল (৩৬ থেকে ৪৪) : কুরআন-বিদ্বেষীদের (যারা কুরআনের আইন চায়না) পূর্বের অপরাধ ক্ষমা করার আশ্বাস - যদি তারা ফিরে আসে !

 http://photos-e.ak.fbcdn.net/hphotos-ak-prn1/15745_182302757132_8096114_a.jpg

৩৬) যারা সত্যকে মেনে নিতে অস্বীকার করেছে তারা নিজেদের ধন-সম্পদ আল্লাহর পথ রোধ করার জন্য ব্যয় করেছে এবং এখনো আরো ব্যয় করতে থাকবে৷ কিন্তু শেষ পর্যন্ত এ প্রচেষ্টা তাদের অনুশোচনার কারণ হয়ে দাঁড়াবে ৷ তারপর তারা বিজিত হবে৷ আর এ কাফেরদের ঘেরাও করে জাহান্নামের দিকে আনা হবে৷
______________________________________

৩৭) মূলত আল্লাহ কলুষতাকে পবিত্রতা থেকে ছেঁটে আলাদা করবেন এবং সকল প্রকার কলুষতা মিলিয়ে একত্র করবেন তারপর এ পুঁটলিটা জাহান্নামে ফেলে দেবেন৷ মূলত এরাই হবে দেউলিয়া৷ *৩০
______________________________________

*৩০ . মানুষ যে পথে নিজের সমস্ত সময়, শ্রম, যোগ্যতা, ও জীবন পূঁজি ব্যয় করে , তার একেবারে শেষ প্রান্তে পৌছে গিয়ে যদি সে জানতে পারে যে, এসব তাকে সোজা ধ্বংসের দিকে টেনে এনেছে এবং এ পথে সে যা কিছু খাটিয়েছে তাতে সূদ বা মুনাফা পাওয়ার পরিবর্তে উল্টো তাকে দণ্ড ভোগ করতে হবে, তাহলে এর চাইতে বড় দেউলিয়াপনা তার জন্যে আর কী হতে পারে!
______________________________________

৩৮) হে নবী! এ কাফেরদের বলে দাও , যদি এখনো তারা ফিরে আসে ,তাহলে যা কিছু আগে হয়ে গেছে তা মাফ করা হবে৷ কিন্তু যদি তারা আগের আচরণের পুনরাবৃত্তি করে, তাহলে অতীতের জাতিগুলোর সাথে যা কিছু ঘটে গেছে তা সবার জানা৷
.
______________________________________

সুরা আনফাল (৩২ থেকে ৩৫) : আল্লাহর আযাব শুধু আকাশ থেকে পাথরবর্ষণ বা নুহ আ: এর প্লাবণের আকারেই আসেনা !

 http://photos-f.ak.fbcdn.net/hphotos-ak-ash3/12652_173494262132_1169945_a.jpg
৩২) আর সেই কথাও স্মরণ যোগ্য যা তারা বলেছিলঃ হে আল্লাহ! যদি এটা যথার্থই সত্য হয়ে থাকে এবং তোমার পক্ষ থেকে হয়ে থাকে তাহলে আমাদের ওপর আকাশ থেকে পাথর বর্ষণ করো অথবা কোন যন্ত্রণাদায়ক আযাব আমাদের ওপর আনো৷ ২৬
_________________________________________

২৬ . একথা তারা দোয়া হিসেবে নয়, চ্যালেঞ্জের সুরে বলতো৷ অর্থাৎ তাদের একথা বলার উদ্দেশ্য ছিল, যদি যথার্থই এটি সত্য হতো এবং আল্লাহর পক্ষে থেকে হতো, তাহলে একে মিথ্যা বলার ফলে তাদের ওপর আকাশ তেকে পাথর বর্ষিত হতো এবং ভয়াবহ আযাব তাদের ওপর আপতিত হতো৷ কিন্তু তা হয়নি৷ আর যখন তা হয়নি তখন এর অর্থ হচ্ছে , এটি সত্যও নয় এবং আল্লাহর পক্ষ থেকেও আসেনি৷
_________________________________________

সুরা আনফাল (২৬ থেকে ৩১) : স্মরণ করো সেই সময়ের কথা-লোকেরা ভেবেছিলো তোমাদেরকে খতম-ই করে দেবে !!!

 http://a6.sphotos.ak.fbcdn.net/hphotos-ak-snc6/8120_157926382132_7762532_n.jpg
২৬) স্মরণ করো সেই সময়ের কথা যখন তোমরা ছিলে সামান্য কয়েকজন৷ পৃথিবীর বুকে তোমাদের দুর্বল মনে করা হতো৷ লোকেরা তোমাদের খতম করেই দেয় নাকি, এ ভয়ে তোমরা কাঁপতে৷ তারপর আল্লাহ তোমাদের আশ্রয়স্থল যোগার করে দিলেন, নিজের সাহায্য দিয়ে তোমাদের শক্তিশালী করলেন এবং তোমাদের ভাল ও পবিত্র জীবিকা দান করলেন, হয়তো তোমরা শোকরগুজার হবে৷ ২১

________________________________

২১ . এখানে শোকগুজার শব্দটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ৷ ওপরের ধারাবাহিক বক্তব্যগুলো সামনে রাখলে একটা কথা পরিস্কার হয়ে যায়৷ আল্লাহ মুসলমানদের দুর্বলতার অব্স্থা থেকে বের করে এনেছেন এবং মক্কার বিপদসংকুল জীবন থেকে উদ্ধার করে তাদেরকে এমন শান্তি ও নিরাপত্তার ভূমিতে আশ্রয় দিয়েছিলেন যেখানে তারা উত্তম রিযিক লাভ করছে, শুধুমাত্র এতটুকু কথা মেনে নেয়াই শুকরগুজারী অর্থ প্রকাশের জন্যে যথেষ্ট নয়৷ বরং সেই সাথে একথাও অনুধাবন করা শোকরগুজারীর অন্তরভুক্ত যে, যে মহান আল্লাহ মুসলমানদের প্রতি এত সব অনুগ্রহ করেছেন সেই আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আনুগত্য করা তাদের কর্তব্য৷ আর রসূল যে আন্দোলনের সূচনা করেছেন, তাকে সফল করার সধানায় তাদেরকে আন্তরিকতা ও উৎসর্গিত মনোভাব নিয়ে আত্মনিয়োগ করতে হবে৷ এ কাজে যেসব

সুরা আনফাল (১৭ থেকে ২৫) : সুরা আনফাল (১৭ থেকে ২৫) : বিবেক বুদ্ধি যারা কাজে লাগায় না, আল্লাহর কাছে তারা সবচেয়ে অপছন্দনীয়



১৭) কাজেই সত্য বলতে কি, তোমরা তাদেরকে হত্যা করনি বরং আল্লাহই তাদেরকে হত্যা করেছেন৷ আর তোমরা নিক্ষেপ করনি বরং আল্লাহ নিক্ষেপ করেছেন৷ ১৪* (আর এ কাজে মুমিনদের হাত ব্যবহার করা হয়েছিল) এ জন্য যে আল্লাহ মুমিনদেরকে একটি চমৎকার পরীক্ষার মধ্য দিয়ে সফলতার সাথে পার করে দেবেন৷ অবশ্যি আল্লাহ সবকিছু শুনেনে ও জানেন৷
........................................

১৪* . বদরের যুদ্ধে যখন মুসলমান ও কাফেরদের সেনাদল ময়দানে পরষ্পরের মুখোমুখি হলো এবং আঘাত -পাল্টা আঘাতের সময় এসে গোলো তখন নবী (সা) এক মুঠো বালি হাতে নিয়ে -----(শত্রুদলের চেহারাগুলো বিগড়ে যাক) বলে কাফেরদের দিকে ছুড়ে দিলেন৷ এই সংগে তার ইঙ্গিতে মুসলমারা অকস্মাত কাফেদের ওপর আক্রমণ করলো৷ এখানে এ ঘটনাটির দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে৷
.
........................................

১৮) এ ব্যাপারটি তো তোমাদের সাথে! আর কাফেরদের সাথে যে আচরণ করা হবে তা হচ্ছে আল্লাহ তাদের কৌশলগুলো দুর্বল করে দেবেন৷
.

সুরা আনফাল (৯ থেকে ১৬) : বদর যুদ্ধের প্রেক্ষিতে ইসলামের যুদ্ধনীতি (পৃষ্ঠ প্রদর্শনকারীর অবস্থান জাহান্নামে)

http://photos-b.ak.fbcdn.net/hphotos-ak-snc6/7418_134242542132_5636517_a.jpg
9) আর সেই সময়ের কথা স্মরণ করো যখন তোমরা তোমাদের রবের কাছে ফরিয়াদ করছিলে৷ জবাবে তিনি বললেন , তোমাদের সাহায্য করার জন্য আমি একের পর এক, এক হাজার ফেরেশতা পাঠাচ্ছি৷


10) একথা আল্লাহ তোমাদের শুধুমাত্র এ জন্য জানিয়ে দিলেন যাতে তোমরা সুখবর পাও এবং তোমাদের হৃদয় নিশ্চিন্ততা অনুভব করে৷ নয়তো সাহায্য যখনই আসে আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসে৷ অবশ্যই আল্লাহ মহাপরাক্রমশীল ও মহাজ্ঞানী৷
________________________________________

11) আর সেই সময়, যখন আল্লাহ নিজের পক্ষ থেকে তন্দ্রার আকারে তোমাদের জন্য নিশ্চিন্ততা ও নির্ভীকতার পরিবেশ সৃষ্টি করেছিলেন৷ ৮ এবং আকাশ থেকে তোমাদের ওপর পানি বর্ষণ করেছিলেন, যাতে তোমাদের পাক -পবিত্র করা যায়, শয়তান তোমাদের ওপর যে নাপাকী ফেলে দিয়েছিল তা তোমাদের থেকে দুর করা যায়, তোমাদের সাহস যোগানো যায় এবং তার মাধ্যমে তোমাদেরকে সুদৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করা যায়৷ ৯
________________________________________

৮ . অহোদ যুদ্ধেও মুসলমানদের এ একই ধরনের অভিজ্ঞতা হয়েছে৷ সূরা আলে ইমরানের ১১ রুকূতে একথা আলোচিত হয়েছে৷ উভয় জায়গায় কারণ একটি ছিল৷ অর্থাৎ যখনই প্রচণ্ড ভীতি ও আতংক দেখা দিয়েছে তখনই আল্লাহ মুসলমানদের দিল বিপুল নিশ্চিন্ততায় ভরে দিয়েছেন৷ এর ফলে তার তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিল৷

৯ . যে রাতটি পোহাবার পরের দিন সকালে বদরের যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল, এটি ছিল সেই রাতের ঘটনা৷ এ বৃষ্টির সুফল ছিল তিনটি৷ এক, মুসলমানরা বিপুল পরিমাণ পানি পেয়ে গিয়েছিল৷ তারা সংগে সংগেই জলাধার তৈরী করে পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা করেছিল৷ দুই, মুসলমানরা উপত্যকার ওপরের দিকে অবস্থান করছিল৷ কাজেই বৃষ্টির ফলে বালি জমাট বেঁধে যথেষ্ট শক্ত হয়ে গিয়েছিল৷ তার ওপর দিয়ে মুসলমানদের বলিষ্ঠভাবে চলাফেরা করা সহজ হয়েছিল৷ তিন, কাফেরদের সেনা দল ছিল নীচের দিকে ৷ বৃষ্টির পানি সেখানে জমে গিয়ে কাদা হয়ে গিয়েছিল৷ ফলে সেখানে হাটতে গেলেই পা দেবে যাচ্ছিল৷

মুসলমানদের মধ্যে প্রথম দিকে যে ভীতির অবস্থা বিরাজমান ছিল তাকেই শয়তানের ছুঁড়ে দেয়া নাপাকী বলা হয়েছে৷

________________________________________



12) আর সেই সময়, যখন তোমার রব ফেরেশতাদেরকে ইঙ্গিত করেছিলেন, এই বলেঃ আমি তোমাদের সাথে আছি , তোমরা ঈমানদারদেরকে অবিচল রাখো, আমি এখনই এ কাফেরদের মনে আতংক সৃষ্টি করে দিচ্ছি৷ কাজেই তোমরা তাদের ঘাড়ে আঘাত করো এবং প্রতিটি জোড়ে ও গ্রন্থী -সন্ধিতে ঘা মারো৷ ১০
________________________________________

১০ . কুরআন থেকে আমরা যে নীতিগত কথাগুলো জানতে পারি তার ভিত্তিতে আমরা মনে করি, যুদ্ধ ক্ষেত্রে ফেরেশতারা হয়তো প্রত্যক্ষভাবে লড়াই করেননি এবং তরবারি হাতে নিয়ে সরাসরি মারামারি কাটাকাটিতে অংশও নেননি৷ সম্ভবত তারা এভাবে যুদ্ধে অংশ নিয়েছিল যে, কাফেরদের ওপর মুসলমানরা যে আঘাত হানছিল তা ফেরেশতাদের সহযোগিতায় সঠিক জায়গায় পড়ছিল এবং প্রতিটি আঘাত হচ্ছিল , চুড়ান্ত ও মারাত্মাক৷ অবশ্যি সঠিক ব্যাপার আল্লাহই ভাল জানেন৷
________________________________________


13) এটা করার কারণ , তারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের প্রতি বিদ্রোহ পোষণ করেছে৷ আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রসূলের প্রতি বিদ্রোহ করে আল্লাহ তার জন্য কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা করে রেখেছেন৷ আর আল্লাহর পাকড়াও বড়ই কঠিন৷ ১১
________________________________________

১১ . এ পর্যন্ত এক এক করে বদর যুদ্ধের যে ঘটনাবলী স্মরণ করিয়ে দেয়া হলো, আনফাল শব্দের অন্তরনিহিত তত্ব উদঘাটন করাই ছিল এর উদ্দেশ্য৷ শুরুতে বলা হয়েছিল, কেমন করে তোমরা এ গনীমতের মালকে নিজেদের প্রচেষ্টা ও মেহনতের ফল মনে করে এর মালিক বনে যেতে চাচ্ছো? এতো আসলে আল্লাহর দান৷ দাতা নিজেই তার সম্পদের পূর্ণ ক্ষমতার অধিকারী৷ এর স্বপক্ষে প্রমাণ হিসেবে এ ঘটনাগুলো শুনিয়ে দেয়া হয়েছে৷ এর অর্থ হচ্ছে, তোমরা নিজেরাই হিসাব লাগিয়ে দেখে নাও ,এ ব্যাপারে তোমাদের নিজেদের প্রচেষ্টা , মেহনত ও সাহসিকতার অংশ কি পরিমাণ ছিল এবং আল্লাহর দান ও অনুগ্রহের অংশ ছিল কি পরিমাণ?
________________________________________

14) -এটা ১২ হচ্ছে তোমাদের শাস্তি, এখন এ মজা উপভোগ কর৷ আর তোমাদের জানা উচিত, সত্য অস্বীকারকারীদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের আযাব৷
________________________________________

১২ . এখান থেকে হঠাৎ কাফেরদেরকে সমম্বোধন করা শুরু হয়েছে৷ যাদেরকে একটু আগে শাস্তি লাভের যোগ্য বলা হয়েছিল৷
.
________________________________________

15) হে ঈমানদারগণ! যখন তোমরা একটি সেনাবাহিনীর আকারে কাফেরদের মুখোমুখি হও তখন তাদের মোকাবিলায় পৃষ্ঠ প্রদর্শন করো না৷
.
________________________________________

16) যে ব্যক্তি এ অব্স্থায় পৃষ্ঠ প্রদর্শন করে সে আল্লাহর গযবে ঘেরাও হয়ে যাবে৷ তার আবাস হবে জাহান্নাম এবং ফিরে যাবার জন্যে তা বড়ই খারাপ জায়গা৷ ১৩ তবে হাঁ যুদ্ধের কৌশল হিসেবে এমনটি করে থাকলে অথবা অন্য কোন সেনাদলের সাথে যোগ দেবার জন্য করে থাকলে তা ভিন্ন কথা৷
________________________________________

১৩ . শত্রুর প্রবল চাপের মুখে নিজেদের পেছনের কেন্দ্রে ফিরে আসা অথবা নিজেদেরই সেনাদলের অন্য কোন অংশের সাথে যোগ দেবার জন্য সুপরিকল্পিত পশ্চাদপসরণ (Orderly Retreat) নাজায়েয নয়৷ তবে যুদ্ধের উদ্দেশ্য নিয়ে নয় রবং নিছক কাপুরুষতা ও পরাজিত মানসিকতার কারণে যুদ্ধ ক্ষেত্র থেকে ছত্রভংগ হয়ে পালানো (Rout) হারাম৷ কারণ এ ক্ষেত্রে উদ্দেশ্য ও লক্ষের তুলনায় মানুষের প্রাণটাই তার কাছে বেশী প্রিয় হয়ে উঠে৷ এ পালানোকে কবীরা গুনাহের মধ্যে গণ্য করা হয়েছে৷তাই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, তিনটি গুনাহ এমন যে, তার সাথে কোন নেকী সংযুক্ত হলে কোন লাভ নেই৷ এক, শিরক৷ দুই, বাপ-মায়ের অধিকার নষ্ট করা৷তিন, আল্লাহর পথে লড়াই এর ময়দান থেকে পালানো৷ এভাবে তিনি আর একটি হাদীসে এমন সাতটি বড় বড় গুনাহের কথা বর্ণনা করেছেন যা মানুষের জন্যে ধ্বসংসকর এবং পরকালেও তাকে ভয়াবহ পরিণামের মুখোমুখি করবে৷এর মধ্যে একটি গুনাহ হচ্ছে, কুফর ও ইসলামের যুদ্ধ কাফেরদের সামনে থেকে পালানো৷ এটা একটা কাপুরুষোচিত কাজ বলেই যে, একে এতবড় গুনাহ গণ্য করা হয়েছে তা নয়৷ বরং এর কারণ হচ্ছে, একজন সৈনিকের ছুটাছুটি , দৌড়াদৌড়ি এবং ছত্রভংগ হয়ে বেরিয়ে যাওয়া অনেক সময় পুরো একটি বাহিনীকে ভীত সন্ত্রস্ত ও দিশেহারা করে দেয় এবং পালাতে উদ্বুদ্ধ করে ৷ আর একবার যখন একটি সেনাদলের মধ্যে দৌড়াদৌড়ি ও পালিয়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখা দেয়, তখন তাদের বিপর্যয় ও ধ্বংস যে কতদূর গিয়ে ঠেকাবে তা বলা যায় না৷ এ ধরনের ছুটাছুটি ও পলায়নপরতা শুধু সেনাদলের জন্যেই ধ্বংসকর নয় বরং যে দেশের সেনাদল এ ধরনের পরাজয় বরণ করে তার জন্যেও বিপর্যয়কর৷

সূরা আনফাল (১-৮) : বদর যুদ্ধের সূরা : "গণীমতের মাল" অর্থাৎ যুদ্ধলব্ধ সম্পদ ব্যাপারটা আসলে কি ?

লোকেরা তোমার কাছে গনীমাতের মাল সম্পর্কে জিজ্ঞেস করছে? বলে দাও, এ গনীমতের মাল তো আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ৷কাজেই তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, নিজেদের পারষ্পরিক সম্পর্কে শুধরে নাও এবং আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আনুগত্য করো, যদি তোমরা মুমিন হয়ে থাকো৷ ১

____________________________




১ . এক অদ্ভুত ধরনের ভূমিকা দিয়ে যুদ্ধের ঘটনাবলীর পর্যালোচনা শুরু করা হয়েছে৷ বদরের ময়দানে কুরাইশ সেনাদলের কাছ থেকে যে, গনীমতের মাল লাভ করা হয়েছিল তা বন্টন করার ব্যাপারে মুসলমানদের মধ্যে বিবাদ দেখা দিয়েছিল৷ যেহেতু ইসলাম গ্রহণ করার পর এই প্রথমবার তারা ইসলামের পতাকা তলে লড়াই করার সুযোগ পেয়েছিলেন৷তাই এ প্রসংগে যুদ্ধ ও যুদ্ধজনিত বিষয়াদিতে ইসলামের বিধান কি তা তাদের জানা ছিল না৷ সূরা বাকারাহ ও সূরা মুহাম্মাদ কিছু প্রাথমিক নির্দেশ দেয়া হয়েছিল৷ কিন্তু তখনো কোন সামরিক কৃষ্টি , সভ্যতা ও রীতিনীতির ভিত্তি পত্তন করা হয়নি৷ আরো বহু সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিষয়ের ন্যায় মুসলমানরা তখনো পর্যন্ত যুদ্ধের ব্যাপারেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে পুরাতন জাহেলিয়াতের ধারণাই পোষণ করতো৷ এ কারণে বদরের যুদ্ধে কাফেরদের পরাজয়ের পর যে ব্যক্তি যে পরিমাণ গনীমতের মাল হস্তগত করেছিল আরবের পুরাতন রীতি অনুযায়ী সে নিজেকে তার মালিক ভেবে নিয়েছিল৷ কিন্তু দ্বিতীয় একটি দল গনিমতের দিকে ভ্রুক্ষেপ না করে কাফেরদের পিছনে ধাওয়া করেছিল৷তারা এ সম্পদে নিজেদের সমান সমান অংশ দাবী করলো৷ কারণ তারা বললো , আমরা যদি শত্রুর পেছনে ধাওয়া করে তাদেরকে দুরে ভাগিয়ে দিয়ে না আসতাম এবং তোমাদের মত গনীমতের মাল আহরণ করতে লেগে যেতাম তাহলে শত্রুদের ফিরে এসে পাল্টা হামলা চালিয়ে আমাদের বিজয়কে পরাজয়ে রূপান্তরিত করে দেবারও সম্ভবনা ছিল৷ তৃতীয় একটি দল রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হেফাজতে নিয়োজিত ছিল৷ তারাও নিজেদের দাবী পেশ করলো৷ তারা বললো,এ যুদ্ধে আমরাই তো সবচেয়ে বেশী মূল্যবান ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছি৷ আমরা যদি রসূল (সা) এর চারদিকে মজবুত প্রাচীর গড়ে না তুলতাম এবং আল্লাহ না করুণ! তার ওপর যদি কোন আঘাত আসতো তাহলে বিজয় লাভ করারই কোন প্রশ্ন উঠতো না৷ ফলে কোন গনীমতের মাল ও লাভ করা যেতো না এবং বন্টন করারও সমস্যা দেখা দিত না ৷ কিন্তু গনিমতের মাল কার্যত যাদের হাতে ছিল তাদের মালিকানার জন্যে যেন কোন প্রমাণের প্রয়োজন ছিল না৷ একটি জ্বলজ্যান্ত সত্য যুক্তি -প্রমাণের মাধ্যমে পরিবর্তিত হয়ে যাবে, যুক্তি প্রমাণের এ অধিকার মানতে তারা প্রস্তুত ছিল না৷ এভাবে অবশেষে এ বিবাদ তিক্ততার রূপ ধারণ করলো এবং কথাবার্তা তিক্ততা এক পর্যায়ে মনেও ছড়িয়ে পড়তে লাগলো৷

সুরা আনফাল → বিষয়বস্তু : বদর যুদ্ধের প্রেক্ষাপট

https://fbcdn-sphotos-a-a.akamaihd.net/hphotos-ak-ash3/c48.0.403.403/p403x403/547878_10150998856369094_1632918717_n.jpg
নাযিলের সময়কাল

এ সূরাটি দ্বিতীয় হিজরীতে বদর যুদ্ধের পরে নাযিল হয়। ইসলাম ও কুফরের মধ্যে সংঘটিত এ প্রথম যুদ্ধের ওপর এতে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়েছে। সূরার মূল বিষয়বস্তু সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা করলে অনুমান করা যায়, সম্ভবত এ সমগ্র সূরাটি একটি মাত্র ভাষনের অন্তর্ভুক্ত এবং একই সঙ্গে এ ভাষণটি নাযিল করা হয়। তবে এর কোন কোন আয়াত বদর যুদ্ধ থেকে উদ্ভূত সমস্যার সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়া সত্ত্বেও পরে নাযিল হয়ে থাকতে পারে। পরবর্তী পর্যায়ে ভাষণের ধারাবাহিকতায় এগুলোকে উপযুক্ত স্থানে রেখে, এ সমগ্র ভাষণটিকে একটি ধারাবাহিক ভাষণের রূপ দান করা হয়েছে। কিন্তু দু'-তিনটি আলাদা আলাদা ভাষণকে এক সাথে জুড়ে দিয়ে একটি অখণ্ড ভাষনে রূপান্তরিত করা হয়েছে বলে মনে হতে পারে এমন কোন জোড়ের সন্ধান এ সমগ্র ভাষণের কোথাও পাওয়া যাবে না।

ঐতিহাসিক পটভূমি
এ সূরাটি পর্যালোচনা করার আগে বদরের যুদ্ধ এবং তার সাথে সম্পর্কিত অবস্থা ও ঘটনাবলীর ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ প্রয়োজন।

সবিস্তার সূচীপত্র
টেম্পলেট কাষ্টমাইজেশন - তরঙ্গ ইসলাম | তরঙ্গ ইসলাম