মরণজয়ী মুজাহিদ -(পাহাড়ী এক লড়াকু)

১৯৭৯ সালের ২৭ ডিসেম্বর। হঠাৎ করে খবর হলো, সোভিয়েত ইউনিয়ন আফগানিস্তান দখল করে নিয়েছে। অধিকাংশ সাধারণ মানুষের মত আমিও ঘটনাটি অতিরঞ্জন বলেই মনে করেছিলাম। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই খবরের সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হলাম। তখন মনে হলো, সোভিয়েত রাশিয়ার বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধ করে জন্মভূমির স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার করা আফগানদের পক্ষে হয়তো আর সম্ভব হবেনা।

১৯৮২ সালে আফগান রণাঙ্গনে দু সপ্তাহ মুজাহিদদের সাথে থাকার সুযোগ পেয়ে গেলাম। এসময়ে কাছে থেকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ  করলাম তাঁদের যুদ্ধকৌশল ও দৈনন্দিন জীবনাচার! তখন আমার ধারনা সম্পূর্ণ বদলে গেলো। মনে হলো, এরা সাধারণ যোদ্ধাদের থেকে সম্পূর্ণ অন্য এক ধরনের পরজাগতিক চেতনায় উজ্জীবিত। অত্যাধুনিক সামরিক শক্তিতে বলীয়ান রুশ বাহিনীর মোকাবিলায় আফগান মুজাহিদরা যেভাবে জীবন নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে, সে এক বিষ্ময়কর ও অবিশ্বাস্য দৃশ্য! নিজ চোখে না দেখলে আমি তা কখনো বিশ্বাস করতাম না।

তালেবান...

আমরা যখন প্রথম ইসলামি আন্দোলনের পরোক্ষ দাওয়াত পাই, সময়টা ৯৭-৯৮ সাল হবে। ছেলে-মেয়েদের কম্বাইন্ড ইসকুলের স্টুডেন্ট ছিলাম। সেসময় কিশোরকণ্ঠ পত্রিকায় প্রতি মাসে ছাপা হতো "পাহাড়ি এক লড়াকু" নামের ধারাবাহিক আফগান উপন্যাস। অতীব জনপ্রিয় এ উপন্যাসটি অনুবাদ করতেন আমাদের প্রিয় কবি ও সুপরিচিত গীতিকার মতিউর রহমান মল্লিক।

সোভিয়েত রাশিয়া কেন্দ্রীক নাস্তিক  কম্যুনিস্ট বাহিনী আফগানিস্তান সহ পুরো মধ্যএশিয়া দখল করে রেখেছিলো। আফগান মুজাহিদদের দুর্দান্ত সশস্ত্র প্রতিরোধ, নিখুঁত গোয়েন্দাগিরি, পাতাল ফাঁদের মত কৌশল, ক্লাশিনকভ অস্ত্র, কম্যুনিস্টদের ট্যাঙ্কবহর উড়িয়ে দিতে পুতে রাখা মাইন, কম্যুনিস্টদের বোমার খোলসে মুজাহিদদের ফুলের চারা রোপন, আফগানিস্তানের পাহাড়ে পাহাড়ে গুহা-বাঙ্কার-মারকাজ, পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জিয়াউল হকের বিমান ক্রাশ ষড়যন্ত্রে মৃত্যুতে কম্যুনেস্টদের আনন্দের আতশবাজী...... চরম উত্তেজনাপূর্ণ সত্যি ঘটনা ও ইতিহাসভিত্তিক উপন্যাসটি  শেষ হয় মুজাহিদদের বিজয়ে এবং কম্যুনিস্ট রাশানদের আফগানিস্তান ছেড়ে পালানোর মধ্য দিয়ে। আফগান মুজাহিদরা তখন পুরো মুসলিম বিশ্বের জনগনের চোখের মনি - শ্রেষ্ঠ বিজয়ী বীর যারা কম্যুনিষ্ট পরাশক্তি রাশিয়ার মেরুদন্ড ভেঙ্গে দিয়েছে।

চিড়স্বাধীনচেতা, পানিপথ যুদ্ধে মারাঠা হিন্দুদের বিষদাঁত ভেঙ্গে দেয়া আহমদ শাহ আবদালীর জাতি  আফগানদের আমরা তখন থেকেই ভালোবাসতে ও শ্রদ্ধা করতে শিখেছিলাম। আমরা জানতাম , পানিপথ থেকে টিপু-সুলতানের সময় পর্যন্ত আফগান মেহমানদারীর উন্মুক্ত দরোজা উপমহাদেশের রাজ্যহারা মুহাজির মুসলমানদের ভরসার বড় এর আশ্রয়স্থল!

এরপর ২-৩ বছরের মধ্যে ইয়াহুদীদের সফল ষড়যন্ত্রের টুইনটাওয়ার হামলার ভিকটিম হলো আফগানিস্তান। শক্তিশালী আমেরিকা ততদিনে আবিস্কার করে ফেলেছে পারমানবিক বোমার চে শতগুন কার্যকর মিডিয়া বোমা। তুমি তোমার শত্রুকে একটা খারাপ নাম দাও এবং হত্যা করো, এই নীতিতে কম্যুনিষ্টবিজয়ী আফগান মুজাহিদদেরকে ট্যাগ দেয়া হতে লাগলো জঙ্গী টেররিষ্ট - এসব নামে। ছাত্র বা তালেবান শব্দটিকেই পরিণত করা হলো ভয়াবহতার অর্থে। সাধারণ মানুষ তো বটেই, ইসলামের ন্যায়ভিত্তিক সমাজব্যাবস্থা গড়ার আন্দোলনের কারিগড়েরাও ভুলে গেলেন আফগান নাগরিকদের কম্যুনিষ্টদের বিরুদ্ধে মহান বিজয়কে, তারা ভুলে গেলেন যে আফগানরা আক্রান্ত আর বিপুল সামরিক শক্তি নিয়ে আমেরিকা নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা যুদ্ধবাজরা আফগানে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী।

আজো নাস্তিক রাশিয়ানদের এদেশীয় এজেন্ট বিভিন্ন শাহবাগী বাম সমাজতান্ত্রিক দলের লেজে আগুন লেগে যায় আফগানদের নাম শুনলে। কলিজা কেঁপে ওঠে। খেয়াল করবেন, ইসলামের কথা শুনলে এরা প্রায় ই বলবে, এইরে বাংলাস্তান হয়ে গেলো, দেশটা আফগানিস্তান হয়ে গেলো! আসলে আফগানদের হাতে প্রচন্ড মার খাওয়া এ নাস্তিক শাহবাগীদের শিরদাঁড়া আজো চিনচিন করে পুর্নিমা অমাবস্যায়।

ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হবার পর একবার প্রশ্ন করার সুযোগ পেয়ে জিজ্ঞেস করেছিলাম, আফগান মুজাহিদদের প্রসঙ্গ যে আমরা এড়িয়ে চলি ইহুদিদের টুইনটাওয়ার ষড়যন্ত্রের পর থেকে - অথচ একসময় আমরা তাদের নিয়ে গর্ব করতাম, এটা কি ঠিক হচ্ছে? জবাব পেয়েছিলাম গোঁজামিল মিশ্রিত ও অস্পষ্ট। আমেরিকার নীতি, হ্য় তুমি আমার পক্ষে অথবা তুমি আমার শত্রু, এই সন্ত্রাসী হুমকিতে আন্দোলনের রথি মহারথিরাও কাবু।

তালেবান নামে ভয়াবহ টেররিষ্ট হিসেবে মিডিয়া বোমায় চিহ্নিত - আফগানদের ব্যাপারে স্পষ্ট অবস্থান নেয়া সম্ভব! ইসলামে জঙ্গীবাদ (মিডিয়া প্রতিষ্ঠিত শব্দ) সমর্থন করেনা টাইপ লো কোয়ালিটি তোতাপাখি বক্তব্যের বাইরেও বক্তব্য আছে।

কোন নির্জন দ্বীপে আটকা পরা অবস্থায় নিরূপায় আদম সন্তানের জন্য আল্লাহ ইসলামের কড়া হালাল-হারামের বিধান ও শিথিল করে দিয়েছেন। ইসলামী আন্দোলনের জায়েজ কৌশল নির্ধারনের খুব বড় একটা নিয়ামক হল ভূ-রাজনৈতিক আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতি।  যেমন জামায়াত ইসলামী বর্তমান ভারত-পাকিস্তান-বাংলাদেশ এমনকি  শ্রীলঙ্কাতেও ইসলামের পক্ষে সক্রিয়। কিন্তু প্রতিটা ভূ-খন্ডে আন্দোলনের ধরন ও মাত্রা ভিন্ন। বাংলাদেশ বা পাকিস্তানে হয়তো রাজপথে মিছিল করা আন্দোলনের একটা চিহ্নিত মার্ক, কিন্তু ভারতে এটা আপনাকে করতে হবেনা, স্রেফ ব্যাক্তিজীবনে ভাল মুসলমান হন আর ইস্যুভিত্তিক বক্তব্য রাখুন; পৌত্তলিক মুশরেক হিন্দুদেরকে আপনার জীবনে চর্চার মাধ্যমে ইসলামের সৌন্দর্য দেখিয়ে দিন, ব্যাস!

বাংলাদেশে আপনি যদি বম্বিং করে সেক্যুলার - কম্যুনিষ্টদের শায়েস্তা করতে চান আর আফগানরা যদি গণতান্ত্রিক সিস্টেমে দখলদার পশ্চিমা ও তাদের দালালদের প্রতিহত করতে চায়, দুটোই মারাত্মক ভুল আর ক্ষতিকর কর্মপন্থা। সুইজারল্যান্ড বা জার্মানীতে আপনি যদি সরকারের কাছ থেকে একটা মসজিদ স্থাপনের অনুমতি আদায় করতে পারেন  সেটাই আপনার  জন্য মর্যাদাপূর্ণ ইসলামী আন্দোলন কিন্তু বাংলাদেশে বসে একটা মসজিদ বানিয়ে যদি ভেবে বসেন ইসলামের জন্য অনেক কিছু করে ফেল্লাম, তবে আপনার ধারণা ভুল। সিরিয়ায় যদি রাস্তায় গণজমায়েত করে আসাদ বাহিনির বোমার শিকার হবার কর্মসূচী নেয়া হয় আর মিশরে যদি অস্ত্র হাতে নিয়ে বাম তামারুদ সন্ত্রাসীদের তামা বানানোর কর্মসূচী নেয়া হয়, এক্ষেত্রেও দুটো পদ্ধতি-ই ভুল। অথচ কর্মপদ্ধতি দুটা যদি দেশ পালটিয়ে ফেলে তাহলে-ই ঠিক হয়ে যায়।

আফগান তালেবান সশস্ত্র  ও কট্টর প্রতিরোধ কৌশল বাংলাদেশে সম্পুর্ণ অন্যায়, অবৈধ, নাজায়েজ ও অপ্রয়োজনীয় কিন্তু আফগানিস্তানকে পশ্চিমা ক্রুসেডারদের থাবা থেকে স্বাধীন করতে শতভাগ সমর্থনযোগ্য। যেমনটা আলেমগণ ফিলিস্তীনি অসহায় নিরস্ত্র মজলুমদের আত্মঘাতী হামলাকে জায়েজ বলে ফতোয়া দিয়েছিলেন কিন্তু সেটা নিশ্চয়-ই মালেশিয়ান মুসলমানদের জন্য বৈধ না!

আল্লাহ আমাদের চিন্তাধারাকে প্রশস্ততা দান করুন, বিশ্বব্যাপী আমাদের ভিন্ন ভিন্ন বৈচিত্র্যময়তার মাঝ থেকেই রহমতের ঐক্য দান করুন, আমাদেরকে সিরাতুল মুস্তাকীমের সঠিক পথে পরিচালিত করুন!

তালেবান নামের মুজাহিদদের যাত্রা যেভাবে শুরু হয়েছিল


১৯৯৪ সালের গ্রীষ্মকাল। মধ্য এশিয়ার একটি দেশে দুজন আরোহী মোটর সাইকেলে করে ছুটে চলেছেন। বাহনটিতে দুজন আরোহী। কিছুদিন আগেই তারা কয়েকজন মিলে একটি আলোড়ন সৃষ্টিকারী ঘটনা ঘটিয়ে ফেলেছেন।

একটি অন্যায়ের প্রতিবাদ, একটি সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ।

দুই আফগান বীরের ইতিহাস! শহীদ বুরহান উদ্দিন রব্বানী ও শহীদ আহমদ শাহ মাসউদ

আজ আফগানিস্তানের দুইজন বীরের গল্প বলবো। একজন হলেন শহীদ আহমদ শাহ মাসউদ আরেকজন হলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট বুরহান উদ্দিন রব্বানী।

আহমদ শাহ মাসউদ ১৯৫৩ সালের ২রা জানুয়ারি পানশিরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা দোস্ত মুহাম্মদ খান আফগান রয়্যাল আর্মিতে কর্নেল ছিলেন। আহমদ শাহ কাবুল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং এ পড়াশোনা করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকাকালীন জামায়াতে ইসলামির ছাত্র সংগঠন সয্‌মান-ই জোওয়ানান-ই মুসলমান (Organization of Muslim Youth)- এ যুক্ত হন। তখন জামায়াতে ইসলামির আমীর ছিলেন অধ্যাপক বুরহান উদ্দিন রব্বানি। ১৯৭৫ সালের দিকে জামায়াতে ইসলামি ও গুলবুদ্দিন হেকমতিয়ারের নেতৃত্বাধীন হিয্‌বে ইসলামির মধ্যে বিরোধ শুরু। এ-সময় হিয্‌বে ইসলামির কর্মীরা আহমদ শাহকে হত্যা করার চেষ্টা করে। ১৯৭৮ সালের ২৭ এপ্রিল পিপলস্‌ ডেমোক্র্যাটিক পার্টি অব আফগানিস্তান (মার্ক্সবাদী) এবং সেনাবাহিনীর একটি দল প্রেসিডেন্ট দাউদ খানকে হত্যা করে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে।

তারা সমাজতন্ত্রের বিস্তার এবং সেভাবে নীতি নির্ধারণ করতে চাইলে দেশের ইসলামি দলগুলোর সাথে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এ-সময় সমাজতন্ত্রী সেনাদের হাতে সারাদেশ পঞ্চাশ হাজার থেকে এক লাখ মানুষ নিহত হয়। ১৯৭৯ সালে ২৪ টি প্রদেশে সংঘাত শুরু হয়। অর্ধেকের বেশি সৈনিক সেনাবাহিনীর থেকে পালিয়ে যায়। ৬ই জুলাই আহমদ শাহ মাসউদ পানশিরে সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। সম্মুখ যুদ্ধে সফল না হয়ে গেরিলা যুদ্ধ শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন। এ-বছরেই ২৪ শে ডিসেম্বর সোভিয়েত ইউনিয়ন আফগান সরকারকে টিকিয়ে রাখার জন্যে সেনা প্রেরণ করে। সরকারবিরোধীদের তারা নির্বিচারে হত্যা করতে থাকে।

আহমদ শাহ সোভিয়েত বাহিনীর বিরুদ্ধে গেরিলা যুদ্ধ চালিয়ে যেতে থাকেন এবং প্রতিরোধ যুদ্ধের কেন্দ্রীয় চরিত্র হয়ে উঠেন। ১৯৮৯ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি রুশ বাহিনী আফগানিস্তান ত্যাগ করে। তারপরও পিপলস্‌ ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সরকার মুজাহিদদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে থাকে। আহমদ শাহ সরকারবিরোধী লড়াই অব্যাহত রাখেন। দেশে চরম দুরাবস্থা বিরাজমান রেখে ১৯৯২ সালে ১৭ই এপ্রিল এ-সরকার ক্ষমতা ত্যাগ করে। ২৪ শে এপ্রিল পেশোয়ারে সমাজতন্ত্রবিরোধী দলগুলোর মধ্যে শান্তি ও ক্ষমতাবন্টন চুক্তি সম্পাদিত হয়। এ-চুক্তিতে বুরহান উদ্দিন রব্বানী প্রেসিডেন্ট, আহমদ শাহ মাসউদকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও গুল্বুদ্দিন হেকমতিয়ারকে প্রধানমন্ত্রী করা হয়। কিন্তু হেকমতিয়ার এ চুক্তি প্রত্যাখ্যান করেন। পরে অবশ্য চালাকি করে তিনি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং আংশিক সরকারী সুবিধা নিয়েই জামায়াতে ইসলামী তথা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেন।

চরম গৃহযুদ্ধাবস্তায় তালিবানের উত্থান হয় বিদেশী শক্তির মদদে। ১৯৯৬ সালে ২৭শে সেপ্টেম্বর তালেবান ক্ষমতা দখল করে। হেকমতিয়ার এবং আহমদ শাহ মাসউদের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়। আহমদ শাহ মাসউদ তালিবান বিরোধী জোট গঠন করেন এবং তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ অব্যাহত রাখেন। আহমদ শাহ মাসউদ ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর আন অফিসিয়াল সামরিক শাখা।

২০০১ সালের ৯ই সেপ্টেম্বর (টুইন টাওয়ারে হামলার মাত্র দুই দিন আগে) উত্তর আফগানিস্তানর তাখার প্রদেশে খাজা বাহাউদ্দিন এলাকায় আত্মঘাতি হামলায় আহমদ শাহ মাসউদ নিহত হন। এ হামলার জন্যে আল-কায়েদাকে অভিযুক্ত করা হয়। কারণ ওসামা বিন লাদেনের সঙ্গে তাঁর বিরোধ ছিলো। এর আগে বহুবার কেজিবি, আইএসআই আফগান কমিউনিস্ট কেএইচএডি, তালেবান ও আল-কায়েদা তাঁকে হত্যা করার চেষ্টা করে । কিন্তু তাদের সেসব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। তাঁর জন্মস্থান বাজারাকেই তাঁকে দাফন করা হয়।

কমিউনিস্টবিরোধী যুদ্ধে অসীম সাহসিকতার জন্যে তাঁকে ‘শেরে পানশির’ বা পানশিরের সিংহ নামে ডাকা হয়। তিনিই একমাত্র আফগান নেতা যিনি কখনো আফগানিস্তানের বাইরে থাকেন নি।

শহীদ বুরহান উদ্দিন রব্বানী চাইলে সমাজতন্ত্রীদের পতনের পর হেকমতিয়ারকে উড়িয়ে দিতে পারতেন। তাদের বিরুদ্ধে দমন অভিযান চালাতে পারতেন রাষ্ট্রীয় শক্তি নিয়ে। কিন্তু এই মহান মানুষ কখনোই ভ্রাতৃঘাতি কার্যক্রমের পক্ষে ছিলেন না। তিনি সব মুসলিম ভাইকে নিয়ে আফগানিস্তানকে সাজাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু হেকমতিয়ারের একগুঁয়েমির কারণে সব ভেস্তে যায়। তার অসদাচারনের জন্য বিদেশী শক্তি আসে আল কায়েদা ও তালিবানের নাম করে। তিনি তালিবানের বিপক্ষেও যুদ্ধে অবতীর্ণ হতে চাননি। কিন্তু পরিস্থিতি তার নিয়ন্ত্রনে শেষ পর্যন্ত ছিল না।

২০১১ সালে তিনি কাবুল সরকার, তালিবান এবং পাকিস্তান সরকারের মধ্যে আলোচনা চালিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। তিনি হয়ে উঠেন এই তিন বাহিনীর মধ্যস্থতাকারী। তিনি যুদ্ধ বন্ধ করতে চেয়েছেন। মুসলিম রক্ত নিয়ে মুসলিমরাই রক্ত উৎসব শুরু করেছিল। তিনি এটা বন্ধ করতে চেয়েছেন। এই উদ্যোগের জন্যই তালিবানরা তাকে হত্যা করে আত্মঘাতী হামলার মাধ্যমে।

- আহমদ আফগানী (লেখক)

সবিস্তার সূচীপত্র
টেম্পলেট কাষ্টমাইজেশন - তরঙ্গ ইসলাম | তরঙ্গ ইসলাম