ইসমাইল হোসেন সিরাজী উপন্যাসসমগ্র


বাঙ্গালী লেখকগনের যত্ন এবং চেষ্টায় বাংলা ভাষা আজ ভারতের সর্বপ্রধান ভাষায় পরিণত। বাংলা ভাষায় ইতিহাস, দর্শন, বিজ্ঞানের গ্রন্থ যত সামান্যই হঊক, কিন্তু উপন্যাস এবং নাটক নভেলে বাংলা ভাষা আজ ভারাক্রান্ত। আর সেই সমস্ত গ্রন্থের পত্রে-পত্রে ছত্রে -ছত্রে মুসলমানের অলীক কলঙ্ক, কুৎসা - বিজাতীয় বিদ্বেষ এবং ঘৃণা পরিপূর্ণ। উপন্যাসগুলি মোসলেম বিদ্বেষের অনলকুন্ড। সে অনলকুন্ডে বিরাট-কীর্তি, বিপুল-যশ, সিংহতেজা মুসলমান জাতির গোলাম হইতে সম্রাট নবাব এবং বেগম ও শাহজাদীগণ পর্যন্ত নিতান্ত নিষ্ঠুরভাবে নিক্ষিপ্ত হইয়াছে!

গৌড় থেকে সোনার গাঁ -(উপন্যাস)

ইখতিয়ারউদ্দিন-মুহাম্মদ-বিন-বখতিয়ার খলজী জানবাজী রেখে বাঙ্গালা মুলুকে মুসলিম রাজ্য প্রতিষ্ঠা করে গেলেন। তাকে সাহায্য করলেন তার নিকটতম তিন-ইয়ার শিরান খলজী, আলী মর্দান ও ইওজ খলজী। তারা লাক্ষ্ণৌ, বিহার ও বরেন্দ্র অঞ্চলকে এই নতুন রাজ্যের অন্তর্ভূক্ত করেন। ইশায়ী ১২০৫ সালে ইখতিয়অরউদ্দিন ইন্তেকাল করলে দিল্লীর সুলতানকে নামমাত্র সদকা দিয়ে তার তিন বন্ধু পরপর ইসায়ী ১২২৭ সাল পর্যন্ত বাঙ্গালা শাসন করে গেলেন। কিন্তু ১২২৭ সালে দিল্লীর সুলতান ইলতুতমিশের পূত্র নাসিরউদ্দিন মাহমুদ সুবিশাল বাহিনী নিয়ে বাঙ্গালার গিয়াসউদ্দিন ইওজ খলজীকে পরাজিত ও হত্যা করে দখল করে নেন এ অঞ্চল। এরপর একটানা আটান্ন বছর দিল্লী থেকে নিযুক্ত পনেরোজন শাসক বাঙ্গালা শাসন করেন। এদের দশজনই ছিলেন মামলুক বা দাস।


আমার ফাঁসি চাই

৩রা মে ১৯৮৪ এর এক পড়ন্ত বিকেলে ধানমন্ডির বঙ্গবন্ধু ভবনে বসে গল্প করছেন বঙ্গবন্ধু কন্য জননেত্রী শেখ হাসিনা সহ কয়েকজন। গল্পে গল্পে ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ ও পাকিস্থানী সেনাবাহিনীর প্রসঙ্গ উঠলো। প্রসঙ্গ উঠলো ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যে দিয়ে গড়ে উঠা আমাদের সেনাবাহিনীর কথা।

জননেত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সম্পর্কে বললেন, এটা একটা সেনা বাহিনী হলো ? এটা একটা বর্বর, নরপিশাচ, উচ্ছৃংখল, লোভী, বেয়াদপ বাহিনী। এই বাহিনীর আনুগত্য নেই , শৃংখলা নেই , মানবিকতা নেই, নেই দেশ প্রেম। এটা একটা দেশদ্রোহী অসভ্য হায়েনার বাহিনী। তোমরা পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কথা বল। সারা বিশ্বে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মতো এতো ভদ্র, নম্র, সভ্য, বিনয়ী এ‌বং আনুগত্যশীল বাহিনী খঁজে পাওয়া যাবেনা। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মানবিকতা বোধের কোন তুলনাই চলেনা। কি অসম্ভব সভ্য আর নম্র তারা।

বদিউজ্জামান সাঈদ নুরসী এবং তুরস্ক -(শহীদ কামারুজ্জামান)

জাতির প্রতি সাঈদ নুরসীর খেদমতের স্বীকৃতি হিসেবে বিশেষ করে The six steps এর মাধ্যমে তিনি যে অসাধারণ গণজাগরণের কাজটি করেছেন তার জন্য জাতীয় নেতৃবৃন্দ তাকে আনকারা যাওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানান। বদিউজ্জামান ইস্তাম্বুল থেকে ‘পালাতে’ রাজি ছিলেন না’। মুস্তফা কামাল পাশা যিনি Grand National Assembly এর প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছিলেন, তিনি বদিউজ্জামানকে তিনটি বার্তা পাঠান আমন্ত্রণ জানিয়ে। কিন্তু বদিউজ্জামান জাবাব দেন :

আধুনিক যুগে ইসলামী বিপ্লব (শহীদ কামারুজ্জামানের লিখিত বই)

লেখকের কথা

আধুনিক যুগটাকে অনেকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রগতির যুগ বলে চিহ্নিত করেছেন।




বিজ্ঞানের অসাধারণ শক্তিশালী ও বিস্ময়কর আবিষ্কার বস্তুগতভাবে মানবজাতিকে ভোগ-বিলাস, আরাম-আয়েশের অনেক কিছুই দিয়েছে। বলা হচ্ছে, সভ্যতা উন্নতির এক চরম শিখরে আরোহণ করেছে। পৃথিবীটা এখন মানুষের মুঠোর মধ্যে; যদিও সৃষ্টিজগতের অনেক রহস্যই মানব সন্তানের পক্ষে এখনও উন্মোচন করা সম্ভব হয়নি। পৃথিবীতে মানবজাতি অনেক কিছু লাভ করা সত্ত্বেও একটি অভাব বোধ মানুষকে তাড়িয়ে ফিরছে।

ক্রুসেড সিরিজ

ইসলামকে পৃথিবীর বুক থেকে মুছে ফেলার চক্রান্তে মেতে উঠলো খৃষ্টানরা। একে একে লোমহর্ষক অসংখ্য সংঘাত ও সংঘর্ষে পরাজিত হয়ে বেছে নিল ষড়যন্ত্রের পথ। মুসলিম দেশগুলোতে ছড়িয়ে দিলো গুপ্তচর বাহিনী। ছড়িয়ে দিলো মদ ও নেশার দ্রব্য। ঝাঁকেঝাঁকে পাঠালো প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সুন্দরী গোয়েন্দা। বড় বড় সেনা অফিসার এবং আমীর ওমরাদের হারেমগুলোতে ওদের ঢুকিয়ে দিলো নানা কৌশলে। মদ, জুয়া আর বেহায়াপনার স্রোত বইয়ে দিলো শহরগুলোতে।

একদিকে সশস্ত্র লড়াই - অন্যদিকে কুটিল সাংস্কৃতিক হামলা, এ দুয়ের মোকাবেলায় রুখে দাঁড়ালো মুসলিম বীর শ্রেষ্ঠরা। তারা মোকাবিলা করলেন এমন সব অবিশ্বাস্য ও শ্বাসরুদ্ধকর ঘটনার, মানুষের কলনাকেও যা হার মানায়।

ডাঃ মতিয়ার রচনাবলী

আমি একজন ডাক্তার (বিশেষজ্ঞ সার্জন)। আপনাদের মনে প্রশ্ন আসা স্বাভাবিক যে, ডাক্তারি বিষয় বাদ দিয়ে একজন ডাক্তার কেন এ বিষয়ে কলম ধরল? তাই এ বিষয়ে কেন কলম ধরেছি, সেটা প্রথমে আপনাদের জানানো দরকার।

ছোটবেলা থেকেই ইসলামের প্রতি আমার গভীর আগ্রহ ছিল। তাই দেশে-বিদেশে যেখানেই গিয়েছি, ইসলাম সম্বন্ধে সে দেশের মুসলিম ও অমুসলিমদের ধারণা গভীরভাবে উপলব্ধি করার চেষ্টা করেছি। বিলেত থেকে ফিরে এসে আমার মনে হল, জীবিকা অর্জনের জন্যে বড় বড় বই পড়ে FRCS ডিগ্রী করেছি, এখন যদি পবিত্র কুরআন তাফসীরসহ বুঝে না পড়ে আল্লাহর কাছে চলে যাই, আর আল্লাহ যদি জিজ্ঞাসা করেন, ‘ইংরেজি ভাষায় বড় বড় বই পড়ে বড় ডাক্তার হয়েছিলে কিন্তু তোমার জীবন পরিচালনার পদ্ধতি জানিয়ে আরবীতে আমি যে কিতাবটি (কুরআন শরীফ) পাঠিয়েছিলাম, সেটি কি তরজমাসহ বুঝে পড়েছিলে? তখন এ প্রশ্নের আমি কী জবাব দেব?’

মতবিরোধপূর্ণ বিষয়ে সঠিক পন্থা অবলম্বনের উপায়



সাহাবায়ে কিরামের(রাঃ) যুগ থেকেই ইসলামে ইজতিহাদী বিষয়ে মতপার্থক্য সৃষ্টি হয়ে আসছে। ইজতিহাদী মতপার্থক্য কখনো মুজতাহিদ্গণের খামখেয়ালীর কারনে সৃষ্টি হয়নি। সাহাবায়ে কিরাম রাঃ, তাবেয়ী এবং ইমাম মুজতাহিদ্গনের কালে মতপার্থক্য ইসলামের জন্যে ক্ষতিকর কিছু ছিলোনা। বরঞ্চ তা ছিলো রহমত ও কল্যাণময়।

কিন্তু পরবর্তীকালে কিছুলোক এগুলোকে বড় করে দেখতে থাকে। এটাকে বিদ্বেষ, গোঁড়ামী ও বিবাদের হাতিয়ারে পরিণত করে । ফলে মুসলমানদের মধ্যে সৃষ্টি হয় নানান দল ও উপদলের। অজ্ঞতাবশত এদের একদল নিজেদের মতকেই একমাত্র সঠিক এবং অন্যদের ভ্রান্ত বলে আখ্যা দিতে শুরু করে। সাধারণ মানুষ হয়ে পড়ে বিভ্রান্ত।

ইউসুফ বিন তাশফিন (নসীম হিজাযী)

 
বাপকা বেটা : 

এক বাচ্চা ছেলে দশাসই এক লোকের হাত ধরে ধীরে ধীরে হেঁটে যাচ্ছে । আগে আগে যাচ্ছে দুই কিশোর । লোকটি ডেকে বলল, 'সাদ, আহমদ, দাঁড়াও'।

সাদ ও আহমদ বাগানের ভাঙা দেয়ালটার কাছে পৌছে ডাক শুনে দাঁড়িয়ে পড়লো । লোকটার বয়স চল্লিশের কাছাকাছি । সে তার বিশাল দেহটা নিয়ে ওদের কাছে এসে বলল, 'হাসান খুব ক্লান্ত হয়ে পড়েছে' ।

আলমাস চাচা, আমরা আজ মদিনাতুজ জোহরা দেখে যাব ।কি হাসান! তুমি কি খুব কাহিল হয়ে পড়েছো ? 'বললো বড় ছেলেটি ।

হাসান কোন জবাব না দিয়ে মুখ কালো করে এক পাথরের ওপর বসে পড়লো । তীর ধনুক নামিয়ে রাখল মাটিতে... (প্রথম চাপ্টার)

সুদবিহীন ব্যাংকিং

সুদভিত্তিক পুঁজিবাদী অর্থব্যবস্থা প্রায় বিগত একশত বছরে সাম্রাজ্যবাদের ছত্রছায়ায় শুধু ইসলাম আর মুসলমানদের নয়, বরং পৃথিবীর মানব সন্তানের ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে আশিভাগ আদম সন্তানকে স্বাস্থ্য, মেধা, চরিত্র, আখলাখ, কৃষ্টি ও কালচারের দিক দিয়ে ধ্বংসের যে প্রান্তে নিয়ে গেছে তার ভয়াল চিত্র কোন ধর্মের বুদ্ধিজীবি, লেখক, গবেষক, কবি, সাহিত্যিক এক হাজার বছর ধরেও লিখে শেষ করতে পারবেনা। তাই আল্লাহ কুরআনে অন্য সমস্ত মহাপাপের তুলনায় একমাত্র সুদী অর্থব্যাবস্থার বিরুদ্ধে আল্লাহ ও তার রাসুলের পক্ষ থেকে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন।

অন্যদিকে সমাজতন্ত্রবাদীরা স্বীয় পরিশ্রমের নিশ্চিত মালিকানাকে অস্বীকার করে। হাতের পাঁচ আঙুলকে এক সমান করে দেখানোর অবাস্তব সমাজতন্ত্র পৃথিবীবাসীকে বোকা বানানোর যে অপচেষ্টায় লিপ্ত ছিলো তা ভেঙে গেছে। খোদাদ্রোহীতা সমাজতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ - আফগান পাঠানদের লাঠির আঘাতে ভেঙে খান খান হয়ে গেছে এই থীওরী।

ইসলামী আইন ও মানবরচিত আইন (শহীদ আবদুল কাদের আওদাহ)


;
আমি আপনাদের সামনে এমন একটি ক্ষুদ্র পুস্তিকা পেশ করছি যার ভিতরে আমি সংক্ষিপ্তরূপে শরীয়তের এমন সব বিধান লিপিবদ্ধ করেছি, যেগুলো জানা একজন শিক্ষিত ব্যক্তির জন্য একান্ত আবশ্যক। এর ভিতরে এমনি কতিপয় জাহিল লোকের শরীয়ত-পরিপন্থী উদ্ভট দাবীর থলিও খুলে দিয়েছি যাতে পরিস্কাররূপে বোঝা যাবে যে এই দাবীগুলোর নেই কোন যুক্তি, নেই কোন দলীল প্রমান। আমি আশা করি এ পুস্তিকা সেইসব বিপরীত ধ্যান ধারনা ও মতবাদ সংশোধন ও সংস্কার করে দিতে সক্ষম হবে, যা কতিপয় দর্শন-বিজ্ঞানে পারদর্শী ও শিক্ষিত লোকের মানসিকতায় সৃষ্টি হয়েছে। আর আমি এ আশাও পোষণ করছি যে, আমাদের শ্রদ্ধেও 'উলামাএ ইসলাম' ইসলামী খিদমতের বর্তমান কর্মপদ্ধতিটিকে পরিবর্তন করে আধুনিক কর্মপদ্ধতি গ্রহণ করতে কুন্ঠিত হবেন না। - লেখক 

বখতিয়ারের তলোয়ার

https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEjqgY0x-whEf2bCTN3-j4hQVroPg5a0qm4jnTdl2K0sizwb3zrXfpL1agGJXzPOzZ39M9-ZenBxREKyK3vFGf2CB82BEI9f68___uocCc_7OU1uVhkkF2XAIvUESOFLIcxifbr8rrRXaVc/s1600/Bokhtiarer_Talwar.jpgইখতিয়ার উদ্দীন মুহাম্মদ-বিন-বখতিয়ার খলজীর নদীয়া বিজয় থেকে দাউদ কাররানীর রাজমহলের যুদ্ধ বাংলা মুলুকের পৌনে চারশো বছরের ইতিহাস। গৌড়পান্ডুয়া-তান্ডার-মুসলমান শাসনের এক অবিস্মরণীয় ও ঐতিহ্যময় অতীত। অথচ ইংরেজ ও তার সহযোগীদের চাতুর্যে এই অতীত আমাদেদের জানতে দেয়া হয়না আজ ও। এই ইতিহাসের গুরুত্ব খুবই কম আমাদের পাঠ্যসূচীতে।

সামাল-সামাল-
হুশিয়ার হুশিয়ার-

জাঁন কাঁপানো আওয়াজ গজবের আলামত। জায়গার নাম গরমশির। আফগান মুলকের এক প্রাচীন জনপদ। এক প্রান্তিক এলাকা। গরমশিরের একদিকে সিস্তান ও অন্যদিকে গজনী। জনপদের দুইপাশে লোক বসতি, মাঝখানে রাস্তা। বালি-কাঁকর-পাথর ঢাকা পথ। ঘটনা এই পথের উপর।

সবিস্তার সূচীপত্র
টেম্পলেট কাষ্টমাইজেশন - তরঙ্গ ইসলাম | তরঙ্গ ইসলাম