মাদ্রাসাছাত্র কমানোর আওয়ামী মিশন -১

মাদ্রাসায় বোমা বিস্ফোরন এবং একটি রিপোর্টের ময়না তদন্ত চট্টগ্রামে মাদ্রাসায় বিস্ফোরণ,বোমা ও বিস্ফোরক উদ্ধার" -প্রথম আলো আজকের অধিকাংশ মিডিয়ার হেডলাইন। অবাক হবার কিছুই নেই। প্রথম আলো তার কাজ করেছে। 

এখানে লক্ষনীয় বিষয় যে,বামপন্থি মিডিয়াগুলোর রিপোর্ট কিন্তু পরস্পর বিরোধী। যেমন এক পত্রিকা বলছে আটজন,কেউ বলে চারজন আবার কারো দাবি দুজন ছাত্র আহত।কেউ আবার বলছে একজন নিহত। কেউ দাবী করছে তিনটি গ্রেনেড পাওয়া গেছে,অবিশ্বাস্য হলেও সত্য,কারো দাবী অনুয়ায়ী সংখ্যাটা এরকম পরস্পর বিরোধিতা শুধুমাত্র সাজানো নাটকের ক্ষেত্রেই হয়ে থাকে। 

সাজানো নাটকে ফাঁক থাকেই।আসুন সেই ফাঁকগুলো খোঁজার চেষ্টা করা যাক।ময়না তদন্ত করে দেখা যাক দেশের শীর্ষ স্থানীয় দৈনিক প্রথম আলোর রিপোর্ট। 

ময়না তদন্ত-১ 

প্রথম আলোর বক্তব্য- "সরেজমিনে দেখা গেছে যে কক্ষে হয়েছে,সেটির দেয়াল কালচে হয়ে আছে।ফাটল দেখা দিয়েছে।একটি জানালার গ্রিল বাঁকা হয়ে বের হয়ে গেছে। আরেকটি জানালার কাঁচ গিয়ে অন্তত ৫০ গজ দুরে গিয়ে পড়েছে।বৈদ্যুতিক পাখা পুড়ে বাঁকা হয়ে গেছে।" মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী প্রথমে ল্যাপটপ থেকে শুরু হয়ে পরবর্তীতে আইপিএসে বিস্ফোর ঘটে।কারো কারো মতে কেরোসিনের চুলায় ল্যাপটপ থেকে বিস্ফোরন ছড়িয়ে পড়ে।ল্যাপটপের ব্যাপারটা নিশ্চিত জানা গেলেও আইপিএস নাকি চুলা থেকে বিস্ফোরন বড় আকার ধারন করে সেটা জানা যায়নি। কারণ আইপিএস এবং কেরোসিন চুলা দুটোই মারাত্মক দাহ্য পদার্থ। যেহেতু রুমে দুটো জিনিসই ছিল সুতরাং নিশ্চিত হওয়া আসলে সম্ভবও না কোনটা থেকে বিস্ফোরণ ছড়িয়েছে।হতে পারে দুটোই। তবে বিস্ফোরণ যে বেশ বড় ধরনের ছিল তাতে কোনো সন্দেহ নেই।কারন প্রথম আলোর রিপোর্টে বলা হচ্ছে,যে কক্ষে বিস্ফোরণ হয়েছে,সেটির দেয়াল কালচে হয়ে আছে।ফাটল দেখা দিয়েছে।একটি জানালার গ্রিল বাঁকা হয়ে বের হয়ে গেছে। 

এবার প্রথম আলোর পরবর্তী বক্তব্যের দিকে নজর দেয়া যাক- "এ ঘটনায় আহত চারজনসহ মোট নয়জনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।" আহত শব্দটা লক্ষ্য করুন। বিস্ফোরনে লোহার গ্রিল পর্যন্ত বাঁকা হয়ে গেছে অথচ যে "বোমা" তৈরি করতে গিয়ে বিস্ফারণ ঘটল তার প্রস্তুতকারীরা শুধু আহত হল,এমনকি তাদের হাতও অক্ষতই রয়েছে! বোমা বানাতে গিয়ে বিস্ফোরন ঘটলে কারো হাতের কব্জি অক্ষত থাকার প্রশ্নই আসেনা। 

এবার দ্বিতীয় বক্তব্য - "পুলিশ সন্ধ্যার পর তল্লাশি চালিয়ে ওই কক্ষ (বিস্ফোরনস্থল) থেকে হাতে তৈরি তিনটি তাজা বো পাইপ,মার্বেলসহ বোমা তৈরির বিভিন্ন উপাদান উদ্ধার করে।" মার্বেল এবং লোহার পাইপ কী করে "বোমা" তৈরির সরঞ্জাম হতে পারে সে তর্কে আপাতত যাচ্ছিনা।আমার প্রশ্ন হল,এত বড় বিস্ফোরণ সত্বেও সেখানে একটা দুটো নয় তিন তিনটি "তাজা বোমা" কী করে অবিস্ফোরিত অবস্থায় থাকে? কোনো অলৌকিক উপায়ে "তাজা বোমা" অবিস্ফোরিত অবস্থায় থেকে গেলেও দেশলাই সম্পর্কে জ্ঞাত যেকোনো বাচ্চাও বলে দিতে পারবে বারুদের মত মারাত্মক ধরনের দাহ্য পদার্থ কোনো অবস্থাতেই অক্ষত থাকতে পারেনা।অথচ প্রথম আলো বলছে- "সেখানে ছাইয়ের নীচে বেশ কিছু বিস্ফোরক দ্রব্য পাওয়া যায়। এর মধ্যে গ্রেনেড এবং বারুদ মিশ্রিত স্প্লিন্টারও রয়েছে" ইজ ইট পসিবল? 

ময়না তদন্ত-২ 

একটা প্রশ্ন স্বাভাবিকভাবেই উঠছে বেলা এগারটার দিকে বিস্ফোরণ হওয়া সত্বেও সন্ধ্যার সময় কেন বিস্ফোরক উদ্ধার করা হল।মিডিয়াগুলো অবশ্য নিতান্তই খোড়া একটা যুক্তি দাঁড় করিয়েছে-পুলিশের অবহেলা। এটা ঠিক বিশ্বাস্য নয়। পুলিশকে যতই অযোগ্য মনে করা হোক,প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রাম সফরের আগে এরকম একটা বিস্ফোরন ঘটেছে অথচ তারা এগারোটা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকল,স্রেফ দাঁড়িয়ে থাকল,এটা কখনই বিশ্বাস্য হতে পারেনা।বিশ্বাস্য হত,যদিনা বিস্ফোরনস্থল হেফাজত নেতার মাদ্রাসা না হয়ে সরকার দলীয় কোনো মন্ত্রী এমপি নির্মিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হত। যদিনা স্বয়ং পুলিশ উপ কমিশনার সেখানে উপস্থিত না থাকত। এখানে আরো একটা বিষয় লক্ষনীয়,মিডিয়ার ভাষ্যমতে বিস্ফোরক দ্রব্য ঘটনা স্থলেই পাওয়া গিয়েছে। বিস্ফোরন স্থল রুমটাও ছোট। একটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল [adnews24.com] তো দাবী করছে সেখানে একশটির উপর গ্রেনেড পাওয়া গেছে! 

এরকম জায়গায়,এরকম পরিস্থিতিতে ‘অবহেলার’ দৃষ্টিতে তাকালেও তিন তিনটা তাজা গ্রেনেড চোখে না পড়ার কোনো কারণই থাকতে পারেন।তর্কের খাতিরে যদি ধরেও নেই গোটা ব্যাপারটা পুলিশের ‘অবহেলা’ এরপরও প্রশ্ন থেকে যায়,ঘটনাস্থলে কী শুধুই পুলিশই উপস্থিত ছিল?প্রথম আলোর রিপোর্ট কী বলে? প্রথম আলোর বক্তব্য- "বেলা এগারোটার দিকে খুলশী থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।পরে বেলা দুইটার দিকে ডিবির একটি দল যায়।এরপর র্যাবের একটি দল ঘটনা স্থল পরিদর্শন করে।" প্রথমে পুলিশ,এরপর ডিবি,এরপর দেশের সবচাইতে চৌকস বাহিনী হিসেবে খ্যাত র্যাব সারাদিনেও শতাধিক বোমার হদিস করতে পারলনা অথচ বিকেলের দিকে পুলিশ কমিশনার এসেই ঘোষনা দিলেন,বোমা বানানোর সময় বিস্ফোরন ঘটেছে।

আরো মজার ব্যাপার হল,কমিশনারের ঘোষনার পরই কিন্তু তল্লাশি শুরু হয়। এ ব্যাপারে প্রথম আলোর বক্তব্য- “বিকেল পাঁচটার দিকে পুলিশ কমিশনার ঘটনাস্থলে আসেন।তখন জানানো হয়,মাদ্রাসায় বোমা তৈরির সময় বিস্ফোরন ঘটেছে।এরপর মাদ্রাসায় তল্লাশি শুরু করা হয়।সন্ধ্যার পর মাদ্রাসা থেকে পাঁচজনকে আটক করে পুলিশ।” তল্লাশির আগেই কিভাবে কমিশনার নিশ্চিত হলেন যে বোমা বানানোর সময় বিস্ফোরন ঘটেছে? 

প্রশ্ন আরো অনেক।ঘটনার পর পরই ছাত্র এবং যুবলীগ ডিজিটাল ব্যানার নিয়ে মিছিল বের করে। তারা ঘটনা ঘটার সাথে সাথেই কিভাবে জানতে পারল এটা নিছক দুর্ঘটনা নয়?এত দ্রুত ডিজিটাল ব্যানার বানাবার মত ডিজিটাল কি আমাদের দেশ এখনো হতে পেরেছে? প্রশ্ন আরো আছে।গ্রেনেডের বিস্ফোরন ঘটলে স্প্লিন্টারের আঘাতে সবার দেহ ঝাঁজরা হয়ে যেত এবং ঘটনাস্থলের দেয়ালেও তার আলামত থাকত।কিন্তু এখন পর্যন্ত আহতদের কারো কি গায়ে স্প্লিনটারের আঘাত পাওয়া গেছে? 

সব শেষে একটাই প্রশ্ন,প্রধানমন্ত্রী পুত্রের “মাদ্রাসার ছাত্র কমানোর আন্দলন”-এর এটাই কী প্রথম পদক্ষেপ? হলে হোক,তাতে আমার কী? আমি তো মাদ্রাসায় পড়িনা।আমার সন্তান,ভাই কেউ মাদ্রাসায় পড়েনা।সুতরাং কিছু মাদ্রাসা ছাত্র ‘জঙ্গি’ অপবাদ নিয়ে মারা গেলেই বা আমার কী যায় আসে? কিচ্ছুনা!

(ফেসবুক থেকে পাওয়া)

0 comments:

Comment Please

মন্তব্য..

সবিস্তার সূচীপত্র
টেম্পলেট কাষ্টমাইজেশন - তরঙ্গ ইসলাম | তরঙ্গ ইসলাম